কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৬)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

অই তো যায়, টু আ পেনি

[পূর্ব প্রকাশের পর] আমাদের পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, আমরা উদ্বিগ্ন পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে চিঠি পেতে শুরু করি। তার সব ক’টার সুরই এক। “তোমরা নিশ্চয়ই দেশ ছাড়তে পেরে খুব খুশি! তা তোমাদেরকে কবে নাগাদ আমরা আমেরিকায় আশা করতে পারি?”

কিন্তু আমাদের কারুরই আমেরিকার দিকে যাত্রা করার বাসনা ছিল না। আমরা এমনিতেই পূর্ব পাকিস্তান ছাড়তে চাইনি, আর আমাদের মধ্যে যাদের পুনঃপ্রবেশের ভিসা ছিল না, তারা আর কোনোদিন ফিরতে না পারার আতঙ্কে ছিল। আমরা জানি প্রভুই আমাদেরকে বাইরে নিয়ে এসেছেন, যদিও আমরা বুঝিনি এর পেছনে তাঁর কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আমরা শুধু এটুকু জানি, আমরা সবাই ফিরতে চাই, এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

যুদ্ধবিদীর্ণ দেশটিতে আমরা আমাদের বাড়িঘর, জিনিসপত্র, বন্ধুবান্ধব এবং আমাদের হৃদয়খানি ফেলে এসেছিলাম।

আমরা মেয়েরা যখন কেনাকাটায় আর বাচ্চাদের ফুর্তিতে রাখার প্রচেষ্টায় আনন্দেই ছিলাম, পুরুষেরা তখন আমাদেরকে ব্যাংককের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত ছিল। পরিস্থিতির জটিলতা ছিল বহুমাত্রিক। তিনটি পরিবারের কিশোরবয়সী বাচ্চারা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের মারিতে। আমরা ব্যাংককে আসার কয়েকদিনের মধ্যেই, আমাদের দলের যারা পশ্চিম পাকিস্তানে ছিল তাদের কাছ থেকে এরকম চিঠি পেতে শুরু করি যে, কিছু বাচ্চা খুবই আতঙ্কিত হয়ে আছে এবং তারা তাদের বাবামাকে পাশে চাইছিল। যাদের কোনো বাচ্চা ছিল না সেখানে, তাঁরা একগাদা পয়সা খরচ করে সেখানে গিয়ে বেকার বসে থেকে, পূর্ব পাকিস্তানে ফেরার অনুমতি পাবার প্রত্যাশায় দিন গোনার সম্ভাবনায় খুব একটা প্রীত ছিলেন না।

যদিও আমাদের পাকিস্তানে ফিরে যাবার একমাত্র সম্ভাবনা, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী দেশত্যাগীদের একসঙ্গে দলবেঁধে থাকার মধ্যেই নিহিত ছিল। আমাদের যুক্তি ছিল, যেহেতু তারা আমাদের দেশ ছাড়ার জন্য উৎসাহিত করেছিল, সেহেতু নিশ্চয়ই তারাই আমাদেরকে আবার ফিরিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তবে এটা তত সহজ ছিল না। আমেরিকার সরকার যতটা করার করছিল, কিন্তু পাকিস্তান সরকার আমাদেরকে সাহায্য করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না। আমরা তাদের সেই মিথ্যে বুদ্বুদখানি ফাটিয়ে দিয়েছিলাম, “পূর্ব পাকিস্তানে সব স্বাভাবিক রয়েছে।”  যদি সব স্বাভাবিকই থাকত, তাহলে মার্কিন সরকার কেন সবাইকে বিশেষভাবে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল?

এই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয় এই তথ্যটুকুও যে, আমাদের অর্ধেকেরও বেশির ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছিল। এমনকি স্বাভাবিক অবস্থাতেও আমাদের ফিরতে অসুবিধা হবার কথা।

শহরে আমাদের ঘোরাঘুরির সময় আমরা প্রায়ই পাকিস্তান দূতাবাসের পাশ দিয়ে যেতাম। প্রতিবারই তার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মেল বিল্‌স প্রাণভরে একবার বলে উঠতেন, “জয় বাংলা”। তাঁর স্ত্রী মার্গি, এটা শত্রুর কানে গিয়ে পৌঁছানর ভয়ে এবং তা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে ভেবে তার স্বামীকে তা বলা থেকে বিরত রাখতে চাইছিল।

“ঠিক আছে,” তিনি রাজি হন। “আমি চুপ থাকব, ভেতরে কিন্তু ঠিকই এটা উচ্চারণ করব।”

জে ওয়াল্‌শ ও মেল বিল্‌স মার্কিন দূতাবাস আর পাকিস্তান দূতাবাসের মধ্যে ছোটাছুটি করছিলেন কেবল। পরেরটাতে প্রভু আমাদের পক্ষে ছিলেন। যার দায়িত্ব ছিল এই অনুমতিপত্র প্রস্তুতের, তিনি ঢাকার মানুষ ছিলেন বলে। জে একটু হালকা বোধ করায় তাঁর সঙ্গে বাংলায় কথাবার্তা শুরু করেন। বাঙালি অফিসারের চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং তিনি গলা নিচু করে গোপনে তাঁর কাছে দেশের অবস্থা জানতে চান। এরপর থেকে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন আমাদের সাহায্য করতে, যদিও তাঁর শ্রেষ্ঠটাও আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না। চূড়ান্ত অনুমোদন আসবে ইসলামাবাদের কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তর থেকে।

