সংঘাতপূর্ণ ইউপি নির্বাচন

  সালতামামি


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে দশমবারের মতো ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। ফাঁকা মাঠে আওয়ামী লীগ। তবে ফাঁকা মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের পরিবর্তে সহিংসতা-সংঘাতে রূপ নিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এতে নির্বাচন সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আড়ালে বিএনপি-জামাতের মতাদর্শী ও নেতাকর্মী এ নির্বাচনে অংশ নিতে দেখা গেছে। চার ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে ভরাডুবি হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বছর জুড়ে ছিল সহিংসতা-সংঘাত। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় ৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

চতুর্থ ধাপে ইউপি নির্বাচন

গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে ৮৩৮টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগের তিন ধাপের মত এ ধাপেও বিভিন্ন জায়গা সংঘর্ষ, গুলি বিনিময়, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল, ভোটকেন্দ্র দখলসহ অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে।

২৭ ডিসেম্বর রাত ৮টায় চতুর্থ ধাপের ৭৯৬টি ইউপি নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিছু ইউপির অনানুষ্ঠানিক ফলাফল স্থগিত হওয়ায় সেগুলোর ফল ঘোষণা করা হয়নি। ইসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী নির্বাচনে ৩৯০টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। ৩৯৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ৬ জন প্রার্থী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২ জন, জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টির ১ জন করে প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন

২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৯৯২টি ইউপি নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ৫২৫টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। ৪৪৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

তৃতীয় ধাপ ইউপি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একজন করে এবং জাতীয় পার্টির ১৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

১ হাজার ৮টি ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে ৭টি ইউপি নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন কারণে আরও ৯টি ইউপি নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন

নভেম্বর ১১ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ৮৩৪ ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন ৪৮৬ জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র থেকে থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৩৩০ জন। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে ১০ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে চারজন এবং জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজিলিশ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একজন করে প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

জুনের ২১ তারিখ প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪৮ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হয়। এদের মধ্যে ১২০ জন সরাসরি ভোটে এবং বাকী ২৮জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

এছাড়াও ৪৯টি ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়। এছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে ৭ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।

স্বতন্ত্রদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার জন্য সরকার দায়ী, নির্বাচন কমিশন দায়ী। তারা তাদের দায়িত্ব তারা পালন করে নাই। ৬৪ জন লোক মারা গেছে নির্বাচন কমিশন একটা মামলাও করে নাই।

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় সহিংসতা বেশি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, সহিংসতা কারণ হচ্ছে নৌকা পাওয়া না-পাওয়ার নিয়ে। যদি দলীয় পরিচয়ে নির্বাচন না হত তাহলে এই মৃত্যুগুলো হত না।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এটা হলে অনেকে প্রার্থী হতে পারত। জনগণ ভালো মানুষকে নির্বাচিত করতে পারত।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যে নয় বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে প্রথম ইউপি নির্বাচন এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে নবম ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩, ২০১১ ইউপি নির্বাচন হয়েছে। চলতি ২০২১ সালে জুন জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছে দশম ইউপি নির্বাচন।

   

অবৈধ দখল থেকে অর্ধশত কোটি টাকার কৃষি জমি উদ্ধার



সৌমিন খেলন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,মদন (নেত্রকোনা)
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

যুগযুগ ধরে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকা প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার খাস জমি উদ্ধার করেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলা প্রশাসন।

হাওর বেষ্টিত এই উপজেলায় এরআগে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে জমি উদ্ধার অভিযানে নেমেছিল প্রশাসন। নেতৃত্বে ছিলেন মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ্ আলম মিয়া ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.টি.এম আরিফ।

গত বছরের শেষদিকে প্রশাসনের রাজস্ব সভা থেকে গৃহীত হয়েছিল জমি উদ্ধারের এই সিদ্ধান্ত, অভিযানের নামকরণ করা হয়েছিল ‘মৃত্তিকা অভিযান’।


