বছরজুড়ে রাজনীতির মাঠে ‘উত্তাপ’ ছড়ানোর চেষ্টায় বিএনপি

  সালতামামি



আকরাম হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে বিদায়ী বছরের রাজনীতির ময়দানে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে অন্যান্য বছরের মতোই ২০২১ সালেও আশা জাগিয়ে জোড়ালো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। উল্টো সরকারের নানামুখী চাপে কোনঠাসা হয়ে রয়েছে দলটি।

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বড় কর্মসূচি দিলেও বছর জুড়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, দোয়া মাহফিল, জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা, স্থায়ী কমিটির সাপ্তাহিক বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। নেতাদের অনেকে মনে করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০২১ সালে দলটি কিছুটা আন্দোলনমুখী হয়েছে।

অসুস্থ খালেদা জিয়া

২১ মাসেরও বেশি সময় সরকারের নির্বাহী আদেশে নানা শর্তসাপেক্ষে মুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বাসায় অবস্থানকালে ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। আক্রান্তের ২৭ দিন পর ৯ মে করোনা মুক্ত হন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। বাসায় থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ১২ অক্টোবর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে এদিন রাতেই সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয় খালেদা জিয়াকে। টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এর ৬ দিন পর ১৩ নভেম্বর আবারও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

লিভার সিরোসিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল টিম। ক্রমশই তার শারীরিক অবস্থা জটিল হচ্ছে। এ রোগের চিকিৎসার জন্য এ মুহূর্তে যে প্রযুক্তি দরকার তা ভারতীয় উপমহাদেশে নেই। এসমস্ত চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে সম্ভব বলে জানিয়েছে মেডিকেল টিম এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদেশে দেয়ার পরামর্শ দেন তারা।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে পরিবারের চিঠি

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছে তার পরিবার। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর এ আবেদন করেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি একবার আবেদন করা হয়। সে আবেদনে সাড়া দেয়নি সরকার। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে আবারও চিঠি দেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিদেশে নেয়ার অনুমতি দেয়নি।

মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা দাবিতে বিএনপির কর্মসূচি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে দলটি। ২০ নভেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমানে গণ-অনশন করে দলটি। গণ-অনশন থেকে ২২ নভেম্বর একই দাবিতে সারাদেশে মহানগর ও জেলায় সমাবেশের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব। এসময় হরতাল দেয়ার দাবি জানান নেতাকর্মীরা। ২২ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ হয়। ২৪ নভেম্বর সারাদেশে জেলা প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে বিএনপি।

২৪ নভেম্বর ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৫ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। ২৫ তারিখ যুবদল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। ২৬ তারিখ সারাদেশে মসজিদে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া, ২৮ তারিখ সেচ্ছাসেবক দল সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে। ৩০ তারিখ বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ, ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদলের মানববন্ধন, ৩ তারিখ কৃষকদল মৌন মিছিল। ২২ ডিসেম্বর থেকে জেলায় জেলায় সমাবেশ শুরু করছে বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত একই দাবিতে ৩২ জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব সমাবেশ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকছেন।

ধারণা করা হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত সুচিকিৎসার দাবিতে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে বিএনপি। দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরাও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কাছে বিভিন্ন সময় হরতালের মতো কর্মসূচির দাবি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়নি মাঠের প্রধান বিরোধী দল।

নির্বাহী কমিটির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

সাড়ে তিন বছর পর সেপ্টেম্বরে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে দলের হাইকমান্ড। ১৪,১৫,১৬ তারিখে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকমণ্ডলি এবং অঙ্গ সংগঠনের মোট ২৮৬ জন নেতা অংশ নেন। ২১,২২,২৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান হয়। জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা যারা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নয় তারাও এ বৈঠকে উপস্থিত থাকেন। তিন দিনের সে সিরিজ বৈঠকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি মিলে মোট ৩৬৩ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিএনপির এ বৈঠক দেশের রাজনৈতিক অঙ্গে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা

