২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৫১ জন

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ মারা যাননি। ফলে মৃত্যু সংখ্যা ২৯ হাজার ১২৪ অপরিবর্তিত আছে।

তবে একই সময়ে ৫১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৩২৬ জনে। শনাক্তের হার ১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

রোববার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৮৯২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৪ হাজার ৮৯৬টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ০৪ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ০২ শতাংশ।

আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩২৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৯০ হাজার ৮৪২ জন।

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

   

আমের শহরে মুকুল কম, চাষিদের দুশ্চিন্তা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তাপমাত্রার ধীরগতির বৃদ্ধি প্রকৃতিতে নানা পরিবর্তন আনছে। দিনে গরমের প্রকোপ থাকলেও রাতে তা কমে আসছে। বসন্তের ১৩ দিন অতিক্রান্ত হলেও, ফাগুনের প্রত্যাশিত উত্তাপ এখনও প্রকৃতিতে পূর্ণরূপে অনুভূত হচ্ছে না। তবে, ফাগুনের আগমনে শিমুল ও পলাশ ফুটেছে, যদিও আমের মুকুলের ঝিলিক এখনও মিলছে না। এ সময়ে আমের গাছে মুকুলের প্রাচুর্য দেখা যাওয়ার কথা থাকলেও, অধিকাংশ গাছে মুকুলের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কৃষিবিদরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও তীব্র শীত এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

প্রকৃতির এই পালাবদলে মানুষের মন আন্দোলিত হচ্ছে। ঋতু বৈচিত্র্যে ভরা আমের শহর রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবুজ প্রকৃতি এখন এক আবেগময় আমেজে ডুব দিয়েছে। বসন্তের ফাগুন এবং আমের মুকুল যেন একই সুতোয় বাঁধা। এই সময়ে, রাজশাহীর আম চাষি ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের চোখ আম বাগানের দিকে। আমের সবুজ পাতা ও মুকুল চাষিদের রঙিন স্বপ্নকে দোলা দিচ্ছে। এই দৃশ্য শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার প্রায় সব এলাকায় এখন প্রচুর আম বাগান রয়েছে। নতুন নতুন জাতের আমের উদ্ভাবন ও বাগান তৈরি হচ্ছে, যা অল্প সময়ে ফলন দিচ্ছে। তবে, অধিকাংশ গাছে মুকুল না আসায় চাষিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

বাংলাদেশে আম অর্থনীতিতে একটি লাভজনক মৌসুমী ফলের ব্যবসা। এর ফলে, প্রতি বছর আমবাগানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত, নতুন গড়ে উঠা বাগানগুলো মূলত বনেদি জাতের আমের চাষে মনোনিবেশ করছে, যেমন ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত এবং আশ্বিনা জাতের হাইব্রিড গাছ বেশি পরিমাণে লাগানো হচ্ছে।

সাধারণত, মাঘের শেষে আম গাছে মুকুল আসার কথা থাকলেও, এবার এক ব্যতিক্রম ঘটেছে। পূর্বে, রাজশাহীতে আমের মৌসুমে 'অফ ইয়ার' এবং 'অন ইয়ার' নামে পরিচিত একটি ধারা ছিল, যেখানে 'অফ ইয়ার' এ ফলন কম এবং 'অন ইয়ার' এ ফলন বেশি হত। তবে, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহীর গবেষক ও আম চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই প্রথা ভেঙে গেছে। নিয়মিত পরিচর্যার ফলে, এখন প্রতি বছরই রাজশাহীর সব বাগানে আমের ভালো ফলন হচ্ছে এবং উৎপাদন বাড়ছে।

