কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৪)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

  • Font increase
  • Font Decrease

মালুমঘাট থেকে পলায়ন

[পূর্ব প্রকাশের পর] বাইশে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার
আরো সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য আমাদের রেঙ্গুন থেকে অনুমতি নেওয়ার দরকার ছিল। এটা প্রায় ঈশ্বরপ্রদত্ত যে, বিল্‌সরা এর আগেই সেই অনুমতি প্রার্থনা করেছিল, ফলে ব্যবস্থা সব করাই ছিল। সবাইকেই অভিবাসন ও শুল্কবিষয়ক ফরম পূরণ করতে হয়েছিল। সেগুলো শেষ হবার পর, পুরো চৌত্রিশজনের দল দুটো ট্রাকে চড়ে ষোলো মাইল দূরে বুথিয়াডংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেই কাঠের আসনগুলো সত্যি খুব শক্ত ছিল!

আমরা চমৎকার একটি দেশের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম। বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় খনন করা সুড়ঙ্গগুলো। বুথিয়াডংয়ে আমরা পিনাট বাটার অথবা চিজ হুইজ স্যান্ডউইচ খেয়েছিলাম, ট্রাকের পেছনটাকে টেবিল ও কাউন্টার বানিয়ে নিয়ে। খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই আমাদেরকে একটা প্রাগৈতিহাসিক আমলের প্রহরানৌকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

ট্রাকে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয় সেমি অটোমেটিক রাইফেল-দোলানো দুই সেনাসদস্য। তারা আমাদের সঙ্গে সেই নদী-প্রহরার নৌকা পর্যন্ত যায়। নৌকাটার একটা ওপরতলা ছিল যেখানে মালগুলো রাখা হয়, আর ছিল একটা ছোট্ট গরম নিচতলা। আমরা সবাই নিচতলার দিকে অগ্রসর হই, স্যান্ডুইচ ও কলা খেতে খেতে। পরে মালগুলোকে একটু পুনর্বিন্যাস করাতেই দেখা গেল সবাই ওপরতলাতেই বসতে পারছিল।

নৌকাযাত্রায় আট ঘণ্টা লাগার কথা ছিল। তার মানে রাত নটার দিকে আমাদের আকিয়াব পৌঁছানোর কথা। আমাদের সঙ্গে ছিল সশস্ত্র প্রহরী দুইজন, ও নৌকার মাঝিমাল্লা ছাড়া আরো দুজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, ও একজন নারী, যার সরকারি পরিচয় আমরা কোনোদিনই উদ্ঘাটন করতে পারিনি। এরা ছিল আমাদেরকে গন্তব্য পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সঙ্গী।

নদীভ্রমণের পথটুকু খুব দৃশ্যময় ছিল, অনেকটা বাংলাদেশের স্টিমারযাত্রার মতোই। রাতের খাবার হিসাবে আমরা ঠান্ডা ডিন্টি মুর বিফ স্টু খাই। কেউ কেউ এটা খেয়েছিল এর আগের ব্যবহৃত ভিয়েনা সসেজের টিন থেকে, আর বাকিরা সরাসরি স্টুর টিন থেকেই। নৌকার মাঝিরা পানি গরম করে দিয়েছিল চা ও কফির জন্য।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ আমরা নদীতীরবর্তী একটা গ্রামে থামি। আমরা নৌকা থেকে বেরুতে পারিনি, তবে সম্ভবত সারা গ্রামের লোকেরাই এসেছিল আমাদের দেখতে। রাত নয়টায় আমরা আবার যাত্রা করি। প্রথমে জে বলেছিলেন যে, নৌকা থেকে নামার পর আরো দশ ঘণ্টার ট্রাকযাত্রা রয়েছে সামনে, তবে পরে এসে জানান, সেই রাত্রে আমরা নৌকাত্যাগ করতে পারব না। ততক্ষণে আমরা নিজেরাও সেটা জেনে গেছি। আমরা ক্ষণে ক্ষণেই নদীর চরে আটকে যাচ্ছিলাম এবং আমাদের নৌকো প্রায় ডাঙ্গার ওপর উঠে যাচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে মাঝিরা নদীর সঠিক গতিপথ খুঁজে পাচ্ছিল না কিছুতেই। তারা নৌকার মুখ ঘুরিয়ে দেয় এবং উত্তাল জলে গিয়ে পড়ে আচমকা।

