কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৯)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈশ্বর কাউকে বলেন ‘থাকো’, কাউকে ‘যাও’

[পূর্ব প্রকাশের পর] মালুমঘাটের প্রথম দিনগুলোতে আমাদের আলোচনা একটি প্রশ্নকে ঘিরেই ঘুরপাক খেত, “আমরা কি এদেশ ছেড়ে চলে যাব, নাকি এখানেই থাকব?”

সবার আগে আসা সিদ্ধান্তটি ছিল, যাদের মিশনারিকর্মের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, তারা জরুরি বিমান ধরে দেশে ফিরে যাবে। সেই দলে ছিল দুটি দম্পতি, পাঁচটি বাচ্চা ও দুজন অবিবাহিত তরুণী। শনিবার তাদের বিদায়ের দিন নির্ধারণ করে আমরা সবাই তাদেরকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসি: কাপড় ধোয়া, ইস্ত্রি করা, চারবছরের জমানো জিনিসপত্র গুছিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। পরিকল্পনা ছিল আমাদের এই দলটি চট্টগ্রামে অবস্থানরত বিদেশিদের কাছে চলে যাবে এবং প্রথম বহির্গামী বিমান ধরে দেশত্যাগ করবে। রিড তাদেরকে গাড়ি চালিয়ে শহরে রেখে আসবেন। (বস্তুত শহরে ফেলে আসা আমাদের নিজেদের লোকদের কথা ভেবে তিনি নিজেই খুব আগ্রহী ছিলেন যেতে। এছাড়া, তাঁর জরুরি নির্গমন থলেটি আমার ও লিনের চেয়েও শীর্ণকায় ছিল; তিনি স্রেফ তাঁর শেভের জিনিসপত্র, একটি শার্ট ও বাইবেল—সবকিছুকে একসঙ্গে একটা লুঙ্গিতে বেঁধে নিয়ে চলে এসেছিলেন।)

শুক্রবার রাতে, এর পরদিন যারা চলে যাবে তাদের সম্মানে আমরা একটি বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। লোকজন যখন এর জন্য জমায়েত হচ্ছিল তখন এসে উপস্থিত হন সন্তোষ ভট্টাচার্য মহাশয়, যিনি আমাদের নবীন মিশনারিদেরকে বাংলা শেখাতেন। সন্তোষবাবুর বাসা, শহরে আমরা যেখানে থাকি তার কাছেই এবং তিনি নাকি সেখানে ঢুঁ মেরেছিলেন পরিস্থিতি পরখ করার জন্য। তাঁর সেখানে দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা হয়: তাঁর সব টাকা চুরি হয়ে যায়, গুন্ডারা তাঁর হাত থেকে ঘড়ি খুলে রেখে দেয়, এবং তাঁর এক সহপাঠীকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে মেরে ফেলতেও দেখেন তিনি। চট্টগ্রামের প্রতিবেশী আমাদের তিনজনকে এই হাসপাতালে দেখতে পেয়ে তাঁর মুখে স্বস্তির হাসি ফোটে। অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি একবার এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে, কিন্তু পরে আর খবর নিতে আসতে পারেননি।

এপ্রিলের ৩ তারিখ, শনিবারের বিকালে আমরা একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, এমন সময় র‌্যাচেল ও বসু পরিবারের মেয়েরা দৌড়ে এসে খবর দেয় যে, মিস্টার ও মিসেস দাশ এসেছেন। আমরাও তৎক্ষণাৎ ওল্সেনের বাংলোয় গিয়ে দেখি সেখানে চট্টগ্রাম থেকে আগত এক বিশাল শরণার্থী-বাহিনী অপেক্ষমাণ। অন্য আরো অনেকে তখনও হাসপাতাল ভবনে। ডা: ওল্সেন ও আমি ওপরে উঠে আমাদের বাবলা, তার বাবামা ও ছোটবোনকে নিয়ে আসি। তাদের গল্পেও সেই একই পরিচিত সুর শোনা যেতে থাকে: গুলি উড়ে যাচ্ছিল মাথার ওপর দিয়ে, রাস্তায় লাশের সারি আর পাহাড়ের ওপর থেকে ভারি কামানের গোলা ছোড়া হচ্ছিল সারাক্ষণ। তারা যতক্ষণ পেরেছেন সেটা হজম করেছেন, তারপর আর না পেরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন এবং ঘোড়ার গাড়ি, নৌকা, বাস ইত্যাদি করে অবশেষে এই হাসপাতালে এসে পৌঁছেছেন। আমাদের চট্টগ্রামের শরণার্থীদলের কলেবর বেড়েই চলে।

