সংসদ সদস্য আজীম হত্যাকাণ্ড

আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় গুলশান ও বসুন্ধরা এলাকায়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার

  • Font increase
  • Font Decrease

রহস্যজনকভাবে খুন হওয়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে হলুদ ও মশলা মাখিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার জন্য রাজধানীর গুলশান ও বসুন্ধরা এলাকায় একাধিক মিটিং করেন হত্যাকারীরা। গুলশান-২ এর ৬৫ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাসায় ও বসুন্ধরার- এল ব্লকের ৩২ নম্বরের ১৯২৯ নম্বর বাসায় তাকে হত্যার পরিকল্পনায় মিটিংগুলো করা হয়। গুলশান-২ এর ১৭ নম্বর বাড়িতে রয়েছে একটি মদের বার। এর মধ্যে বসুন্ধরার- এল ব্লকের বাড়িটি আনোয়ারুল আজিম আনারের ছোটবেলার বন্ধু ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকরী হিসেবে অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান শাহীনের মালিকানাধীন বলেও ডিবি সূত্রে জানা যায়। 

সূত্র জানায়, শাহীন দুই থেকে তিন মাস ধরে আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। আনারকে হত্যা করতে প্রথমে তারা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।  তবে গোয়েন্দা পুলিশের শক্তিশালী তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কলকাতাকে বেছে নেন।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা হলেন- হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া চরমপন্থি দল পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আমানউল্লাহ আমান, মোস্তাফিজ, ফয়সাল, আমানের বান্ধবী সিলিস্তি রহমান, জিহাদ ওরফে জাহিদ ও সিয়াম। আটকদের মধ্যে আটকদ দুইজন জিহাদ ওরফে জাহিদ ও সিয়াম ভারতের নাগরিক।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৩ মে) কলকাতার গোয়েন্দা পুলিশের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে অ্যাপচালিত এক ট্যাক্সিক্যাবচালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার নাম পত্রিকাটি প্রকাশ না করলেও ঢাকার গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, তার নাম রাজা। 

উল্লেখ্য, গত ১২ মে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। এরপর তিনদিন পার হলেও পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। ভারতে গিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বরাহনগর থানার ১৭/৩ মণ্ডল পাড়া লেনের বাসিন্দা ও তার দীর্ঘদিনের পরিচিত গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন।

মূলত ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান তিনি। পরে ১৩ মে দুপুরে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে বের হন। ওইদিন সন্ধ্যায় ফেরার কথা থাকলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। পরবর্তীতে গত ১৮ মে বরাহনগর থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগ করেন গোপাল বিশ্বাস। তারপরই গণমাধ্যমে আসে তার মৃত্যুর খবর।

   

বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংসদ

সংসদ

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদে শনিবার (২২ জুন) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারি দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা এ কথা বলেন।

তারা বলেন, অর্থনীতিতে চলমান সংকট নিরসন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য। চলমান বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে একটি ভারসাম্যমূলক, গণমুখী, সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় উল্লেখ্যযোগ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং হামাস-ইসরায়েল- ফিলিস্তিন সংঘাতে কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ৬ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭,৯৭,০০০ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট মূল্যস্ফীতি ৬.৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, কারণ প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি পণ্যের ওপর এক শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দুই সামরিক শাসনের কঠোর সমালোচনা করে গৃহায়ণমন্ত্রী বলেন, জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন সামরিক শাসন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। জিয়া ও এরশাদের অপশাসন না থাকলে, দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতো। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ২৬০ মার্কিন ডলার, যেখানে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তা হ্রাস পেয়ে ১৯০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছিল।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ হবে জ্ঞানভিত্তিক সুখী, সম্মৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন একটা দেশকে বঙ্গবন্ধু যখন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন, তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি নিশংসভাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। তার পরবর্তিতে জেলের অভ্যান্তরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এরকম নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড পৃথিবীতে আর হয়েছে কিনা জানিনা, যা ছিল ঘৃণ্য ও জঘণ্য হত্যাকান্ড। তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের মধ্যে যারা এখনো পলাতক আছে, তাদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।

