কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১১)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

  • Font increase
  • Font Decrease

এখানে আপনাদের বেতারকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে না

[পূর্ব প্রকাশের পর] আমাদের প্রথম দলের মিশনারিরা নিরাপদে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে, আমরা বাকিদের জরুরি নির্গমন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বসি, যদি তার প্রয়োজন পড়ে কখনো। আমাদের একাধিক সভার শেষে নিচের চারটি সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করা হয়।
• যারা যেতে চায় তাদেরকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হবে, এই প্রত্যাশায় যে, সামনের দিনগুলোতে সমুদ্র কিংবা আকাশপথে দেশত্যাগের আরো কোনো সুযোগ আসবে।
• একটা ট্রাক ভাড়া করা হবে নব্বই মাইল দূরে পাকিস্তান-বার্মার সীমান্ত শহর টেকনাফে যাওয়ার জন্য। সেখান থেকে আমরা নৌকায় নাফ নদী অতিক্রম করে বাসে চড়ে আকিয়াব যাব।
• যদি সড়কপথে চলাচল একবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাহলে আমরা হাসপাতাল থেকেই সরাসরি নৌকা করে আকিয়াব রওনা হব।
• নৌকা বা সাম্পানে করে আমরা চট্টগ্রাম বা আশেপাশে অপেক্ষমাণ কোনো উদ্ধারকারী জাহাজে গিয়ে উঠব।

প্রত্যেকটি পরিকল্পনারই সীমাবদ্ধতা ছিল। আমরা শত হলেও বাইশজন প্রাপ্তবয়স্ক ও পঁচিশটি বাচ্চা নিয়ে কাজ করছি। ট্রাকযাত্রার ব্যাপারটা মোটামুটি বিবেচনা করা গেলেও, এই পঁচিশটি বাচ্চাকে সাম্পানের অমসৃণ তলদেশে গাদাগাদি করে বসিয়ে পাঁচদিনের সমুদ্রযাত্রার ভাবনাটি দুঃস্বপ্নের মতোই ছিল, যদি তা কেউ কল্পনা করতে চান আদৌ।

বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিকল্পনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করার জন্য আমরা একটি কমিটি গঠন করি। আমরা এর নাম দিই ‘আতঙ্ক কমিটি’। তারা ব্যাগ, জলপাত্র, টিনের খাদ্য, বাসনপত্র ইত্যাদি যোগাড়ে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দেয়। সাত বছর আগে, আমাদের হাসপাতাল নির্মাণের সময় এর কন্ট্রাক্টরদ্বয়, পল গুড্‌ম্যান ও টম ম্যাক্‌ডোনাল্ড, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুই যোদ্ধা, সামরিক কে-রেশনের শুকনো খাদ্যের টিন এনেছিল কিছু। এগুলোকেও আমাদের জরুরি রসদের তালিকায় যোগ করা হয়।

আমাদের পুরো দলটাকে তিনভাগে ভাগ করে প্রতি দলে সমানভাবে ছোটবাচ্চা, বড় বাচ্চা, স্বাস্থ্যকর্মী, নতুন ও পুরনো মিশনারিদের বণ্টন করে দেওয়া হয়। দলগুলোকে লাল, নীল আর হলুদ রঙের রিবন দিয়ে আলাদা করা হয়। (হলুদ দল অভিযোগ করে যে, দলগঠনের আগেই নাকি তাদের বিরুদ্ধে একটা আঘাত আসে।)

আমাদের নিজেদের প্রস্তুতির ব্যাপারে আমরা আমাদের দেশি কর্মীবৃন্দ ও চট্টগ্রামের শরণার্থীদেরকেও একটা সুচিন্তিত পলায়ন-পরিকল্পনা ভেবে রাখতে বলি। তারা ভুলভাবে বিশ্বাস করেছিল যে, যতক্ষণ আমরা আছি ততক্ষণ তাদের কোনো বিপদ হবে না।

“তা আপনারা কী করবেন যদি মিলিটারি এসে আপনাদেরকে গুলি করা শুরু করে?” আমরা জিজ্ঞাসা করি।

