প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে তিস্তার পানি গড়াবে কী?



শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

  • Font increase
  • Font Decrease

নয়াদিল্লি থেকে: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে ভারত আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পিতবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহনকারী বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোরর কথা রয়েছে। সেখানে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ও অন্যান্যরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। ভারত সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হোটেল তাজে অবস্থান করবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দু’দিন ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ইন্ডিয়ান ইকোনোমিক সামিট-২০১৯ এ যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। নয়াদিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে দু’দিন ব্যাপী সামিটের মধ্যমণি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সামিটের শেষ দিন ৪ অক্টোবর ভারতীয় সময় বেলা ৩টার দিকে বক্তব্য দেবেন তিনি। সেখানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের গল্প শোনাবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

এই সফরের মূল আকর্ষণ আগামী ৫ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক। সেখানে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১০ থেকে ১২টি সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। ৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক হায়দ্রাবাদ হাউসে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আয়োজিত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে সীমান্তে হত্যা নিয়ে এবং দু’দেশের মধ্যে আরও অবাধ যাতায়াত নিয়ে আলোচনা হবে। বাণিজ্য শুল্কমুক্ত, নৌ ও সমুদ্র পথে যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হবে। রেল, বিমান ও সড়কে যাতায়াত আরও সহজ করতে করণীয় নির্ধারণ হবে। গঙ্গা ও তিস্তার পানি বণ্টন, নৌ পরিবহনের পরিধি ও সংখ্যা আরও বাড়ানো আলোচনায় স্থান পাবে। সমুদ্র সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়বে তাও আলোচনা হবে।

তিস্তা ব্যারেজ

 

ভারতের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই সফরে অনানুষ্ঠানিক তিস্তা পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। কেন না এই সফরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আলোচনার টেবিলে না আসার পরিপ্রেক্ষিতে সফরে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে না। কাজেই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তিস্তার জল গড়াবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর কথাতেও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘এটা মোটেই দ্বিপাক্ষিক সফর না, প্রধানমন্ত্রী বহুপাক্ষিক মিটিংয়ে এ আসছেন।’

ভারত সরকারের আমন্ত্রণে আসলেও প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সেভাবে কোনো সাজ সজ্জা চোখে পড়েনি। যে তাজ প্যালেসে সামিট হবে সেখানেও নেই বাড়তি আমেজ। সবচেয়ে বড় কথা যে, সামিটে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন সেখানে ভারতের কোনো পর্যায়ের মন্ত্রী থাকছেন না। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই উচ্চ পর্যায়ের নেতা।

চারদিনের সফর শেষে আগামী ৬ অক্টোবর রাত ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে দিল্লি ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ৫ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দেশে ফেরার আগে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন- প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম প্রমুখ।

   

নওগাঁয় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

‘স্মার্ট লিগ্যাল এইড,স্মার্ট দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে নওগাঁয় 'জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস' পালিত হয়েছে।

রোববার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে জেলা ও দায়রা জজ ও লিগ্যাল এইড চেয়ারম্যান আবু শামীম আজাদ বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন।

পরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেখানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিচারক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কমকর্তা ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

;

সোমবার দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাইল্যান্ডে ৬ দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার (২৯ এপ্রিল) দেশে ফিরবেন।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিনের আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সফরে বুধবার (২৪ এপ্রিল) তিনি দেশটিতে পৌঁছান। শেখ হাসিনা ২৬ এপ্রিল গভর্নমেন্ট হাউজে থাভিসিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী ভিসা অব্যাহতি, জ্বালানি, পর্যটন ও কাস্টমস বিষয়ে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা বিষয়ে ৫টি দ্বিপক্ষীয় নথিতে সই প্রত্যক্ষ করেন।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে শেখ হাসিনা তার এই সফরকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সরকারি সফর আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে। যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের নতুন যুগের সূচনা করেছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ২৫ এপ্রিল দুসিত প্রাসাদের আম্ফর্ন সাথার্ন থ্রোন হলে থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ফ্রা ভাজিরাকলাওচাওহুয়া ও রানি সুথিদা বজ্রসুধাবিমালাক্ষণের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বহুপক্ষীয় ব্যস্ততার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ এপ্রিল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রের এসকাপ হলে (৩য় তলায়) জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএনএসকাপ) ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে ৫টি দ্বিপক্ষীয় নথি সই হয়েছে। নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১টি চুক্তি, ৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও ১টি লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই)।

