করোনার চোখ রাঙানি, যুদ্ধ, ক্ষমতার লড়াই নিয়ে যেমন কাটল ‘২১

  সালতামামি



মোস্তাফিজুর রহমান পলিন, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে যাচ্ছে ২০২১ সাল। নতুন কিছুর প্রত্যাশায় বিশ্ব বরণ করে নিতে যাচ্ছে খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২২ সালকে। তবে বিদায়ী ২০২১ সাল ইতিহাসে জায়গা করে নিবে নানা ঘটন-অঘটনের বছর হিসেবে। এসব মধ্যে রয়েছে নতুন রূপে করোনাভাইরাসের আগমন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, মার্কিন কংগ্রেসে (ক্যাপিটল হিল) হামলা, আফগানিস্তানে তালেবানের ফের ক্ষমতায় আসা, অকাস নিয়ে বিতর্ক, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান, গাজায় ইসরাইলি হামলা, অভিবাসী সংকট, মালালার বিয়ে, ইউরোপের দেশ সুইডেনে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীসহ নানা ঘটনার কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিদায়ী বছরটি।

নতুন রূপে করোনা, ফেলেছে চিন্তার ভাঁজ

বছরের শেষ সময়ে এসে নতুন করে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। এর ফলে ইউরোপের অনেক দেশ ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি সীমানা বন্ধের পদক্ষেপ নিচ্ছে। অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম করোনার নতুন ধরনের (স্ট্রেইন) অস্তিত্ব মিলেছে ৮৯টি দেশে। মহামারি পুরোপুরি নির্মূল না হতেই লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলাকেই এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শক বিজ্ঞানীরা বলেন, বিস্তার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতালগুলো বিশাল চাপের মুখে পড়বে। করোনার অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রন ইউরোপে বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স। এদিকে করোনা প্রতিরোধে টিকা কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছেন, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিশ্বের সব দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিলে আগামী বছরের মধ্যে মহামারির অবসান সম্ভব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে বয়স্ক বাইডেন

মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (৭৮) ২০ জানুয়ারি শপথ নেন। এছাড়া দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন কমলা হ্যারিস। যুক্তরাষ্ট্রে এবারই প্রথা ভেঙে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেশ কিছু সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করেন। যুক্তরাষ্ট্র ফের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ফেরে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে করা পরমাণু চুক্তি পুনর্বহালের বিষয়ে আগ্রহে প্রকাশ করে বাইডেন প্রশাসন। এছাড়া বাইডেন প্রশাসন আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সৌদি আরবে ক্রমাগতভাবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিমান হামলার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ক্যাপিটল ভবনে নজিরবিহীন হামলা

গত ৬ জানুয়ারি জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়নে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকরা নজিরবিহীন হামলা চালায়। এঘটনায় চার ব্যক্তি নিহত হন। এমনকি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কারফিউ জারি করা হয়। এ ঘটনায় বিস্মিত হয় বিশ্বের রাজনৈতিক নেতারা। একে লজ্জাজনক বলেও উল্লেখ করেন তারা। মার্কিন গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠে।

২০ বছর পর ফের ক্ষমতায় তালেবান

দীর্ঘ ২০ বছর রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর গত ১৫ আগস্ট ফের আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলে নেয় তালেবান। দেশ ছেড়ে পালান পশ্চিমা-সমর্থিত আফগান সরকারের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তালেবান ক্ষমতায় আসায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এছাড়া আফগানিস্তানে গণতন্ত্রের যতটুকু চর্চা শুরু হয়েছিল, নারীর ক্ষমতায়নের যে ধারার সূচনা হয়েছিল, তা তালেবানের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে থমকে গেল। আবার দেশটি যেন ২০ বছর পেছনে ফিরে গেল। দেশটিতে দুই দশকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। সরকারি হিসেবে আড়াই হাজারের বেশি মার্কিন সৈন্য ও প্রায় ৪ হাজার মার্কিন বেসামরিক লোক নিহত হন। অন্যদিকে আফগানিস্তানে ১ লাখ ৭০ হাজারের ওপর প্রাণহানি ঘটে। এদিকে তালেবান আবারও কঠোর শাসন চালু করতে শুরু করেছে, তার সঙ্গে দেশটিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তারা প্রায় দেশটিতে রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে।

