ধর্মনিরপেক্ষ নববর্ষ

  ‘এসো হে বৈশাখ’


কবির য়াহমদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, বার্তা২৪.কম
মঙ্গল শোভাযাত্রা/ ছবি: নূর এ আলম

মঙ্গল শোভাযাত্রা/ ছবি: নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

১৪৩০ বঙ্গাব্দের সর্বশেষ সূর্যটা ওঠে আবার ডুবেও গেছে। দিনটাও শেষ, প্রতিদিনের মত রাত ১২টায়। ১৪ এপ্রিল ভোরে যে সূর্য ওঠবে ওটা নতুন বছরের। শনিবার দিন শেষে মাঝরাতে যে দিন শুরু ওটা নতুন বছরের; ১৪৩১ বঙ্গাব্দের।

নতুনে আমাদের চাওয়া কী—এনিয়ে ভাবছি না; পুরনোয় আমাদের হতাশা কী—এনিয়েও ভাবছি না। স্বাভাবিক জীবনের স্বাভাবিক দিন-রাত, ঘূর্ণাবর্ত। আমাদের কী চাওয়ার সে আলোচ্য নয়, আলোচ্য হলো আমাদের বাঙালিয়ানা আর উদযাপন। সকলেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করুক। সর্বজনীন হোক সে উৎসব, সে উদযাপন। এখানে কূপমুণ্ডক আছে, থাকবে; থাকুক। তবু তাদের চপেটাঘাত করে বাঙালির নববর্ষ আপন আলোয় ভাস্বর হোক, হবে।

প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখে লক্ষ লোক রাস্তায় নামবে, এটা তাদের কাছে উৎসব। এই বেরিয়ে আসা মানুষদের সবার মধ্যে বাঙালিয়ানা খুঁজে নেওয়া অর্থহীন। এক দিনে, এক উৎসবে, এক আলিঙ্গনে শুদ্ধতা সম্ভব না—এর জন্যে সময়ের দরকার। গত কয়েক বছরে মানুষ এভাবে রাস্তায় উৎসব উৎসাহে বেরিয়ে আসছে বলে কূপমুণ্ডকেরা গর্ত লুকাচ্ছে, উঁকি দিচ্ছে আবারও আপন আশ্রয় ভেবে খুঁজে নিয়েছে সে গর্ত। এটা আমাদের আশাবাদের জায়গা। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

গ্রামাঞ্চলেও দেখেছি পহেলা বৈশাখের দিনে আজকাল মানুষজন নতুন জামা কেনে। ঈদ-পূজার বাইরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ক্রমশ এটাকেও উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মানসিকতা দারুণ এক আনন্দের। এভাবেই বদলে যাবে, আগে উৎসাহে উৎসব করে, পরে এর ভেতরের মধু খুঁজে নিয়ে।

এবার পহেলা বৈশাখের ছুটির আগে ছিল দীর্ঘ ঈদের ছুটি। ঈদ, সাপ্তাহিক ছুটি, পহেলা বৈশাখের ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচদিনের ছুটি উদযাপন করছে মানুষ। এই ছুটি জরা-খরা, অপ্রাপ্তি ভেঙে নূতনের পথে আবাহনের। ডিএল রায়ের ভাষায়—❛নূতন আলোকে নূতন পুলকে/ দাও গো ভাসায়ে ভূলোকে-দ্যুলোকে/ নূতন হাসিতে বাসনারাশিতে/ জীবন মরণ ভরিয়ে দাও...❜ এই আবাহন, এই আহ্বান কাঙ্ক্ষিত, অতি-কাঙ্ক্ষিত মানুষের, অন্তর্গতও বটে। এরবাইরে বহিঃস্থ রূপ অনেকটাই মুখোশের দৃশ্যায়ন।

এই সময়ের বাঙালি-মানস অনেকটাই বিভক্ত। বাঙালি জাতিসত্তার একজন হয়েও অনেকেই নিজেদের শেকড় অস্বীকার করে। ধার করা কিংবা আমদানি করা সংস্কৃতিকে নিজেদের সংস্কৃতি প্রকাশে মরিয়া একদল। উচ্চকণ্ঠ যারা তারা অন্যের উৎসব সহ্য করতে পারে না। এখানে বারবার আক্রমণের শিকার বাঙালির সংস্কৃতি, বাঙালির উৎসব। আছে ধর্মীয় ব্যাখ্যা। পহেলা বৈশাখের উদযাপনকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বলে উচ্চকণ্ঠ যে শ্রেণির লোকজন তাদের অনেকেই আবার ধর্মীয় সংস্কৃতিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করায় যখন তখন। কেবল পহেলা বৈশাখ নয়, একদল লোক দেশে এখন দাঁড়িয়ে গেছে যারা ইসলাম ধর্মের পবিত্র শবে বরাত ও ২৭ রমজানের শবে কদর পালন নিয়েও প্রশ্ন তোলে। প্রশ্ন তোলে গুরুজনদের পা ছুঁয়ে করা কদমবুসিকেও। নামাজ শেষে করা মোনাজাতও অনেকের কাছে অশুদ্ধ। কাপড় কোথা পর্যন্ত পরা হবে এনিয়েও আছে বিবিধ বিতর্ক। এই বিতর্ক, বিভক্তির যতটা না প্রাসঙ্গিক কিংবা যৌক্তিক, তারচেয়ে বেশি গোষ্ঠীবদ্ধ প্রচারণা।

