পদ্মা সেতু: নবযুগের ঊষার উন্মেষে বাংলাদেশ

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার


ড. মাহফুজ পারভেজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্নের দ্বার উন্মোচিত হলো শনিবার (২৫ জুন) মধ্যাহ্নে। আর সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা পেরিয়ে নতুন ইতিহাস বিনির্মাণের যাত্রারম্ভ করলো সমগ্র জাতির। হাজার বছরের চরম প্রতিবন্ধকতার অবসানে প্রমত্তা পদ্মার দুই তীর রাখিবন্ধনে একাকার আজ থেকে। নবযুগের ঊষার অরুণালোকে উদ্ভাসিত বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির সামনে অপেক্ষমাণ সম্ভাবনার অপার সমুদ্র আর অবারিত বিশ্ব।

পদ্মা সেতু বাঙালির সম্মিলিত স্বপ্নের সফলতার প্রাণস্পন্দনে আগামীর পথে পুনরুত্থিত করেছে বাংলা, বাঙালিকে। বহু সাধনায় নির্মিত অপরাজিত জাতির গর্ব ও অহং স্মারক হয়ে পদ্মা সেতু বিশ্বের বুকে আরও সমুন্নত করেছে বাংলা ও বাঙালি জাতিসত্তাকে। উন্মুক্ত করেছে দখিনা দুয়ার, যার মাধ্যমে সমুদ্র হয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে সুযোগ ও সম্ভাবনার দুনিয়ায়।  

পদ্মা সেতুর ফলে বদলে গেছে জীবনের গতিপথ। উত্তরের হিমেল বায়ু যেমন থেমে গিয়ে আসে দক্ষিণে নাতিশীতোষ্ণ কোমল হাওয়া, তেমনি বাংলাদেশের উন্মুক্ত হয়েছে দক্ষিণের সমুদ্রগামী পথ, যা পৌঁছে ইন্দো-প্যাসিফিক হয়ে তাবৎ দুনিয়ায়। আর খুলে দেবে সমুদ্র-সংশ্লিষ্ট 'ব্লু ইকোনমি'র অবারিত সিংহদরজা।

বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমশই গুরুত্বপূর্ণ রূপে উদ্ভাসিত 'ইন্দো-প্যাসিফিক' শুধু দুই মহাসাগরকে এককার করেনি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধির দোলা জাগিয়েছে বিশ্বব্যাপীই।  বঙ্গোপসাগর হলো 'ইন্দো-প্যাসিফিক'-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সংযোগ নিবিড় করেছে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে। শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের উপর চাপ কমাই নয়, মঙ্গলা, পায়রা বন্দরের বিকাশ হবে দ্রুতলয়ে। টেকনাফ থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত প্রলম্বিত সমুদ্রতট বাণিজ্য ও মানুষের ভাগ্যের গতি 

দখিনা বাতাস মন ও প্রাণে লাগার মতোই দখিনা দুয়ার উন্মোচনকারী পদ্মা সেতুর কারণ এই বর্ষাতেও অনুভব করা যাচ্ছে বসন্তের ছোঁয়া। পদ্মার দুই তীর ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র এখন বাসন্তী শিহরণ। শীতের আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠার মতো নবযুগের নতুন প্রাণপ্রবাহে জেগেছে বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি।

পদ্মা সেতুর কারণে জাতীয় জীবনে একটি তাৎক্ষণিক অর্জনের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হলে এর সুদূরপ্রসারী অবদান সম্পর্কে আঁচ করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে ৯৩ কিলোমিটার কমছে বেনাপোল-ঢাকার দূরত্ব। এতে সময় বাঁচবে চার ঘণ্টা। একইসঙ্গে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বাড়বে। হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধি। বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক দ্রুত সময়ে পৌঁছে যাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ফলে একদিকে যেমন পরিবহন খরচ কমবে, অন্যদিকে বাজারে পণ্যের দাম কমবে। এমনই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বেনাপোল থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া হয়ে ঢাকার দূরত্ব ২৭৮ কিলোমিটার। এই পথে ঢাকায় যেতে সময় লাগছে আট-নয় ঘণ্টা। মাঝে মধ্যে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। দুর্যোগকালীন ফেরি না পাওয়ায় নদীর পাড়ে কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে আমদানি পণ্য নষ্ট হয়ে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে আসা বিদেশি পণ্য সঠিক সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে না পারায় বাজারে সংকট তৈরি হয়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় দাম।

পদ্মা সেতু চালুর পর মাওয়া দিয়ে ঢাকার দূরত্ব হবে ১৮৫ কিলোমিটার। ঢাকায় যেতে সময় লাগবে চার-পাঁচ ঘণ্টা। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন ফরিদপুর ও ভাঙ্গা হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে সহজে ঢাকায় পৌঁছাবে। এছাড়া পচনশীল দ্রব্য; যেমন শাকসবজি, রেণুপোনা দ্রুত সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি বিদেশেও পাঠানো সম্ভব হবে। কৃষক, ফুল ও মাছ চাষিদের জন্যও আশীর্বাদ হবে পদ্মা সেতু।