অকাস উত্তেজনা

চীনকে মোকাবিলা করতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অকাস (এইউকেইউএস) নামের একটি নিরাপত্তা চুক্তির ঘোষণা দেয়। যার ফলে ওই অঞ্চলে হঠাৎ করে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণের জন্য উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহ কথা বলা হয়েছে। এতে করে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে এবং এর মধ্য দিয়ে কৌশলগত এই অঞ্চলে নতুন মেরুকরণের সূত্রপাত হবে। কিন্তু পরমাণু শক্তিধর দেশ ফ্রান্স এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছে। অকাসের তীব্র নিন্দা করে বলেছে এর মাধ্যমে তাদের পিঠে ছুরি মারা হয়েছে। এর জেরে ক্ষুব্ধ প্যারিস যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ায় তাদের নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায়। যা খুবই অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেনের ব্যাপক সমালোচনা হয়। ধারণা হচ্ছে ২০২২ সালে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর মূল্য দিতে হবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল একটি অতি স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌ-অঞ্চল। মূলত বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাব মোকাবিলার জন্যই অকাস জোট গঠন করা হয়েছে।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান

চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার। বন্দি করা হয় গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। এর জেরে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক বিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যাতে ব্যবহার করতে না পারে, সে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ৯ এপ্রিল প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময়সীমা ঘোষণা করে বলে আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে এটি করা হবে। জান্তা সরকার ৬ ডিসেম্বর মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়।

গাজায় ইসরাইলি হামলা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল এ বছরের এপ্রিল ও মে মাসে হামলা চালায়। এতে গাজায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নারী-শিশুসহ মারা যায় ১৮১ জনের বেশি ফিলিস্তিনি। যার ফলে সংঘাত ছড়িয়ে গেছে ইসরাইলেও। সেখানে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে সংঘর্ষে দেখা দেয়। পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি দখলদারদের হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে মুসলিম বিশ্ব। পবিত্র মসজিদের ভিতর নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব, ইরান, তুরস্ক, বাংলাদেশসহ প্রায় সব মুসলিম দেশ। তবে এই ইস্যুতে অনেকটাই নমনীয় সুর ছিল পশ্চিমাদের।

গভীর হচ্ছে অভিবাসী-সংকট

দিন যত যাচ্ছে ততই অভিবাসী-সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ এশীয় দেশগুলো থেকে ইউরোপমুখী অভিবাসন-প্রত্যাশীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে ওই অঞ্চলে চলমান অভিবাসী-সংকট গভীর হচ্ছে। এছাড়া হাইতি ও হন্ডুরাসের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রমুখী হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপে অভিবাসী সংকট নতুন মাত্রা যোগ করে এ বছর। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে ১৭ লাখ মানুষ ঢোকে, অন্যদিকে ইউরোপে গত বছরের তুলনায় এবার ৭০ শতাংশ বেশি অভিবাসী ঢুকেছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকে সাগর পথে ইউরোপে প্রবেশ করার সময় নৌকাডুবে মারা গেছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, এ বছর শুধু মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে নৌকা দুর্ঘটনা এবং জাহাজডুবির ঘটনায় প্রায় ১৫০০ শরণার্থী ডুবে মারা গেছে। সম্প্রতি লিবিয়া উপকূলে ভেসে এসেছে ইউরোপগামী ২৭ জন শরণার্থীর লাশ। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রুটের এই ঘটনাকে সবশেষ ট্যাজেডি বলছে রেড ক্রিসেন্ট।