“আমরা দৌড়ে আপনাদের বাসায় চলে আসব,” তারা সরলভাবে জবাব দেয়।

গুড ফ্রাইডের রাত তিনটার দিকে, লিন ও বেকি তাদের বাসার পাশ দিয়ে একটা গাড়ি যাওয়ার শব্দে ঘুম থেকে জেগে ওঠে। তারা খুব সাবধানে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আবাসিক এলাকায় ঘুরতে থাকা গাড়ির শব্দটাকে অনুসরণ করতে চেষ্টা করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে জে ওয়াল্শ তাঁর সাইকেলে চেপে আসেন, বন্দুকহাতে। রাতের বাতাস তাঁর কণ্ঠকে দূরে দাঁড়ানো মেয়ে দুজনের কাছে বয়ে নিয়ে আসে।

“এটা হাসপাতাল; আর আমরা ডাক্তার,” তিনি বলছিলেন।

পরদিন সকালে এই রহস্যের সমাধান হয়। গাড়িতে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা, যারা আসলে হসপাতাল অঙ্গনে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের নতুন অফিস স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। তাঁরা পুরো জায়গাটা ঘুরে দেখেছেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নার্সদের আবাসন ভবনটাই হচ্ছে সবচেয়ে অবাধ স্থাপনা। তাঁরা এর একটি অংশ নিয়ে নেবেন, এই বলে ধন্যবাদও জ্ঞাপন করেন।

চারজন মিশনারি পুরুষ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদেরকে এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁরা অটল। জে নিশ্চিত ছিলেন যে, তাঁরা আবার ফিরে আসবে, তাই আমরা এই সমস্যাটা নিয়ে আলাপ করছিলাম। আমরা সবাই অনুভব করছিলাম, তাঁদেরকে জোর গলায় বলে দিতে হবে, এই হাসপাতালের মাঝখানে তাঁরা রেডিও স্টেশন বসাতে পারেন না, যদি না তাঁরা সেটা গায়ের জোরে করতে চান। আমরা একটা আপোস প্রস্তাব দিই যে, তাঁদেরকে আমরা একটা ছোট্ট, বহনযোগ্য জেনারেটর দেব, যেটাকে তাঁরা গাড়ির মধ্যে বসিয়ে জঙ্গলের ভেতর থেকেই তাঁদের গোপন বেতারকেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবেন।

জে ঠিকই ভেবেছিলেন। তাঁরা ফেরত আসেন আবার। প্রথমে একবার সন্ধ্যা নাগাদ আসেন একজন বন্দী ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে। তাঁরা এসে আমাদেরকে তাদের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলে চলে যান। রাত সাড়ে নয়টায় তাঁরা আবার আসেন। ডা. ওল্সেন এবং জে ওয়াল্শ যখন তাঁদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, আমরা তখন প্রার্থনা করছিলাম ও প্রার্থনাসংগীত গাইছিলাম। ঈশ্বর কি প্রার্থনার জবাব দেন? জে এবং ভিক ওল্সেন চকচকে মুখে ফেরত আসেন। তাঁরা হাসপাতালকে তাঁদের বেতারকেন্দ্র বানানোর ভাবনা থেকে সরে এসেছেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, এখান থেকে রেডিও’র বেতার-তরঙ্গ শনাক্ত করা সহজ হবে এবং পাকিস্তানিরা তখন বোমা মেরে তা উড়িয়ে দেবে। বেতারেকেন্দ্র প্রকল্প বিষয়ে সেবারই শেষ শুনি আমরা তাঁদের কাছ থেকে।

ইস্টার সানডে ১৯৭১

দিনটা শুরু হয় সকাল ছয়টার প্রার্থনা দিয়ে। দিনভর ক্লাস ও প্রার্থনাসভার ভেতর দিয়ে খ্রিস্টবিশ্বাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিককে আমরা স্মরণ করছিলাম। বিকেলে মেয়েদের বাইবেল ক্লাসের পরে এক গাড়ি আওয়ামী লীগের নেতা হাসপাতালে এসে হাজির হন। গাড়ি থেকে নেমেই তাঁরা তাঁদের কাহিনী শুরু করেন। ক্যাপ্টেন হারুন, মুক্তিবাহিনীর একজন উঁচু অফিসার চিটাগাংয়ের উপকণ্ঠে কালুরঘাট সেতুর কাছে যুদ্ধে ভীষণভাবে আহত হয়েছেন। তাঁরা তাঁকে পটিয়ায় তাঁদের ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে ডাক্তাররা তাঁর পেটে অপারেশন করেছে। অজ্ঞান না করে স্রেফ একটি ডেমেরল দিয়েই অপারেশন করে তাঁরা তাঁর পেটের দুই ফুটের মতো বুলেটজর্জর অন্ত্র বার করে ফেলে দেন। তারপর তাঁরা ঘোষণা দেন, “অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তিনি এখন খুবই দুর্বল।”

