দিল্লিতে করোনার 'ফোর্থ ওয়েভ', ভারতের পরিস্থিতি 'মারাত্মক'

  করোনা ভাইরাস


কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
করোনা বিস্তারের পটভূমিতে ভারতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

করোনা বিস্তারের পটভূমিতে ভারতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম পিটিআই (প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া) পরিবেশিত আলোকচিত্রে দেখা যাচ্ছে, একজন স্বাস্থ্যকর্মী দিল্লি ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ডিডিসিএ) সদস্যদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে জরুরি ভিত্তিতে নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ দিল্লির করোনাভাইরাসের কমিউনিটি সংক্রমণের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা জ্বর, শুকনো কাশি ও নানাবিধ উপসর্গগত লক্ষণ সমেত দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং প্রধানত ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের ব্যাপকহারে আক্রান্ত করছে। বিশেষজ্ঞরা দিল্লির নাজুক ও অবনতিশীল পরিস্থিতিকে 'ফোর্থ ওয়েভ অব করোনা পেন্ডামিক' নামে অভিহিত করছেন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, 'বর্তমানে চলমান করোনা প্রকোপ অতীতের চেয়ে বহুগুণে শক্তিশালী এবং অল্প ও মাঝ-বয়সীরা অকাতরে আক্রান্ত হচ্ছেন।' দিল্লির প্রধান হাসপাতালগুলোতে রোগির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আক্রান্ত মানুষের তুলনায় চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতায় সঙ্কট বৃদ্ধি পাচ্ছে। তদুপরি, এইমস, সফদর জং, গঙ্গুরাম হাসপাতালের মতো প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে নাস্তানাবুদ হচ্ছে। এদিকে বহু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় পুরো অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।

শুধু রাজধানী দিল্লিই নয়, সামগ্রিক ভাবে পুরো ভারতের করোনা পরিস্থিতিই 'চরম মারাত্মক' আকার ধারণ করেছে।  করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, যিনি দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের চলমান নির্বাচনের প্রচারণায় বিজেপির তরফে ব্যাপকভাবে জনসংযোগের কাজ করছিলেন।।

ভারতে সংক্রমণ যেমন বাড়ছে, তেমনই সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, করোনার নতুন একটি প্রজাতি (ডাবল মিউট্যান্ট স্ট্রেন) সংক্রমিত হয়েছে ১০টি রাজ্যে। যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাত, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলো। যদিও, করোনার নতুন ঢেউয়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পিছনে শুধুমাত্র এই প্রজাতি কাজ করেছ, এমনটা বলা সম্ভব নয়।

এই প্রজাতির ভাইরাসে রয়েছে দুটি প্রজাতির করোনা ভাইরাসের মিশ্রণ। একদিকে ই৪৮৪কিউ ও এল৪২৪আর ভাইরাস এর মিশ্রণে তৈরি হয়েছে এই তৃতীয় প্রজাতিটি। দিল্লিতে ব্রিটেনের করোনা প্রজাতি ও এই জাতীয় করোনা প্রজাতি যৌথ ভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। পাঞ্জাবে করোনার নতুন ঢেউয়ে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ৮০ শতাংশের শরীরে পাওয়া গিয়েছে ব্রিটেনের করোনা স্ট্রেন। কিন্তু মহারাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণে নতুন প্রজাতির করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। হিসাব অনুসারে, ৬০ শতাংশ আক্রান্তই দুই ভাইরাসের প্রজাতি থেকে তৈরি তৃতীয় ভাইরাসের দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন।এদিকে, আরেক খবরে জানা গেছে,ভারতের ১৮টি রাজ্যের ৭০ থেকে ৮০ জেলায় ব্রিটেনের করোনা প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেই তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের প্রজাতি অপেক্ষাকৃত কম দেখা যাচ্ছে।

শুধু হাসপাতাল নয়, দেশজুড়ে করোনার প্রবল ঢেউয়ের জন্য জায়গা কমছে অন্ত্যেষ্টিস্থলেও। এই পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃতদের সৎকারের জন্য ধর্মীয় আচারের গণ্ডি পেরনোর জন্য খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর কাছে আবেদন জানিয়েছিল গুজরাতের আহমাদাবাদ প্রশাসন। শহরের ক্যাথলিক বিশপ তা সমর্থন করেছেন। কবর দেওয়ার পরিবর্তে করোনায় মৃতদের দেহ দাহ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি নিজেই।

আহমাদাবাদের ক্যাথলিক বিশপ অ্যাথানাসিয়াস রেথনা স্বামী চলতি সপ্তাহে নগর প্রশাসনকে জানিয়েছেন, করোনায় মৃতদের দেহ দাহ করা হলে তার আপত্তি নেই। কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নতুন ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার জন্য শহরের ক্যাথলিক সমাজের কাছে বার্তাও দিয়েছেন তিনি। লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন ক্যাথলিক চার্চের পরিচালক মণ্ডলীর কাছেও। গত ১২ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে মৃতদের সৎকার আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ’!