বাচ্চারা অভিযোগ করতে শুরু করলে এলিয়ানোর দার্শনিকভাবে বলেন, “আমরা সবাই একই নৌকাই ভাই! আর এটা সবসময়ই সত্য যখন আমরা কোনো জায়গা থেকে পালাতে যাই।” ঘুমানোর জন্য, নিচতলার বাসিন্দারা একটা প্লাস্টিকের পরাত পেতে দিয়ে তার ওপর বাচ্চাদের শুইয়ে দেয়। নারীরা চারপাশের বেঞ্চে বসে থাকে এবং একেকজন পালা করে ঘুমাতে পারে। নিচের ওরা ওপরের একমাত্র বাথরুমটিতে যেতে পারছিল না, তাই তারা একটি বিস্কিটের টিন ব্যবহার করে, তার চারপাশে লুঙ্গি দিয়ে পর্দা বানিয়ে নেয়। এর মধ্যে ওপরতলায় সুটকেসগুলোকে যথাসম্ভব সমতল করে বিছিয়ে রাখা হয়। পুরুষেরা একটু শরীর লম্বা করতে চেয়েছিল, কিন্তু ঠান্ডায় প্রায় জমে যাবার উপক্রম হয় তাদের। বেকি কেচাম মারির জন্য রাখা শীতের সব সামগ্রী খুঁজে বার করে এবং সেসব দিয়ে তাদের আবৃত করার চেষ্টা চালায়। একজন পুরুষ কাঠের তাকের ওপর ও আরেকজন দুটো টায়ারের ওপর শোয়। জে ও মার্ক একেবারে বাইরে, দুলতে থাকা ডেকের ওপর রাত কাটান। জেন গলিন একটু আরাম করার অবকাশ পেয়েছিলেন মাত্র, আর তখনি তাঁর স্বামী ভুল করে গায়ের ওপর পা তুলে দেন!

২৩শে এপ্রিল, শুক্রবার
ভোরবেলায় মাঝিরা নোঙর টানাটানি শুরু করে। শিশু মিকাইল গলিন একটা উজ্জ্বল হাসি নিয়ে জেগে ওঠে এবং সূর্যোদয়টাও ছিল রাজকীয়। মাঝিরা একটা চরের কোনায় নৌকার খুঁটি বাঁধতে চেষ্টা করে, কিন্তু তেমন সুবিধা করতে পারে না। জে, মেল এবং জো একটা বিশাল বাঁশ খুঁজে পান এবং সেটা দিয়েই নৌকাটাকে বাঁধতে চেষ্টা করেন। আমরা আকিয়াব যাওয়ার নদীপথের খুব একটা দূরে ছিলাম না, কিন্তু তখন আমরা জানতে পারি যে, ইঞ্জিন বিকল। ব্যাটারির কী সমস্যা হচ্ছিল আর হালটাও ঠিক কাজ করছিল না। মাঝিরা আবারও আমাদেরকে নিয়ে চরের অন্যপাশের একটা বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে, যেখান থেকে ফোনের মাধ্যমে সাহায্যের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তার পরিবর্তে আমরা একেবারে বিচ্ছিন্ন আরেকটা চরে নৌকোশুদ্ধ আটকা পড়ে যাই। আমরা নিকটবর্তী সাম্পানগুলোকে ডাকতে চেষ্টা করি, এমনকি হর্নও বাজাই, কিন্তু কেউ শুনতে পায় না আমাদের।

আমাদের সত্যিকার কোনো খাবার অবশিষ্ট ছিল না আর, আমরা তাই কে-রেশনের টিন খুলি এবং সবাইকে মল্ট ট্যাবলেট ও পেমিক্যান খাইয়ে দিই। এতে কাজ হয়—কারো আর ক্ষুধা লাগে না।