পাম সানডে, ১৯৭১

আমরা নার্সদের হোস্টেলের লাউঞ্জে মিলিত হই তাঁরই প্রশংসায়, যিনি প্রভুর নাম ধরে আমাদের কাছে এসেছিলেন। সেদিনের প্রার্থনাসংগীতটি ছিল অতীব সুন্দর, কেননা আমাদের সবার গলা প্রভুর প্রশংসায় মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। আমরা সবাই জীবন্ত ও নিরাপদ ছিলাম।

প্রার্থনাসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জে ওয়াল্শ বলেন, তিনি রেডিওতে শুনেছেন আগামীকাল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ছাড়বে।

আমরা আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজে নেমে পড়ি। রিড আধাবেলা পার করে পথে নামতে চান না, তাই তিনি সবাইকে নির্দেশ দেন, যেন তারা খুব ভোর ভোর তৈরি হয়ে থাকে।

সেদিন বিকাল সাড়ে তিনটা নাগাদ রিড, লিন ও আমি, এই তিনজন যখন চট্টগ্রামে আমাদের কী কী করণীয় আছে এই নিয়ে পরিকল্পনা পাকা করছিলাম, ঠিক তখনই ল্যারি গলিন দুম করে এসে ঘরে ঢোকেন।

“আমি এইমাত্র বিবিসিতে শুনলাম সেই জাহাজটি আগামীকাল সকাল আটটার সময় ছাড়বে। ফলে, যারা যারা দেশ ছাড়তে আগ্রহী তাদেরকে আজ রাতের মধ্যেই জাহাজে চড়তে হবে।”

রিড, যিনি কিনা একটু আগেই বলেছিলেন তিনি দিনের মাঝবেলায় রওনা দিতে চান না, (এবং সেটা সঙ্গত কারণেই), তিনিও তখন নড়েচড়ে বসলেন। গাড়িগুলোতে মালপত্র তোলা হয়, তাদের ওপর লাগানো হয় আমাদের সবচেয়ে বড় আমেরিকার পতাকাসমূহ, এবং সোয়া চারটার মধ্যেই তাঁরা পথে নামেন।

“প্রভু, দয়া করে সূর্যটাকে ধরে রাখুন,” এটাই ছিল তখন গোটা দলের একমাত্র প্রার্থনা। কিন্তু ঈশ্বরের অন্য পরিকল্পনা ছিল। ছোট ফক্সওয়াগনটার কিছু সমস্যা ছিল, তাই সেটাকে পথে সারিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। চট্টগ্রাম শহর থেকে ষোল মাইল দক্ষিণে পটিয়ার তল্লাশি চৌকিতে পৌঁছাতেই সন্ধ্যা হয়ে গেল।

সেখানকার বাঙালি অফিসার তাদেরকে আর এগুতে বারণ করেন এই বলে যে, “আমরা আপনাদের পতাকাকে সম্মান করি, সম্ভবত ওপারের পাঞ্জাবিরাও তা করবে, কিন্তু যদি কোনো কারণে তারা সেটা দেখতে না পায়, তখন কী হবে?”

এই অফিসার তাদেরকে দুই রুমের একটি সরকারি বাংলোতে নিয়ে যান রাতটা কাটানোর জন্য এবং ডিম, ভাতের ব্যবস্থাও করে দেন রাতের খাবার বাবদ।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা আবার যাত্রা শুরু করেন। শহরের যত নিকটবর্তী হচ্ছিলেন তাঁরা, ততই লাশ আর পচনের গন্ধ প্রকট হয়ে উঠছিল চারপাশে। রিড পরে জানান, সঙ্গের বাচ্চারা রোদে শুকোতে দেওয়া শুটকির বোঁটকা গন্ধের সঙ্গে পরিচিত ছিল বলে তিনি হালকা বোধ করছিলেন। “এই বাজে গন্ধটা কিসের?”—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি তাদেরকে সহজেই শুটকি মাছের কথা বলে দিতে পারছিলেন, যা ছিল গ্রামীণ বাঙালির ভীষণ প্রিয় এক খাদ্য।