সঙ্গে সঙ্গে ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান বব আডল্‌ফ গাড়িতে-বসা একজনের শরীর থেকে কিছু রক্ত নিয়ে তাঁদেরকে দিলে তাঁরা তা নিয়ে দ্রুতবেগে যেপথে এসেছিলেন সেপথে ফিরে যান। ডা. ডন কেচাম তাঁদেরকে বলে দেন, ক্যাপ্টেনকে সেই সাময়িক আশ্রয় থেকে বার করে এনে এই হাসপাতালে নিয়ে আসতে। কয়েকদিন পরে তাঁরা সেই অসম্ভব দুর্বল রোগীটিকে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। তাঁর শরীরে আবারও মেরামতি অপারেশন করা হয়, এবং তিনি চট্টগাম থেকে আসা একজন ব্যাংক ম্যানেজার হিসাবে সেরে উঠতে থাকেন। তাঁর সন্ধানে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাদের আমাদের হাসপাতালে আগমনের আগেই ডা. কেচাম তাঁকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সেই দিনগুলোতে আমি ও লিন আমাদের চট্টগ্রামের শরণার্থীদের জন্য একধরনের বিশেষ দায়িত্ব বোধ করছিলাম। আমরা মিশনারিদের বাগান তন্ন তন্ন করে, শাকটা, শিমটা কুড়িয়ে আনছিলাম তাদের জন্য। (আপনারা কি জানতেন যে পুরনো, তেতো লেটুস পাতার রান্নাও বেশ স্বাদের হয়?) আমরা প্রত্যেকদিন সকালে এইসব শাকসব্জি বহন করে ওদের বাড়ি যেতাম এবং সবাইকে সেসব ভাগ করে দিতাম। আমরা বাচ্চাদের ব্যাপারেও খেয়াল রাখছিলাম। এতখানি খোলা মাঠ দৌড়ঝাঁপ করার জন্য! আর সেইসব সাইকেল! এটা শহরের বাচ্চাদের জন্য অনেক বড় লোভনীয় বিষয়, বিশেষ করে যারা অস্থির সময়টায় পুরোপুরি ঘরবন্দী ছিল।

সেখানে অধিকাংশ সময়ই লিন মিশনারিদের ভাষা শেখানোর এবং হাসপাতালে কাজ করছিল। আমার কাজ ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর বাচ্চাদের পড়ানো, যারা তাদের শিক্ষকদের ও আমাদের বার্ষিক শিশুশিবিরের জন্য সংগৃহীত লেখার সরঞ্জামাদি হারিয়ে ফেলেছিল।

আমরা সময় কাটানোর জন্য সবাই মিলে ডায়রিও লিখছিলাম, যদি কখনো কিছু মনে করতে হয়, কিংবা কাউকে এই দিনগুলোর গল্প করতে হয়, একথা ভেবে। এই রইল ডায়রির কয়েকটি পাতা।

শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, দুপুর ২.২০

সবাই দিবানিদ্রা উপভোগ করছিলেন, এমন সময় শোর উঠল, “মিলিটারি এসেছে।” হাসপাতালের ভেতরে অবস্থানরত পরিবারসমূহ, ঘরের কাজের লোকেরা, এবং অন্যান্যরা তাড়াতাড়ি যার যার ঘরে ঢুকে যেতে শুরু করে। আমরা জানতে পারি যে, পটিয়া ও আমিরাবাদে (মালুমঘাট থেকে যথাক্রমে ৪৫ ও ২৫ মাইল দূরে) বোমা পড়েছে। তখন পর্যন্ত অবশ্য রাস্তা দিয়ে কোনো সৈন্য আসেনি।

