'করুণা ধারায় এসো'

  ‘এসো হে বৈশাখ’


ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চৈত্রের দাবদাহ পেরিয়ে বৈশাখে, নববর্ষের আবাহনে, শোনা যায় চির নূতনের ডাক এবং আশার প্রাণোচ্ছল ধ্বনি: "জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণা ধারায় এসো/সকল মাধুরী লুকায়ে যায়, গীতসুধারসে এসো।" আর এভাবেই ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চলে বিন্যস্ত বাঙালি যুক্তসাধনার মুক্ত প্রতীতিতে পুনরুজ্জীবন লাভ করে বাঙলা নববর্ষের মাহেন্দ্রক্ষণে।

বাংলা নববর্ষ তথা পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব। বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। ইংরেজি নতুন বছরের দিন শুরু হয় মধ্যরাতে। আর বাংলা সাল শুরু হয় ভোরে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে।

১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল বাংলা সনের প্রবর্তন। মোগল সম্রাট আকবরের আদেশে তাঁর রাজস্ব কর্মকর্তা ফতেহ উল্লাহ সিরাজি ‘সৌর সন’ এবং আরবি ‘হিজরি’ সালের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সন তৈরি করেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কা থেকে মদিনা যাত্রা বা 'হিজরত'- এর সময়টিকে (৬২২ খ্রিস্টাব্দে) সূচনা বিন্দু ধরে অব্দের গণনা শুরু হয়। প্রথমে এই সালের নাম ছিল ‘ফসলি সন,’ পরে তা ‘বঙ্গাব্দ’ বা ‘বাংলা নববর্ষ’ নামে পরিচিত হয়। অনেকে মনে করেন, বঙ্গাব্দের গণনায় আকবরের রাজ্যাভিষেককেই সূচনা বলে ধরে নেওয়া হয়।

সম্রাট আকবরের বাংলা সন প্রবর্তনের সঙ্গে শুরু হয় ‘হালখাতার প্রথা’। হালনাগাদের খাতাটি হল বিগত বছরের যাবতীয় হিসাব বিবরণীর নথি। আজও ব্যবসায়ীরা লাল রঙের শালু কাপড়ের মলাটে মোড়ানো খাতাটি ব্যবহার করেন। নববর্ষের প্রথম দিন ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের হিসাবের হালখাতা অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ করেন। থাকে মিষ্টিমুখের আয়োজন।

পহেলা বৈশাখ শুধু একটি তারিখমাত্র নয়, বাঙালির উৎসবের দিন। আহারে-বিহারে সাজগোজে নিজস্বতার ছোঁয়া থাকে এই দিনটিতে। বাঙালির অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিজস্ব সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে। চর্চা করতে হবে। মনে-প্রাণে তাকে লালন করতে হবে। এটাই জীবন্ত সংস্কৃতির জাগ্রত মানুষের জীবনাবেগ। কারণ, যে জাতি যত সংস্কৃতিমান, সেই জাতি তত উন্নত এবং সমৃদ্ধ।

নববর্ষ মানে বিগত বছরের সমস্ত জীর্ণতা ও মলিনতাকে মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোরও দিন। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই, আমাদের ইতিহাসবোধ, সমকালবোধও, আজ আন্তর্জাতিক খ্রিস্টীয় কালপঞ্জির দ্বারা এতটাই নিয়ন্ত্রিত যে, বাংলা সন-তারিখ দেখলে একটু বিহ্বল বোধ করেন অনেকেই। কোথাও তারিখ হিসাবে বাংলা সন উল্লিখিত হলে সমস্যায় পড়তে 'শিক্ষিত' মানুষদেরও।

তাদের দ্বিধার কারণ হলো, কোন মাস ঠিকঠাক কী ভাবে বুঝব? কেননা, ইংরেজি বছরে ঢুকে থাকে দুইটি বাংলা সাল। ও দিকে ঐতিহাসিক পারম্পর্যের কাহিনিবিন্যাসটি খ্রিস্টাব্দের পরিপ্রেক্ষিতেই সাধারণ মানুষের মনোলোকে সাজানো আছে। আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত কালপঞ্জির প্রতি এত আগ্রহ কখনও আত্মপরিচিতির অজ্ঞতার কারণ হলে বিপদ। এই বিপদকে সঙ্গে করেই চলছে একবিংশ শতকের উত্তরাধুনিক বাঙালি জনগোষ্ঠী। পরিস্থিতি এমনই শোচনীয় হয়েছে যে, পহেলা বৈশাখ শেষ হলেই বাংলা মাসের নাম ও বাঙালিয়ানা গানে ও কবিতায় আশ্রয় নেয় আত্মরক্ষার্থে।