মাঝিরা একটা পাটাতন নামিয়ে দেয়, আর তার ওপর দিয়ে আমাদের দেহরক্ষীরা নেমে যায় সাম্পান ও সাহায্যের খোঁজে। আমরা দুপুরের খাবার নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। আমরা মাঝিদেরকে আমাদের জন্য ভাত রান্না করে দিতে বলি, কিন্তু তারা জানায়, তাদের চাল নেই। আমরা তাদেরকে বলি, গ্রামের বাজারে গিয়ে চাল কিনে আনতে, কিন্তু তারা সেটা করতেও অস্বীকৃত হয়। শেষ পর্যন্ত জে অন্য তীর থেকে একটা সাম্পান ডেকে এনে সেটা দিয়ে গ্রামের ভেতর চলে যান।

আমাদের চরে আটকানো নৌকাটা বেজায় দুলছিল, এবং পানিকে খুব লোভনীয় মনে হচ্ছিল, তাই বাচ্চারা এবং আরো কেউ কেউ সাঁতার কাটতে নেমে গেল পানিতে। মালুমঘাটের পরে সেটাই ছিল বাচ্চাদের প্রথম স্নান। আমরা সৈকতের ওপর খেলাধুলা করে একটা সুন্দর বিকাল কাটাই।

লম্বা ঘুম দিয়ে উঠে অভিবাসন অফিসারেরা জে’র খোঁজ করেন। তাঁরা যখন শুনলেন যে, তিনি গ্রামের বাজারে গেছেন, রেগে কাঁই হয়ে গেলেন। তারা আমাদের বললেন এটা কতটা বিপজ্জনক, চারিদিকে কম্যুনিস্ট গেরিলাদের আনাগোনা, আর তাছাড়া, আমাদের খাওয়াদাওয়ার দায়িত্ব তো তাদের। হা! আমাদের যখন কিছুই ছিল না, তখন আমরা তাদের দেখেছি ভাত তরকারি দিয়ে আয়েশ করে খেতে।

প্রায় একই সঙ্গে একটা সাম্পানে করে আমাদের সশস্ত্র প্রহরীরা ও তাদের পেছন পেছন একটা পিটি বোটে করে, মেল দেখতে পান, জে আসছেন বাজার থেকে। তিনি একটা বিশাল কলার কাঁদি এবং বস্তা বস্তা ময়দার পাতলা পরতের মতো কী একটা জিনিস নিয়ে এসেছেন। বাজারের লোকেরা খুব বন্ধুবৎসল ছিল, তারা তাকে দুই কাপ চা খাইয়েছে।

আমাদের পুরনো নৌকাটা যখন শুকিয়ে উঠেছে ততক্ষণে জোয়ার শেষ হয়ে গেছে। আমরা আমাদের মালপত্র ও মানুষদের দুজন করে সেই পিটি বোটের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিই, যেগুলোকে মোট তিনবার আসাযাওয়া করতে করেছে। সাম্পানগুলো কী ভয়ঙ্করভাবেই না দুলছিল!

পিটি বোটের লোকেরাও খুব আন্তরিক ছিল। তারা এমনকি চা-ও দিয়েছিল; একটা কি দুটো কাপে করে, আমাদের সবাইকে। পিটি বোটে করে আমরা প্রায় চল্লিশ মিনিট ভ্রমণ করি, তারপর আমাদের প্রহরী ও মাদাম অমুক আরেকটা সাম্পানে নেমে যান। পিটি বোট আরো পাঁচ মিনিটের মতো সামনে যায়, তারপরে একটা খাঁড়ির মুখে থেমে যায়। বেশ কয়েকটা সাম্পান আমাদের দিকে এগিয়ে আসে। আবারও সাম্পানযাত্রার কথা ভেবে আমরা মুষড়ে পড়ি, কিন্তু পরক্ষণেই আবিষ্কার করি যে, আমরা আকিয়াব পৌঁছে গেছি এবং এই সাম্পানগুলো আমাদেরকে জেটি পর্যন্ত নিয়ে যাবে মাত্র। ঘাটে দুজন আমেরিকান ছিলেন আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানানর জন্য—একজন বিমানবাহিনীর অ্যাটাশে কর্নেল ওয়াল্‌শ, এবং দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা মি. মার্টিন। আমরা ইমিগ্রেশন দালানে যাই, যেখানে সবাইকে আমেরিকার ক্যান সোডা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