তিনি বলেন, কৃষি একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় খাত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তাই বাজেটে কৃষি খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। আব্দুস শহীদ বলেন, দেশের ৪৩ শতাংশ মানুষ কৃষিতে সম্পৃক্ত।

সত্যিকার অর্থে এদেশের কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছিলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করা চলবে না। প্রয়োজনীয় খাদ্য আমাদেরকেই উৎপাদন করতে হবে। কৃষকদেরকে বাঁচাতে হবে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তা নাহলে কৃষি তথা দেশকে বাচাঁতে পারবো না।’ তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা ১১টি বিশেষ অধিকার উল্লেখ করেছি। যার একটি- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করা। অপরটি হলো- লাভজনক কৃষির জন্য সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ বাড়ানো। চলতি বছরের ধানের উৎপাদন বেড়েছে উলে¬খ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষকদের হার্বেস্টার মেশিন দেয়ায় একটা ধানও প্রাকৃতিক দূর্যোগে নষ্ট হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের প্রতিটি কৃষক যাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। কৃষকদের অর্ধেক ভর্তুকিমূল্যে সার, কীটনাশক দেয়া হয়।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, গত ৬ জুন এ মহান সংসদে ‘টেকসই উন্নয়নের পরিক্রমায় স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা’ শিরোনামে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হয়েছে। আমাদের নেতা ভিশন ২০৪১ এ উন্নত, উচ্চ আয়ের সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ী নেতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ ও দিক নির্দশনায় একটি বুদ্ধিদীপ্ত, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম, সময়োপযোগী বাজেট আমরা এ মহান সংসদে উপস্থাপন করেছি।” তিনি বলেন, এ বাজেটে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত দেড় দশকে বাংলাদেশের সাফল্য এবং ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং তা থেকে উত্তরণের জন্য খাতভিত্তিক পরিকল্পনা ও নীতিকৌশল, খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার, কর্মপরিকল্পনা ও সম্পদ সঞ্চালন, রাজস্ব আদায়ে অগ্রগতি, রাজস্ব আহরণ আধুনকিায়ন এবং বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা, বিদ্যুৎ, খাদ্য, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি খাতের উন্নয়ন এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে, যা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী ট্যানেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বৃহৎ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি দলের সদস্য জাহিদ মালেক বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট জনমুখী হওয়ায় সরকার ৩০টি জিনিসের ওপর কর কমিয়েছে যা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হবে।

সরকারি দলের সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট আমাদের ক্ষুদ্র অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাজেটে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সদস্য নুরুন্নাহার বেগম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বরাদ্দ বাড়ানো হলেও জনগণের বরাদ্দ বাড়েনি।

বাজেট আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফ, প্রাণ গোপাল দত্ত, শাহাব উদ্দিন, এসএম আতাউল হক, স্বতন্ত্র সদস্য মইন উদ্দিন ও আজিজুল ইসলাম।

এর আগে, তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা সর্বাত্মক ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

;

খালেদা জিয়া সরকারি চক্রান্তে গুরুতর অসুস্থ: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বেগম খালেদা জিয়া আজ সরকারি চক্রান্তে, ষড়যন্ত্রে, গভীর নীলনকশায় গুরুতর অসুস্থ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আগামীকাল (২৩ জুন) দেশব্যাপী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২২ জুন) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা যখন ঈদের দিন বেগম জিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়েছে তখনও তিনি কিছুটা সুস্থ ছিলেন। কিন্তু, মাত্র কয়েকদিনের ভিতরেই তিনি আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেছেন। বেগম খালেদা জিয়া আজ সরকারি চক্রান্তে, ষড়যন্ত্রে, গভীর নীলনকশায় গুরুতর অসুস্থ। তাকে অন্যায় এবং জোরপূর্বক একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি সুস্থ থাকা অবস্থায় যখন কারাগারে ছিলেন তখন তার খাওয়ার মধ্যে এমন কিছু করা হয়েছে যার জন্য তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বেগম খালেদা জিয়া যাতে দুনিয়া থেকে চলে যায় এই প্রতিক্ষায় বর্তমান দখলদার সরকার অপেক্ষা করছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, একজন ব্যক্তি তার ক্রোধ, প্রতিহিংসা এবং আক্রোশকে বাস্তবায়ন করার জন্য বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় ক্রমাগত বাঁধা দিয়ে যাচ্ছে। তার দখলদার সরকারের আওয়ামী ফ্যাসিজমের যত উপকরণ আছে, সমস্ত উপকরণ দিয়ে তিনি ক্ষমতাকে আঁকড়ে রেখে সবকিছুকে নিঃশেষ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তিনি যেভাবে দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড এবং চুক্তি করে যাচ্ছেন, আজকে যদি দেশে সত্যিকারের আইনের শাসন থাকতো তাহলে আজকে যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের প্রকাশ্যে দিবালোকে আদালত বিচার করতো।