টি এস এলিয়ট লিখেছিলেন, ‘এপ্রিল ইজ় দ্য ক্রুয়েলেস্ট মান্থ'/‘এপ্রিল নিষ্ঠুর মাস। বিপরীতে ইংরেজি সাহিত্যের ডাকসাইটে ছাত্র সমর সেন লিখেছিলেন: ‘উজ্জ্বল, ক্ষুধিত জাগুয়ার যেন,/ এপ্রিলের বসন্ত আজ’। দৃষ্টান্তস্বরূপ, ‘চৈত্রে রচিত কবিতা’, ‘হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান’, ‘শরৎমেঘ ও কাশফুলের বন্ধু’, ‘কার্তিকের মাঠে’, শিরোনামগুলোয় গভীর হয়ে আছে নিজস্ব চিহ্ন। এমন পঙ্‌ক্তিতেও আছে শিহরণ: ‘আগত শরৎ অগোচর প্রতিবেশে;/ হানে মৃদঙ্গ বাতাসে প্রতিধ্বনি,/ মূক প্রতীক্ষা সমাপ্ত অবশেষে/ মাঠে, ঘাটে, বাটে আরব্ধ আগমনী।’ কিংবা ‘স্বপ্ন, একুশে ভাদ্র’ অথবা ‘আমাকে আমি ভুলেছি এই একুশে আশ্বিনে’। তাৎপর্য খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, দু’টিই যথাক্রমে কবিদ্বয়ের জন্মতারিখ। হায়! আমরা কয়জন জন্মদিনের, জন্ম তারিখের, বাংলা ভার্সান মনে রেখেছি?

মনে রাখে নি অধিকাংশই। বরং ‘পহেলা বৈশাখ’ এলেই হঠাৎ চারিদিকে উন্মত্ততা চাপিয়েছে। একদিনের বাঙালিয়ানার মচ্ছব চলছে। বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার নামে হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে। সুপ্ত অপসংস্কৃতির তাণ্ডব কখনও দৃশ্যমান হচ্ছে। কেউ একজন একবার বলেছিলেন, "আমরা আসলে বেশি উদ্‌যাপন করেছি ক্ষণোন্মাদনার তীব্রতা, ধারণ করেছি কম। উদ্‌যাপন বাহ্যিক, ধারণ অভ্যন্তরীণ। প্রমিত তথা ‘স্ট্যান্ডার্ডাইজ়ড’ আন্তর্জাতিক হওয়ার অতি-আগ্রহে ভুলতে চেয়েছি আত্মপরিচয়ের প্রাতিস্বিক চিহ্ন।'

এসবই ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’। ‘হেজিমনি'। ‘গোলকায়নের ভবিতব্য'। সর্ববাঙালির সামনে আরেক বিপদ 'ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের কর্ণবিদারী ঢক্কানিনাদ'। যদিও বাঙালির সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয় নির্মাণ সীমান্তহীন, ধর্মনির্দিষ্টতাহীন, বহুস্বরিক, তার বহু শরিকও, তথাপি, আগ্রাসন একটা আছে। খুব বলশালী, ধূর্ত আর কৌশলী সেই আগ্রাসন।

আগ্রাসীরা বাঙালিকে একমাত্রিক একঢালা বানাতে চায়। বাঙালির বহুস্তরিক বর্ণালি ভাঙতে চায়। বহুস্বরিক কলকণ্ঠ স্তব্ধ করতে চায়। গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের আবহ মুছে দিতে চায়। ‘সংখ্যাগুরু’ ও ‘সংখ্যালঘু’ এবং ‘প্রতাপান্বিত’ ও ‘দুর্বল’-এর সম্মানজনক ভারসাম্যের বুনিয়াদ উপড়ে ফেলতে চায়।

নববর্ষে একদিনের বাঙালিয়ানায় এইসব আগ্রাসন রোধ করা অসম্ভব। চিরায়ত বাংলা ও সর্বজনীন বাঙালিত্বে শাশ্বত করুণা ধারায় হটানো সম্ভব ইত্যাকার যাবতীয় আগ্রাসন, আবিলতা, ক্লেদ, ক্লেশ, গ্লানি, হীনমন্যতা ও অবদমন।

   

ছাগলের চামড়া ১০ টাকা তবুও কিনছেনা কেউ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার নির্ধারিত ছাগলের চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ২৮ টাকা এবং ভেড়ার চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা। তবে সেই দামে বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অনেকে ছাগলের চামড়া প্রতি পিচ ৫০ থেকে ১০০ টাকায় কিনেছেন। এখন এসব ছাগলের চামড়া কেউ নিতে চাচ্ছে না। যারা কিনছেন তাও ১০ টাকা পিচ কিনছেন।