আমেরিকান পর্যটকেরা থাইল্যান্ডে মাত্র পনেরোদিন থাকতে পারত। তারপর তাদেরকে দেশ ছেড়ে আবার নতুনভাবে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হতো। আমাদের পনেরোদিন অতিবাহিত হবার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিই আমরা পেনাং দ্বীপে একটা ছোটখাটো ছুটি কাটাব। আমরা যখন বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য বাসে উঠছিলাম তখন সেখানকার এক কর্মচারী জে-কে বার্তা পাঠান। এই বার্তা আমাদের আনন্দময় ভ্রমণের অনুকূল ছিল না। মার্কিন সরকার এইমাত্র তাদের ইসলামাবাদের পাল্টাপক্ষের কাছ থেকে একটা টেলেক্স পেয়েছেন এই নির্দেশসহ যে, আমরা যেন পশ্চিম পাকিস্তানে প্রবেশের চেষ্টাও না করি। সেই অংশ থেকেও মিশনারিদের বার করে দেওয়া হচ্ছিল।

তখন প্রভু ছাড়া আর কোনো গতি ছিল না আমাদের। আমাদেরকে অ্যাসেম্বলি অভ গড মিশনারিদের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলো, যারা বলতেন, “যখন তোমাদের মনে হয় যে, প্রভু ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার নেই, তার অর্থ হচ্ছে খাবার ছাড়া আর কিছু খাওয়ার নেই তোমাদের।”

আমরা ঈশ্বরের কাছেই গিয়েছিলাম। আমাদের ব্যক্তিগত এবং দলীয় প্রর্থনাগুলোতে আগের মতো আর বলছিলাম না, “প্রভু আমাদেরকে ফিরিয়ে আনুন,” বরং অনুরোধ করছিলাম, “প্রভু আমাদেরকে বলে দিন আপনি কী চান, আমরা তা-ই করব।”

জে যাদের সঙ্গে ছিলেন তারা আমাদের যাওয়ার কয়েকদিন আগে ব্যাংকক ফিরে গেল। তিনি সবে ফিরেছেন, অমনি পাকিস্তানি দূতাবাস তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে বার্তাটা দেখালেন, “এই মানুষগুলোকে পাকিস্তানে ঢোকার ব্যাপারে যা করার করুন।”

জে গোটা ব্যাপারটা দ্রুতই আন্দাজ করে ফেললেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের মনে আসলে একটা সাধারণ ভ্রমণ অনুমতির বিষয়টাই ছিল, যার মাধ্যমে বাবা-মায়েরা তাঁদের বাচ্চাদেরকে তুলে নিয়ে আবার বেরিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু তিনি কর্মকর্তাকে দিয়ে এর এমন এক ব্যাখ্যা করালেন, যার অর্থ দাঁড়ায়, “এদের সবাইকে চার বছরের জন্য বহুপ্রবেশ ভিসা দেওয়া হোক।”

আবারও ঈশ্বর আমাদের এই বিশ্বাসের প্রতিদান দিলেন তাঁর উপহারের ঝুলি খুলে। আমাদের প্রত্যেককে, যাদের স্রেফ একটি ভিসাই দরকার ছিল, এমনকি যাদের ভিসার মেয়াদ ফুরোয়ওনি, তাদেরকে সুদ্ধ সব ভিসার সেরা ভিসাটি দেওয়া হলো। সেই চার বছরের বহুপ্রবেশ ভিসাটির অর্থ হলো, আমরা ভিসা নবায়ন না করেই আগামী চার বছর যতবার ইচ্ছা আসাযাওয়া করতে পারব। আমাদের কোনো কোনো নবাগত মিশনারি জীবনেও এটা পাননি, কেননা পাকিস্তানে আসার আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাঁরা এটা নিয়ে আসতে পারেননি।

জে আমাদেরকে পেনাংয়ে ফোন করে সুখবরটা দেন এবং আমরা এই পুরস্কার গ্রহণের উদ্দেশ্যে ফিরতি বিমান ধরি সঙ্গে সঙ্গেই। মে মাসের ১৭ তারিখ জে আমাকে, লিনকে আর বেকিকে নিয়ে যান আমাদের পাসপোর্টে ভিসার সিল মারাতে। ফেরার পথে আমেরিকান দূতাবাসে দাঁড়ালে তখনকার কর্তব্য কর্মকর্তা জে-র দিকে তাকিয়ে বলেন, “এই লোক একেবারে চাঁদের দিকে তির ছোড়েন, তাই না?” তারপর একটু গম্ভীর হয়ে বলেন, “আপনার মনে হয় ওপরে কেউ আছেন আপনার হয়ে কাজ করার জন্য।”

আমাদের ভিসা ও টিকিটের জন্য অপেক্ষা করার সপ্তাহগুলোতে আমরা পত্রিকার খবর গিলছিলাম এবং যে-কেউ পাকিস্তানের ওপর কোনো খবর পড়তে থাকলে অভদ্রের মতো তার কাঁধের ওপর হুমড়ি খেযে পড়ছিলাম। নিউজ উইকের ২৬শে এপ্রিল সংখ্যার এই ধরনের খবরের বিশেষ গুরুত্ব ছিল আমাদের কাছে।

… নিষ্ঠুরতার জন্য কুখ্যাত একটি গৃহযুদ্ধে, ঝটিকা আক্রমণগুলো পরিচিত ছিল তাদের বর্বরতার জন্য। বন্দর নগরী চট্টগ্রামে, পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বন্দিদের জোরপূর্বক ট্রাকে তুলে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করে—যেটা ছিল তাদের প্রিয় শ্লোগান। এই শ্লোগান শুনে লুকিয়ে থাকা বাঙালিরা বেরিয়ে এলে, তাদেরকে নির্বিচারে মেশিনগানের গুলি করে মারে। সিলেট ও কুমিল্লা শহরে পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যেরা শত শত বাঙালি কৃষকদের লাশ ফেলে রাখে যত্রতত্র শকুন ও কুকুরের খাদ্য হবার জন্য।