কর্নেল ওয়াল্শ ও মি. মার্টিন মন্তব্য করেন, এরকম পরিস্থিতিতে তাঁরা কাউকে এতটা শান্ত ও সুশৃঙ্খল দেখেননি কোনোদিন।

“তারা এমনকি নৌকায় আসতে আসতে গানও গাইছিল,” একজন আরেকজনের কাছে মন্তব্য করেন। আর কী গান গাইছিলাম আমরা? কী আবার:

‘নৌকায় যিশু থাকলে, আমরা ঝড়ের দিকে চেয়ে হাসতে পারি।’

সেই মুহূর্ত থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকল। আবারও আমরা একটা ট্রাকে উঠি গাদাগাদি করে আকিয়াবের রোমান ক্যাথলিক মিশনে যাবার জন্য রওনা হই, যেখানে তখন একজন মাত্র মিশনারি, ফাদার ব্লুম ছিলেন। তিনি বার্মায় আছেন আটাশ বছর ধরে এবং গত দশ বছরে একবারও বার্মার বাইরে যাননি। তিনি বাইরে গেলে আর ফিরতে পারতেন না। তিনি আমাদেরকে এর আগের রাতেই প্রত্যাশা করেছিলেন, তাই বিছানাপত্র তৈরি করে রেখেছিলেন। তবে সেই মুহূর্তে আমরা মূলত স্নানের জন্যই উদগ্রীব ছিলাম। আমাদের গায়ে তখন পরতে পরতে ময়লা। ময়লা কাপড়গুলো খুলে ফেলতে পেরে ভালো লাগছিল। নানারকম খাওয়া প্রস্তুত ছিল: গরুর মাংসের ঝোল, মাছের তরকারি, সব্জি, স্প্যাম, হ্যাস—আর বাচ্চারা কী খেল? রুটি ও পিনাট বাটার।

জে ও মেলকে বার্মার গোয়েন্দাবিভাগ আটকে রাখে, তাঁদের কাছ থেকে যতটা সম্ভব তথ্য উদ্ধারের আশায়। আমরা তাড়াহুড়ো করে খেয়েদেয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ট্রাকে উঠে পড়ি আকিয়াব বিমানবন্দরে যাবার জন্য। সেখানে একটি ছোটো বিমান ভাড়া করা হয়েছে আমাদের জন্য—রেঙ্গুনগামী ইউনিয়ন অভ বার্মা এয়ারওয়েইজ ভিসকাউন্ট।

রেঙ্গুনে আমাদের সঙ্গে আরেকজন দূতাবাসকর্মী দেখা করেন, যারা সবাই মিলে লাল ফিতার দৌরাত্ম সামলান। বিমান কোম্পানির বাস আমাদেরকে ইনিয়া লেক হোটেলে নিয়ে যায়। দূতাবাস আমাদের জন্য রুম ঠিক করে দেয় এবং নাস্তার ব্যবস্থা করে। একজন আমেরিকান মহিলা বাচ্চাদের হাতে হাতে কমিক বই ধরিয়ে দেন, যারা দ্রুত সিঁড়িতে লাইন করে বসে সেসব পড়তে শুরু করে দেয়। গরম জলে স্নান আর সত্যিকার বিছানা পেয়ে সত্যি খুব ভালো লাগছিল আমাদের।

জে মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মি. হামেলের সঙ্গে গল্প করে।

