রাজশাহীতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

  বিজয়ের ৫০ বছর


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ও মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জেলা পুলিশ লাইনসে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়।

সকাল সাড়ে ৭ টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে বিভাগীয় কমিশনার ড.  হুমায়ুন কবীর, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। 

সকাল ৯ টায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. হুমায়ুন কবীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বর্ণাঢ্য অভিবাদন গ্রহন করেন।

প্রধান অতিথি বলেন, আমি স্মরণ করছি ইতিহাসের মহানায়ক স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি এনে দিয়েছিলেন মহান স্বাধীনতা। তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াবার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি জাতীয় চার নেতা ও সকল শহিদদের প্রতি। যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা।

তিনি বলেন, আজকের এ বিজয় শাসকের বিরুদ্ধে শহিদদের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের, বঞ্চনার বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের। তিনি আরো বলেন, দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি এবং ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশের মর্যাদায় পৌঁছে যাব। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমরা সকলে একসাথে কাজ করে যাব। আজ শপথের দিন, অঙ্গীকারের দিন, যে বিজয়টা জাতির পিতা এনে দিয়েছিল তা আমরা রক্ষা করবোই করব।

বিজয় দিবস-২০২১ উপলক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ, প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহে আলোকসজ্জা এবং জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। এদিন পার্ক, যাদুঘর বিনা টিকেটে শিশুদের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ, বিটিভিতে আগুন, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে!



বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সবশেষ পরিস্থিতির খবর জানা এবং জানানো এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ঢাকাসহ সাড়া দেশে ইন্টারনেট সংযোগ হয় সীমিত নয়তো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও বাংলাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক কল করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনটা জানা যাচ্ছে বাংলাদেশ সীমার বাইরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে।

সবশেষ খবরগুলো বলছে এ পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হয়েছে কোটা বিষয়ক আন্দোলনের জেরে। এদের মধ্যে ৬ জন নিহত হয়েছে বৃহস্পতিবার। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আসছে। তাতে কেউ কেউ মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫ হয়েছে বলে জানাচ্ছেন। যদিও এই তথ্য কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা এমন খবর দিচ্ছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও।

বৃহস্পতিবার সন্ধার পর থেকেই ঢাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের খবর আসতে থাকে। তবে যতক্ষণ ইন্টারনেট চালু ছিলো কিংবা ফেসবুকে আপডেট পাওয়া যাচ্ছিলো তাতে বলা হয়েছে, বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। যারা ছবি সামাজিক মাধ্যমে দেখা গেছে। এছাড়াও মেট্রো রেলের একটি ট্রেন পুড়িয়ে দেওয়ার তথ্য ও ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসতে থাকে।

বিটিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এই আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার পোস্ট ছিলো। তাতে বলা হচ্ছিলো বেশ কিছু মানুষ ওই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে তথ্য ছিলো সেখানে ফায়ার ব্রিগেডের অগ্নিনির্বাপক দলকে যেতে দেওয়া হচ্ছিলো না। পরে অবশ্য আপডেট আসে যে, দমকলবাহিনী সেখানে পৌঁছেছে। তবে আগেই বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে নানা তথ্য আসছে। এএফপির খবরে বলা হয়েছে সব মিলিয়ে ৩২ জন নিহত হয়েছে। যাদের অধিকাংশই প্রাণ হারিয়েছেন বৃহস্পতিবার।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ২ জন সাংবাদিক রয়েছেন। এদের একজন ঢাকা টাইমসের। যিনি রাজধানীতে প্রাণ হারিয়েছেন। অপরজন গাজীপুরে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গাজীপুরের ঘটনাটি নিশ্চিত করা যায়নি।

বিটিভিতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার আগে আন্দোলনকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনেও আগুন জ্বালিয়ে দেয় এমন তথ্যও দিচ্ছে একটি সংবাদমাধ্যম। তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, বিটিভির ভেতরে কয়েকজন আটকা পড়েন। এবং তারা নিরাপদে ছিলেন না।

  বিজয়ের ৫০ বছর

;

ছাত্রছাত্রীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে দুর্বৃত্তরা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গভীর পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকার কর্তৃক কোটা সংস্কারের বিষয়ে দাবি মেনে নেওয়া সত্ত্বেও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুর্বৃত্তরা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও সাধারণ জনগণের উপর হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, 'দুর্বৃত্তরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ভবন, বিভিন্ন পুলিশ স্থাপনা ও মেয়র হানিফ টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে নিরীহ জনগণ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ ও সাংবাদিকগণ হতাহত হচ্ছে। এ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চরম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, যদি দুর্বৃত্তরা তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ অব্যাহত রাখে তাহলে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে বাধ্য হবে। সকলকে এহেন কার্যকলাপ হতে বিরত থাকতে অনুরোধ করা যাচ্ছে।'

রাজধানীসহ সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতায় অনেক আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটে।

এ পরিস্থিতিতে দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সরকার নীতিগতভাবে একমত। সরকার কোটা সংস্কারের পক্ষে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের সাথে আজই বসতে রাজি আমরা।’

এরপরপরই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা আতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য আগামী রোববার শুনানির দিন ধার্য করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ চেম্বার আদালত এ দিন ধার্য করে।

সহিংসতা ঠেকাতে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীতে বুধবার রাতেই মোতায়েন করা হয়েছে ১৬ প্লাটুন আনসার সদস্য।

  বিজয়ের ৫০ বছর

;

কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত-১০



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়া শহরে পুলিশের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল থেকে কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দামবাজার, সার্কিট হাউজের সামনে ও ডিসি কোর্ট চত্বরের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুরো কুষ্টিয়া শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেলে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা।

সেখান থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে মজমপুরের দিকে আসছিলো তারা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের বাধা দিলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

আন্দোলনকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর। এতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মহাসড়কে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জ করে এবং ব্যাপক গুলি ও টিয়াশেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের দুজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো: সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক দখল করে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল।

পুলিশ তাদের সড়ক ছেড়ে দিতে বললে তারা পুলিশের ওপর হমলা চালায়। জবাবে পুলিশও জানমালের নিরাপত্তার জন্যে গুলি ও টিয়াশেল নিক্ষেপ করে।

  বিজয়ের ৫০ বছর

;

নাশকতার নির্দেশ তারেকের: পররাষ্ট্রমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে চেপে বসেছে বিএনপি-জামায়াত। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আন্দোলনটা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে তারা। তারেক রহমান লন্ডন থেকে ছাত্রদল-যুবদল ও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ে নাশকতা করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছে। এবং যে যত বেশি নাশকতা করবে, তাকে ততবেশি পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা দিচ্ছে। আমাদের কাছে সেই তথ্য প্রমাণ আছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর হাত বুলিয়ে যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল, তারা এখন বিএনপি-জামায়াতের পকেটে ঢুকে গেছে। বুধবার রাতে তাদের প্রেসক্রিপশনেই বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অতীতেও আমরা দেখেছি কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথা বলে অনেকে হাজির হয়েছিল, পরে তাদের মোবাইল চেক করে পাওয়া গেছে, লাখ-কোটি টাকা তাদেরকে বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাঠানো হয়েছে। এখন তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তারা নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। এবারও কোটা আন্দোলনের নেতাদের কাউকে কাউকে বিএনপি-জামায়াত পকেটে পুরে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে কোটাকে ইস্যু করে দেশব্যাপী বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্যে সমস্ত ঘটনার বিচার হবে, যারাই দোষী হবেন তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে, কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তারা একটি সুফল পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, আন্দোলনকারীরা আদালতে ন্যায় বিচার পাবে সেই ঈঙ্গিত দিয়েছেন। ইতোমধ্যে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছিল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের পক্ষেই লড়ছে, তাদের পক্ষেই কথা বলছে। সরকার যে কোটা প্রথা বাতিল করেছিল, সেটি হাইকোর্ট পুনর্বহাল করে, রাষ্ট্রপক্ষ আবার আপিল বিভাগে গিয়ে সেটির ওপর স্থগিতাদেশ আনে। অর্থাৎ সরকার যে কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল সেটি এখনো বলবৎ আছে। যেহেতু আপিল বিভাগে শুনানি হবে, সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী এই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আজ বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এটি কোটার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তাদের কর্মসূচি নয়, এটি বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচি। এবং তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘাড়ের ওপর চেপে বসে তাদের বিভ্রান্ত করছে। কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তাদের মাঝে এই কর্মসূচি নিয়ে কোন ঐক্যমত ছিল না। দুয়েকজনকে ভাগিয়ে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত তাদের মাধ্যমে এই কর্মসূচি দিয়েছে।

কোটার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তাদের হাতে আন্দোলনের চাবিকাঠি নাই উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বিএনপি-জামায়াত তাদের নিয়ে খেলছে। রাস্তায় রাস্তায় ৩০-৩৫ বছরের বয়স্ক বাচ্চার বাবারা লাঠিসোটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তারা তো ছাত্র নয়, তারা বিএনপি জামায়াতের কর্মী। কারো কারো দাঁড়িতে একটু পাকও ধরেছে। ঢাকা শহরে আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসীদের এনে জড়ো করা হয়েছে। ২০১৩ এবং ১৪-১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত যেভাবে নৈরাজ্য করেছিল ঠিক একই কায়দায় বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন চট্টগ্রামে কিভাবে ছাদের ওপর থেকে ছাত্রলীগের ছেলেদের ফেলে দেওয়া হয়েছে, কয়েকজন মৃত্যুর সাথে ছটফট করছে, একজন মৃত্যুবরণ করেছে। সারাদেশে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেছে। তারা ভেবেছে এইভাবে পার পেয়ে যাবে। প্রত্যেকটা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সময়মত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকার যতোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি নেতাদের ফোনালাপ পাশ হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, আমরা রাজপথ পাহারা দিয়েছি ভোটের আগে, ভোটের পর তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীদের সকলে মিলে আমাদেরকে রাজপথ পাহারা দিতে হবে, দেশ পাহারা দিতে হবে, দেশ পাহারা দিয়ে এই সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা বুকের রক্ত ঢেলে এইদেশ স্বাধীন করেছেন, দেশ যখন স্বাধীন হয় তখন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারে বাঙালি সচিব ছিল একজন। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছি বিদায় আমরা সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখি, সরকারি চাকরি পায়। তাই মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা কখনো কাম্য নয়। সেটির দেশের মানুষ মেনে নিতে পারে না।

চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সরওয়ার মনি’র সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহের হোসেন চৌধুরী এমপি, শামীমা হারুন লুবনা এমপি, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধার সন্তান আশিকুন্নবী চৌধুরী শাওন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন চৌধুরী, লায়ন হায়দার আলী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ প্রমুখ।

  বিজয়ের ৫০ বছর

;