ধর্মও যেখানে প্রশ্নের মুখে তাদের কাছে, সেখানে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ নিয়ে প্রশ্নও অস্বাভাবিক নয়। অথচ ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ একটি ❛ধর্মনিরপেক্ষ নববর্ষ❜। কারণ নানা আলোচনা-গবেষণা শেষে বাংলাদেশ নির্ধারণ করেছে কবে হবে বাংলা নববর্ষ। এখানে তাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে কিছুটা পার্থক্য। বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ যখন ১৪ এপ্রিল, তখন ভারতে সেটা ১৪ অথবা ১৫ এপ্রিল। বাংলাদেশ বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং রাষ্ট্রীয় বিশেষ দিনগুলোকে বঙ্গাব্দ-খ্রিস্টাব্দের একই তারিখে রাখতে সংস্কারকে গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সংস্কারকে গ্রহণ করেনি, ফলে তাদের কাছে নববর্ষ এখনো ধর্মীয় দিনপঞ্জিকা। হতে পারে তাদের ইতিহাসের সঙ্গে ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চের যোগ নেই বলে তাগিদও নেই।

কয়েক বছর আগে ডয়চে ভেলেতে প্রকাশিত একটা সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক ফরহাদ খান ❛কেন ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশ পহেলা বৈশাখ হিসাবে বেছে নিয়েছিল❜ তার একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন—❛অবিভক্ত বঙ্গদেশে নবদ্বীপের পণ্ডিত স্মার্ত রঘুনন্দন বাংলা পঞ্জিকা সংস্করণ করেন। এরপর ১৮৬৯ সালে আবারও সংস্করণ হয়। পরে সেটা মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয়। এরপর ১৮৯০ সালে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে পঞ্জিকার প্রকাশ চলতে থাকে। ১৯৫২ সালে মেঘনাদ সাহাকে ভারত সরকার পঞ্জিকা সংস্কারের দায়িত্ব দেন। তিনিই শকাব্দ সংস্কার করেন। সেই শকাব্দ অনুযায়ী পয়লা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল। মেঘনাদ সাহার এই সংস্কার বাংলাদেশেও ব্যাপক নাড়া দিয়েছিল। ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমি ড. শহীদুল্লাকে সভাপতি করে পঞ্জিকা সংস্কার শুরু করে। আগে ৩০, ৩১, ৩২ দিন ছিল। তারপর ঠিক হয়, প্রথম ৫ মাস ৩১ দিনের, বাকি ৭ মাস ৩০ দিনের হবে। এরপর ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে আবারো পঞ্জিকা সংস্কার করা হয়। সেই পঞ্জিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। এতে বৈশাখ থেকে ভাদ্র হলো ৩১ দিনে, আশ্বিন থেকে চৈত্র হলো ৩০ দিনে আর খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডারের লিপ ইয়ারে ফাল্গুন মাস ৩১ দিনের হবে। অর্থাৎ যে বছর খ্রিষ্টীয় সনে লিপইয়ার, সে বছর বাংলা সনেও লিপইয়ার। এ সংস্কারের ব্যাপারটি যখন আনা হয়, তখন আমাদের গৌরবময় মাস, আমাদের শোকের মাস, আমাদের বিজয়ের মাস, ১৯৭১ সালকে মনে রাখা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে আমাদের যেমন ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ, ২১ ফেব্রুয়ারির যে প্রতিসঙ্গী খ্রিষ্টীয় সবের দিনগুলো, সেগুলোকে এক রাখার জন্যই বাংলা একাডেমি এই সংস্কারটা করে। এতে এখন যেটা দাঁড়িয়েছে, সরকারি পঞ্জিকা অনুসারে ২১ ফেব্রুয়ারি হলো ৯ ফাল্গুন, ২৬ মার্চ হলো ১২ চৈত্র এবং ১৬ ডিসেম্বর হলো ২ পৌষ। এর কোনোদিন এর হেরফের হবে না।❜ [ডয়চে ভেলে, ১৬ এপ্রিল ২০১৮]