বিয়ে করেছেন নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই

পাকিস্তানের নারীশিক্ষা অধিকারকর্মী ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই বিয়ে করেছেন। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মালালা। কারণ একসময় তিনি বলেছিলেন, মানুষ কেন বিয়ে করে। ভোগ ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৩ বছর বয়সী মালালা বলেন, আমি নিশ্চিত নই যে কখনো বিয়ে করবো কি না। আমি এখনো বুঝতে পারছি না কেন মানুষকে বিয়ে করতে হবে’ তিনি আরও বলেন, আপনি যদি আপনার জীবনে একজন ব্যক্তি থাকতে চান, তাহলে কেন বিয়ের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে, কেন এটি একটি কেবল অংশীদারিত্ব হতে পারে না? বিয়ে করার পর এ নিয়ে মালালা বলেন, আমি একজন সেরা বন্ধু ও সঙ্গী খুঁজে পেয়েছি। তাঁর ভাষ্য, এবার সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিয়েকে দেখেছেন তিনি।

সুইডেনে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন

সুইডেনের ইতিহাসে চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন দেশটির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগ করেন তিনি। ফের ২৯ নভেম্বর সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি এক দলীয় সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

  সালতামামি

৮০ বছর পর আবার জার্মান ট্যাংকের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা: পুতিন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ৮০ বছর পর রাশিয়া আমরা আবারও জার্মানির ট্যাংকের মুখোমুখি হচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্তালিনগ্রাদ যুদ্ধ শেষের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে এমন কথা বলেন তিনি। খবর বিবিসির।

এখন থেকে ৮০ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের স্তালিনগ্রাদ শহরে জার্মান নাৎসি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন সোভিয়েত সেনারা। এটি স্তালিনগ্রাদ যুদ্ধ নামে পরিচিত। ওই যুদ্ধে প্রায় ৯১ হাজার জার্মান সেনাকে আটক করেছিল সোভিয়েত বাহিনী।

ইউক্রেনে লেপার্ড ট্যাংক পাঠানোর জার্মানির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

তিনি বলেন, এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। আমাদের আবার জার্মান লেপার্ড ট্যাংকের দ্বারা হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধে শুরু থেকেই ইউক্রেনকে তার ভূখণ্ড রক্ষায় সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে আসছে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো। এরই মধ্যে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক ট্যাংক দিতে রাজি হয়েছে। তার মধ্যে জার্মানি অন্যতম। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে নিজেদের তৈরি লেপার্ড ট্যাংক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্লিন।

ভাষণের একপর্যায়ে আবারও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, যারা যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়াকে হারানোর আশা করছে, তারা হয়তো জানে না, রাশিয়ার সঙ্গে আধুনিক যুগের যুদ্ধ তাদের জন্য অনেক ভিন্ন হবে।

৭০ বছর বয়সী এই রুশ নেতা বলেন, আমরা আমাদের ট্যাংকগুলো তাদের সীমান্তে পাঠাচ্ছি না। তবে জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের হাতে আরও উপায় আছে। আমরা শুধু সাঁজোয়া যুদ্ধাস্ত্রগুলো ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব না। এটা সবার বোঝা উচিত।

পুতিনের এই বক্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিলেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো যেহেতু একত্রিত হয়ে ইউক্রেনকে নতুন নতুন অস্ত্র দিচ্ছে, তাই এর জবাবে রাশিয়া নিজেদের শক্তিশালী অস্ত্রগুলোর সর্বোচ্চ কাজে করবে।

  সালতামামি

;

বিশ্ব হাত গুটিয়ে বসে থাকলে আরেকটি রোহিঙ্গা গণহত্যা হবে : জাতিসংঘ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দুর্বল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘আরো দায়িত্বশীল হওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পরিস্থিতি তদন্তের দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘের স্বাধীন কার্যক্রম বিশেষজ্ঞ।

জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিবেদকের নাম টম অ্যান্ড্রুস। তিনি মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সতর্ক করেছেন যে ‘বিশ্ব হাত গুটিয়ে বসে থাকলে আবারো ২০১৭ সালের পুনরাবৃত্তি হবে’।

ছয় বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। সামরিক দমন পীড়নে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছিল এবং দশ লাখেরও বেশি মানুষকে অন্য দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।

টম অ্যান্ড্রুস সতর্ক করেছেন যে যারা সে সময় ‘গণহত্যা চালিয়েছিল’ তারাই এখন দেশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষা তাদের অগ্রাধিকার নয়’।

 

  সালতামামি

;

যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া: ইউক্রেন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন রাশিয়া নতুন করে ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসি রেজনিকভ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ফ্রান্সের গণমাধ্যম বিএফএমের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন ওলেকসি রেজনিকভ। তার দাবি, ওই হামলা চালাতে রাশিয়ার প্রায় ৫ লাখ মানুষকে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার ৩ লাখ নাগরিককে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তখন তিনি বলেছিলেন, দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার জন্য এটি প্রয়োজনীয় ছিল।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, রুশ সামরিক বাহিনীতে নতুন করে যুক্ত করা এবং যুদ্ধের জন্য মোতায়েন করা সেনার প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

ওলেকসি রেজনিকভ বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া ৩ লাখ মানুষকে সামরিক বাহিনীতে নিযুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সীমান্তে তারা কী পরিমাণ সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হিসেবে এটা রাশিয়ার ঘোষণার চেয়ে অনেক বেশি।

তবে বিবিসি স্বাধীনভাবে এই সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি।

ইউক্রেনের কমান্ডাররা রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করার প্রস্তুতি নেবে জানিয়ে রেজনিকভ বলেন, তার বিশ্বাস, ২০২৩ সামরিক বিজয়ের বছর হতে পারে। বিগত মাসগুলোতে ইউক্রেন বাহিনী যা অর্জন করেছে তা হারাতে পারে না বলেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অতিরিক্তি এমজি-২০০ এয়ার ডিফেন্স রাডার কেনার চুক্তি করতে বর্তমানে ফ্রান্সে। তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্যভাবে উইংড এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরণের ড্রোনসহ বিমান লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

এদিকে ইউক্রেনের গোয়েন্দারা জানিয়েছে, বসন্ত শেষ হওয়ার আগেই দেশটির দনবাস অঞ্চল দখল করতে রুশ সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। এরপরই রেজনিকভ রাশিয়ার সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আশঙ্কার কথা বললেন।

সোমবার ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ সতর্ক করে বলেছিলেন, পুতিন তার সামরিক লক্ষ্য ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দখলে সীমাবদ্ধ রেখেছেন এমন কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

  সালতামামি

;

বাইডেনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে এফবিআই



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেলাওয়্যারের উপকূলীয় শহর রেহোবোথ বিচের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

গোপন নথির তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাইডেনের আইনজীবী। খবর বিবিসির।

এক বিবৃতিতে বাইডেনের আইনজীবী বলেছেন, প্রেসিডেন্টের পূর্ণ সমর্থনে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে ।

তবে এফবিআই তল্লাশির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। যেহেতু এটি সম্মত ছিল, কোন অনুসন্ধান পরোয়ানা চাওয়া হয়নি।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্তকারীরা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বাড়ি থেকে ছয়টি গোপন নথি উদ্ধার। প্রেসিডেন্টের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের বাড়িতে ১৩ ঘণ্টা অনুসন্ধান চালিয়ে এই নথিগুলো উদ্ধার করা হয়।

তার আগে ২০ জানুয়ারি উইলমিংটনের বাড়ি থেকে আরও কিছু নথি জব্দ করা হয়েছিল। সেগুলো বাইডেন সিনেটর থাকাকালীন এবং বারাক ওবামার সরকারে ভাইস-প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়কার নথি।

আইনজীবী বব বাওয়ের বলেন, হাতে লেখা ব্যক্তিগত নোট এবং আশেপাশের আরও কিছু সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও তার স্ত্রী সে সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।

শনিবার এক বিবৃতিতে বাওয়ের বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার ভাইস-প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়কার রেকর্ড এবং সম্ভাব্য গোপন জিনিসপত্র অনুসন্ধানের জন্য তার পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালাতে বিচার বিভাগ বা ডিওজে-কে অনুমোদন দিয়েছেন।

জানুয়ারির শুরুর দিকে বাইডেনের আইনজীবীরা বলেছিলেন, প্রথম ধাপের গোপন নথিগুলো গত ২ নভেম্বর পেন বাইডেন সেন্টারে পাওয়া যায়। এটি ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্টের প্রতিষ্ঠিত একটি থিংক-ট্যাঙ্ক।

  সালতামামি

;