মালুমঘাটে বোমা বর্ষণ করলে কী করব সে-নিয়ে কথা বলার জন্য মিলিত হই আমরা। সিদ্ধান্ত হয়: জঙ্গলের দিকে চলে যেতে হবে এবং সেখানে তখনও বিদ্যমান দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালীন ট্রেঞ্চগুলোতে ঢুকে পড়তে হবে। মলি বিল্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ট্রেঞ্চগুলোকে খুঁজে বার করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখার। লিন আর আমার দায়িত্ব ছিল নার্সদের হোস্টেলের ছাদ থেকে প্লেন আসছে কিনা সেটা দেখা। কোনো প্লেন দেখা যাওয়ামাত্র সেখানকার বিশাল ঘণ্টাটি বাজিয়ে দিতে হবে।

আমরা রাতের খাবার শেষ করামাত্র রিড মিনিখ তিনজন আমেরিকানকে নিয়ে হাজির হন।

রাত সোয়া আটটায় আরেকটা সভা বসে।

সেই তিনজন হলেন: যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা থেকে আসা ইউ এস এইডের দুজন প্রতিনিধি। চারজনই চট্টগাম থেকে এসেছেন গুর্‌গানসের স্টেশন ওয়াগনে করে, আমাদের দুটো বিশাল আমেরিকান পতাকা লাগিয়ে।

তাঁরা এসেছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সম্ভাব্য সবচেয়ে কড়া সাবধানবাণীটি জানাতে, যেন আমরা অবশ্যই দেশত্যাগ করি। তারা বলেন, এর আগের দিন সন্ধ্যায় ভয়েস অভ আমেরিকায় নাকি বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থানরত আমেরিকানদের বার্মার ভেতর দিয়ে দেশ ছাড়তে। আমরা কেউই অবশ্য সেই ঘোষণা শুনিনি। (আমরা একটা মিটিংয়ে ছিলাম।)

আমরা তাঁদেরকে অনেক প্রশ্ন করি। তাঁদের অধিকাংশ তথ্যই আশাব্যঞ্জক ছিল। তাঁরাও মনে করেন না যে, আমরা সত্যিকার যুদ্ধের ডামাডোলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি, যদি না অওয়ামী লীগের নেতারা হাসপাতাল দখল করে প্রতিরোধ শুরু করেন। তাঁরা এও ভাবেন, আমরা যতদিন এখানে আছি ততদিন দেশি নাগরিকেরাও নিরাপদ। শুধু হিন্দুরাই সত্যিকারের বিপদের মধ্যে ছিল। তাঁরা আমাদের ওপরই চরম সিদ্ধান্ত নেবার ভার দিয়ে যান, কারা থাকবে আর কারা চলে যাবে সেটা ঠিক করতে। পরদিন সকাল দশটার মধ্যে তাঁদের চট্টগ্রাম ফিরে যাবার কথা। তাঁরা চাচ্ছিলেন মিলিটারির সঙ্গে দেখা করে তাদেরকে দুদিনের জন্য বোমা ও গুলি বর্ষণ থেকে বিরত রাখতে, যাতে করে আমরা নিরাপদে এই পথটুকু পেরিয়ে যেতে পারি। পরিকল্পনাটা ছিল, আমেরিকান গাড়ির একটা বাহিনী আমাদেরকে নিয়ে চট্টগাম যাবে এবং সেখান থেকে আমরা একটা বড় বিমানে করে ঢাকায় চলে যাব।

দেশত্যাগের বিষয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর সবাই প্রার্থনা, ও যার যার মতো বোঝাপড়া করতে চলে গেলে আমি ও লিন রিডকে বলি, শহরত্যাগের পর সেখানে কী কী ঘটেছে আমাদেরকে তা জানাতে? তিনি যে-বর্ণনা দিয়েছিলেন তা মোটেও আশাজাগানিয়া ছিল না। [চলবে]


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১০)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৯)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৮)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৭)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৬)

   

কবি সুফিয়া কামালের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকাখ্যাত কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। 