উদাহরণস্বরূপ, দেশের সিংহভাগ কলকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির ৮০ শতাংশ কাঁচামাল বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়। বন্দর থেকে খালাস করা কাঁচামাল দ্রুত সময়ে শিল্প ও কলকারখানায় পৌঁছে গেলে পরিবহন খরচ কমে যাবে। শিল্প ও কলকারখানা প্রসারিত হবে। কৃষিপণ্যের বাজার প্রসারিত হবে।

এই হলো মাত্র একটি দিক। আরও বহু সম্ভাবনা দেশ ও জাতির সামনে অঙ্কুর থেকে বিকশিত হবে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে। ফলে পদ্মা পেরিয়ে নবযুগের ঊষার উন্মেষের সামনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ, বাঙালি। স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপায়িত হয়ে বহুমাত্রিক সম্ভাবনার ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে এনে দিয়েছে হাতের মুঠোর মধ্যে। এখন সম্মিলিত কর্তব্য হলো পদ্মা সেতুর মাধ্যমে উন্মোচিত অযুত সম্ভাবনাকে দেশ, জাতি ও মানুষের স্বার্থে ও কল্যাণে কাজে লাগানো।

ড. মাহফুজ পারভেজ,  প্রফেসর, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম।

   

সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে এবার প্রাণ গেল আইডিয়াল শিক্ষার্থীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে এবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিন আয়হামকে (১০) সুন্নতে খতনা করাতে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার কথা থাকলেও ফুল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয় আয়হামকে। পরে তার আর জ্ঞান ফেরেনি।

আয়হামের বাবা ফখরুল আলম বলেন, অ্যানেস্থেসিয়া দিতে নিষেধ করার পরও সেটি শরীরে পুশ করেন ডাক্তার মুক্তাদির। তার অভিযোগ, এই মৃত্যুর দায় মুক্তাদিরসহ হাসপাতাল কর্তপক্ষ সবারই।

ফখরুল আলম আরও বলেন, আমি বারবার পায়ে ধরেছি। আমার ছেলেকে যেন ফুল অ্যানেস্থেশিয়া না দেওয়া হয়।

ঘটনার পরই ডায়াগোনেস্টির সেন্টার থেকে উধাও হয়ে যান, অর্থোপেডিক ডা. মুক্তাদির। যিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সংযুক্ত বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর সাতারকুল বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা শিশু আয়ান মারা যায়। টানা সাত দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলো আয়ান।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা করা এখন লক্ষ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা বাংলাদেশের এখন লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলা পৃথিবীর অন্যতম ভাষা। ব্যাপক সংখ্যক মানুষ এ ভাষায় কথা বলে, সারা পৃথিবীতে ৩৫ কোটির বেশি বাংলা ভাষাভাষী মানুষ আছেন। সম্ভবত ৬ কিংবা ৭ নম্বর অবস্থানে আছে বাংলা ভাষা। আমাদের এখন লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলখানায় বসে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ দিবসটি পালিত হবে। এরপর কানাডা প্রবাসী দুজন বাঙালির উদ্যোগ এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠানোর পর এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

লেটুস চাষে সফলতা পেয়েছেন মিরপুরের সাইফুল



এসএম জামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বারুইপাড়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে লেটুস। এ সবজি চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন সাইফুল ইসলাম নামের এক চাষি। ৮ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা বিক্রি করার আশা করছেন এই তরুণ।

অত্যধিক পুষ্টি গুণাগুণ সমৃদ্ধ সবজি সম্পর্কে বলিদাপাড়া গ্রামের লেটুস চাষি সাইফুল ইসলাম জানান, যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় ২০ শতাংশ জমিতে লেটুস চাষ করছেন কৃষক সাইফুল ইসলাম। লেটুস চাষে বাড়তি কোন ঝামেলা নেই। অন্যান্য ফসলের মতোই চাষ পদ্ধতি। গ্র্যান্ড র‍‍্যাপিডস জাতের লেটুসের বীজ রোপণ করা হয় গত ডিসেম্বর মাসে। ৬০ দিনের ফসল হিসেবে বর্তমানে এগুলো তোলার উপযুক্ত সময় চলছে।

কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, অনেকেই জমি থেকে নিয়ে যাচ্ছেন আবার বাজারেও গিয়ে বিক্রি করে থাকেন। জেলা শহরের সবজি বাজারের নিরাপদ সবজি কর্নারেও এ লেটুস পাওয়া যাচ্ছে।

লেটুস চাষ

চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলোতে ব্যাপক চাহিদা থাকায় লেটুস বিক্রিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না এবং প্রতিটি লেটুস বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা বলে জানান কৃষক সাইফুল।

মিরপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মো. মতিয়র রহমান জানান, অত্যাধিক পুষ্টি গুণাগুণ সমৃদ্ধ লেটুস পাতায় রয়েছে বহুবিধ উপকারিতা। এ জন্য পুষ্টিবিদরা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় লেটুস পাতা রাখার পরামর্শ প্রদান করেছেন। যার ফলে আমরাও উপজেলায় এই লেটুস আবাদের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুল ইসলাম বলেন, লেটুস চাষে সার, বীজ প্রদানসহ কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অত্যাধিক পুষ্টিগুণাগুণ সমৃদ্ধ সবজি লেটুস চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাসহ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম এবার ২০ শতাংশ জমিতে অত্যাধিক পুষ্টি গুণাগুণ সমৃদ্ধ সবজি লেটুস বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে। লেটুস চাষে সফলতায় আশপাশের কৃষকরাও লেটুস চাষে এগিয়ে আসছেন বলে জানান তিনি।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

ফেব্রুয়ারি এলেই বাতি জ্বলে ‘সালামনগরে’



মোস্তাফিজ মুরাদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবদুস সালাম। শহীদ আবদুস সালামের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষ্মণপুর (বর্তমানে সালামনগর) গ্রামে। গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় সারা বছর কেউ এখানে আসেন না। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাস এলেই মানুষের আনাগোনা বাড়ে, বছরের অন্যান্য সময় থাকে নিষ্প্রাণ। ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ভাষা শহীদ সালামের স্মরণে সালামনগরে তৈরি করা হয়েছে সালাম স্মৃতি জাদুঘর। ২১ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে নানা কর্মযজ্ঞে প্রাণ ফিরে আসে ‘ভাষা শহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে’। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয় গ্রন্থাগার ও জাদুঘর পরিষ্কার ও সাজসজ্জার কাজ।

জাদুঘরে ভিতরে রয়েছে পাঠাগার। পাঠাগার থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় পাঠকের তেমন আনাগোনা নেই বললেই চলে। পাঠাগারটিতে ১১টি আলমারি, ৩ হাজার বই, আর ছয়টি টেবিল সঙ্গে কিছু চেয়ার রয়েছে। এছাড়াও জাদুঘরে শহীদ সালামের একটি ছবি ছাড়া আর কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই যার কারণে জাদুঘরে তেমন দর্শনার্থী নেই। গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে একজন গ্রন্থাগারিক ও একজন তত্ত্বাবধায়ক আছেন।

অন্যদিকে, লক্ষ্মণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে এবং ভাষা শহীদ সালামনগর গ্রামে বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ভাষা শহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজ । তবে ভাষা শহীদ সালামের বাড়ি ফেনী জেলা সকলে জানলেও ঠিকভাবে জানে না ফেনীর কোথায় তার ঠিকানা। যার কারণে সালামের স্মরণে তৈরি জাদুঘর, পাঠাগার জনশূন্য।

এলাকার বাসিন্দারা জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসে সালামনগরে গুরুত্ব বেড়ে যায়। বছরের অন্য দিনগুলোতে মানুষের তেমন আনাগোনা থাকে না। এছাড়াও পাঠাগারে পাঠকের দেখা নেই বললেই চলে।

ভাষা শহিদ আবদুস সালামের বাড়ির পাশের প্রতিবেশী রেদওয়ান কবির বলেন, স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগে এলাকার রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়ন হলেও স্মৃতি জাদুঘরে শহিদ সালামের একটি ছবি ছাড়া আর কিছুই নেই। ফলে, দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। গ্রন্থাগারে কিছু বই রয়েছে, তবে সেগুলো অনেক পুরাতন।

ফেনী শহরে ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামের নামে একটি স্টেডিয়াম ও একটি কমিউনিটি সেন্টারের নামকরণ করা হয়। স্টেডিয়াম ও কমিউনিটি সেন্টার থাকলেও সালামের নামে ফেনীতে নেই কোনো গ্রন্থাগার, নেই গবেষণাগার ও বিনোদন কেন্দ্র। ফেনীতে সালামের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থাগার, গবেষণাগার ও বিনোদন কেন্দ্র থাকলে মানুষ ভাষা শহীদ সালামকে স্মরণে রাখতে পারবে এবং শহীদ সালাম সর্ম্পকে জানতে পারবে বলে জানিয়েছে ফেনীর সুশীল সমাজ।

দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন বলেন, বছরের ১১ মাস ‘ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম গ্রন্থাগার ও জাদুঘর’ নিষ্প্রাণ থাকে। এই গ্রন্থাগারটিতে যাতে সপ্তাহে বা মাসে একবার হলেও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আনা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, গ্রন্থাগারের পাশে ফেনী ছোট নদীর পাড়ে কিছু জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা অধিগ্রহণ করে বিনোদন স্পট হিসেবে একটি শিশুপার্ক করা যায় কি না, সে বিষয়ে পৌরসভার সঙ্গে আলোচনার কথা জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ভাষা শহিদ আবদুস সালামের জন্ম ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তায় ১৪৪ ধারা অগ্রাহ্য করে ছাত্র-জনতা বাংলা ভাষার দাবিতে মিছিল করেন। আবদুস সালাম সেই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে আবদুস সালাম আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় দেড় মাস পর ১৯৫২ সালের ৭ এপ্রিল মারা যান তিনি। পরে তার নামানুসারে লক্ষণপুর গ্রামের নাম রাখা হয় ‘সালামনগর’।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;