বাংলা বর্ষপঞ্জিকা নিয়ে বাংলাদেশের যে সংস্কার সেটাকে দেশের ইতিহাসকে উপজীব্য করে। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ সরকারি নথিতে বাংলায় তারিখ লেখা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই নিয়ম জোরদার হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে শহীদুল্লাহ কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে বাংলা দিনপঞ্জিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হলেও অধিবর্ষ গণনার ক্ষেত্রের জটিলতা দেখা দেয়। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হারুন-উর-রশিদকে প্রধান করে পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতজ্ঞ, ভাষা, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই কমিটি মেঘনাদ সাহা ও শহীদুল্লাহ কমিটির মূল সুপারিশের নিরিখে ২০টি সুপারিশ পেশ করে। তারপরেও জাতীয় দিবসগুলোয় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ও বাংলা বর্ষপঞ্জি মূলানুগ হয়নি। ফলে ২০১৫ সালে বাংলা বর্ষপঞ্জির অসামঞ্জস্য দূর করে পুরোপুরি বিজ্ঞানভিত্তিক এবং জাতীয় দিবসগুলোকে মূলানুগ করতে এবার তৃতীয়বার সংস্কার কমিটি করা হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানকে সভাপতি করে গঠিত ওই কমিটিতে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অজয় রায়, পদার্থবিজ্ঞানী জামিল চৌধুরী, অধ্যাপক আলী আসগর, একাডেমির পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জি প্রমুখ। এই কমিটির সংস্কারকে ১৪২৬ বাংলা থেকে বাংলাদেশ গ্রহণ করেছে।

২০১৯ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাংলা বর্ষপঞ্জি নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৯৯৫ সালের সংস্কার অনুযায়ী বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র—বছরের প্রথম এই পাঁচ মাস ৩১ দিন গণনা করা হতো। কিন্তু ১৪২৬ বঙ্গাব্দ থেকে ফাল্গুন মাস ছাড়া অন্য পাঁচ মাস ৩০ দিনে পালন শুরু হয়েছে। ফাল্গুন মাস হচ্ছে ২৯ দিনের, কেবল লিপইয়ারের বছর ফাল্গুন ৩০ দিনের মাস হবে। সবশেষ এই সংস্কারের কারণ সম্পর্কে বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেছিলেন, ❛২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চের মত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস সমূহ বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যে দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই দিনে পালন করা হবে।❜ অর্থাৎ ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা বর্ষপঞ্জিকায় তখন যে দিন ছিল আজীবন বাংলাদেশ সেই একই তারিখে এখন থেকে পালন করে যাবে।

বাংলা বর্ষপঞ্জিকা সংস্কার এবং বাংলা নববর্ষের এই তারিখ নির্ধারণ এবং উদযাপনের সঙ্গে যারা সংকীর্ণ দৃষ্টির প্রচারণায় বিভাজনের চেষ্টা চালায় তারা যে ভুল এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ তাই ধর্মনিরপেক্ষ নববর্ষ। এটা গৌরব আর ইতিহাস ঠিক যে দিনে ঘটেছিল সে দিনকেই মহিমান্বিত করতে।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা বর্ষপঞ্জিকার ওই সময় যে তারিখে ঘটেছিল আজীবন বাংলাদেশ সে একই তারিখ পাচ্ছে নতুন সংস্কারে। একইভাবে ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চসহ সকল জাতীয় দিবস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম-মৃত্যুর তারিখও দুই ক্যালেন্ডারে হয়েছে মূলানুগ।

❛❛রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি/ আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ/ মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।❜❜

শুভ নববর্ষ ১৪৩১!

   

রাজধানীতে বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আজহায় রাজধানীর দুই সিটিতে কয়েক লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। পশু জবাই ও কাটা-কাটিতে সৃষ্ট বর্জ্য পরিষ্কারে কাজ করছেন কয়েক হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। সকাল থেকে মাঠে রয়েছেন তারা।

সোমবার (১৭ জুন) ঈদের দিন সকাল সাতটা থেকে রাজধানীতে পশু কোরবানি শুরু হয়। এরপর থেকে মাঠে নামেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। সঙ্গে থাকে আধুনিক ভেকু ও ট্রাক। ফলে দ্রুতই সরে যাচ্ছে বর্জ্য।

