বিদ্যুতে মাইলফলকের বছর ২০২১

  সালতামামি



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিদ্যুতে মাইলফলকের বছর ২০২১

বিদ্যুতে মাইলফলকের বছর ২০২১

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গোপসাগরের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া, সন্দ্বীপ থেকে পাহাড়ের দূর্গমে এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দারাও এখন বিদ্যুতের আলোও আলোকিত। কিছুদিন আগেও যেসব এলাকার বাসিন্দারা নিজেরাই বিদ্যুতের আলো দেখতে পাবেন আশাবাদী ছিলেন না।

সারা দেশে (৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত) ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। দু’একটি জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু গ্রাহক রয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলমান। এরমধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দ্বীপাঞ্চলে । যাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে শিগগিরই। অর্থাৎ শতভাগ বিদ্যুতায়ন এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিষয় মাত্র। সে কারণে ২০২১ সাল বিদ্যুৎ খাতের জন্য মাইলফলক।

১৯০১ সালে ৭ ডিসেম্বর আহসান মঞ্জিলে লাইট জ্বালানোর মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের পথচলা, ১৯১৯ সালে ‘ডেভকো’ নামক ব্রিটিশ কোম্পানির মাধ্যমে ঢাকায় সীমিত আকারে বিদ্যুৎ বিতরণ শুরু, পরবর্তীতে ১৯৩৩ সালে ঢাকার পরীবাগে ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ধানমন্ডি পাওয়ার হাউস’ নির্মাণ করে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ শুরু ইতিহাস যেমন মুছে ফেলা যাবে না। তেমনি বিদ্যুৎ খাতের শতভাগ অর্জনও বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।

বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাওয়ায় দুর্গম এলাকার অর্থনৈতিক চিত্রও বদলে যাচ্ছে। গড়ে উঠছে বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বসছে চাউল কল, স-মিল, অটোমোবাইলের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বেরিয়ে আসছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান।একটি বিদেশি গবেষণায় বলা হয়েছে গ্রামে বিদ্যুতায়নের ফলে বাংলাদেশের শিশুদের গড় উচ্চতা বেড়ে গেছে। প্রায় দুই বছরজুড়েই করোনা মহামারি সত্ত্বেও এই অর্জন সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেছেন এই খাতের বোদ্ধারা।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে যে ঘোষণা দিয়েছেন। তখন অনেকেই একে নির্বাচনী স্ট্যান্ডবাজি বলে মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালকে সে সব সমালোচকদের মুখে চুন-কালি লেপনের বছর বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ র্পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সিস্টেম লসে লাগাম টেনে ধরতে সক্ষম হয়েছে সরকার। এক সময় ৩৭ শতাংশ সিস্টেম লস ছিল, সেই সিস্টেম লস এখন এক অংকে নেমে এসেছে অনেক বিতরণ কোম্পানিতে। চলতি অর্থ বছরে (২০২১-২২) এর প্রথম ৩ মাসে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিস্টেম লস ছিল ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ, একই সময়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি ৫ দশমিক ২০ শতাংশ, ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে। সামগ্রিক সিস্টেম লস ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

তুলনামূলক সিস্টেম লস বেশি হয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি। ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, চলতি অর্থ বছরের প্রথম কোয়ার্টারে গীষ্মমৌসুম থাকায় সিস্টেম লস কিছুটা বেশি হয়েছে। আশা করছি পুরো অর্থবছরে গড় সিস্টেম লস লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই থাকবে।

তিনি বলেন, ৫ লাখ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার কাজ চলছে। আরও একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যাতে ১২ লাখ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার দেওয়া হবে। এই কাজটি শেষ হলে সিস্টেম লস অনেক কমে আসবে।

সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে কাজ শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সিস্টেম অ্যাভারেজ ইন্টারেপশন ডিউরেশন ইনডেক্স (সাইদি) ও সিস্টেম অ্যাভারেজ ফিকোয়েন্সি ডিউরেশন ইনডেক্স (সাইফি) কঠোর ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। অতীতে এই সুচকগুলো ম্যানুয়ালি হিসাব করা হতো। তখন সংস্থাগুলোর তথ্য গোপন করার সুযোগ থেকে যেতো। সাইদি- সাইফি অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এতে করে গোজামিল দেওয়ার আরও কোনো সুযোগ থাকবে না। গ্রাহকের সঠিক চিত্র উঠে আসবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল’র মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আগে সাইদি-সাইফি ছিল বিতরণ কোম্পানি নির্ভর। এখন স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে ডাটা জেনারেট করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। চলতি বছরেই ৫০ শতাংশ অটোমেশন হবে। সবাই কোয়ালিটি ও নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে, শিল্পে ডাবল সোর্স নিশ্চিত করা হচ্ছে।

কয়েক বছর আগেও বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার ছিল, লোডশেডিংয়ের অভিযোগ ছিল নিত্যদিনের চিত্র। গীষ্মমৌসুমে ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্টসহ নানারকম কৌশল নিতে হতো। বিদ্যুৎ দিতে না পেরে শিল্পে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টের অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন সরকারের হাতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ২০১৮-২০১৯ সালেও বিদ্যুৎ চালিত অটো রিকশা বন্ধে গলমঘর্ম হলেও এখন বিদ্যুৎ বিভাগেই চায় বৈদ্যুতিক বাস আমদানি উন্মুক্ত করা হোক।

জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বছরজুড়েই গুঞ্জন ছিল বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির খবর। শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনেই থেকে গেছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর খবর টি। কমে এসেছে লোডশেডিংসহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রবনতা। সারপ্লাস উৎপাদন থাকলেও এখনও নানা সীমাবদ্ধতার কথা বলে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেছেন, এতদিন সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো ছিল অগ্রাধিকার। সেই কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। এখন নিরবিচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুতের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

  সালতামামি

আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড পেলো ওয়ালটন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড পেলো ওয়ালটন

আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড পেলো ওয়ালটন

  • Font increase
  • Font Decrease

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি অর্জন করেছে ‘বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড ২০২১’। ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) এর কাছ থেকে এই গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে মার্কেট ক্যাপিটাইলাইজেশন, কর্পোরেট সুশাসন, তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাসহ বেশকিছু মানদ- বিবেচনায় নিয়ে ওয়ালটনকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। ২৮টি ক্রাইটেরিয়া ও ১৭টি ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন ছাড়াও আরও ৬৪ কোম্পানিকে ব্রোঞ্জ, সিলভার ও গোল্ড অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে আইসিএমএবি।

গত বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে গোল্ড অ্যাওয়ার্ডের ট্রফি গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি.’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও গোলাম মুর্শেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানি সচিব ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম এবং চিফ রিস্ক অফিসার ও ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আরিফুল হক।

পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, “বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ডের গোল্ড ট্রফি প্রদানের মাধ্যমে আইসিএমএবি ওয়ালটনকে দেশের সেরা ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার অর্জন করায় ওয়ালটন টিমের সদস্যরা আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবেন। ওয়ালটনের সকল বিনিয়োগকারী, পরিচালনা পর্ষদ এবং গ্রাহক, যারা আমাদের উপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন, তাদেরকে এই অ্যাওয়ার্ড উৎসর্গ করছি।”

  সালতামামি

;

ইউরোপে পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধির শীর্ষে বাংলাদেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ২০২১ সালে বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রফতানি বাজারে আবারও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, ২০২০ সালে ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে তৃতীয় অবস্থানে ঠেলে দিয়ে দ্বিতীয় হয়েছিল।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) প্রকাশিত বিশ্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যান পর্যালোচনা ২০২২- এ দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানিতে ভিয়েতনামের অংশ ২০২০ সালের ৬.৪০ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৫.৮০ শতাংশে নেমে গেছে।

বৈশ্বিক আরএমজি বাজারে বাংলাদেশের অংশ অবশ্য ২০২০ সালে ৬.৩০ শতাংশ থেকে গত বছর ৬.৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই অনুপাত ২০১৯ সালে ৬.৮০ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ছিল ৬.৪০ শতাংশ।

ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে আরএমজি রফতানি দৃঢ়ভাবে বেড়েছে এবং বার্ষিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। ২০২০ সালে, এই রফতানি একটি বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছিল এবং ভিয়েতনামের আরএমজি রফতানির ৭ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে বাংলাদেশে ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।

বৈশ্বিক পোশাক রফতানি বাজারে ২০১০ সালে বাংলাদেশের অংশ ছিল ৪.২০ শতাংশ, তখন ভিয়েতনামের অংশ ছিল ২.৯০ শতাংশ।

চীন ২০২০ সালে বৈশ্বিক পোশাক রফতানি বাজারে দেশটির অংশ ৩১.৬০ শতাংশ থেকে গত বছরে ৩২.৮০ শতাংশে উন্নীত করে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে।

ডব্লিউটিও-র প্রকাশনা অনুসারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরএমজির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ব রফতানিকারক। সুতরাং, প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্ব আরএমজি রফতানিকারক দেশ এবং ভিয়েতনাম চতুর্থ।

ইইউ-এর সম্মিলিত রফতানি পরিসংখ্যান দেশভিত্তিক আলাদা করা হলে, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শীর্ষ রফতানিকারক হবে। তুরস্ক এবং ভারত পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে, তারপরে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং এবং পাকিস্তান।

ডব্লিউটিও-র পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শীর্ষ ১০ পোশাক রফতানিকারকের বার্ষিক মোট রফতানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২০ সালের ৩৭৮ বিলিয়ন থেকে একটি বড় উত্থান। এই মূল্য ২০১৯ সালে ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেকর্ড করা হয়েছিল।

  সালতামামি

;

আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড পেল গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক



নিউজ ডেস্ক বার্তা২৪.কম ঢাকা
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি এর কাছ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাবিব হাসনাত

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি এর কাছ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাবিব হাসনাত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) 'বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ অর্জন করেছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকের গত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে `প্রাইভেট কর্মাশিয়াল ব্যাংক (ইসলামিক অপারেশন) ক্যাটাগরি’-তে ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাবিব হাসনাতের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার অর্জনের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই অর্জন ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার স্বীকৃতি। গ্রাহকগণের আস্থা-ই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

  সালতামামি

;

রেমিট্যান্স ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ নভেম্বরে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের জন্য নগদ ভর্তুকি বাড়ানোর পর নভেম্বরে রেমিট্যান্স ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নভেম্বরে প্রবাসীরা ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১০৮ টাকা ধরে)।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার। এরপর রেমিট্যান্স প্রবাহ ওঠানামা করলেও গত অক্টোবরে রেমিট্যান্স আগের ৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম এসেছিল।

গত অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২১ সালের অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। তবে চলতি নভেম্বর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১ সালের নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধপথে প্রবাসী আয় ধারাবাহিক কমছে। অর্থনীতির অন্যতম এ সূচকটির নেতিবাচক গতি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈধপথে রেমিট্যান্স আনতে বিভিন্ন শর্ত শিথিল, চার্জ ফি মওকুফসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তারপরও ইতিবাচক সাড়া মিলছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নভেম্বরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে— তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১২৮ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। বিগত সময়ের মতো এবারও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। নভেম্বরে ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এরপরেই রয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের অবস্থান। ব্যাংকটির মাধ্যমে ১০ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ১ লাখ ডলার, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

রেমিট্যান্স বাড়া‌তে উদ্যোগ

বিদেশি এক্সচেঞ্জের হাউজের মতো সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালেও প্রতি ডলারে ১০৭ টাকা পাবেন প্রবাসীরা। আগে যা ছিল ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। এ ছাড়া এখন থেকে ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স আহরণ বাবদ কোনো চার্জ বা মাশুলও নেবে না। সব‌শেষ গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাফেদার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ছাড়া এখন বিদেশ থেকে যেকোনো পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগে না। আবার প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। প্রণোদনা বাড়ার পরও সর্বশেষ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে বড় পতন হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক তিন বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

  সালতামামি

;