অতিরিক্তভাবে, এ বছর পৌষের শেষেও রাজশাহীর অনেক আমবাগানে আগাম মুকুল দেখা গেছে। যদিও অতীতে গাছজুড়ে মুকুলের আধিক্য থাকত, এ বছর তা ব্যতিক্রমী। গাছে মুকুলের সংখ্যা অল্প। গত বছরগুলোতে মুকুলের প্রাচুর্যের দৃশ্যের পরিবর্তে, এ বছরের বাগানগুলো দেখে চাষিদের মনে আশার প্রদীপ জ্বালাতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ আমের মুকুল ও কৃষকের স্বপ্ন একই সুতোয় বাঁধা। তাই, প্রতিদিনই চলছে আম গাছের যত্ন। গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে উঁচু করার মাধ্যমে সেচ দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আম গাছে মুকুলের প্রাচুর্য কম। চাষিরা বলছেন, শীতের কারণে মুকুল এখন কম দেখা গেলেও পরে আরও বাড়বে। তবে বৈজ্ঞানিক মহল কিছুটা সতর্ক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, শীতকাল সম্পূর্ণরূপে বিদায় নেওয়ার আগে আমের মুকুল আসা অত্যন্ত ইতিবাচক নয়। বর্তমানে প্রকৃতিতে মাঝে মাঝেই ঘন কুয়াশার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। হঠাৎ হঠাৎ এই ধরণের ঘন কুয়াশা আমগাছের মুকুলের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে মুকুল ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যা পরবর্তীতে ফলনে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী, ফাগুন মাসে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা খুবই কম হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতি যদি বিরূপ আচরণ করে, তবে আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে ঘন কুয়াশা নামলে মুকুলের ক্ষতি হয়। পাউডারি মিলডিউ নামক রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশিরভাগ মুকুলই ঝরে পড়ে। এতে আক্রান্ত বাগান মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তবে, কী পরিণাম আসবে তা শেষ পর্যন্ত দেখে না বলা বেশ কঠিন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার আম ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেছেন, একবার ফলন হলে প্রায় সারা বছর আমবাগানের পরিচর্যায় তাদের সময় কেটে যায়। সাধারণত, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যভাগে আমের মুকুল আসার কথা, কিন্তু এবার আগে ভাগেই মুকুল এসেছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে আমের মুকুল রক্ষার জন্য, আগাম কীটনাশক প্রয়োগসহ গাছের যত্নে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আমচাষি ও বাগান মালিকরা। মুকুল সুরক্ষিত রাখতে অনেকে গাছে গাছে ওষুধ স্প্রে করছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে, এ বছর আমের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন বাগান মালিকরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৩৫% গাছে মুকুল এসেছে। এসব গাছের মুকুল রক্ষা ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন জানান, এবার রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমির আমবাগানে ২ লাখ ৬০ হাজার ১৬৪ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে, আম রফতানিতে বৃদ্ধি প্রাপ্তি সম্ভব হবে।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;

চট্টগ্রামে ৬৬ কিমি রাস্তায় এলইডি বাতি স্থাপন করবে চসিক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ৬৬ কিমি রাস্তায় এলইডি বাতি স্থাপন করবে চসিক

চট্টগ্রামে ৬৬ কিমি রাস্তায় এলইডি বাতি স্থাপন করবে চসিক

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগরীজুড়ে ৬৬ কিমি রাস্তায় এলইডি বাতি স্থাপনের কাজের উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কোর্ট বিল্ডিংস্থ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কোভিড-১৯ রিকভারি প্রজেক্টের আওতায় প্রথম পর্যায়ে নগরীর ৬৬ কিমি রাস্তায় এলইডি বাতি স্থাপনের কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র।

এসময় মেয়র বলেন, আমি পুরো নগরীকে আলোকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রাথমিকভাবে আজ ৬৬ কিমি রাস্তায় এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে পুরো নগরীকে আলোকায়ন করা হবে৷ এছাড়া আলোকায়নে গুরত্ব দেয়া হচ্ছে নান্দনিকতায়ও৷ প্রজাপতি ও নৌকার আদলে বাতি দিয়ে শহরের রাতের সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করা হচ্ছে৷