বরাবরের মত এবারও বিএনপির মিছিলসহ নানা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এঘটনায় পুলিশের আট সদস্য আহত হয়। অন্যদিকে দেড় শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এতে ছাত্রদলের ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

১৭ আগস্ট সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিএনপির নেতাকর্মীদের।

করোনাকালে রাজনীতি

সারাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নেতা-কর্মী-সমর্থক-জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ১ এপ্রিল ‘রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক’ কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিএনপি। এসময় নিয়মিত ভার্চুয়াল আলোচনা ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে দলটি। সাধ্যমত ত্রাণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী বিতরণ করেছেন দলটি। করোনা মহামারীর প্রকোপ কমে আসলে ১২ সেপ্টেম্বর পুনরায় শুরু করে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বহিষ্কার

১৭ এপ্রিল বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ বা গুমে’র বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ২২ এপ্রিল বিতর্কিত মন্তব্যে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয় দল। ২৬ এপ্রিল জবাব দেন তিনি। মির্জা আব্বাসের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয় বিএনপি। বছরের শেষে এসে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২৫ ডিসেম্বর তাকে অব্যাহতি দেয়ার পর খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ১৬টি ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের ৫৬১ নেতা-কর্মী পদত্যাগ করে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শাখা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দলটি। ঢাকা দক্ষিণে আহ্বায়ক করা হয় আবদুস সালাম ও উত্তরে আহ্বায়ক হয়েছেন আমান উল্লাহ আমানকে। দক্ষিণে সদস্য সচিব করা হয়েছে রফিকুল আলম মজনু ও আমিনুল হককে উত্তরের। ২ আগস্ট বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উল্লেখিত কমিটি দুটি অনুমোদন করেছেন।

না ফেরার দেশে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মওদুদ আহমদে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মওদুদ আহমদ ১৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ।

ইউপি নির্বাচন বর্জন

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ২৮ ফেব্রুয়ারি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন ও সব পৌরসভার নির্বাচনে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে চরম ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান।

রাষ্ট্রপতির সংলাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রপতির সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকার ব্যতিরেকে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কোনও নির্বাচন কমিশনই করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছেন, তার কোনও ক্ষমতা নেই পরিবর্তন করার। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ কোনও ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারবে না। বিএনপি অর্থহীন কোনও সংলাপে অংশগ্রহণ করবে না।

বিদায়ী বছরে রাজনৈতিক মূল্যয়ন করতে যেয়ে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে বিএনপি মনোনীত সাংসদ রুমিন ফারহানা বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিদায়ী বছরে বিরোধী দলীয় রাজনীতির সাথে যারা যুক্ত তাদের কারও জন্যই খুব স্বস্তি ছিল না। আমাদের উপরে সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণ অব্যাহত ছিল। যা ২০১৩-১৪ সালে শুরু হয়েছে তার ধারাবাহিকতা একুশেও ছিল।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত সুচিকিৎসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে রাজপথে বিএনপি যে আন্দোলন করার কথা ছিল তা অব্যাহত রয়েছে। আইনের পথেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে ৪০১ ধারায় সরকারের কাছে আবেদন পত্রও জমা দেয়া হয়েছে। সরকার এখন এতটাই স্বৈরাতান্ত্রিক, এতটাই ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে যে কোনো ব্যাপারে তাদের কর্ণপাত করা আলামত দেখতে পারছি না।

বিএনপির রাজনীতি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন প্রশ্ন করলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এসব হতাশার কথা বলে তো লাভ নেই। তাদের অনেক দূর যেতে হবে। তাদের ঘুম থেকে জাগতে হবে। তারা এখনো ঘুম থেকে জাগে নাই। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেনি তারা। তাদের যদি ইচ্ছা থাকতো তাহলে গত বছরেই হাইকোর্ট ঘেরাও করা উচিত ছিল। সেটা তারা করে নাই। নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে থাকা এবং গুলশানে থাকা একই কথা। বরং শেখ হাসিনাকে পলিটিক্যাল অ্যাডভান্টেজ দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিগত দিনের বিএনপির রাজনীতি জনগণের পক্ষে ছিল, এখনো আছে, সামনেও থাকবে। গণতন্ত্রের পক্ষে, জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে, বাংলাদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতার পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে, স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার পক্ষে বিএনপির রাজনীতি ছিল-আছে-থাকবে। যতদিন বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের অধিকার, ভোটাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ফিরে না পাবে ততদিন বিএনপি বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে। সমগ্র দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেগেছে।