আমরা খবর পাই প্রতি দিন প্রায় এক লাখের মতো বাঙালি শরণার্থী ভারতে প্রবেশ করছে। সেইসব হাজার হাজার শরণার্থীর বহন করে নিয়ে যাওয়া হাজারো ট্রাজেডির গল্প শুনি আমরা: বাচ্চাদের সামনে বাবা-মাকে হত্যা করা; বাচ্চাদের ওপরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সৈন্যদের বেয়নেটের ডগায় গেঁথে নেওয়া; কমবয়েসি মেয়েদের জোর করে যৌনদাসী করে রাখা; পুরুষদের চোখ উপড়ে ফেলে পিটিয়ে মারা ইত্যাদি।

এইসব নির্মমতার কথা জেনে বরং আমাদের ফেরার ইচ্ছা আরও প্রবল হয়, যাতে করে আমরা তাদের সাহায্য করতে পারি। তবে সেদিনের সেই অসহ্য গরমে ব্যাংককের রাত্রিতে প্রার্থনারত অনেকেই অনুৎসাহিত ছিল এতে। কিন্তু আমাদের তো পর্বত-চূড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনা শুনেছেন, আমাদের হাতে ভিসা এসে গেছে।

আমাদের দলের অর্ধেক সিদ্ধান্ত নেন মাঝখানে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় ছোট্ট বিরতি নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে যাবার। মালুমঘাট ছাড়ার পর চৌত্রিশজনের আমাদের এই দলটি গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে এতটা সময় একসঙ্গে ছিলাম যে, এমনকি ছোট্ট বারো বছর বয়সী ফিলিপ ওয়াল্‌শও, প্রথম দলের সদস্য তার পরিবারের হাত ধরে অনিচ্ছুকভাবে বলে, “আমি সত্যি মনে করি না আমাদের দল ভাঙা উচিত।”

আমরা যারা ব্যাংককে ছিলাম তারা এই সংবাদ শুনে উল্লাস করি যে, ঢাকার যাত্রাবিরতিতে ডাঃ ওল্‌সেন তাঁর নিজের পরিবার, ওয়াল্‌শ ও কেচামের পরিবারকে অভ্যর্থনা জানান এবং পূর্ব পাকিস্তানে তাঁরা কোথায় থাকবেন তার একটা ছকও আঁটেন। তাঁরা সবাই ফিরে গেছেন, আর আমরা এখানে এই গরম, গুমোট ব্যাংককে আটকে আছি।

পাকিস্তানি দূতাবাস প্রতিজ্ঞা করে যে, ঢাকা প্রত্যাবর্তনের অনুমতি আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের খবর দেবে। কিন্তু অনেক কটা দিন কেটে যায়, কোনো খবর আসে না। ২৯শে মে শুক্রবার মেল বিল্‌স দূতাবাসে আশ্রয় নেন, কিন্তু দুপুরের পরেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। মুসলিম দেশগুলোতে শুক্রবার দুপুরেই অফিস বন্ধ হয়ে যায়, আর কোনো সরকারই শনিবার ও রবিবার খোলা থাকে না। সেখানে কোনো সম্ভাবনাই ছিল না যে, আমরা রবিবার বিকালের বিমান ধরতে পারব।

আমরা আসলে ৩১শে মে রবিবার রাতে ইভাঞ্জেলিকাল চার্চ অভ ব্যাংককে শুরু হতে যাওয়া বিলি গ্রাহামের ছবি টু আ পেনি দেখার ওপর একটু বেশিই গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছিলাম, কেননা ততদিনে আমাদের কাছে কেনাকাটা করা, চিড়িয়াখানায় যাওয়া এমনকি সুইমিং পুলে সাঁতার কাটাও আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছিল।

প্রার্থনার সময় অনেকেই স্বীকার করেছিলেন যে, আমাদের বিশ্বাস একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছিল। অন্যেরা ইতোমধ্যেই ফিরে গেছেন, তাহলে আমরা নই কেন? ঈশ্বর কি তাহলে চাইছিলেন না যে, আমরা ফিরে যাই? এতগুলো সপ্তাহ এখানে বেকার বসে থাকার পর আমাদেরকে কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্রেই ফিরে যেতে হবে? আমরা কি তবে মিশনের পরিচালনা পর্ষদের এই পরামর্শকেই মেনে নেব যে, আমাদের মধ্যে যারা স্বাস্থ্যকর্মী তাদের ফিলিপিন্সে গিয়ে স্বাস্থ্য-কর্মসূচিতে কাজ করা উচিত? লিন সে-রাতে বিশেষ কিছু বলেনি। সে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছিল আগেই: ঈশ্বর আমাদেরকে ফিরিয়ে নেবেন, এই রবিবারেই!

ব্যাংককের ইভাঞ্জেলিকাল চার্চ প্রথমে তাদের প্রার্থনাসভার আয়োজন করে, তারপর সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে, রবিবারের স্কুলের ক্লাসগুলো চালায়। সকালের অধিবেশনের উপসংহারে পাদ্রি একটা বার্তা পড়ে শোনান, “এখানে যদি ডাঃ কুক বলে কেউ থাকেন, তাহলে তাঁকে ফোনে ডাকা হচ্ছে।” আমাদের ড. ডিকুক ভাবেন নামটা যথেষ্ট কাছাকাছি, তাই তিনি দৌড়ে গিয়ে সবচেয়ে কাছের যে-ফোন সেটা ধরেন। আমরা তখন রবিবারের স্কুলের উদ্বোধনী প্রার্থনাসংগীত গাইতে শুরু করে দিয়েছি, যখন তিনি আকর্ণবিস্তৃত হাসি নিয়ে ফিরে আসেন। বাকি জমায়েতকে একটা সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে আমরা দ্রুত হেঁটে, বলা চলে প্রায় উড়ে, চলে যাই লবিতে।