‘কিছু কিছু এলাকায় তার চুরির কারণে নগরবাসী কষ্ট পাচ্ছে৷ চুরি ঠেকাতে নগরবাসীর সহযোগিতা চায়৷ নগরীর ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল সরাব৷ লালখানবাজারে ইতিমধ্যে ঝুলন্ত তার মাটির নিচে নিয়ে গেছি৷ দেড়বছরের মধ্যে নগরীর সব তার মাটির নীচে নেয়া আমাদের লক্ষ্য৷’

ফুটপাত রক্ষায় অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের জনস্বার্থে উচ্ছেদ করেছি৷ অবৈধভাবে রাস্তা দখলের জন্য চাপ তৈরি করতে একটি মহল আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে৷ কার আন্দোলন? কীসের আন্দোলন? জনগণের ফুটপাত দখল করার অধিকার ওদের কে দিয়েছে? যত আন্দোলনই করেন না কেন আমি ফুটপাতে অবৈধভাবে বসতে দিব না৷

এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলার পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, আবদুস সালাম মাসুম, নূর মোস্তফা টিনু, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, চসিকের বিদ্যুৎ উপবিভাগের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা৷

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;

যে খুনের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়!



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
যে খুনের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়!

যে খুনের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়!

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামে শুধু একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে যেভাবে ফাঁদে ফেলে ফটোগ্রাফার শাওন বড়ুয়াকে খুন করা হয়েছে তাতে বিস্মিত হয়েছেন পুলিশ সদস্যরাও। ওই কলেজছাত্রকে খুনের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেই খুনের গল্প যেন সিনেমাকেও হার মানিয়েছে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পঙ্কজ দত্ত চান্দগাঁও থানায় এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে ঘটনার পুরোটা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে পঙ্কজ দত্ত জানান, নগরের চাদগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আশহাদুল ইসলাম ইমন ও মো. তৌহিদুল আলম এক সময় অন্যজনের সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিয়ে অনুষ্ঠানে ছবি তোলার কাজ করতেন। তাদের কাছে কোনো ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিল না। সেজন্য একটি ক্যামেরার শখ জাগে তাদের। বিষয়টি তারা এলাকার বড় ভাই মো. বাহারকে জানান। বাহারসহ মিলে এরপর ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ফন্দি আঁটেন। সেই পরিকল্পনায় তারা যুক্ত করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. আলমগীর ও মো. ইমতিয়াজ আলম মুরাদ নামে আরও দু’জনকে।

তিনি জানান, শুরুতে পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ফটোগ্রাফিতে যুক্ত এমন বেশ কয়েকটি ফেসবুক পেজে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে উচ্ছ্বাস বড়ুয়া নামের একটি ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করে তারা সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি বিয়েতে ছবি তোলার বিষয়ে কথা বলেন। তবে ওই পেজ থেকে জানানো হয় তারা এখন ফটোগ্রাফি করেন না, সেখান থেকে জনি বড়ুয়া নামের এক ফটোগ্রাফারের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হয়। তবে জনি বড়ুয়ার অন্য কাজ থাকায় তিনি শাওন বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজটি করবেন কিনা জানান। শাওন রাজি হলে ইমন-তৌহিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন জনি। এরই মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করতে মোবাইল আর্থিক লেনদেন সেবা-বিকাশে অগ্রিম ৫০০ টাকাও পাঠান ইমন-তৌহিদুল।


পুলিশ কর্মকর্তা পঙ্কজ দত্ত বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী ইমন ও তৌহিদুল সোমবার রাত ৮টা ২৫মিনিটের দিকে ফোন করে শাওনকে জানান তাকে ‘রিসিভ’ করতে মুরাদ নামের এক ছোট ভাই বাহির সিগন্যালের ব্যাপারী পাড়ার ভাঙা পুলের মাথায় অপেক্ষা করছেন। পরে শাওন মোটরসাইকেল চালিয়ে ওই এলাকায় আসেন। এরপর মুরাদকে নিজের মোটরসাইকেলের পেছনে বসান শাওন। এসময় মুরাদ শাওনকে জানান বিয়ের অনুষ্ঠানটা অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে যেতে হবে। সে অনুযায়ী শাওন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সিএনজি অটোরিকশাচালক আলমগীর গাড়িতে করে ইমন, তৌহিদুলকে নিয়ে তাদের পেছনে পেছনে যেতে থাকেন। তবে এক পর্যায়ে ফাঁদে পড়েছেন বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শাওন দ্রুত গাড়ি চালিয়ে অনন্যা আবাসিকের দিকে চলে যান।

তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে পকেট থেকে ছুরি বের করে মুরাদ বলে উঠেন, ‘কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান নেই, ভালোমতো ক্যামেরাসহ ব্যাগটা দিয়ে দাও।’ এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। পরে গাড়ি থামিয়ে মুরাদকে নামিয়ে দিয়ে চলে যেতে চান। এর মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুরাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শাওন তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যেতে চান। সুযোগ বুঝে মুরাদ শুরুতে শাওনের উঁরুতে ছুরিকাঘাত করেন। আহত অবস্থায় শাওন কুড়িয়ে কুড়িয়ে চলে যেতে চাইলে মুরাদ মাটি থেকে উঠে শাওনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আরও ছয়টি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর বাহারকে ফোন দিয়ে শাওনকে মেরে ফেলার বিষয়টি জানালে তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। পরে শাওনের ক্যামেরাসহ ব্যাগটি নিয়ে মুরাদসহ দু’জনেই পালিয়ে যান। পরদিন মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ শাওনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এরপরই ঘটনার কারণ বের করতে মাঠে নেমে পড়ে পুলিশের একটি দল।’

অভিযানে অংশ নেওয়া চান্দগাঁও থানার দু’জন উপপরিদর্শক (এসআই) বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘হত্যার পর ক্যামেরা নিয়ে পালিয়ে গেলেও শাওনের মুঠোফোনটি নিয়ে যায়নি হত্যাকারীরা। সেই মুঠোফোনই খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের খোঁজ পাওয়ার কাজটি সহজ করে দেয়। প্রথমে আমরা জনি বড়ুয়াকে হেফাজতে নিই। তার মাধ্যমে যে নম্বর থেকে বিকাশ করা হয় সেটি বের করি। পরে বিকাশের দোকানে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বের করে বিকাশে টাকা পাঠানো ইমন ও তৌহিদুলকে শনাক্ত করি। এরপর অভিযান চালিয়ে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করি।’ তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় জনিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডকে ‘বিরলতম’ বলেও মনে করছেন এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তারা বলেন, ‘বহু সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজ তৈরি হয়েছে হত্যার সত্য ঘটনা অবলম্বনে। আবার অনেক খুনের ঘটনা রয়েছে, যেগুলোর অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করেছে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ। তবে শাওন বড়ুয়াকে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীরা কোনো সিনেমা বা ওয়েব থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন কিনা এখনো নিশ্চিত হইনি। তবে এটা ঠিক যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেটি সিনেমাতেই বেশি দেখা যায়।’

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;

১৫ বছরে ৯৪৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান সরকারের শাষণামলে ১৫ বছরে দেশে ৯৪৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লক্ষীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান এর করা প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে সরকার রেলপথ বিভাগ থেকে মোট ৯৯টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এডিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২৫টি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং ৩টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প অর্থাৎ মোট ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে।

এছাড়া, রূপকল্প ২০৪১ অর্জনসহ ৩০ বছর মেয়াদী রেলওয়ে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ রেলওয়ে ডাবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ, গেজ একীভূতকরণ, আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেমের প্রবর্তন, সমুদ্র বন্দরের সাথে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, আপগ্রেডেড লোকোমোটিভ প্রবর্তন এবং বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রেলপথের উন্নয়নে গত ১৫ বছরে দেশে ৯৪৭.৯৯ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;