নথিগুলো যেসব বিষয়ে- অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ছাড় সংক্রান্ত চুক্তি; জ্বালানি সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক; শুল্ক সম্পর্কিত বিষয়ে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক; পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক এবং ২০২৪ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ে এলওআই।

;

গরমে অনলাইন ক্লাসের আর্জি অভিভাবকদের



কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
গরমে অনলাইন ক্লাসের আর্জি অভিভাবকদের

গরমে অনলাইন ক্লাসের আর্জি অভিভাবকদের

  • Font increase
  • Font Decrease

তাপদাহের মধ্যে আবার শুরু হয়েছে স্কুল। সাত দিন বন্ধের পর রোববার (২৮ এপ্রিল) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতেই টেনশনে অভিভাবকগণ। তাদের আর্জি, বিরূপ আবহাওয়ায় স্কুল বন্ধ না করে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হোক।

নগরীর অনেক স্কুল গেটে অপেক্ষমাণ অভিভাবকরা বাড়ি না গিয়ে বসে আসেন। 'ক্লাসের সময় কমিয়ে দেওয়ায় বাচ্চাকে নেওয়ার জন্য বসে আছি। বাসায় গিয়ে আসতে আসতে স্কুল ছুটি হয়ে যাবে।' বললেন, রহমানিয়া স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

চট্টগ্রামের প্রায় সব স্কুলের গেটে উদ্বিগ্ন অভিভাবকের ভিড় দেখা গেছে। পাবলিক স্কুলের মোড়ে জটলা করে অপেক্ষায় ছিলেন অনেকেই। তাদের মতে, এই গরমে স্কুলে আসার সময় যানবাহনের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ঘাম ছুটেছে। বাচ্চাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময়ও একই ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হবে।

বেসরকারি চাকরিজীবী নূর আলম খোন্দকার বলেন, অভিভাবক হিসাবে আমরা চিন্তিত বাচ্চাদের পড়াশোনা ও শারীরিক নিরাপত্তার জন্য। স্কুল বন্ধ থাকলে তাদের ক্ষতি। আবার তীব্র গরমেও তাদের বিপদ হতে পারে। এজন্য সামনের কয়েকদিন স্কুল বন্ধ না করে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হলে সবদিক থেকে ভালো হয়।

মিসেস সুমাইয়া রহমাতুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস হলে স্কুল-কলেজে হতে অসুবিধা কোথায়? কোভিড মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। এখনও গরমের কারণে বিরূপ পরিস্থিতি চলছে। সবার কাছেই অনলাইনে ক্লাস করার মতো সুবিধা আছে। একে কাজে লাগিয়ে বিরূপ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে।

এদিকে, অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে এসে গরমে অসুস্থ হচ্ছে বলেও গণমাধ্যমের খবর। তেমনই একজন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকা রহমান। সকাল ৭টায় তার ক্লাস শুরু হয়ে ৯টা ৪০ মিনিটে ছুটি হয়েছে। ছুটি শেষে এই কোমলমতি শিক্ষার্থী বমি করে এবং কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে তাকে স্কুলে নিয়ে আসা অভিভাবক মা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। যার কারণে বাসায় গিয়ে মেয়ের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আগামীকাল স্কুলে দেবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনলাইনে ক্লাসের আর্জি অভিভাবকদের অনেকেরই।

;

বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি ক্যাবের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি ক্যাবের

বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি ক্যাবের

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃহত্তর চট্টগ্রামে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