সোমবার (১৭ জুন) রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগ করেন।

কল্যাণপুর থেকে ছাগলের ১০টি চামড়া নিয়ে সায়েন্স ল্যাব এলাকায় আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী আবুল কালাম। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, একে একে ছয় জন ক্রেতার কাছে এই চামড়া নিয়ে গিয়েছি। কিন্তু তাদের কেউই কিনতে আগ্রহ দেখাননি। পরে এক ক্রেতা ১০টি চামড়ার জন্য মাত্র ১০০ টাকা দিয়েছেন।

আবুল কালামের মত একই অভিযোগ ধানমন্ডি এলাকার মৌসুমী ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেনের। গরুর চামড়ার সাথে ১৯টি ছাগলের চামড়া নিয়েছি। একেকটা চামড়ার দাম পড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। এখানে আসার পরে কেউ চামড়া কিনতে চাচ্ছেনা। এখন এক ব্যাপারিকে দিয়ে দিছি। বিক্রি করে যা পায় আমাকে দিতে।

ছাগলের চামড়ার দাম এত কম কেন? জানতে চাইলে সাইন্সল্যাব এলাকার এক আড়তদার বার্তা২৪.কমকে বলেন, একটা চামড়া ১০ টাকা দিয়ে কিনলেও এর পেছনে সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু ট্যানারিতে বিক্রির সময় ২০-৩০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না। এ কারণেই এখন কেউ ছাগলের চামড়া কিনতে চান না।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

সাড়ে ৩টার মধ্যে ৮০ শতাংশ বর্জ্য পরিষ্কার করেছে চসিক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
সাড়ে ৩টার মধ্যে ৮০ শতাংশ বর্জ্য পরিষ্কার করেছে চসিক

সাড়ে ৩টার মধ্যে ৮০ শতাংশ বর্জ্য পরিষ্কার করেছে চসিক

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের কোরবানির ঈদের ৮০ শতাংশ বর্জ্য বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী৷

সোমবার (১৭ জুন) বিকেলে নগরীর আলমাস সিনেমা হল এলাকায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।

মেয়র বলেন, বিকেল পাঁচটার মধ্যে নগরীর সমস্ত কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে আমাদের প্রায় ৪ হাজার কর্মী কাজ করছে। নগরীর ৪১ টি ওয়ার্ডকে ৭টি জোনে ভাগ করে মোট ৩২২টি গাড়ি বর্জ্য অপসারণে কাজ করছে। ৭টি জোনে ৭টি পানির জার থাকছে রক্ত পরিষ্কার করার জন্য।

বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে নগরীর ৮০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। নগরীতে অনেকে দুপুর ২টার পর কোরবানি দেন, আবার কিছু প্রান্তিক এলাকায় পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনা কিছুটা কঠিন। তবে বিকেল পাঁচটার মধ্যে নগরীকে পরিষ্কার করার লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা৷ নাগরিকদের কোরবানির বর্জ্য সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণে দামপাড়ায় কন্ট্রোল রুমও চালু আছে।

কোরবানির চামড়া প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আমাদের লক্ষ্য জাতীয় সম্পদ চামড়া যাতে নষ্ট না হয়। এজন্য চামড়া ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আমরা সমন্বয় সভা করেছি। আশা করি কোনো চামড়া নষ্ট হবেনা এবার।

এসময় মেয়রের সঙ্গে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন, চসিক বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মোবারক আলী, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার লতিফুল হক কাজমি, হাসান মুরাদ বিপ্লব,আবদুস সালাম মাসুম, পুলক খাস্তগীর, কাজী নুরুল আমিন, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, আকবর আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল হাসান, মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম, সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন রিফাত, অনিক দাশগুপ্তসহ চসিকের কর্মকর্তারা।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

খুশির দিনে ভালো নেই সিলেট



মশাহিদ আলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম,সিলেট
খুশির দিনে ভালো নেই সিলেট

খুশির দিনে ভালো নেই সিলেট

  • Font increase
  • Font Decrease

সারাদেশে যখন ঈদের আনন্দে মেতেছে মানুষ, ঠিক তখন অঝোর বৃষ্টির পানিতে ভাসছেন সিলেটবাসী। এতে ম্লান হয়ে গেছে মানুষের ঈদ আনন্দ। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটে অনেক-বাসা বাড়িতে কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। অনেক স্থানে কোরবানি দিতে পারছেন না কোরবানি দাতারা। কারণ পানিতে বাসা-বাড়ির সামনে থৈ থৈ করছে। কোনো কোনো এলাকায় কোরবানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মঙ্গলবার কোরবানি দেয়া হয়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (১৬জুন) মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সোমবার(১৭জুন) ঈদের দিন ভোরের মধ্যেই সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকায় দেখা জলাবদ্ধতা। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়ক তলিয়েছে পানিতে। এ অবস্থায় বেশিরভাগ ঈদগাহে ঈদুল আজহার জামাত বাতিল করে স্থানীয় মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। সেখানেও মুসল্লিদের উপস্থিতি কম দেখা যায়।