গাড়িগুলো বাঙালি-পাঞ্জাবি এলাকার সীমারেখা অতিক্রম করে নিরাপদেই, এবং তারপর বন্দরের উদ্দেশে দ্রুত ছুটে চলে খালি রাস্তা পেয়ে। প্রত্যেকের মনেই তখন একই প্রশ্ন, “আমরা কি বেশি দেরি করে ফেললাম? জাহাজ কি এতক্ষণে ছেড়ে দিল?”

“ওটা আছে! জাহাজটা এখনো আছে!”

ঈশ্বর তাদের প্রার্থনার গুণগত উন্নয়ন ঘটিয়েছিলেন; তিনি সূর্যকে আটকে না রেখে খোদ জাহাজটিকেই ধরে রেখেছিলেন—যেন তাঁর শেষ এগারজন যাত্রী এসে জাহাজে উঠতে পারেন। মোট ১১৯ জন বিদেশির মধ্যে ৩৭জন আমেরিকান নিয়ে সেদিন সকালে বন্দর ছেড়ে যায় ব্রিটিশ বাণিজ্যজাহাজ ক্ল্যান ম্যাকনেইর।

এরমধ্যে আরো ক’জন মানুষের আগমন ঘটে মালুমঘাটে, আশ্রয়ের আশায় : চিটাগাং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারজন চিকিৎসক। নির্ভুলভাবেই এদের অন্তত দুজনের আগমনের ওপর ঈশ্বরের হাত ছিল। আমরা এটা বুঝতে পারি অনেক পরে, ডা: পিটার ম্যাকফিল্ডের গল্প শুনে। “অন্ততপক্ষে ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, এই দেশটা একটা ভীষণ সংকটের দিকে এগুচ্ছে। বন্ধুরা আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সম্ভব হলে তখনই যেন দেশ ছাড়ি আমি। সত্যি বলতে কী আমার একটা সুযোগও এসেছিল, কারণ লিবিয়ায় একটা ফেলোশিপ করার জন্য নির্বাচিত ১৫০ জনের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমার এই নতুন চাকরি নিয়ে আমি উত্তেজিত ছিলাম এবং কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না, কেন আমার মা মনে করছিলেন যে, সেটা ঈশ্বরের ইচ্ছা ছিল না। তিনি নিশ্চয়ই ঠিক ছিলেন, কেননা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা সত্ত্বেও আমি কিছুতেই দেশ ছাড়ার জন্য দরকারি পাসপোর্ট ও অন্যান্য ছাড়পত্র যোগাড় করতে পারছিলাম না।

“আমি পারিবারিক ক্রিসমাস উদ্‌যাপন সেরে কেবল ঢাকায় এসেছি, এমন সময় আমার ভাই ফোন করে জানান যে, আমার মা মারা গেছেন। পরে আমরা তাঁর মৃত্যুতেও ঈশ্বরের হাত দেখতে পাব। তিনি যন্ত্রণাহীনভাবে, প্রশান্তবদনে মৃত্যুকে বরণ করেছেন। তিনি যদি যুদ্ধের সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতেন, তাহলে খুব কষ্ট পেতেন, সেটা কেবল আমাদের জন্য দুশ্চিন্তা করেই নয়, তাঁর কঠিন হৃদরোগের অষুধপত্র কেনার অবধারিত সমস্যার কারণেও।”

“জানুয়ারির ২৮ তারিখ, সরকার আমাকে চিটাগাং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করে দেয়। এটা আমাদের জন্য একটু অসুবিধারই হয়েছিল, কেননা আমার স্ত্রী রেবা, মেডিকেলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীটিকে তখন ১৭৫ মাইল দূরে ঢাকায় থাকতে হচ্ছিল একা। ফেব্রুয়ারি, মার্চ মাসের দিকে উত্তেজনা বাড়তে আরম্ভ করলে আমি রেবাকে চিটাগাং নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিই, যা-ই ঘটুক দুজন অন্তত একসঙ্গে থাকব। রাজধানীতে যাবার অগণিত ব্যর্থ চেষ্টার পর অবশেষে মার্চের ১০ তারিখ আমি তার সঙ্গে মিলিত হতে পারি। মার্চের ২৮ তারিখ তার চূড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ ঠিক ছিল। আমরা যখন ঢাকা ছাড়ি তখন তার মনের অবস্থা কেমন ছিল আমি আন্দাজ করতে পারি, কেননা তাকে তখন ডাক্তারি পড়ার শেষপর্বটুকু স্থগিত করতে হচ্ছিল, কে জানে কতদিনের জন্য।” [চলবে]