বেচারা জো ডিকুক গল্পটা একটু রসিয়ে বলারও সময় পেলেন না। পাকিস্তান এয়ারলাইন্স এতগুলো যাত্রী হারাতে চায় না বলে সরকারি কর্তৃপক্ষের ওপর বিশেষ চাপ প্রয়োগ করে। দেশে প্রবেশের অনুমতি এসে পৌঁছেছে পিআইএ অফিসে। আমরা কি বিকাল ৫টার মধ্যে তৈরী হতে পারব? পারব আমরা? অর্ধেক মহিলা ততক্ষণে লিফটে ঢুকে গেছেন প্রায়, হোটেল ত্যাগ করার জন্য, ইভাঞ্জেলিকাল চার্চ তাদের সভাটি হোটেলেই করেছিল। আমি আরো এক তলা সিঁড়ি ভেঙে বাচ্চাদেরকে ক্লাস থেকে বার করে আনি এবং জুনিয়র ক্লাসের ছাত্রদেরকে অন্যদের বিরক্ত না করে নিঃশব্দে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত করি। তারা আমার সঙ্গে হলঘরে এসে দেখা করে।

“ব্যাপার কী?” দশ বছর বয়সী ড্যানি জিজ্ঞাসা করে।“

আমরা আজ বিকালে বাড়ি যাচ্ছি, ড্যানি।” আমি উত্তর করি।

“বাড়ি? মানে আমরা পাকিস্তান ফিরে যাচ্ছি? কী মজা! আমাকে ক্লাসে ফিরে গিয়ে সবাইকে তা বলতে হবে। তারা সবাই প্রার্থনা করছিল যেন আমরা ফিরে যেতে পারি।”

আমাদের প্রার্থনার এমন ইতিবাচক উত্তরের অভিঘাত আমাদের মধ্যে দৃশ্যমান হয়, আমরা যখন অতগুলি সিঁড়ি ভেঙে দ্রুত নেমে আসি।

“অই যায়, টু আ পেনি!” আমরা ট্যাক্সিতে ওঠার সময় ড্যানি বলে ওঠে। [চলবে]


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৫)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৪)

কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৩)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১২)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১১)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১০)

 

 

   

বইমেলায় প্রকাশিত হলো- ‘সুষুপ্ত পাঠক এর কথোপকথন’

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে বইমেলা- ২০২৪ উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে ‘সুষুপ্ত পাঠক এর কথোপকথন’। এটি মূলত ইতিহাসখ্যাত মনীষীদের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে কল্পিত সাক্ষাৎকার।

লিখেছেন ব্লগার ও লেখক সুষুপ্ত পাঠক। তিনি মূলত ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী ক্ষণিক স্ফূলিঙ্গ ‘গণজাগরণ মঞ্চ’-এর একজন নেপথ্য নায়ক।

দেশে একসময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি কোনো কথা বলতে পারতো না। এর বিরুদ্ধে দেশের একদল তরুণ প্রজন্ম ব্লগ লিখে মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তরের চেতনা, ’৭২-এর সংবিধান, বিজ্ঞানমুখি শিক্ষাব্যবস্থা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সপক্ষে জনমত গড়ে তোলা চেষ্টা করেন।

তারা শহিদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হাতে কলম তুলে ধরেন।

তাদেরই একজন সুষুপ্ত পাঠক। ২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকদের যখন একের পর এক হত্যা করতে থাকে মৌলবাদী শক্তি, তখন অনেকেই জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়েন। কেউ কেউ ব্লগ লেখা বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

কিন্তু ব্যতিক্রমদের একজন সুষুপ্ত পাঠক। তার কলম যেন আরো ক্ষুরধার হয়ে ওঠে। আজ পর্যন্ত তাঁর কলম থেমে থাকেনি। তাঁকে একের পর এক হত্যার হুমকি দেওয়া হলেও তিনি কখনো থেমে যাননি।

২০২৪ সালেও তাঁর লেখা বহমান। তাঁর লেখা পাণ্ডলিপি কোনো প্রকাশক আগে প্রকাশ করতে সাহস করেননি জীবনহানি ও হয়রানির আশঙ্কায়। তবে ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে ‘সব্যসাচী প্রকাশনী’র প্রকাশক শতাব্দী ভব সুষুপ্ত পাঠকের পাণ্ডলিপি ‘সুষুপ্ত পাঠক এর কথোপকথন’ বই আকারে প্রকাশ করেছে।

বইটির ভূমিকায় সুষুপ্ত পাঠক লিখেছেন- ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে গল্প উপন্যাস নতুন কিছু নয়। সেসব চরিত্রদের মুখে লেখক যেসব সংলাপ যোগান তার সবই ইতিহাসে মেলে না। এটুকু স্বাধীনতা লেখক পেতেই পারেন। কিন্তু কিছুতে যেন ইতিহাস বিকৃত না হয়, সেদিকে লেখক সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।

এই বইতে আমি ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ইন্টারভিউয়ের মতো করে আলাপ করেছি। পারতপক্ষে তাদের মুখে এমন কিছু বলাইনি যেটা তাদের জীবন ও কর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক্। আমাদের সময়কাল নিয়ে তাদের দু-একটি উক্তি নিতান্তই ফিকশন হিসেবে ধরতে হবে।

এরকম আলাপ চলতিপথে আমার মাথার মধ্যে দুটি কণ্ঠস্বর হয়ে আমাকে প্রায়ই আনমনা অন্যমনস্ক করে তোলে। এই বদ অভ্যাস থেকে কিছু লেখা বের হবার পর পাঠকদের বিপুল আগ্রহ তৈরি হয়।

ইতিহাসের রসকষহীন পৃষ্ঠার চাইতে গল্পের মতো করে ইতিহাস পাঠ যে, তাদের আগ্রহের হেতু বলাই বাহুল্য। সেই অনুপ্রেরণায় অনেকগুলো লেখা জমে যাবার পর সবগুলো লেখা এক মলাটে রাখার সিদ্ধান্ত নিই।

‘সব্যচাষী’র শতাব্দী ভব সেই ইচ্ছাকে বাস্তব করতে এগিয়ে আসেন। নিঃসন্দেহে দুঃসাহসের একটি কাজ।