করোনা সংক্রমণের প্রলয়ঙ্করী ঢেউয়ের অভিঘাতে দেশের অনেক শহরের মতোই আহমাদাবাদেও দৈনিক মৃত্যু দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ফলে শ্মশান, কবরস্থানে দীর্ঘ লাইন পড়ছে। তাই সুষ্ঠভাবে সৎকার সম্পন্ন করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি, অভিযোগ উঠেছে শহরের মর্গগুলেতে মৃতদেহ সংরক্ষণ নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। আহমাদাবাদ শহরের পার্সি সমাজও করোনা পরিস্থিতিতে দাহ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, পার্সিদের ধর্মীয় পরম্পরা অনুযায়ী, মৃতদের দেহ শকুন ও চিলের খাদ্য হিসেবে শহরের পাশে কোনও উঁচু জায়গায় পাঁচিল ঘেরা মিনারের উপর রেখে আসা হয়, যাকে 'টাওয়ার অব সাইলেন্স' বলা হয়।

এদিকে চলমান কুম্ভমেলায় লক্ষ লক্ষ হিন্দু সাধু-সন্ন্যাসী ও সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণের ফলে করোনা সংক্রমণের গতি প্রবলতর হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মধ্য প্রদেশের বিভিন্ন শহরে করোনায় ক্রমবর্ধিষ্ণু মৃত্যুর ঘটনায় অব্যাহত রয়েছে প্রজ্বলিত চিতা, যেখানে একের পর এক মৃতদেহ আসছে এবং সেগুলোকে দাহ করতে হচ্ছে।

একাধিক মিডিয়া করোনা বিস্তারের পটভূমিতে ভারতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে। বলা হচ্ছে, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগাভাগির সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক হিংসার কারণে যে লোকক্ষয়, আতঙ্ক ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সামনে তেমনি মানবিক বিপর্যয় আসতে পারে করোনাজনিত মহামারির ক্ষয়ক্ষতির কারণে।

   

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে সিবিআইয়ের সমন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বেআইনি বালি খাদান সংক্রান্ত মামলায় তলব করে ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবকে সমন পাঠিয়েছে সিবিআই।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৬০ ধারায় বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) তাকে সশরীরে হাজির থাকার জন্য ওই সমন পাঠানো হয়েছে।

লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) জোট চূড়ান্ত হয়েছে গত সপ্তাহে। ঘটনাচক্রে, তারপরেই কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইয়ের এই সমন।

তবে অভিযুক্ত হিসাবে নয়, বরং সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি দিতেই অখিলেশকে তলব করা হয়েছে দুর্নীতি ও অপরাধমূলক মামলা সংক্রান্ত ওই সমনে।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, অখিলেশ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১২-১৬ সালে হামিরপুর জেলার বালি ও অন্যান্য কিছু খনিজ উত্তোলনের জন্য নিয়ম বহির্ভূতভাবে টেন্ডার বণ্টন করা হয়েছিল।

হামিরপুরের তৎকালীন জেলাশাসকসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার ওই পদক্ষেপের ফলে রাজস্বের ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে, বেআইনিভাবে বালি ও খনিজবাহী যানবাহন থেকে শুল্ক আদায়ের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল কয়েকটি সংস্থাকে। এ করণেই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে সিবিআই।

  করোনা ভাইরাস

;

ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ কেনার চেষ্টা, ইউক্রেনের এক ব্যক্তির সাড়ে ১১ বছরের কারাদণ্ড



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউক্রেনের জন্য গোপন ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ কেনার চেষ্টা করায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ইউক্রেনের এক ব্যক্তিকে সাড়ে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দক্ষিণ রাশিয়ার একটি আদালত।

রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাসের সূত্রে বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

রাশিয়ার এফএসবি সুরক্ষা পরিষেবাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ৫৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির নাম সের্গেই ক্রিভিটস্কি। তিনি ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট।

তবে তিনি দোষ স্বীকার করেছেন কি না সে বিষয়ে কিছু জানায়নি তাস।

এফএসবিকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, সের্গেই ক্রিভিটস্কি ইউক্রেনে পাচার করার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার এস-৩০০ সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেমের গোপন যন্ত্রাংশ কেনার চেষ্টা করেছিলেন।

এফএসবি আরও জানিয়েছে, ক্রিভিটস্কি মেলিটোপোলের বাসিন্দা ছিলেন।

উল্লেখ্য, মেলিটোপোল একটি ইউক্রেনীয় শহর, যা ২০২২ সালের শেষের দিকে রাশিয়া বাহিনী দখল করেছিল।

এদিকে, মস্কো দাবি করে যে, মেলিটোপল এখন রাশিয়ার অংশ, যে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ এবং পশ্চিমারা।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে রাশিয়া ৩১টি গুপ্তচরবৃত্তির মামলা এবং ৯৮টি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে, যা ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সর্বোচ্চ সংখ্যা।