সিলেটে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় শাহী ঈদগাহ ময়দানে। বৃষ্টিতে ভিজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের জামাত আদায় করেন সিলেট সিটি করপোরেশেনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এই ঈদগাহে প্রতি বছর ১ থেকে দেড় লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটলেও এবার বৃষ্টির কারণে মুসল্লি ছিলেন মাত্র কয়েক হাজার।

এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বাসবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পনি ঢুকে পড়ে। ফলে সিলেট নগরীর কোরবানিদাতারা পড়েছেন বেশ বিপাকে। অনেকে পশু দোতলায় উঠিয়ে রেখেছেন। পানি না নামলে কোরবানি দিতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ এক বাসা থেকে অন্য বাসায় নিয়ে রাখছেন তাদের কোরবানির পশু। তারা বলছেন, পানি না কমলে এক-দুই দিন পরে কোরবানি দিতে
হবে।

সোমবার(১৭জুন) সকালে সরেজমিনে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। বিশেষ করে শাহজালাল উপশহর এলাকায় পানির নিচে। অনেকের বাসার নিচ তলায় কোমর পর্যন্ত পানি। লালাদীঘিরপাড়, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও এয়ারপোর্ট সড়ক, দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোডসহ বিভিন্ন সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে কোমর পর্যন্ত পানি দেখা গেছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (রোবার সকাল ছয়টা থেকে সোমবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত) সিলেটে ১৭৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর সোমবার সকাল ছয়টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হয়েছে ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টি। এখনও বৃষ্টি হচ্ছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিন দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সিলেটে তিনটি নদীর পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারার পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ও সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সিলেটের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত সিলেটের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৯টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। পুরো জেলায় ১ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে গোয়াইনঘাট উপজেলা। এই উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ জন। জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে জেলা প্রশাসন। আশ্রয় নিয়েছেন ৬৮ জন। এরমধ্যে ওসমানী নগরে ৪৩ জন, বালাগঞ্জে ১০জন ও বিয়ানীবাজারে ১৫জন আশ্রয় নিয়েছেন।

নগরীতে জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে পাশাপাশি সিলেটেও বৃষ্টি হচ্ছে ফলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ছড়াগুলো উপচে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি থামলেই এসব পানি নেমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। আমাদের লোকজন ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে প্রতিদিন।কিন্তু বাসা-বাড়ি ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে ড্রেনে ফেলে দেন অনেকেই।ফলে পানি নিষ্কাশন সঠিকভাবে হতে বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে এব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় কয়েকটি এলাকায় নতুন করে পানি প্রবেশ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমরা সার্বক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

তিনি বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রয়েছে। এখন পর্যন্ত যারা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন তাদের প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রত্যেক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

চামড়ার দাম নিয়ে সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা যে চামড়া কিনেছেন তার চেয়েও কমে বিক্রির অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের দাবি, কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে চামড়া কিনছেন।

সোমবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে এসে এই অভিযোগ করেন।

মিরপুর ৬০ ফিট এলাকায় আবু বকর মাদ্রাসার সংগ্রহ করা চামড়া নিয়ে এসেছেন খাদেম মোখসুর রহমান। তিনি বার্তা২৪. কমকে বলেন, এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়ির মালিকরা তাদের কোরবানির পশুর চামড়া মাদ্রাসায় দান করেছেন। সরকার বলছে দাম নূন্যতম ১২০০ টাকা। কিন্তু এখানে এসে বিক্রি করতে হয়েছে ৬৫০ টাকায়।

মাদ্রাসার এই খাদেমের মত অভিযোগ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী কাউসার মিয়া। তিনি পান্থপথ কাঠাল বাগান এলাকা থেকে ২৯টি গরুর চামড়া কিনেছেন। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, এলাকায় চামড়া আকারভেদে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। ভ্যান ভাড়াসহ একেকটা চামড়ার দাম পড়েছে গড়ে ৮০০ টাকা। এখানে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছে ছোট চামড়া দাম ৭০০ টাকা।

চামড়া কিনতে আসা এপেক্স ট্যানারির এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বেশি দামে চামড়া কিনে এখন আমাদের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে।

সরকার নির্ধারিত দাম নিয়ে তিনি বলেন, সরকার লবণ জাত চামড়ার সর্বোচ্চ দাম দিয়েছেন ১২০০ টাকা। সর্বনিম্ন দিয়েছেন ১০০০ টাকা। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এটা না বুঝে কাঁচা চামড়ার দাম বেশি চাচ্ছে।

এদিকে ঈদের আগে গতবারের চেয়ে এবার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে প্রতি পিস চামড়ার সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় প্রতিপিস গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ঢাকার বাহিরে ১ হাজার টাকা।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;