২৪শে এপ্রিল, শনিবার
লোকমুখে আমরা জানতে পারি যে, চট্টগামের দক্ষিণে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়েছে। আমরা সবাই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি আমাদের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য। আমরা জানতে পারি যে, পাকিস্তান সরকারের কথা অনুয়ায়ী আমরা অবৈধভাবে দেশত্যাগ করেছি, তাই পশ্চিম পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, যেন এই অবস্থায় করাচি দিয়ে পাকিস্তানে পুনঃপ্রবেশের চেষ্টা না করি আমরা। আরো জানতে পারি, নিরপেক্ষ বার্মা সরকারকে নাকি বিব্রত করছি আমরা, তাই তাঁরাও চান আমরা শিগ্রি বার্মা ছেড়ে যাই। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, আমরা সোমবার বার্মা ত্যাগ করব, তবে একসঙ্গে দল হিসাবেই থাকব, পত্রিকার কাছে কোনো বিবৃতি দেব না, এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাকিস্তানে ফিরে যাবার চেষ্টা করব।

আমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়, যেন আমরা যতটা সম্ভব লোকচক্ষুর আড়ালে থাকি। আমাদের জন্য আলাদা খাবার ঘরের ব্যবস্থা করা হয়, এবং আমাদেরকে এমন ভাব দেখাতে বলা হয় যেন আমরা থাইল্যান্ডগামী আমেরিকান পর্যটক।

২৫শে এপ্রিল, রবিবার
বাচ্চারা আমেরিকান ক্লাবের সুইমিং পুলে যায়। আমরা বড়রা শেডাগন প্যাগোডা পরিদর্শন করি—হায় পা জ্বলে যাচ্ছিল আমাদের। রেঙ্গুনে বাস-করা বিভিন্ন আমেরিকান পরিবার আমাদেরকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল ডিনার ও সবাই মিলে মজা করার জন্য। সন্ধ্যায় একটা দল রেঙ্গুন শহরের কেন্দ্রে ইমানুয়েল ব্যাপ্টিস্ট চার্চে প্রার্থনা করতে যায়। সেখানে প্রচণ্ড আওয়াজের মধ্যে বক্তার কথা শোনা যাচ্ছিল না, তবে সংগীত বেশ ভালো ছিল।

আমরা আমেরিকান পর্যটক হিসাবে ভান করব, এই প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী আমাদের মার্কিন ঠিকানা ব্যবহার করে অতিথি-বই স্বাক্ষর করার জন্য লাইন ধরি। ১৩ বছর বয়সী মার্ক ওল্‌সেন লাইনের গোড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলে, “মা, মিলাওয়াকি বানান করে কিভাবে?”


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৩)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১২)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১১)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১০)

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

  • Font increase
  • Font Decrease

ফারজানা করিম। পেশাগত জীবনে তিনি বহুদিন ধরেই সংবাদ উপস্থাপনা করছে। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতার সঙ্গে জড়িত ফারজানা করিম। লিখেছেন শতাধিক কবিতা। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পাখি পৃথিবী'।

প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পান তিনি। জলকণা , না বলা কথা, মী , শূন্যতা , ভালোবাসার আড়ালে, জলে ভাসা পদ্য , শেষ বিকেলের আলো, দূরে কোথাওসহ বেশকিছু গ্রন্থ প্রকাশ হয় তার। এবারের বইমেলাতেও শোভা পাবে তাঁর নতুন এক গ্রন্থ। নাম- বিচ্ছিন্ন কবিতারা। আসছে তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে,২১ নম্বর প্যাভিলিয়ন। পাওয়া যাবে ১০ তারিখ থেকে।

গতকাল ফেসবুকের এক পোস্টে ফারজানা করিম লিখেন, এবারে কাজের ভিড়ে আমার কবিতাগুলো বেশ কষ্ট পেয়েছে। ওদের শরীরে হাত দিয়েছি , ওদের ঠিকঠাক গড়ে নিয়েছি বেশ কষ্ট করে। আচ্ছা ওরা তো আমার সন্তান। ওদের কে কি আমি মানুষের ভালোবাসার পাত্র করে গড়ে তুলতে পারলাম শেষ পর্যন্ত? ছেড়ে দিলাম আমার প্রিয় পাঠকদের জন্য। তাঁরাই আলোচনা সমালোচনা করে নাহয় ঠিক করে নেবেন। বিচ্ছিন্ন কবিতারা আপনাদের ছোঁয়ার অপেক্ষায় প্রিয় পাঠক। দেখা হবে বইমেলায় যদি বেঁচে থাকি।