  করোনা ভাইরাস

;

মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলায় ৪০ বেসামরিক নাগরিক নিহত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী পা-ও ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (পিএনএলএ)-এর সাথে দেশটির সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষে ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতরা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শান রাজ্যের নাগরিক। গত মাসে মিয়ানমার জান্তার বিমান হামলা ও কামানের গোলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) থাইল্যান্ড-ভিত্তিক মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইরাবতির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গণমাধ্যমটি পা-ও ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের (পিওয়াইও) বরাত দিয়ে জানায়, ২১ জানুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসেং, লোইলেন এবং হপং শহরের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে। পা-ও অঞ্চলে জান্তা সৈন্য ও তাদের সহযোগী পা-ও ন্যাশনাল আর্মির (পিএনএ) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে পিএনএলএ।

২৯৩টি বিমান হামলা এবং ৮০৮টি কামানের গোলার আঘাতে এই নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে। এতে ৫১ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি ৯৭টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে আসে।  

দ্য ইরাবতিকে পিওয়াইওর মুখপাত্র মা লি লি বলেছেন, নিহতদের মধ্যে দুই কিশোর ও তিন কন্যা শিশু রয়েছে। এ ছাড়া পাঁচজনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি। জান্তার হামলায় সেখানে ৯৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্তত এক ডজন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

  করোনা ভাইরাস

;

উত্তর কোরিয়ায় দূতাবাস পুনরায় চালু করছে ইউরোপীয় দেশগুলো



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউরোপীয় দেশগুলো প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মহামারী চলাকালীন জার্মানির দূতাবাস বন্ধ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং পরিদর্শন করেছেন দেশটির একটি প্রতিনিধিদল।

পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জার্মান ফেডারেল পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি দল বর্তমানে প্রযুক্তিগত পরিদর্শন সফরে পিয়ংইয়ংয়ে রয়েছেন।

ওই মুখপাত্র আরও বলেছেন, ‘এটি কয়েক দিনের মধ্যে জার্মান দূতাবাসের স্থান পরিদর্শন করবে এবং ২০২০ সালের মার্চ মাসে বন্ধ হওয়া দূতাবাসটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

প্রসঙ্গত, কোভিড সংকটের সময় পিয়ংইয়ংয়ে অনেক দূতাবাস বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, তারা সেই সময় সেখানে কর্মী বা জাহাজ পাঠাতে পারছিল না।

কোভিড সংকটের সময় কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণের অধীনে উত্তর কোরিয়া প্রায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং বড় আকারের সীমানা প্রাচীরসহ বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।

সম্প্রতি সেই কঠিন বিধিনিষেধ শিথিল করা শুরু করেছে পিয়ংইয়ং।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ব্রিটেন ২০২০ সালে দূতাবাস বন্ধ করে ওই বছরের মে মাসে উত্তর কোরিয়া থেকে সব কূটনৈতিক কর্মীদের বের করে নিয়ে এসেছিল। এখন তারাও একটি দল পাঠাতে চাচ্ছে সেদেশে।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি নাম ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কোরিয়ার (ডিপিআরকে) ব্যবহার করে দেশটির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা খুশি যে, কিছু কূটনীতিক পিয়ংইয়ংয়ে ফিরে আসছেন এবং সীমান্ত পুনরায় চালু করার জন্য ডিপিআরকের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডিপিআরকে সরকারের সঙ্গে লন্ডনে তার দূতাবাসের মাধ্যমে শীঘ্রই যুক্তরাজ্যের একটি প্রযুক্তিগত-কূটনৈতিক দলের সফরের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছি।’

মুখপাত্র আরও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়াকে সমস্ত কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের সংস্থা এবং মানবিক এনজিওসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পিয়ংইয়ংয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটেন।’

কোরিয়ার জন্য সুইডেনের বিশেষ দূত পিটার সেমনেবি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘পিয়ংইয়ংয়ে সুইডিশ কূটনীতিকদের শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবর্তনের দিকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু চাওয়া আছে এবং আশা করি যে, আমরা অপেক্ষাকৃত শীঘ্রই আমাদের দূতাবাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবো।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কূটনীতিক জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে দূতাবাসগুলোর ডিভাইসগুলো পরিষ্কার করা এবং মেরামত করা দরকার।

উত্তর কোরিয়াকে পর্যবেক্ষণ করে এমন একটি সিউলভিত্তিক ওয়েবসাইট এনকে প্রো অনুসারে, পিয়ংইয়ংয়ে ২০২৩ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত নয়টি দেশের দূতাবাস চালু ছিল। তবে শুধুমাত্র চীন, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং কিউবা গত বছর থেকে তাদের দূতাবাসে কর্মীদের সেখানে ফেরার অনুমতি দিয়েছে।

  করোনা ভাইরাস

;