কঠোর কর্মসূচির প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সারাদেশে বিএনপির জোড়ালো কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচি একদিনও বাদ যাচ্ছে না। যখন যে কর্মসূচি প্রয়োজন হবে সে সিদ্ধান্ত দল নিবে।

  সালতামামি

ময়মনসিংহ আ.লীগের জেলায় সভাপতি এহতেশামুল ও মহানগরে টিটু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ আ.লীগের জেলায় সভাপতি এহতেশামুল ও মহানগরে টিটু

ময়মনসিংহ আ.লীগের জেলায় সভাপতি এহতেশামুল ও মহানগরে টিটু

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এহতেশামুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে  অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলকে পুনরায় নির্বাচিত করা হয়েছে।

অন্য দিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ইকরামুল হক টিটুকে এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোজিত উর রহমান শান্ত পুনরায় নির্বাচিত করা হয়েছে।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে  সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ সময়  আরো উপস্থিত রয়েছেন- দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম এমপি, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সংস্কৃতি সম্পাদক বাবু অসীম কুমার উকিল এমপি, সদস্য মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আরেং প্রমুখ।

 

  সালতামামি

;

সোহরাওয়ার্দীর বদলে নয়াপল্টনে সমাবেশের উদ্দেশ্য জনগণকে ব্লাফ দেওয়া



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সোহরাওয়ার্দীর বদলে নয়াপল্টনে সমাবেশের উদ্দেশ্য জনগণকে ব্লাফ দেওয়া

সোহরাওয়ার্দীর বদলে নয়াপল্টনে সমাবেশের উদ্দেশ্য জনগণকে ব্লাফ দেওয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা ৭ মার্চ রেসকোর্সে সভা করেছি, নানা আন্দোলনে বড় বড় সভা করেছি। অথচ এখন বিএনপি বলে তাদের পল্টনে সভা করতে দিতে হবে। কারণ ওখানে মাত্র ২০-৩০ হাজার লোক হলেই মঞ্চ ভরে যায়।  ব্লাফ দেবার জন্যে বিএনপি এটা করতে চাই।

আমরা অনুমতি দিয়েছি, ছাত্রলীগের সমাবেশ ২ দিন এগিয়ে নিয়েছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু পল্টনে বিশৃঙ্খলা করতে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি।

শনিবার (৩ডিসেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু ২৩ এভিনিউ'তে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির ৮৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

দেশের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল বলেন, অথচ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল সবকিছু বঙ্গবন্ধু কন্যার কারণে সম্ভব হয়েছে।

যুবলীগ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাই। যুবলীগ সভাপতির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, যেন দেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

'কথায় কথায় সরকারের পতন। সরকার পতন এতো সহজ। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তৃণমূলে বিস্তৃত'।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

  সালতামামি

;

নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু

নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে গণসমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।

দুপুর ২টা থেকে অনুমতি দিলেও পুলিশ মাঠের নিয়ন্ত্রণ সকাল ৬টার দিকে ছেড়ে দেয়। এরপর ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে প্রবেশ করতে থাকেন। সকালেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু মঞ্চে উঠেন।

গণসমাবেশ আয়োজন কমিটির দলনেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু জানান, বেলা ২টা থেকে গণসমাবেশ শুরুর পূর্বনির্ধারিত সময় ছিল। কিন্তু নেতাকর্মীরা চলে আসায় আগেই গণসমাবেশ শুরু হয়।

গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি থাকবেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল মাহমুদ হাসান টুকু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের এমপি হারুন অর রশিদ, বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। সভাপতিতত্ব করবেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি এরশাদ আলী ঈশা।