মদন উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.টি.এম আরিফ বার্তা২৪.কমকে জানান, মৃত্তিকা অভিযানে মদনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২২৪ দশমিক ৫৭ একর সরকারি কৃষি খাস জমি। হিসেব মতে জমির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ৯২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

মদন উপজেলার চাঁনগাঁও ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর তহশিলের হাসকুড়ি মৈধাম মৌজা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ দশমিক ৯৭ একর জমি। মদন ইউনিয়নের মদন মৌজা থেকে ৯ দশমিক ৮৫ একর, গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দশ্রী মৌজার থেকে ১৪৫ দশমিক ৩২ একর, মনিকা মৌজা থেকে ৪০ দশমিক ২৫ একর, পদমশ্রী মৌজা থেকে ৬ দশমিক ৫৪ একর, মাঘান ইউনিয়নের রানীহালা মৌজা থেকে ১৩ দশমিক ১১ একর, তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা মৌজা থেকে ০.৭৯ একর ও ফতেপুর ইউনিয়নের হাসনপুর তহশিলের ফতেপুর মৌজা থেকে ৩ দশমিক ১৩ একর।


উদ্ধার হওয়া এসব জমিতে স্থানীয় কৃষকরা করেছেন চাষাবাদ। কেউ রোপণ করেছেন ধান, আবার কেউ চাষ করেছেন শীতকালীন সবজি। তবে এসব জমি পর্যায়ক্রমে কাগজপত্রে পাকাপোক্তভাবে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, জানান এই সহকারী কমিশনার।

মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ্ আলম মিয়া বার্তা২৪.কমকে জানান, উদ্ধার করা জমিগুলো প্রকৃত দরিদ্র অসহায় কৃষক ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বন্দোবস্ত করা হবে। বিষয়টি জানতে পেরে গরীব অসহায় যারা জমি নিতে চান এরইমধ্যে তাদের আবেদনও পড়েছে প্রায় একশো। যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অসহায়দেরকেই জমি দেওয়া হবে।

  সালতামামি

;

আ.লীগের ঝুলিতে আর কিছুই নেই: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের ঝুলিতে আর কিছুই নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তাদের (আ.লীগের) ঝুলিতে আর কিছুই নেই। তারা মানুষের কাছে আর কি কথা বলবে! তারা (আ.লীগ) গণতন্ত্র হত্যা করেছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হত্যা করেছে, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিরুদ্দেশ করেছে, তারা আর কি বলবে! তারা (আ.লীগ) এখন বিভিন্নভাবে আবোল-তাবলোল কথা বলে বিভ্রান্ত তৈরি করছে। 

তিনি বলেন, আমরা আমাদের জাতীয়তাবাদের প্রথম অনুভূতি লাভ করি ৫২'র একুশে চেতনার মধ্য দিয়ে। একুশে চেতনার মূল উপাদান হচ্ছে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, এই অঞ্চলের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। 

আমরা অনেক রক্ত ঝরিয়ে স্বাধীনতা লাভ করেছি। কিন্তু আজকে আমরা কি পেয়েছি? আমরা প্রাণ খুলে কথা বলতে পারি না। আমরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারি না। আমাদের কন্ঠস্বরকে অবরুদ্ধ করার জন্য রাষ্ট্রশক্তি আমাদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রতীক, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ছয়-সাত বছর বন্দী। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের সকল অধিকারকে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একুশের চেতনাই আমাদেরকে প্রেরণা দেয়। একুশের চেতনাই আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে। এই যে ঝুলুম, নিপিড়ীন, ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখা, বন্দী করে রাখা, তারপরেও আজকে যখন তারা বেরিয়ে আসছে তখন তারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে নতুন সংগ্রাম, নতুন আন্দোলন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে, বন্দী গণতন্ত্রকে মুক্ত করতেই হবে, প্রাণ খুলে কথা বলতে চাই, সোচ্চার হয়ে কথা বলতে চাই, নির্বিঘ্নে কথা বলতে চাই, সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা ৫২'র একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন। আমরা সেই পথ ধরেই এগিয়ে যাবো, আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হব।

  সালতামামি

;

মাতৃভাষা দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে কৃষকের শিল্পকর্ম