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৮)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৭)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৬)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৫)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৪)

   

মোশতাক আহমেদ: এক থেকে হাজার কপির লেখক



Sajid Sumon
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বইমেলায় ২০০৪ সালে প্রথম উপন্যাস জকি বের করার পর মাত্র এক কপি বিক্রি হয়েছিল। এমন ঘটনায় যেকোন লেখকের জন্যই মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এতে দমে যাননি তখনকার নবাগত লেখক মোশতাক আহমেদ। তিনি চেষ্টা করে গেছেন গত ২০ বছর ধরে। লিখেছেন শতাধিক উপন্যাস। এছাড়া নিজেকে শুধু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। ১২০টি উপন্যাসের মধ্যে বেশিরভাগই সায়েন্স ফিকশন। এক্ষেত্রে তিনি এবার হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। এবারের বইমেলায় এসেছে তার ৫০তম সায়েন্স ফিকশন ‌‘দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড’। এছাড়াও বহুমাত্রিক লেখক মোশতাক আহমেদ ধারাবাহিকভাবে লিখেছেন প্যারাসাইকোলজি থ্রিলার, ভৌতিক উপন্যাস, রোমান্টিক উপন্যাস, কিশোরদের জন্য শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজ রূপার সিন্দুক। একই সঙ্গে ভ্রমণ ও মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস রচনায়ও তিনি সমাদৃত হচ্ছেন সর্বত্র।

বইমেলায় সরেজমিনে মোশতাক আহমেদের বই কিনতে পাঠকদের ব্যাপক ভীড় পরিলক্ষিত হয়েছে। সিরিয়াল ধরে অটোগ্রাফ ও ফটোগ্রাফও নিচ্ছেন পাঠকরা। মোশতাক আহমেদের পাঠকদের মধ্যে কিশোর এবং নারীদেরই বেশি দেখা গেল। অনিন্দ্য প্রকাশের সত্বাধিকারী আফজাল হোসেনের কথায়ও তার প্রমাণ মিলল। আফজাল হোসেন বলেন, কথাসাহিত্যিক মোশতাক আহমেদ খুব জনপ্রিয় লেখক। এজন্য আমরা তার ৯০টিরও বেশি বই প্রকাশ করেছি। এবারও তার চারটি নতুন উপন্যাস এসেছে। সেগুলো হলো: প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস- হারানো জোছনার সুর। সায়েন্স ফিকশন- দ্য ওল্ড ওয়ার্ল্ড। ভৌতিক- মৃত্যুবাড়ি। শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজের রূপার সিন্দুক। প্রতিবছরই বইমেলার শুরু থেকেই পাঠকরা তার বই কিনে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। পাঠক চাহিদা অনুযায়ী আমরা তার পুরনো অনেক বইও পুনমুদ্রণ করেছি। নতুনগুলো তো আছেই। একেকজন পাঠক ৫-৭টা করেও বই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমরা খুবই খুশি।

মোশতাক আহমেদ ২০১৮ সালে বাংলা একেডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি কালি ও কলম সাহিত্য পুরস্কার, ছোটদের মেলা সাহিত্য পুরস্কার, কৃষ্ণকলি সাহিত্য পুরস্কার এবং চ্যানেল আই সিটি আনন্দ সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন। লেখালেখির বিগত দু’দশকে বহুবার বইমেলা এবং অনলাইনে বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানসমূহে তার বই বেস্ট সেলার হয়েছে। এখন সবমিলিয়ে হাজার হাজার কপি বই বিক্রি এবং লেখক হিসেবে তুমুল জনপ্রিয় হলেও তিনি অতীতকে ভুলে যাননি। অকপটেই স্বীকার করলেন প্রথমবার তার মাত্র এক কপি বই বিক্রির কথা।