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের এই দিন (২০ নভেম্বর) সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বিকেল ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সুফিয়া কামালের লেখা কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে- সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, মন ও জীবন, দিওয়ান, অভিযাত্রিক, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি। ‘কেয়ার কাঁটা’ নামে একটি গল্পগ্রন্থ ছাড়াও তিনি ভ্রমণ কাহিনী, স্মৃতি কথা, শিশুতোষ এবং আত্মজীবনীমূলক রচনাও লিখেছেন। সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

;

গৌরীপুরে হুমায়ুন ভক্তদের পাখির আবাস তৈরি 



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,গৌরীপুর,ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিনে পাখির নিরাপদ আবাসের জন্য গাছে গাছে পাখির বাসা ঝুলিয়েছেন ভক্তরা।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে ভক্তদের সংগঠন হুমায়ুন আহমেদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া নাজনীন উপজেলা পরিষদ চত্বরে হাড়ি-কলস ঝুলিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে বন, বন্য প্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় পৌর শহরে প্রচারাভিযান চালান ভক্তরা। এর আগে সোমবার হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া নাজনীন বলেন, ‘গাছপালা ও বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাওয়ায় এখন আগের মতো পাখির কিচিরমিচির শব্দ শোনা যায় না। পাখি আমাদের প্রাণবৈচিত্রের অংশ। পরিবেশে পাখি বেঁচে থাকা খুবই জরুরি। পাখির প্রতি মানুষের ভালোবাসা থাকাও জরুরি। বন, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়। এ জন্য সাধারণ জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।'

এ সময় হুমায়ুন আহমেদ স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পদক প্রভাষক স্বপন কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শ্যামগঞ্জ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হারুন আলী বারী, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য এইচএম খায়রুল বাসার, বোকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান আল মুক্তাদির শাহীন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুর রহিম, মোঃ শেখ সাদী সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পীযুশ রায় গণেশ, প্রচার সম্পাদক হারুন মিয়া প্রমুখ।

;

‘খ্যাতির প্রতি নিরাসক্ত ছিলেন আবুল হাসনাত’



ডেস্ক রিপোর্ট, বার্তা২৪.কম
‘বিদ্যাসাগর, জীবনানন্দ, নেরুদা ও অন্যান্য’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচনে বিশিষ্টজনরা

‘বিদ্যাসাগর, জীবনানন্দ, নেরুদা ও অন্যান্য’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচনে বিশিষ্টজনরা

  • Font increase
  • Font Decrease

কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক আবুল হাসনাত ছিলেন খ্যাতির প্রতি নিরাসক্ত এবং সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে নিরলস একজন মানুষ। প্রয়াত আবুল হাসনাতের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অগ্রন্থিত প্রবন্ধ সংকলন 'বিদ্যাসাগর, জীবনানন্দ, নেরুদা ও অন্যান্য' এর প্রকাশনা উৎসব ও স্মরণ আলোচনায় যোগ দিয়ে বিশিষ্টজনরা তাকে নিয়ে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

রোববার (১২ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত হয় এই মোড়ক উন্মোচন ও স্মরণ আলোচনা অনুষ্ঠান। গ্রন্থটি ছিলো আবুল হাসনাতের সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ। তবে বইটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে জার্নিম্যান বুকস। বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছেন বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী।

আবুল হাসনাত ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। সঞ্চালক প্রজ্ঞা লাবণীর কণ্ঠে তার কবিতা ‘স্বপ্নের কাছে ফিরে যাওয়া সহজ নয়’ আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এর পর গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন পর্বে অংশ নেন- প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী ও আবুল হাসনাতের স্ত্রী সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক।  

আবুল হাসনাতের অগ্রন্থিত এই সংকলনে রয়েছে ১৫টি প্রবন্ধ এবং গ্রন্থ-সমালোচনা। এই বইয়ের প্রবন্ধ অংশে- বিদ্যাসাগর, জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে, শামসুর রাহমান, আনিসুজ্জামান, মুর্তজা বশীরকে নিয়ে যে প্রবন্ধাবলি রয়েছে, তাতে মূর্ত হয়েছে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্য নিয়ে তার ভাবনার স্বরূপ। আর পাবলো নেরুদা ও ফয়েজ আহমদ ফয়েজকে নিয়ে লেখা প্রবন্ধ দুটিতে ফুটে উঠেছে তার আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি। বইটি পাঠককে আবুল হাসনাতকে বুঝতেও সাহায্য করবে।