উল্লেখ্য, ফারজানা করিমের জন্ম ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে। বেড়ে ওঠা এবং পড়ালেখা সবই চট্টগ্রামে। পড়ালেখা শেষ করেছেন ইংরেজি সাহিত্য এবং ফিল্ম এন্ড মিডিয়া থেকে। ২০০৩ সাল থেকে এখন অবধি সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করছেন।

;

হাসান হাফিজের কবিতাগুচ্ছ



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে তুমি আত্মপরিচয়

তুমি এক অগ্নিক্ষরা ইতিহাস আবেগের দিন
নক্ষত্রস্পর্ধায় তুমি জ্বলজ্বলে উদার আকাশ
তুমি শুধু বাঙালিরই নও, এই ঋদ্ধি রক্তঋণ
মাতৃভাষা ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের প্রকাশ
আজ তুমি বিশ্বমানবের, গোটা বিশ্বসভ্যতার
তারুণ্যের দুঃসাহসে অহঙ্কৃত প্রাণ বলিদান
একুশে তোমার পুণ্য শাশ্বত সুরেলা গান
নয় মাত্র বাঙালির সম্পত্তি ও ঐতিহ্য একার-
ব্রহ্মা-ের কোন্ দূরে প্রান্তদেশ সিয়েরা লিওনে
রাষ্ট্রভাষা হয়েছো তুমিও ছন্দে নূপুরে নিক্কণে
বাংলাভাষা তোমার ধ্রুপদী লয় সুছন্দিত তান
নতুন সংস্কৃতিগর্ব বহুমূল্য জাগৃতি ও জয়গান
অক্ষয় অপরাজেয় উপেক্ষিত ভাষার সম্মান
আন্দোলনে অভ্যুদয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্বয়ম্ভু সোপান
দোতারা শাপলা ফুল দোয়েলের চঞ্চলতা শিস
বাঘের হুঙ্কারে দর্পী স্বৈরাচার ভয়ে নিরুদ্দিশ।

একুশ প্রকৃত অর্থে মুক্তছন্দা বহতা নদীর নাম
এই সত্য বিশ্ববুকে আমরাই এঁকে রাখলাম।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষা যতো পায় যেন সপ্রীতি লালন
বিকাশেরও সমান সুযোগ শ্রদ্ধা স্থিতি সংরক্ষণ
একুশে অমূল্য এক পাথেয় প্রেরণা উৎসভূমি
আত্মপরিচয় পেতে দুর্বিনীত বিদ্রোহও তুমি॥

পোড়ানো ও নিমজ্জন

ভুল করে ভালোবাসলে
দণ্ড ও লাঞ্ছনা
প্রাপ্য হবে, হোক।
তোমাকে পুড়িয়ে দিক
আমার দু’চোখ।
নদী যদি হতে পারো
ডুবে মরবো আনন্দেই-
সুতরাং নদী হতে
কোনো বাধা বিপত্তি তো নেই!

মেরুদণ্ড

হাতড়ে দেখি, নেই।
আমারও নেই, তোমারও নেই,
রাজ্যব্যাপী কারোরই নেই।
কোথায় গেল? কোথায় গেল
রিমান্ড চেয়ে তলব করো,
ফায়দা যে কী, তাও বুঝি না।

তত্ত্ব তালাশ করতে গিয়ে
হদ্দ বেকুব বনছি রে ভাই
এই শরমের শুমার যে নাই
কোন্ বনে যাই দুঃখ শুকাই
লজ্জা পেয়ে কোন্ঠে লুকাই
ক্ষতস্থানের নাই প্রশমন
বুঝলি সোনা ও পোড়া মন
ধুঁকছি জাড়ে শীতকামড়ে
কিন্তু আগুন? কোথায় মেলে?
ছুটছি আশার স্বপ্ন ফেলে
নাহ কিছু নাই বুঝলি রে ভাই
ফায়দা তোলার মওকাও নাই
হাতড়ে দেখি সাঁতরে দেখি
আজব কাণ্ড হচ্ছে এ কি
ভীরুতার স্বগত সংলাপ