মোশতাক আহমেদ বলেন, ২০০৪ সালে প্রথমবার আমার ‘জকি’ উপন্যাসটি বইমেলায় আসে। সেবার মাত্র এক কপি বই বিক্রি হয়েছিল। এতে আমার মন খুব খারাপ হয়েছিল। একপর্যায়ে দেখি মেলায় একজন লেখকের বই তুমুল জনপ্রিয়। তাকে ঘিরে পাঠকরা বলতে গেলে উন্মাদনায় ছিল। পরে দেখলাম তিনি জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন লেখক ড. জাফর ইকবাল। তখন ভাবলাম সায়েন্স ফিকশন যেহেতু জনপ্রিয়, তাই এ ধরনের বই লেখা যায়। সেই যে সায়েন্স ফিকশন লেখা শুরু, এরপর থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ভৌতিক উপন্যাস লেখার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একবার বইমেলায় এক নারী পাঠক আমাকে বললেন- ভুতের বই আমার খুব প্রিয়। আপনি ভুতের বই লিখবেন। এরপর থেকে আমিও ভাবলাম, এমন পাঠকদের বিশেষ করে নারী পাঠকদের বঞ্চিত করে কী লাভ? তখন থেকে প্রায় প্রতিবছরই আমি একটা করে ভৌতিক উপন্যাস লিখে থাকি। এছাড়া রোমান্টিক উপন্যাসও নারী-পুরুষদের ভালো লাগার একটি বিষয়। সেজন্য রোমান্টিক উপন্যাস লিখে থাকি।

শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজ মোশতাক আহমেদের জনপ্রিয় একটি কিশোর গোয়েন্দা উপন্যাস। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গোয়েন্দা সিরিজ না লিখে কিশোরদের জন্য শিশিলিন সিরিজ কেন লিখছেন? জবাবে মোশতাক আহমেদ জানান, গোয়েন্দা সিরিজ লিখতে আমারও ইচ্ছে হয়। তবে আমি বাংলাদেশ পুলিশে কাজ করি। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার লেখা গোয়েন্দা সিরিজে পেশাগত কোনো গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে যায় কিনা সেই ভয়ে থাকি। যেটা হয়তো আমার প্রকাশ করা উচিৎ হবে না। এজন্য আমি এখন গোয়েন্দা সিরিজ লিখছি না। তবে ভবিষ্যতে অবসরের পর হয়তোবা গোয়েন্দা সিরিজ লিখতে পারি।

বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারা প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস। মোশতাক আহমেদকে প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, গতানুগতিক উপন্যাস তেমন জনপ্রিয় না হওয়ায় আমি আসলে বিভিন্ন ধারায় লেখা শুরু করি। নতুন ধারা তৈরির চেষ্টা থেকেই মূলত: প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস লেখা। শুরুতে ভয়ে ছিলাম প্যারাসাইকোলজি নাম নিয়ে। এমন নামে উপন্যাস চলবে কিনা সেটা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। তবে পাঠক আমাকে হতাশ করেনি। বরং প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস পাঠকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও কীভাবে লেখালেখির সাথে যুক্ত আছেন এবং শতাধিক বই লিখলেন? মোশতাক আহমেদের ভাষ্য, আমি আসলে নিয়ম করে নিয়মিত লিখি। বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রায় ৩৫০ দিনই সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত লেখালিখি করি। আর আমার কম্পিউটার টাইপিং স্পিডও অনেক ভালো। এছাড়া কোনো গল্পের প্লট মাথায় আসলে সেটি নোট করে রাখি। এতে পরবর্তীতে আমাকে গল্পের সংকটে পড়তে হয় না। এখনও আমার শতাধিক গল্পের প্লট নোট করা আছে। এসব কারণে এবং সর্বোপরি পাঠকের ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি এতদূর আসতে পেরেছি। এই ধারা ভবিষ্যতেও বজায় রাখব।