;

ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতে দুই দিনের সরকারি সফর শেষে নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ৬টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর ত্যাগ করে। ফ্লাইটটি রাত ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী কীর্তিবর্ধন সিং এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার পর ভারতে কোনো সরকার প্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর।

এছাড়াও, এই সফরটি ছিল ১৫ দিনেরও কম সময়ে ভারতের রাজধানীতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। এর আগে তিনি ৯ জুন মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ঢাকা ও নয়াদিল্লি আজ দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে সাতটি নতুন ও তিনটি নবায়নকৃতসহ ১০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার (২১ জুন) নয়াদিল্লি যান।

;

মধ্যাহ্নভোজে কলকাতার বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন প্রধানমন্ত্রীকে



বাসস
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কলকাতার বিরিয়ানি, সুগন্ধি বাসমতি চাল এবং কলকাতার স্টাইলে রান্না করা ও স্বাদযুক্ত শাকসবজি এবং অন্যান্য স্থানীয় খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

শনিবার (২২ জুন) ভারতের হায়দরাবাদ হাউসে দুপুরের ভোজ শুরু হয় ভারতের স্ট্রিট ফুড হিসেবে বহুল পরিচিত দই ফুচকা দিয়ে। এরপর আসে স্টু বা সুরুয়া। পার্ল মিলেট (মুক্তা বাজরা) আর মটরশুটি দিয়ে তৈরি ওই স্টু’র নাম ‘মটর অর বাজরে কা শোর্বা’।

মাছের পাতুরি বাঙালির অতি প্রিয় পদ। তবে নিরামিশাষী নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনার জন্য পরিবেশন করেন ছানার পাতুরি। ওই পাতুরিতে ছানার সঙ্গে মেশানো ছিল নারকেল, কাঁচা আম, মরিচ আর সর্ষে বাটা। এরপর পরিবেশন করা হয় সিঙাড়া। সিঙাড়ার পুর হিসেবে ছিলো আলু, ফেটা চিজ, ফুলকপি, বাদাম ও থাইম।

শেখ হাসিনাসহ অতিথিদের পাতে এরপর দেয়া হয় ‘আমারান্থ কোফতা গুলবদন’ অর্থাৎ কোফতার কারিতে সেদ্ধ করা আমারান্থ বাজরার ডাম্পলিং। তারপর পাতে আসে গুজরাতি পদ ‘পঞ্চমেল নি সবজি’; অর্থাৎ, জিরা, পেঁয়াজ আর টমোটা দিয়ে রান্না পাঁচমিশালি সবজি। এর পরে পাতে দেওয়া হয়, দই পনির। এই পদটি বিভিন্ন মশলায় মাখানো পনিরের স্টেক, যা টক দই এবং নানা ভারতীয় মশলায় রান্না করা। আরও ছিল- শুক্তো ও মসুর ডাল।

এছাড়া ছিল- স্পেশাল ভারতীয় রুটি, পান রসমালাই কুলি, গুড়ের জিলাপি ও আমের কুলফি এবং বিভিন্ন মৌসুমি ফলমূল ও মাসালা কফি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার ভারতীয় সমকক্ষ নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্রবার ভারতে পৌঁছেন।

;