এমন সব মানুষদের নিয়ে কথা বলেছি, যাদের কয়েকজন মনীষী হিসেবে ইতিহাস স্বীকৃত। তাদের সঙ্গে আমার কথোপকথন কখনো সীমা লঙ্ঘন করেছে কিনা জানি না। তবে আমি নিজের কাছে সৎ থাকার চেষ্টা করেছি। সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ থাকার চেষ্টা করেছি। বাকিটা পাঠক বিবেচনা করবেন।

বইটিতে সূচি হিসেবে রয়েছে- গৌতম বুদ্ধ; ঈশ্বর বিদ্যাসাগর; রোকেয়া, শ্রীচৈতন্যদেব; অ্যাটম বোমার খলনায়ক; সিরাজ সিকদার; গজনীর সুলতান মাহমুদ; সম্রাট আকবর, মীর মোশাররফ হোসেনের মন; বাবুরনামা ও ভারতের ইতিাস; ভারতের দাসজীবন; কবি জসীম উদদীনের ‘জীবনকথা’ ও গ্রামবাংলার জীবনে ওহাবিজমের থাবা; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতার বিরোধিতা করেছিলেন; বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী।

বইয়ের মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা ১১২। প্রচ্ছদ এঁকেছেন- আল নোমান। মুদ্রিত মূল্য- ৪০০ টাকা। বইমেলায় ২৫% ছাড়ে ৩০০ টাকা। প্রথম প্রকাশ- একুশে বইমেলা ২০২৪। বইটি পাওয়া যাচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সব্যসাচী প্রকাশনীর স্টলে।

;

কওমি মাদরাসা নিয়ে সিদ্দিকুর রহমান খানের অনবদ্য গ্রন্থ

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



ডেস্ক রিপোর্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কওমি ঘরানা নিয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থ না থাকার আক্ষেপ ঘোচালো ‘কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা’। গ্রন্থটির লেখক সিদ্দিকুর রহমান খান। শিক্ষা সাংবাদিকতায় দীর্ঘ সময়ে গভীর অনুসন্ধানী একগুচ্ছ প্রতিবেদনের সঙ্গে হালনাগাদ সব এক্সক্লুসিভ তথ্য জুড়ে তিনি বইটি সাজিয়েছেন। অতি বিরল ও গোপনীয় নথির সংযোজন এই প্রকাশনাকে আরো অতুলনীয় করে তুলেছে। কওমি মাদরাসা নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো বইয়ের জন্য যারা হা-পিত্যেশ করছেন, তাদের হাতে স্বস্তির বারতা হয়ে উঠতে পারে এই বই।

বইটির ফ্ল্যাপে লেখা আছে, একগুচ্ছ শঙ্কা ও প্রশ্ন গোয়েন্দা রিপোর্ট জুড়ে। উইকিলিকসের তারবার্তাও বাইরে নয়। প্রশ্নগুলো প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ডালপালা গজিয়েছে সর্বত্র। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের উত্থানপর্বের আগে-পরে এই চিত্রটিও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। সংসদের ভেতরেও প্রশ্ন ছিলো কওমি মাদরাসার উত্থান নিয়ে। এ ধারার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবকদের এন্তার প্রশ্নেরও সদুত্তর ছিলো না।

এ সংক্রান্ত সব জবাবই ছিলো ধোঁয়াশামাখা। জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়াতেও সেক্যুলার শব্দ বাতিল করিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসেন কওমিধারার ধারক-বাহকরা। অর্থের সন্দেহজনক উৎস, উসকানি, মৌলিক সংরক্ষণবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ --এসব প্রশ্নবোধকের জবাব খুঁজতেই একজন সিদ্দিকুর রহমান খানের অনুসন্ধান। সদরে, অন্দরে, সর্বক্ষেত্রে। কী হয়েছিল খালেদা জিয়া, ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দীন ও শেখ হাসিনা সরকারের জমানায়?

সাংবাদিক ও লেখক সিদ্দিকুর রহমান খানের সৃজনশীলতার শুরু কবি জীবনানন্দ দাশের আজন্মসুধা ধানসিঁড়ির প্রতিবেশী নলছিটির সুগন্ধার পাড়ে। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের কোনো এক স্নিগ্ধ হাওয়ায় গা ভাসিয়েছেন কাগজে লেখার স্বপ্নে। তারপর তার কলম এগিয়েছে অভিজ্ঞতার অম্ল-মধুরতায়। লিখে লিখে জীবিকায়নের মাধ্যমটা সব সময়ই ছিলো ইংরেজি। দৈনিক নিউ এইজ, ইনডিপেন্ডেন্ট এবং বাংলাদেশ টুডেসহ কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিকে।

শিক্ষার বর্ষসেরা রিপোর্টার হিসেবে একাধিকবার মিলেছে ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির সৌজন্যে’ পুরস্কার। রিপোর্টার হিসেবে পেয়েছেন আরো অনেক স্বীকৃতি ও পুরস্কার। আর শিক্ষার নানা বিশ্লেষণ বাংলায় গণপাঠকের মন ও মানসে পৌঁছে দিতে নিজের সম্পাদিত দৈনিক শিক্ষাডটকম ছাড়াও বেছে নিয়েছিলেন ইত্তেফাক, প্রথম আলো, যুগান্তর, সমকাল, সকালের খবরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক।

বর্তমানে শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র জাতীয় প্রিন্ট পত্রিকা দৈনিক আমাদের বার্তার প্রধান সম্পাদক এবং শিক্ষা বিষয়ক একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাডটকম এর তিনি সম্পাদক ও প্রকাশক।

সিদ্দিকুর রহমান খানের লেখা ‘কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা’ বইটি এবারের বইমেলায় পাওয়া যাবে ‘স্বদেশ শৈলীর স্টলে (স্টল নং ৫০৭)। 

;

বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাসকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অমর একুশে ও তার চেতনাবাহী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালিত হয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বাংলাভাষী রাজ্যগুলোতে এই ঐতিহাসিক দিবসকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উদ্‌যাপন করা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করার দাবিতে ঢাকার রাজপথে পুলিশের গুলিতে যেভাবে রফিক, সালাম, বরকত, শফিউর ও জব্বার শহিদ হয়েছিলেন। একইভাবে রাজ্যভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৬১ সালের ১৯ মে আসামের বরাক উপত্যকার শিলচরে পুলিশের গুলিতে কমলা ভট্টাচার্যসহ এগারোজন শহিদ হন।

বাঙালির আত্মরক্ষা ও আত্মপরিচয় নির্মাণের প্রশ্নে ভাষা আন্দোলনের রক্তস্নাত অভিজ্ঞান, অঞ্চল নির্বিশেষে, সর্বস্তরের বাঙালির ঐক্যমন্ত্র। সর্বভারতীয় বাংলাভাষামঞ্চ ২০১৫ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পাশাপাশি ২০ ফেব্রুয়ারি ভাষা গণতন্ত্র দিবস পালন করে আসছে।

এ বছর একুশে চেতনা পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র ও সর্বভারতীয় বাংলাভাষামঞ্চের উদ্যোগে ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারভাঙ্গা ভবনের সিনেট হলে দু'দিন ব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাভাষী রাজ্যগুলোর বহু ভাষাসংগ্রামী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, লেখক, সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিশিষ্ট জনেরা।

সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাহিত্য-তাত্ত্বিক, সমালোচক ও কবি, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড.তপোধীর ভট্টাচার্য সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং সম্মেলনের উদ্দেশে পূর্বেই প্রেরিত তাঁর শুভেচ্ছা বাণী 'ঐকতান গবেষণা পত্র'-এ মুদ্রিত হয়।

অধ্যাপক ভট্টাচার্যের অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর প্রজ্ঞাময় শুভেচ্ছা বাণী বার্তা২৪.কম-এ প্রকাশিত হলো।

'সমুদ্র দূরত্বে কথা বলি আমরা
আকাশ দূরত্বে কথা বলি আমরা
নক্ষত্র দূরত্বে কথা বলি আমরা
যতক্ষণ কথা বলি ততক্ষণ
পরস্পর নিবিড় আশ্রয় ...'

[তুষার গায়েন॥ অয়ি তরঙ্গমালা-১]

এসময় পরস্পরকে নিবিড় আশ্রয় দেওয়ার, আসুন বাঙালি ভাইয়েরা, নিজেদের মধ্যে কথা বলুন, আশ্রয় খুঁজে নিন আমাদের ভাই ও বোনের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আর উনিশে মে : আমরা কি ভুলিতে পারি বলেও আদৌ মনে রেখেছি কি? আসুন,বাংলাভাষী ভাই ও বোনেরা, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে জাতির বিক্ষত মুখাবয়ব অবলোকন করি !

পুণ্যলাভের ফাঁদে কীটাণু পতঙ্গ—ধারালো কৃপাণ
প্রতিদিন ধড়হীন দেহ ফেলে যায় রাস্তায়!

[তুষার গায়েন॥ অয়ি তরঙ্গমালা-৫]

এই ভয়াবহ দৃশ্য তৈরি করে চলেছে সময়। রাহুগ্রস্ত পৃথিবীতে যত হলাহল উগরে দিক,আসুন বাংলাভাষী ভাই ও বোনেরা, আমরা আত্মপ্রতারক অন্ধকার মুছে দিয়ে নিজেদের পুনরাবিষ্কার করি।

আসুন, বাংলাভাষী ভাই ও বোনেরা,
আমরা পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসার পুনর্জাগরণ ঘটাই। কারণ,
'অন্তর গভীরে তবু বয়ে যায় প্রেমনদী
স্তরীভূত শিলার অতলে বিশুদ্ধ পানীয় জল
নিজেকে নিঃশব্দে বহমান রেখে দিতে জানে ...'

[তুষার গায়েন॥ অয়ি তরঙ্গমালা-৭]

আসুন, জাতিসত্তার দুর্নিবার পিপাসা মেটাতে প্রেমনদী বইয়ে দিন। খুঁজে নিন অস্তিত্বের গভীরে বহমান বিশুদ্ধ পানীয় জল। জয় হোক বাঙালির, কলুষিত বিভাজনপন্থা পর্যুদস্ত হোক॥

'সবাই যখন জীবন্মৃত অন্ধকারে', বাঙালি জাতির প্রতি বিদ্বিষ্ট স্বৈরতন্ত্রী শক্তি যখন আতঙ্ক ছড়াতে গিয়ে নিজেই কাঁপছে ভয়ে থরথর, বাঙালির ঘরে ঘরে চতুর্দশীরা একাই লড়ছে চেতন ভরে। চোখ মেলে আসুন, দেখি, 'ওষ্ঠ জুড়ে দারুণ ফোটা কথকতা'! সবাই মিলে যেন নতুন ভোরের সূচনা করতে পারি!

বাঙালি জাতির চিরকালীন অভিভাবক রবীন্দ্রনাথ কেন লিখেছিলেন 'কালান্তর'-এর এই দিগদর্শক বাণী, আসুন নতুন করে আবার বুঝে নিই:

'বঙ্গবিচ্ছেদ ব্যাপারটা আমাদের অন্নবস্ত্রে হাত দেয় নাই, আমাদের হৃদয়ে আঘাত করিয়াছিল। সেই হৃদয়টা যতদূর পর্যন্ত অখণ্ড ততদূর পর্যন্ত তাহার বেদনা অপরিচ্ছিন্ন ছিল। আসুন, নিজেদেরই প্রশ্ন করি: আমরা কি সেই হৃদয়কে টুকরো করিনি? ধর্মান্ধতার বিষবাষ্পে আমাদের চেতনাকে কি আমরাই আচ্ছন্ন হতে দিইনি?