লেখালেখি জীবনের কোনো একটি স্মৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই আমি সাধারণত কোনো বইয়ের পুশ সেল করি না। আমার বাসনা ছিল, যেদিন থেকে সাধারণ কোনো পাঠকের বুকশেলফে আমার বই দেখতে পাবো, সেদিন হয়তো বুঝতে পারব আমার লেখালেখি স্বার্থক। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের যে কারও বাসায় যাওয়ার সুযোগ থাকে না। পেশাগত কারণেই আমরা সব জায়গায় যেতে পারি না। কিন্তু একবার হঠাৎ ফোন এলো এক নারী তার দুই সন্তানসহ ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। পেশাগত কারণে সেখানে যেতে হলো। ক্রাইম সিন দেখতে গিয়ে একপর্যায়ে সেই বাসার আলমারিতে আমারই লেখা একটি বই প্রথমবারের মতো দেখতে পেলাম। সেদিন বুঝতে পারলাম আমার লেখালেখি স্বার্থক। তবে সেটি আমার জন্য আনন্দদায়ক হওয়ার চেয়ে বেশি কষ্টকরই ছিল।

;

প্রবীণ লেখকদের থেকে আমরা তরুণরা সেভাবে অনুপ্রেরণা পাই না!



রেদওয়ান আহমদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আয়োজনে সিআরবি শিরিষতলায় মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় এক তরুণ লেখক মন্তব্য করে বলেন, প্রবীণ লেখকদের থেকে আমরা তরুণরা সেভাবে অনুপ্রেরণা পাই না! 

বইমেলাকে কেন্দ্র করে লেখক-পাঠকদের আড্ডায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। তবে চট্টগ্রামের তরুণ লেখকদের মনের হতাশা যেন কিছুতেই কাটছে না! এই হতাশার অন্যতম বড় কারণ প্রবীণ লেখকদের সংস্পর্শ না পাওয়া।

তরুণ লেখকদের অভিযোগ, নবীনদের জন্য প্রবীণ লেখকরা তেমন কোনো ভূমিকা রাখছেন না। অনুপ্রাণিত করা তো পরের কথা, অনেকে মনে করেন, নবীনদের লেখা দুর্বল, তাদের লেখার হাত কাঁচা, সে কারণে নবীনদের ‘দূর দূর’ করে তাড়িয়ে দেন।

আজকের নবীনরাই একদিন প্রবীণ হবেন, সে বিষয় নিয়েই মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কথা হয়, চট্টগ্রামের কয়েকজন তরুণ লেখকের সঙ্গে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ কবি ও কথা সাহিত্যিক রাহমাতুল্লাহ রাফির প্রথম উপন্যাস ‘আত্মহত্যার ইতিবৃত্ত’ এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। ‘উপকথা’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হওয়া এই বইটির প্রচ্ছদ করেছেন গুণী প্রচ্ছদশিল্পী পরাগ ওয়াহিদ। এর আগে তার দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

তরুণ এই কবি ও কথা সাহিত্যিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, সত্যি বলতে কী প্রবীণ লেখকদের থেকে আমরা তরুণরা সেভাবে অনুপ্রেরণা পাই না! কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ প্রবীণদের ধারণা, তরুণেরা লিখতে জানে না। অথচ, তাদের কর্তব্য ছিল প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকদের রচনা নেড়ে-চেড়ে তারপর একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া।

রাফি বলেন, ‘নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের পার্থক্য হচ্ছে, জেনারেশনের। তারা যেই পটভূমিতে গল্প বলেন, আমাদের সেই পটভূমি থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। তাদের গল্পে যদি চিঠি কিংবা টেলিফোনে নায়ক-নায়িকার যোগাযোগ হয়, আমাদের গল্পে সেই স্থান দখল করবে মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপ। কিন্তু তারা সেটা মানতে চান না।’

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী, তরুণ কবি ও কথা সাহিত্যিক কামরান চৌধুরী ২০২৩ সালের বইমেলায় ‘আখ্যায়িকা’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন। ‘দুয়ার’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সে বইটির প্রচ্ছদ করেছিলেন পরাগ ওয়াহিদ।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বইমেলা-২০২৪

তরুণ এই কবি ও কথা সাহিত্যিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আখ্যায়িকা’ আমার মৌলিক কাব্যগ্রন্থ। কবিতা যেমন ভালোবাসতে শেখায়, বিরহের কথা বলে, তেমনি জীবনের কথা বলে! জীবনের কিছু কবিতা রয়েছে এই 'আখ্যায়িকা'য়। বইটির জন্য পাঠকমহল থেকে বেশ সাড়া পেয়েছি। বইটি নিয়ে পাঠকদের আগ্রহ দেখে আমি আশাবাদী। তাদের আলোচনা-সমালোচনা আমাকে অনুপ্রাণিত করে, শেখায়!’