গ্রন্থটির ওপর আলোচনা ও লেখকের স্মরণে বক্তারা তার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা এবং স্মৃতিচারণা করেন। আলোচনায় অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, 'আবুল হাসনাত ছিলেন অনেক গুণের অধিকারী। তিনি মানুষের ভেতরে সততা ও সংস্কৃতি বিকাশের স্বপ্ন দেখতেন। জাতির সাহিত্য–সংস্কৃতির বিকাশে যারা নীরবে কাজ করে গেছেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম।

সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে আবুল হাসনাতের ভূমিকা উল্লেখ করে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, কার ভেতরে কোন ধরনের মেধা ও সৃজনশীলতা আছে, তা তিনি চট করেই বুঝতে পারতেন। তাদের দিয়ে সেই ধরনের কাজ করিয়েছেন। তিনি বহু লেখককে প্রতিষ্ঠিত হতেও সাহায্য করেছেন। অন্যদিকে নিজেও ছিলেন উঁচু মানের কবি, প্রাবন্ধিক ও শিল্প সমালোচক। তার বিভিন্ন রচনায় নান্দনিক ভাবনা, পরিশীলিত মেজাজ, পরিমিতিবোধ ও পাণ্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়।'

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, 'আবুল হাসনাতের সঙ্গে পুরান ঢাকার নবাবপুর স্কুল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়ালেখা করেছি। এছাড়া ক্রিকেট খেলা, কবিতা লেখা, সাহিত্যচর্চা, ষাটের দশকে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছি। আবুল হাসনাত নেই, এটা বিশ্বাস করতে মন চায় না। পরবর্তী জীবনে আবুল হাসনাত দেশের সব লেখক, শিল্পীর ঘনিষ্ঠ মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। তার নিজের লেখালেখিও অনেক। ২১টি মৌলিক গ্রন্থ, এককভাবে সম্পাদিত গ্রন্থ ২১টি আর যৌথভাবে সম্পাদিত গ্রন্থ ২২টি। তার লেখায় শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন, ভাবনা উপস্থাপনা উচ্চ মানের। মৃত্যুর পর নির্মোহ মানুষটিকে আমরা যেনো আরও গভীরভাবে জানতে পারছি।  

লেখা ছাপানোর ক্ষেত্রে তিনি লেখক নন, বরং লেখার গুণমানকেই প্রাধান্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান। এ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'চট্টগ্রাম থেকে তিনি ডাকে সংবাদের সাহিত্য পাতার জন্য লেখা পাঠাতেন। লেখাগুলো সাময়িকীতে গুরুত্বের সঙ্গেই ছাপা হতো। কিন্তু তখন আবুল হাসনাতের সঙ্গে তার সরাসরি পরিচয়ই ছিল না। আবুল হাসনাত স্বল্পভাষী, নেপথ্যচারী লাজুক স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কিন্তু তাঁর মন ছিল খোলামেলা। গুণীর কদর করতে কার্পণ্য করেননি।'

আবুল হাসনাতের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, 'এটি আবুল হাসনাতের সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ। তবে বইটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে তিনি সারা জীবন নিরলস কাজ করেছেন। খ্যাতির প্রতি নিরাসক্ত এই মানুষটি ছিলেন অত্যন্ত প্রচারবিমুখ। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এই মানুষটি মৃত্যুর আগেও কালি ও কলমের বিদ্যাসাগর সংখ্যা নিয়ে কাজ করে গেছেন। বারবার সেটি সম্পন্ন করার কথাই বলেছেন। নতুন প্রজন্মের প্রতি তার ছিলো গভীর আস্থা। তিনি মনে করতেন দেশের নতুন প্রজন্মই সব সংকটে জাতিকে উত্তরণের সঠিক পথ দেখাবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এতে ১৫টি প্রবন্ধ এবং গ্রন্থ সমালোচনা রয়েছে ৬টি। প্রতিটি লেখা সুলিখিত, প্রাণবন্ত। গভীর পাণ্ডিত্য আর বিষয়গুলোতে লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রকাশ রয়েছে। লেখা দুর্বোধ্য নয়। সব শ্রেণির পাঠকই লেখাগুলো পড়ে যেমন অনেক বিষয়ে জানতে পারবেন, তেমনি আনন্দও পাবেন। স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তিনি নিজেও ছিলেন নবাবপুর স্কুলের ছাত্র। তবে আবুল হাসনাতের চেয়ে পাঁচ বছরের জ্যেষ্ঠ ছিলেন।প্রচারবিমুখ আবুল হাসনাতের লেখা ভালোভাবে সংরক্ষণ এবং সেগুলো পরের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তার প্রতি যথার্থ সম্মান জানানো হবে- এমনটাই জানান তিনি।