ভয় পাই নিজেকেই।
কীভাবে যে মুখোমুখি হবো!
কতো পাপ প্রস্তরের ঋণ
জমা হয়ে আছে।
এই কষ্ট বলি কার কাছে?
নিজের ভুবনই ক্রমে
অনাত্মীয় অচেনা হয়েছে
এই দ্বন্দ্ব সংশয়ের কাঁটা
মনে ও মগজে বেঁধে
নীরবে ঝরায় রক্ত
শক্ত কোনো প্রতিরোধ
গড়বার সামর্থ্য যে নেই
নিঃস্বতার সঙ্গে বসবাস
করে করে বাকি আয়ু
শেষ হবে হোক!

আকুল আর্তি

রঙধনু রঙ
যায় মিলিয়ে
তোমার স্মৃতি
জাগনা থাকে
মিলায় না সে
খুঁড়তে থাকে
ছুঁড়তে থাকে
পাথর নুড়ি
ভুলবো তোমায়?
কেমন করে
নাই যে তেমন
হ্যাডম কিংবা সিনাজুরি!

রঙধনু রঙ
হবেই ফিকে
তোমার ছোঁড়া
তীর নিশানা
আসবে ফিরে
আমার দিকে,
এফোঁড় ওফোঁড়
হলেম যদি
কার কি কিছু
যায় বা আসে?
দিন রজনী
কাঁপছে ত্রাসে
চাইছে যেতে
বনের বাসে
কিন্তু সাহস
হচ্ছে না তার
তোমার বিজয়
অঙ্কিত রয়
সাঁঝ সকালের
দূর্বাঘাসে

রঙধনু গো
তোমার সঙ্গী
করবে আমায়
এ পোড়ামুখ
কোথায় রাখি?
আঁধার নেমে
এই চরাচর
সন্ধ্যাতারায়
বিষণœ স্বর
কোথায় পাখি
কোথায় পালক
যাচ্ছে বেড়ে
দহন ও ধক্
ও রঙধনু
তোমার মতোন
হতেম যদি
স্মৃতির ছোবল
এড়িয়ে যাবার
সুযোগ হতো
দিন প্রতিদিন
মরার কষ্ট
আর হতো না!

চরাচরে প্রশ্নই প্রবল

বসন্ত আসবে বলে
অপেক্ষায় ছিলে তুমি
শীতকাল বড়ো বেশি প্রলম্বিত
সব গাছ রুক্ষ শীর্ণ
ঝরাপাতা ধুলোর সংসারে
অপেক্ষার বন্দিশে বেজেছে
বিচ্ছেদী বেহাগ...
কোনোদিন উঠবে না রোদ?
গাছ কবে ফিরে পাবে পাতা
প্রতীক্ষার পালা হবে শেষ
আয়ু সলতে নিভে নিভে যায়
গাঙপাড়ে স্তব্ধতার এলানো চাদর
নৌকা আছে মাঝি নাই
ওম খুঁজছে তালি তাপ্পি সংবলিত
গরিবি কাঁথায়
পারাপার কবে শুরু ফের?
এ প্রশ্নের বিশদ উত্তর
ধরাধামে কারো জানা নেই
---

;

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজে



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকেই প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের সদস্যগণ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌলিক ও সৃজনশীল লেখালেখিতে লিপ্ত রয়েছেন। অনেকের লেখা কালজয়ী সাহিত্যের অংশেও পরিণত হয়েছে। বিশেষত, তাদের স্মৃতি, বিশ্লেষণ, তথ্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের স্বচ্ছ ও সচল ধারাভাষ্য রূপে গৃহীত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে এমন বইয়ের সংখ্যা কম নয়, যা পাঠকপ্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্যময়তায় মৌলিক সম্পদ রূপে বিবেচিত।