তবে কামরান চৌধুরীর মনের দুঃখ অন্য জায়গায়! খোলাসা করলেন সেটিও। বললেন ‘একটা বিষয় খুব খারাপ লাগে! আমি বহু প্রবীণ লেখককে দেখেছি, আত্ম অহংকারে নিমজ্জিত। উদীয়মান লেখকদের জন্য তাদের যেন করণীয় কিছুই নেই! তাদের অনেকেই নবীন লেখকদের দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। অনেকেই মনে করেন, নবীনদের লেখা দুর্বল! তাদের লেখার হাত কাঁচা। অথচ আজকের নবীনরাই একদিন প্রবীণ হবেন।’

চট্টগ্রামের আরেক তরুণ গুণী কবি রহস্য শর্মা। ‘হারিয়ে তোমায় পথে’ ও ‘একান্নিশা’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে গত কয়েক বইমেলায় তিনি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। এবারের বইমেলাতেও তার নতুন কবিতার বই ‘দ্রোহন্যতে’ আলো ছড়াচ্ছে। এই বইটির প্রচ্ছদও করেছেন পরাগ ওয়াহিদ।

তরুণ এই কবি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বর্তমানে প্রবীণ লেখকরা নবীনদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন না। এটা হতে পারে, জেনারেশনের গ্যাপের কারণে। হতে পারে. তাদের আত্মম্ভরিতার কারণে। আবার হতে পারে, ব্যস্ততার কারণে। তাছাড়া, প্রবীণ লেখকরা পড়ালেখায় নব্বই শতাংশ সময় ব্যয় করলেও নবীনরা পুরো সময় নষ্ট করছেন মার্কেটিং আর মিডিয়াতে।

এখানে আমি করো নিন্দা করতে আসিনি। তবে, বড় সত্য যে, তরুণদের অনেকেই পড়ালেখা থেকে অনেক দূরে থাকেন। প্রবীণদের সংস্পর্শ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখেন আবার প্রবীণ লেখকদেরও একটা অংশ তরুণদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেন।’

তবে, তরুণদের এসব অভিযোগ মানতে নারাজ ‘একুশে পদক’প্রাপ্ত বরেণ্য লেখক হরিসংকর জলদাস।

বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এমন কেউ আসেনি। যারা এসেছে, তাদের লেখায় কোনো ভুল থাকলে আমি ধরে ধরে সেগুলো সংশোধন করেছি। তাছাড়া, তরুণেরা কোনো স্কুল খুলে বসেনি যে, তাদের সময় দেওয়া প্রবীণদের জন্য বাধ্যতামূলক। সংস্পর্শ-সান্নিধ্যের জন্য প্রবীণদের কাছে যেতে হয়। তার জন্য দরকার আনুগত্য, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তবে, সবাই সহযোগিতা করবে না, সেটা সত্য। আমার বইও এক সময় এক লেখক সামনেই ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। লেখকরা ব্যস্ত থাকেন। তবে, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা নিয়ে আসলে প্রবীণরা অবশ্যই তাদের মূল্যায়ন করবেন!’

;

‘পেঁয়াজ ছাড়া রান্না-বান্না’ নিয়ে বইমেলায় মৃত্তিকা দেবনাথ

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে বইমেলা- ২০২৪-এ রান্নাবিষয়ক ভিন্নধর্মী এক বই নিয়ে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী মৃত্তিকা দেবনাথ।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার ‘পেঁয়াজ ছাড়া রান্না-বান্না’ বইটি। বইটি প্রকাশ করেছে- শুদ্ধপ্রকাশ।

পেঁয়াজ ছাড়া রান্না বইটিতে রয়েছে- পেঁয়াজ ছাড়াই মাছ, মাংস, ডিম, শুঁটকি ও বিভিন্ন সবজি রান্নার কৌশল, রান্নার প্রস্তুতিপর্বের নির্দেশনার পাশাপাশি রান্না সহজ করার গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস।