আবহাওয়ার তথ্য বলছে, ঈদের দিন রাজধানীর তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে অনুভূত হচ্ছে ৪৪ ডিগ্রী পর্যন্ত। তীব্র গরম উপেক্ষা করে সিটি করপোরেশনের হাজারো পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এর মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একাংশ ঝাড়ু দিয়ে সড়কের ময়লা একত্রিত করে নিচ্ছেন। আরেক দল একত্রিত করা ময়লা সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরেকটি দল শুধু কুরবানির পশুর বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। সব কিছু এক জায়গায় নিয়ে আসার পর বড় গাড়ির মাধ্যমে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ডাম্পিং স্টেশনে।

ভেকু দিয়ে সরানো হচ্ছে কুরবানির বর্জ্য

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করেন মোহাম্মদ সবুজ। তিনি বলেন, 'আমরা সকাল থেকেই কাজ করতাছি। দুপুরের আগে সব ময়লা ক্লিয়ার করমু। গরম অনেক, একটু কষ্ট তো হইতাছে।'

একই তথ্য জানিয়েছেন আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোহাম্মদ রায়হান। তিনি বলেন, 'গরমে কাজ করার অভ্যাস আমগো আছে। আজকে তো তাড়াতাড়ি কাজ শ্যাষ করা লাগবো। স্যাররা আগেই কইয়া দিছে। সব ঈদেই এমন হয়।'

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ঈদের দিনের মতো ঈদের পর আরও দুইদিন একইভাবে ঘাম ঝড়াতে হবে তাদের। কারণ রাজধানীতে টানা তিনদিন পশু কুরবানি হয়। তবে মূল চাপটা আজই।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন ২৪ ঘণ্টায় নয় মাত্র ৬ ঘণ্টায় তার সিটির অলিগলিসহ সকল সড়ক পরিষ্কার করা হবে। নতুন সময় বেঁধে না দিলেও পূর্ব নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ সিটির কোরবানি বর্জ্য পরিষ্কারের কথা জানিয়েছেন মেয়র ফজলে নুর তাপস।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানির ঈদে দুই সিটি করপোরেশন ৪০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি বর্জ্য সরানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এ জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী আর হাজারের উপর যানবাহন ও যন্ত্রপাতি। এ জন্য কেনা হয়েছে নতুন নতুন যন্ত্রও।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

বৃষ্টিতে ভিজে ঈদের নামাজ আদায় করলেন সিসিক মেয়র



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারী বৃষ্টিতে ভিজে মুসল্লিদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ পড়লেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সোমবার (১৭ জুন) সকাল ৮টায় সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন তিনি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল কম।

দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাসহ দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য এই জামাতে মুসল্লিরা দোয়া করেন। এরপর সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

জামাতে ইমামতি ও দোয়া পরিচালনা করেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি আবু হোরায়রা নোমান।

এদিকে, ঈদের জামাত শেষ করে নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখায় কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সঙ্গে সকালের নাস্তা করেন এবং কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কাজের সূচনা করেন তিনি।

অপরদিকে, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের ট্রাকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও দ্রুত কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের জন্যে ১৬০০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাঠে রয়েছেন। যেকোনো প্রয়োজনে নগর ভবনে সরাসরি কিংবা হটলাইন নাম্বারে ( ০১৯৫৮২৮৪৮০৭) যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না: জিএম কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় দেশের অধিকাংশ মানুষ পশু কোরবানি দিতে পারছেন না। ঈদ উৎসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। বৃত্তশালীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

সোমবার (১৭ জুন) সকালে রংপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে যদি উৎসব পালন করতে পারি, সেটাই হবে সত্যিকারের উৎসব। আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে, সামাজিকভাবে এবং দেশের সব মানুষ যেন সমানভাবে উৎসব উদযাপন করতে পারে সেজন্য সবারই দায়িত্ব আছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলাউদ্দিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

দেশ যেন সুন্দরভাবে চলে এই প্রত্যাশায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশটি যেন সুন্দর ও ভালোভাবে চলে। সামনের দিকে যেসব অসহায় গরিব মানুষ আছে তারা যেন সচ্ছলতা ফিরে পায়। আবার যেন আমরা সম্মিলিতভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে পারি,আল্লাহর কাছে এটাই আমাদের প্রার্থনা।

সেন্টমার্টিন প্রসঙ্গে শঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান নিয়ে দেশবাসী উদ্বিগ্ন।মিয়ানমার বাহিনী কতটুকু অগ্রসর হলে আমরা মনে করবো তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করছে, এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। আমাদের লোকজন সেখানে (সেন্টমার্টিন) যেতে পারছে না, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতেও পারছে না। আমাদের উচিত আমাদের শক্তি নিয়ে দাঁড়ানো। তাদেরকে (মিয়ানমার) সেটি বুঝিয়ে দেওয়া অন্যকিছু করে তারা পার পাবে না।