রোববার (২৮ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরুর ডাক দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, মোঃ সেলিম জাহাঙ্গীর ও ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতারা বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণপরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ বা অন্য যারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত সবাই সরকারি দলের নেতা বা কর্মী। আর তারাই বিভিন্ন সময়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দাবি আদায়ের জন্য জনগনকে বারবার জিম্মি করেন। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। সরকার দলীয় নেতা/কর্মী হিসাবে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয় এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে তাদের বিরত থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিনিয়তই সড়ক দুর্ঘটনার কারণে যে সমস্ত মূল্যবান জীবন হারিয়ে যাচ্ছে, তার ক্ষতিপূরণ কি কোনভাবেই সম্ভব? অথচ তারা অদক্ষ চালক, লাইনেসন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়ী চালানো বন্ধ করলে এঘটনার অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব হতো। আর এই চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী মহল গণপরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদবাজি অব্যাহত রাখতে দেশবাসীকে জিম্মি করে বারবার এ ধরণের ষডযন্ত্রমুলক কাজে জড়িত হলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেবার কারনে এ ধরনের ঘটনার পূনঃরাবৃত্তি ঘটছে। এই মহলটি জনগণের বহুল প্রত্যাশিত নতুন সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে আইন বাস্তাবায়নে বাধা দিচ্ছে।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে প্রণোদনা দেবার কারনে তারা বারবার জনগনকে জিম্মি করে এ ধরনের অবৈধ ধর্মঘট ও কর্মবিরতি আহ্বানসহ আইন প্রয়োগে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বারবার বাধা দিলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পুরস্কার হিসাবে তাদেরকে মন্ত্রী, এমপি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা বানাচ্ছে আর এ খাতে অন্যতম অংশীজন ভোক্তারা কোন প্রণোদনাতো দূরের কথা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সদস্যও হতে পারছে না। ফলে সড়কে নৈরাজ্য থামছে না। সড়ক পরিবহন খাতে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের বেলায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাই মিলে তাদের মতো করে যাবতীয় নীতি প্রণয়ন ও সবগুলি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারন জনগণকে। বিএরআটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া কঠিন, কারন সবকিছুর ওপর পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাই সবকিছুর ওপর রাজত্ব করছে। সড়ক পরিবহন খাতে নৈরাজ্য থামাতে হলে ভোক্তা ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সম অংশগ্রহন নিশ্চিত জরুরি।

গণপরিবহন সেক্টরে যেকোন দাবি-দাওয়া আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, একশ্রেণীর পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা আইন প্রয়োগের আগেই আইন সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্ঠি করে পরিবহন সেক্টর উত্যপ্ত করছে। দাবি আদায়ের নামে জনগনকে জিম্মি করে জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দেশকে অচল করার ষড়যন্ত্র থেকে বেড়িয়ে এসে জরুরী ভিত্তিতে কর্মবিরতির নামে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন জানান, গণপরিবহন, শ্রমিক ও মালিকরা দেশের আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বারংবার দেশের জনগনকে জিম্মি করে দাবি আদায় করার কারনে তারা বেপরোয়া হয়ে গণপরিবহনের লাইসেন্স, ফিটনেসবিহীন গাড়ী চালিয়ে মানুষ হত্যা করবে আর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার করতে চাইলেই মানুষকে জিম্মি করে ঘর্মঘট ডাকবে এটা নিছক বর্বরতা ছাড়া কিছুই নয়। তারা যদি আইনের শাসনে প্রতি বিশ্বাসী হয় তাহলে আইনগতভাবেই তাদের বিরুদ্ধে কোন অন্যায় হয়ে থাকলে তার প্রতিকার চাইতে পারতো। একই সাথে নিরাপদ গণপরিবহনের দাবিতে চুয়েট শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

এর আগে, গতকাল শনিবার দুপুরে এক জরুরী সভার শেষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বাসের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের জেরে পরিবহন ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় রোববার ভোর ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণপরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই চুয়েট শিক্ষার্থী নিহত হয়। এর জের ধরে ওইদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে আসছিলেন। গত ২৪ এপ্রিল ঘাতক বাসের চালককে পুলিশ গ্রেফতার করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাকে ২৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা গণ পরিবহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

;