বাঙালির জাতিসত্তার নিয়ামক তার ভাষা, তার বর্ণমালা, তার ভাষাশীলিত সংস্কৃতি। ধর্ম যার যার, সংস্কৃতি ও ভাষা সবার। তাই বাঙালি শুধুই বাঙালি। হিন্দু নয়, মুসলমান নয়, খ্রিষ্টীয় নয়; প্রাগার্য-অনার্য-আর্য রক্তধারার বহু সহস্রাব্দ ব্যাপ্ত সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতির বর্ণভেদ মিথ্যা; কেউ বড়ো নয়, কেউ ছোট নয়। সবার পরশে পবিত্র করা তীর্থনীরে আমাদের বাংলামায়ের অভিষেক চিরদিন হয়েছে, চিরদিন হবে। আমাদের পথ বিভেদের অন্ধকারে নয়, আলোকিত সম্মিলনের।

যারা বাঙালির ঐক্য ভাঙতে মরিয়া, তারাই আমাদের হিন্দু-মুসলমান আর উঁচুজাত-নিচুজাতে বিভক্ত করতে চক্রান্ত জারি রেখেছে। বাঙালির শত্রুদের চিনে নিন, সংহতি দিয়ে পরাস্ত করুন।

বাঙালি জাতিসত্তার বহু সহস্রাব্দ ব্যাপ্ত ইতিহাসকে বিকৃত করার ও মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন। বিভিন্ন অঞ্চলে অভিবাসী বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠিত করাই হোক এসময় আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

'যে আপনাকে পর করে সে পরকে আপনার করে না, যে আপন ঘরকে অস্বীকার করে কখনোই বিশ্ব তাহার ঘরে আতিথ্য গ্রহণ করিতে আসে না।' (রবীন্দ্রনাথ: 'পরিচয়')।

তাই সর্বভারতীয় বাংলাভাষামঞ্চ বিপন্ন ছিন্নবিচ্ছিন্ন আত্মবিস্মৃত স্বজাতিকে আপন ঘরের নিকট আত্মীয় হিসেবে গ্রহণ করার রীতিকে সর্বজনীন করে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে।

;

ভাষার লড়াই কালে কালে



সায়েম খান
ভাষার লড়াই কালে কালে

ভাষার লড়াই কালে কালে

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাচীন ডেনমার্কের ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জে একটি সুপ্রাচীন, সুমিষ্ট ভাষার প্রচলন ছিল। ভাষাটির নাম ফ্যারোইজ। ড্যানিশ জাতি আজ থেকে ৫০০ বছর আগে সেই দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের উপর ভাষাটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের উপর ড্যানিশ ভাষা চাপিয়ে দিল। তাদের গির্জা, উপাসনালয় কিংবা পাঠশালাগুলোতে ফ্যারোইজ ভাষা বাদ দিয়ে ড্যানিশ ভাষা ব্যবহার আইন বলে বিবেচিত হল। শুরু হল ফ্যারোইজদের সাথে ড্যানিশদের ভাষাগত বিবাদ। সেই থেকে আজ অবধি ফ্যারোইজরা তাদের এই ভাষাকে আলাদা করে চর্চা ও লালন করে আসছে। ফ্যারোইজ ভাষার রয়েছে নিজস্ব শব্দ। এখনও সংযোজিত হচ্ছে নতুন শব্দগুচ্ছ। গল্প, গান আর নাচে সমৃদ্ধ একটি ভাষা ফ্যারোইজ। ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা তাদের প্রাণের ভাষাকে আজও মিশ্রিত হতে দেয়নি অন্য ভাষার সাথে গড্ডালিকা প্রবাহে। একবিংশ শতাব্দীতেও লড়াই করে যাচ্ছে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে পরিচিত করতে ফ্যারোইজ ভাষার মাধ্যমে।

প্রাচীন ইতিহাস থেকে জানা যায়, আর্য সংস্কৃতির বিস্তার এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী শাসনের সময়ে সংস্কৃত ভাষা ছিল শক্তিশালী মাধ্যম। আজ থেকে ৪০০০ থেকে ৫০০০ বছর আগে ইন্দো-আর্য গোষ্ঠী থেকে সংস্কৃত ও আবেস্তীয় ভাষার উৎপত্তি। এই দুটি ভাষা কালের পরিক্রমায় দুই ভাগে বিভক্ত হতে থাকে কিছু শাব্দিক অর্থের বিভেদের কারণে। উদাহরণস্বরুপ, সংস্কৃতে "দেবা" শব্দের অর্থ যেখানে দেবতা, সেখানে আবেস্তীয় ভাষায় "দেবা" শব্দের অর্থ দাড়ায় "শয়তান"। যা দুই জাতের মধ্যে ধর্মীয় দ্বন্দ্ব একটি বড় কারণ হয়ে দাড়ায়। ইন্দো ও আর্যদের ভাষাগত ও জাতিগত উৎপত্তির এক ও অভিন্ন সংযোগ থাকার পরেও শুধুমাত্র ভাষাগত সমস্যার কারণে ইন্দো ও আর্য নামক দুটি স্বাতন্ত্রিক সভ্যতার বিকাশ ঘটে। ঠিক একই ধারায়, ভারতীয় উপমহাদেশে মোঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন যখন হয়, তখন থেকেই সামাজিকভাবে গুরুত্ব হারিয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে থাকে ভারতবর্ষের আদিমতম "সংস্কৃত"ভাষা। এখন পর্যন্ত এই ভাষাটি পূরাণ, বেদ, উপনিষদ ইত্যাদি ধর্মশাস্ত্রের ভাষা হিসাবে "সংস্কৃত" বিবেচিত। মোঘলরা যখন ফার্সি ভাষার প্রচলন শুরু করতে থাকল, তখন থেকেই সংস্কৃত ভাষার সামাজিক প্রচলনের আবেদন কমতে থাকে। ঠিক একই ভাবে, বৃটিশরা যখন মোঘলদের হটিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের শাষনামল শুরু করল তারাও শুরুর দিকে তাদের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে প্রচলন থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাষাগত জটিলতার কারণে ফার্সীকে বাদ দিয়ে ইংরেজীর প্রচলন শুরু করেছিল এবং তখন থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মোঘলদের সম্ভ্রান্ত ফার্সী ভাষা বিলুপ্তি ঘটতে থাকে।