সেই সঙ্গে রান্নায় লবণ বা ঝাল বেশি হলে স্বাভাবিক করার কিছু সহজ কৌশল। মাছ, মাংস, ডিম, শুঁটকি ও বিভিন্ন সবজি মিলে পাঁচ পর্বে প্রায় ৭০টি রেসিপি গ্রন্থিত হয়েছে বইটিতে।

লেখার শুরুতেই একটি রান্না শেখার গল্পের মাধ্যমে লেখক বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজের অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতা দিয়েই কেবল নিজের রান্নার শিল্পবোধটিকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব।

বইটির আশীর্বাণী লিখেছেন ও প্রচ্ছদ করেছেন প্রতিযশা চিত্রশিল্পী ও কথাশিল্পী ধ্রুব এষ। রয়েল সাইজের সম্পূর্ণ রঙিন বইটির মুদ্রিত মূল্য ৭০০ টাকা। অমর একুশে বইমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘শুদ্ধপ্রকাশ’-এর ১২১ নম্বর স্টলে।

মৃত্তিকা দেবনাথ বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) তালিকাভুক্ত একজন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন গানের সুর, স্বরলিপি ও মিউজিক করে থাকেন। সংগীত ও রান্নাবিষয়ক তার একাধিক বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

;

বইমেলায় সামিহা মাহজাবিন অর্চি’র ‘পালংকি রহস্য’

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



নিউজ ডেস্ক
বইমেলায় সামিহা মাহজাবিন অর্চি’র ‘পালংকি রহস্য’

বইমেলায় সামিহা মাহজাবিন অর্চি’র ‘পালংকি রহস্য’

  • Font increase
  • Font Decrease

কোনো বিখ্যাত কবির কবিতার বিখ্যাত চরণ নয়, এটি ধাঁধা! পাহাড় গর্ভের এক অজানা বৈভব খুঁজে বের করবার ধাঁধা! প্রাচীন একটি পাণ্ডুলিপিতে লেখা রয়েছে এ ধাঁধা। যা খুঁজে বের করতে উঠে পড়ে লাগে এক তরুণ ও এক কিশোরী, শুভ ও সুহানী।

বাবা-মা’র সাথে তারা বেড়াতে এসেছে কক্সবাজার। সমুদ্র-স্নান, সূর্যাস্ত দেখার ফাঁকে তাদের হাতের নাগালে আসে একটি পাণ্ডুলিপি। নিজেদের অজান্তেই সুহানী ও শুভ জড়িয়ে পড়ে পাণ্ডুলিপিটির রহস্যময় জটিল ধাঁধার জালে।

ধাঁধাটির সমাধান পেলেই তারা পেয়ে যাবে এক অজানা, অমূল্য গুপ্তধনের সন্ধান! কিন্তু এ গুপ্তধন কার? কী রয়েছে এ গুপ্তধনের মধ্যে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল থেকে আরও জটিলতর হতে থাকে। রহস্য যত ঘন হয়, বুকের ধুকপুকানি তত বাড়ে। অনেক প্রশ্ন জড়ো হয়।

সুহানী ও শুভ কি খুঁজে পাবে জটিল ধাঁধার সমাধান? তারা কি পারবে গুপ্তধনের রহস্য উদ্ধার করতে? যে গুপ্তধনের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ‘কক্সবাজার’ নামকরণের ইতিহাস।

কিন্তু ধাঁধার সমাধান খুঁজে পাবার আগেই পাণ্ডুলিপিটি হারিয়ে যায়। তবে কি ধাঁধার সমাধান, পাণ্ডুলিপিটির মর্মার্থ রহস্যাবৃতই থেকে যাবে? সুহানী ও শুভ কি আবার উদ্ধার করতে পারবে প্রাচীন পাণ্ডুলিপিটি?

তাদের সামনে এসে সমাধান ছাড়াই সমুদ্রের অগুনতি ঢেউয়ের মতো মিলিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রশ্নের তল-থই খুঁজে পাবে কী না তারা? তা জানতে চাইলে পড়তে হবে সামিহা মাহজাবিন অর্চি’র শিহরণ জাগানো, রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ পরিপূর্ণ রহস্য-উপন্যাস ‘পালংকি রহস্য’।

;