আবুল হাসনাতের স্ত্রী সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, আবুল হাসনাতের স্মৃতিরক্ষা ও তার কাজ সংরক্ষণের জন্য আবুল হাসনাত ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। গত ১ নভেম্বর ছিল আবুল হাসনাতের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। সে উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জানান, পর্যায়ক্রমে তার সব রচনা ও সম্পাদিত গ্রন্থ নিয়ে রচনাসমগ্র প্রকাশের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

আবুল হাসনাত কবিতা লিখতেন মাহমুদ আল জামান ছদ্মনামে। কবিতা, উপন্যাস, চিত্র-সমালোচনাসহ সাহিত্যের নানা বিভাগে তিনি পদচ্ছাপ রেখেছেন। দেড় দশকের বেশি সময় সাহিত্য ও শিল্প–সংস্কৃতিবিষয়ক পত্রিকা কালি ও কলম এর সম্পাদক ছিলেন আবুল হাসনাত। এর আগে তিনি দুই যুগের বেশি সময় দৈনিক সংবাদ–এর ‘সাহিত্য সাময়িকী’ সম্পাদনা করেন। ২০২০ সালের ১ নভেম্বর সাহিত্যিক ও শিল্প সমালোচক আবুল হাসনাত রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে মারা যান। একজন বিচক্ষণ ও সংবেদনশীল সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন আবুল হাসনাত। দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকী দীর্ঘদিন তার তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ছিলেন ছায়ানটের অন্যতম সংগঠক ও সদস্য ছিলেন। ছায়ানটের কার্যকরী সংসদের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন সাংবাদিক আবুল হাসনাত।

;

মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৬ তম জন্মবার্ষিকী আজ



সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে রচিত কালজয়ী উপন্যাস ‘বিষাদ-সিন্ধু’র রচয়িতা সাহিত্য সম্রাট মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৬ তম জন্মবার্ষিকী আজ।
১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর গৌরী নদীর তীরে লাহিনীপাড়ায় বাবা সৈয়দ মীর মুয়াজ্জম হোসেন ও মা দৌলতন নেছার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির পদমদী গ্রামে মৃত্যুবরণ করলে এখানেই সমাহিত করা হয় মহান এই মনীষীকে।

ছবি: সংগৃহীত

মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী ঘিরে প্রতি বছর বাংলা একাডেমি মীরের সমাধীস্থল পদমদীতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকলেও এ বছর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি তাঁরা। এদিকে মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র, মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজ, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বলে জানান ইউএনও রফিকুল ইসলাম।

তবে বাংলা একাডেমির পক্ষে মীর মশাররফ হোসেনের সমাধীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং সুবিধামতো সময়ে রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির পরিচালক (প্রশাসন, মানবসম্পদ ও পরিকল্পনা বিভাগ) ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম।

বাংলার মুসলিম সমাজের দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীর জড়তা দূর করে আধুনিক ধারায় ও রীতিতে সাহিত্য চর্চার সূত্রপাত ঘটে তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে। তাঁর লেখা উপন্যাস ‘উদাসী পথিকের মনের কথা’ (১৮৯০), ‘গাজী মিয়ার বস্তানী’, ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩), আত্মকাহিনীমূলক রচনাবলী ‘আমার জীবনী’, ‘বিবি কুলসুম’ (১৯১০), সহ বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, প্রবন্ধ ও ধর্মবিষয়ক ৩৭টি বই বাংলা সাহিত্যের অমর সৃষ্টি হয়ে রয়েছে।

;