পৃথিবীতে ঔপনিবেশিক যুগের প্রারম্ভ থেকে আমরা দেখে এসেছি, যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ক্ষমতা ও রাজ্য দখলের পর ক্ষমতা দখলকারী শাসকশ্রেণী, পরাজিত আদি জনগোষ্ঠীর উপর আধিপত্য বিস্তার করে ভাষা ও সংস্কৃতির উপর। শাষকশ্রেণীর ধারণা, ক্ষমতা ও দখল চিরস্থায়ী করার জন্য সবার আগে নিশ্চিহ্ন করতে হবে শাষিত প্রজাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষা। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশ সহ এশিয়ার যেসব দেশ বৃটিশ ঔপনিবেশিকতার ছায়াতলে ছিল, সেসব দেশে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার চর্চা ও প্রচলন ছিল চোখে পড়ার মতো। যারা ইংরেজি জানত ও শিখত তাদের সামাজিক ভাবে গুরুত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। তৎকালীন বৃটিশ-বেনিয়াদের সৃষ্ট এলিট শ্রেণীর সাথে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিতদের মেলামেশা ছিল খুব সহজ। ঠিক তেমনি, ফরাসি ঔপনিবেশিকতার প্রভাবে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার অনেক দেশে অদ্ধাবধি ফরাসি ভাষার আধিপত্য বিরাজমান।

প্রাচীন বুলগেরীয় ভাষার প্রাচীন যুগ বিস্তৃত ছিল ৯ম থেকে ১১শ শতক পর্যন্ত। ১৬শ শতকের শুরুতে বিভিন্ন স্তরে শুরু হয় এই ভাষার আধুনিক যুগ। ইউরোপের অতি প্রাচীন এই ভাষা নিয়েও ১৮শ শতকে শুরু হয়েছিল আন্দোলন সংগ্রাম। রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বুলগেরীয় জনগণের সংগ্রাম এখনও ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে।

গত শতাব্দীর ষাটের দশকের শুরুতে অসমীয় ভাষাকে আসাম রাজ্যের সরকারি ভাষা হিসাবে ঘোষণা করার পর শুরু হয় আন্দোলন বিক্ষোভ। ১৯৬১ সালের ১৯মে ভাষার জন্য এই বিক্ষোভে প্রাণ হারান ১১ জন ভাষা বিপ্লবী। ১১ বিপ্লবী শহীদের প্রাণ উৎসর্গের কারণে এখনও ১৯ শে মে’কে আসামে ভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের প্রাচীন ও আদি ভাষা "বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী" ভাষা যেন বিলুপ্তির প্রতিবাদে ১৯৯৬ সালে ১৬ই মার্চ শহীদ হন সুদেষ্ণা সিংহ। তাকে পৃথিবীর দ্বিতীয় ভাষা শহীদ বলা হয়ে থাকে। ভারতে ভাষার জন্য এসব আত্মত্যাগের কারণে বর্তমানে ২২টি ভাষাকে সরকারি ভাষা ও ৪টি ভাষাকে ঐতিহ্যবাহী ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। আসামের বরাক উপত্যকায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের দীর্ঘ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে সুদেষ্ণা সিংহের মহান আত্মত্যাগের কারণে ১৬ মার্চ আসাম জুড়ে একটি স্মরণীয় দিন হিসাবে পালন করা হয়।

১৯১৩ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির একটি ইহুদি সাহায্যকারী সংস্থা যার নাম ছিল হিলফসভেরেইন ডের ডিউচচেড জুডেন। এই সংস্থাটি তৎকালীন ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসীদের জন্য একটি টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু সেই জার্মান সংস্থা শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ইহুদি ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দেয় জার্মান ভাষা। তখন ইহুদীদের শিক্ষার ভাষা কি হবে সে নিয়ে জার্মান ভাষা সমর্থনকারী ও হিব্রু ভাষাভাষী ইহুদীদের মধ্যে একটি প্রকাশ্য বিবাদ তৈরি হয়। ইসরাইলের হাইফা সিটি মিউজিয়ামে এ ঘটনা নিয়ে স্বাতলানা রেইনগোল্ড নামে এক চিত্রশিল্পী ২০১১ সালে "ভাষার যুদ্ধ" নামে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন।

ভাষার জন্য পৃথিবীতে প্রথম গুলিবর্ষণ হয় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি। বাংলা ভাষাকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তানের জাতির পিতা জিন্নাহ যখন ঘোষণা করলেন উর্দুই হবে পূর্ব-বাংলার সরকারি ভাষা তখন থেকেই মুহুর্মুহু প্রতিবাদের উঠতে শুরু করল। প্রতিবাদ-সংগ্রামের এক পর্যায়ে বাংলা ভাষার জন্য শহীদ হয় সালাম, জাব্বার, রফিক, বরকতের মত তাজা প্রাণ। সেই মর্মস্পর্শী ঘটনাকে সাক্ষী রেখে এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আজও বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস"।

ভাষা এমন এক অধিকার যা কখনো হস্তক্ষেপযোগ্য নয়। ভাষা নিয়ে বিভেদ, বিবাদ, প্রতিবাদ, সংগ্রাম হয়েছে দেশে দেশে, কালে কালে। একটি সভ্যতার ক্রমবিকাশে ভাষা অপরিহার্য। ভাষা হল মানবসভ্যতার স্পন্দন। ভাষা নিয়ে লড়াই নয়। ভাষা হোক মুক্তি ও মানবতার জন্য। ভাষা হোক ভালবাসার জন্য।

;