পরে তিনি রংপুর মহানগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থানে গিয়ে তার মা-বাবা এবং দর্শনা পল্লীনিবাসে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করেন।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

বগুড়ায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধ্বস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় কোরবানীর পশুর চামড়ার বাজারে এবারও ধ্বস নেমেছে। গরুর চামড়া ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় কেনা বেচা হচ্ছে। আর ছাগল এবং ভেড়ার চামড়া কেউ কিনছেই না। অপরদিকে চামড়া ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের পাওনা ৩২ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় এবার তারা চামড়া কেনায় টাকা বিনিয়োগ করেননি।

সোমবার (১৭ জুন) বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বগুড়া সদরের ঘোলাগাড়ি গ্রামের আব্দুল মজিদ জানান, তার ৯০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া সকাল ১০টার দিকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বেশি দামে চামড়া বিক্রির আশায় গ্রামের অন্যান্যরা চামড়া বিক্রিতে দেরি করছিলেন। কিন্তু বেলা বাড়লেও চামড়া কিনতে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের (ফড়িয়া) কেউ না আসায় ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় তারা চামড়া বিক্রি করেন।

বগুড়া শহরতলীর বড়িয়া গ্রামের রমজান আলী বলেন, কোরবানি দেয়ার পর তার তিনটি গরুর চামড়া কেউ কিনতে না আসায় দুপুরে শহরে এসে ২০০ টাকা দরে তিনটি চামড়া ৬০০ টাকায় বিক্রি করেন।

শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের হুমায়ুন কবির মামুন বলেন, ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার গরু কোরবানির পর চামড়া দাম ৮০০ টাকা বললেও দুপুরের পর কেউ চামড়া কিনতেই আসছে না।

বগুড়া শহরের থানা রোডে চামড়া কিনতে বসেছেন অনেকেই। তাদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে আসছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মহল্লার লোকজন।

তারাও গরুর চামড়া ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় কিনছেন। ছাগল এবং ভেড়ার চামড়া তারা কিনছেন না। যারা ছাগল কিংবা ভেড়ার চামড়া নিয়ে আসছেন তারা বাধ্য হয়ে রেখে চলে যাচ্ছেন। কেউ ছাগলের চামড়া ১০/২০ টাকা পেলেও বেশির ভাগ লোকজন বিনামূল্যে চামড়া দিয়ে চলে যাচ্ছেন।

চামড়া ব্যবসায়ী আয়েত আলী, আব্দুস সাত্তার, জমসেদ আলী বলেন, স্থানীয় আড়তে চামড়ার কোনো দাম নির্ধারণ করা হয়নি, এছাড়াও আড়ৎ থেকে চামড়া কেনার কোনো টার্গেট দেয়া হয়নি। যার কারণে তারা ঝুঁকি নিচ্ছেন না। তারা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে চামড়া কিনে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে।

তারা বলেন, নিখুঁত এবং বড় চামড়া ৮০০ টাকা পর্যন্ত কেনা হচ্ছে। ছোট এবং বিভিন্ন সমস্যা আছে এমন চামড়া ২০০ টাকা থেকে দরদাম করে কেনা হচ্ছে।

বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভপতি আসাদুজ্জামান খান বলেন, ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে যে- ঢাকায় ট্যানারিতে ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা বকেয়া পরিশোধ না করা হলে চামড়া কেনা সম্ভব নয়। বগুড়ার ব্যবসায়ীদের আগে থেকেই ২২ কোটি এবং গত এক বছরে ১০ কোটি মিলিয়ে ৩২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকা না পাওয়ায় পাড়া-মহল্লায় যেসব ফরিয়া ও মৌসুমী ব্যবসায়ী থাকেন তাদের কাছে আগাম কোনো টাকা দেওয়া যায়নি। নগদ টাকা না থাকায় অনেকেই চামড়া কেনা থেকে বিরত আছেন।

তিনি বলেন, এটার একটা সুরাহা হওয়া দরকার। বছরের পর বছর টাকা বকেয়া থাকার কারণে এই শিল্পটা হুমকির মুখে পড়ছে। গরুর চামড়া তা-ও প্রক্রিয়া করে একমাস রাখা সম্ভব, কিন্তু ছাগলের চামড়া বেশি দিন রাখা যায় না। এ কারণে অনেক এলাকায় ছাগলের চামড়া কেউ কিনছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;