কাজী হাবিবুল আউয়াল (জন্ম: ২১ জানুয়ারি ১৯৫৬) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। পেশাগত জীবনের গুরু দায়িত্ব সামাল দিয়েও তিনি রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'জীবন পাতার জলছাপ' (আত্ম-চরিত), 'ট্রাজেকটরি অব এ জুডিশিয়াল অফিসার' এবং 'মেমোরিজ অফ আরলি লাইফ'। এবারের একুশের বইমেলায় অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ' কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ভিত্তিক গ্রন্থ 'জীবন খাতার কয়েক পাতা'।

কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি পিতার কর্মস্থল কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের সারিকাইত গ্রামে। তার পিতা কাজী আবদুল আউয়াল কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। তার মাতা বেগম নাফিসা খাতুন।

১৯৭২ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ’স হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এল এল.বি (অনার্স) ও ১৯৭৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পান ১৯৮০ সালে এবং সে বছর ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের বিচার ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবন শুরু করেন উপজেলা মুন্সেফ হিসেবে। তিনি প্রেষণে সহকারী সচিব ও উপ সচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০০ সালে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২০০৪ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৭ সালের ২৮ জুন তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায় সরকার।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের। কিন্তু ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। তিনি ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরি থেকে পরিপূর্ণ অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহরের পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও পৈত্রিক জনপদ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপের গ্রামীণ জীবন ও পরিবেশকে বিস্মৃত হন নি। গ্রন্থে তিনি বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে নগরজীবন আর গ্রামীণ বাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছেন।

প্রকাশক মাশফিকউল্লাহ তন্ময় বার্তা২৪.কমকে জানান, পিতার সরকারি চাকরির বদলিজনিত কারণে লেখক দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। বইতে তিনি পরিবার ও নিকটজনদের পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি শৈশব ও কৈশোরে দেখা সমাজ, পারির্পাশ্বিকতা, অভাব, দারিদ্র এবং প্রার্চুযহীন অবিলাসী, নিরাভরণ, সাধারণ ও সরল জীবনাচরণের চিত্র তুলে ধরেছেন। শিকড়ের টানে তিনি পিতৃপুরুষদের জন্মস্থান সন্দ্বীপের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে গেছেন এবং গ্রামের বাড়ি, গ্রাম ও সন্দ্বীপের বিবিধ বিবরণ তুলে ধরেছেন গভীর মমতায়। তিনি নিজের দেখা ইতিহাসের উপজীব্য রাজনীতির বির্বতন এবং বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন বস্তুনিষ্ঠ ও উপভোগ্য ভাষায়।

লেখক স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিদের কথা বলতে গিয়ে সমকালীন নগরজীবন, পারির্পাশ্বিকতা ও অনেক ঘটনার রসালো বিবরণ দিয়েছেন, যা পাঠকের বিনোদনের খোরাক হতে পারে।

প্রকাশক আরও জানান, এটি লেখকের আত্মজীবনী নয়, শৈশব ও কৈশোরের খানিকটা স্মৃতিচারণ। নিজ জীবনের বিগত একটি সময়ের দৃশ্যপট তিনি সময়ান্তরে অনাগত আরেকটি সময়ে তুলনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে বইটি গ্রামীণ ও শহরের বিন্যাস, সাংস্কৃতিক পালাবদল ও ঘটমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে কাঠামোবদ্ধ করেছে এবং সাম্প্রতিক অতীতের প্রাণবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। এবারের একুশের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি পাওয়া যাবে স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর ২৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে।

;

যারা পেলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২২ ঘোষণা করা হয়েছে। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।


বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ প্রাপ্তরা হলেন— কবিতায় ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন, প্রবন্ধ বা গবেষণায় মাসুদুজ্জামান, অনুবাদে আলম খোরশেদ, নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল, শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় মুহাম্মদ শামসুল হক, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়, বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে ইকতিয়ার চৌধুরী, ফোকলোরে আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।

;