দুপুর ২টা থেকে অনুমতি দিলেও বেলা ১১টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে রাজশাহীর বিভাগীয় এ গণ-সমাবেশে ১৫ লাখ লোকের সমাগমের টার্গেট করেছে বিএনপি। বিএনপির দাবি আগামীকালের সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা ও আশপাশের জেলা থেকে গণসমাবেশে ১৫ লাখের বেশি লোকের সমাগম হবে।

এর আগে শুক্রবার গণসমাবেশস্থলের মঞ্চ পরিদর্শন করতে গিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘সমাবেশে আসতে পথে পথে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে লাখো নেতাকর্মী সমাবেশস্থলের আশপাশে এবং কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ মাঠে অবস্থান করছেন।

  সালতামামি

;

বাধা ডিঙিয়ে রাজশাহীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা, দুপুরে সমাবেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার থেকে বিভাগজুড়ে থেকে চলছে গণপরিবহন ধর্মঘট। শুক্রবার থেকে এর সঙ্গে শুরু হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ধর্মঘটও। এতো বাধা বিপত্তির পরও রাজশাহীমুখী বিএনপির নেতাকর্মীরা।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা সমাবেশ মাঠের পাশের ঈদগাহ মাঠে শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত সমাবেশ মাঠে প্রবেশের অনুমতি পাননি বিএনপির নেতাকর্মীরা। পুরো মাঠ ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

এদিকে, সমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) রাতে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

মোহাম্মদ আলী পেছনে একজনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বগুড়া থেকে ১১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহী এসে পৌঁছান বৃহস্পতিবার রাত ৯টায়। পথে যেখানেই পুলিশের চেকপোস্ট দেখেছেন, সেখানেই ভিন্নপথে সেই চেকপোস্ট পার হয়েছেন তিনি।

তার মতো বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের দুদিন আগেই সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছেছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী।

বাস মালিকদের ডাকা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে মোহাম্মদ আলীর মতো শত শত নেতাকর্মী ভিন্ন উপায়ে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের জন্য রাজশাহী আসছেন। তবুও পথে বাধা পড়ছে।

নওগাঁ সদর থেকে ১২ জনের একটি দলের সঙ্গে এসেছেন বৃদ্ধ মো. আবুজার (৬৬)। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় নওগাঁ থেকে তারা রওনা দেন রিকশায় চড়ে। বান্দাঘরা এলাকায় এসে রিকশা থেকে নেমে সিএনজিতে ওঠেন। এরপর বাগমারায় এসে নামেন। এখানে ওঠেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। বাগমারা থেকে মোহনগঞ্জ আসার পর আবার সিএনজিতে ওঠেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, পুলিশ সবগুলো প্রবেশপথেই চেকপোস্ট পরিচালনা করছে যেন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে। তবে নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। কিন্তু অবৈধ যানবাহন, যেগুলো শহরে ঢোকা বারণ, সেগুলোতে কেউ এলে তো বাধা দেওয়া হবে।

বিএনপির সমাবেশের আগে সাধারণ মালিকদের পাশাপাশি সরকারি বিআরটিসি বাসও বন্ধ রয়েছে। তবে চলাচল করছে ট্রেন। একটি কমিউটার ট্রেনে চড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসেছেন সোনাইচণ্ডিহাট এলাকার বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক মজিবর রহমান। ট্রেনের ভেতরে এবং স্টেশনে পুলিশ রাজশাহী যাওয়ার কারণ জানতে চেয়েছে বলে জানান তিনি।

মজিবর বলেন, রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে যাচ্ছি বললে পুলিশ বলেছে যেতে দেওয়া হবে না। আমি বলেছি, আমি যাবই। টিকিট কেটেছি, আমি যাব।কেউ আটকাতে পারবে না। তখন আর পুলিশ ঝামেলা করেনি। তিনি বলেন, বিএনপি তিন ঘণ্টার একটা সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে। কিন্তু বাস বন্ধ করে দেওয়ার কারণে এই সমাবেশ তিন দিনের হয়ে গেছে। তিন দিন আগে থেকেই নেতাকর্মীরা এসে একত্রে থাকছে।

  সালতামামি

;