ছাইদুর রহমান নাঈম, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কৃষক তার জমিকে বিভিন্ন শিল্পকর্ম দিয়ে সাজিয়েছেন ৷ দেশের প্রতি শহীদদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে শিল্পকর্ম এঁকেছেন নিজের জমিতে। পরম যত্নে এসব কাজ নিজের হাতে করেছেন কৃষক রুমান আলী।

দৃষ্টি নন্দিত কারুকার্য শোভিত সবুজ ফসলের মাঠ। যেখানে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন চিত্র। যে মাটির ঘাসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে লাল হয়েছিল বাংলার জমিন। যে মাটিতে মিশে আছে শহীদের রক্ত। সেই মাটির ফসলের মাঠে কৃষক ফুটিয়ে তুলেছেন লাল সবুজের পতাকা ও শহীদ মিনার ৷ ভাষার মাসে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন সবার জন্য।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের গোবরিয়া-আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামে ফসলের মাঠে এমনি শিল্পকর্ম তৈরি করে তাক লাগিয়েছেন কৃষক রুমান আলী। শাকসবজি দিয়ে তৈরি করেছেন শহীদ মিনার, লাল সবুজের পতাকা, বাংলা লেখা সহ বিভিন্ন দৃশ্য।


জাতীয় দিবসগুলোতে তিনি তার জমিকে সাজান বিভিন্ন ভাবে ৷ বিভিন্ন স্থানের মানুষ আসেন দেখার জন্য। এই চিত্র দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছে মানুষ। ভাষার মাসে উন্মুক্ত থাকবে এই ফসলের মাঠ।

জানা যায়, কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামে ফসলের মাঠে কৃষক রুমান আলী তৈরি করেছেন শিল্পকর্ম। নিজের এক একর ১৪ শতাংশ জমিতে ঘাস এবং শাক সবজি দিয়ে সুনিপূণ কারুকার্য তৈরি করেছেন। মানুষজন তার জমিতে এসে ছবি তুলছেন। লাল শাক, ঘাস দিয়ে তৈরি হয়েছে শিল্পকর্মটি।

এ বিষয়ে কৃষক রুমান আলী বার্তা ২৪.কম-কে বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি এটি করেছি। এছাড়াও কৃষি কাজের প্রতি বর্তমান সময়ের তরুণদের আকৃষ্ট করাটাও লক্ষ্য ছিল। দেশকে ভালোবাসি। মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা শহীদদের জন্য আমি আমার এ কাজকে উৎসর্গ করলাম। 

  সালতামামি

;

তারা হুইলচেয়ারে এসে শ্রদ্ধা জানাল ভাষা শহীদদের



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকলের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে ঢল নামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের। সেই ঢলের মধ্যেই একদল শিশু এসেছিল হুইলচেয়ারে বসে। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিজেদের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে শহীদ মিনারে চলে এসেছে তারা।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দেখা যায়, বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ব্যানারে ৪/৫ জন শিশু হুইলচেয়ারে বসে ফুল নিয়ে এসেছে।

নিজ পায়ে দাঁড়াতে অক্ষম ১০ বছর বয়সী শিশু রাফিয়া আক্তার মৌ। হাঁটতে অক্ষম হলেও ইচ্ছা শক্তির জোরে ও বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সে এসেছে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। শিশু মৌ বার্তা২৪.কমকে বলে, আমার অনেক ইচ্ছা ছিল একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার। আমার সে ইচ্ছা পূরণ করেছে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন। আমার অনেক খুশি লাগছে।

বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা প্রতিবন্ধী বাচ্চাদেরকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে নিয়ে এসেছি। এতে তারাও শহীদদের ও শহীদ দিবসের সম্পর্কে জানতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এই শিশুরা ভাষার ব্যাপারে যাতে নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারে সেজন্যে আমরা প্রতি সপ্তাহেই তাদের নিয়ে সাহিত্য আসরের আয়োজন করি। সেখানে প্রতিমন্ত্রীসহ অনেকেই আসেন।

  সালতামামি

;