Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে থাকতে হবে সতর্ক, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

নিত্যদিনে স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বস্তি আনতে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নানা ধরণের নতুন প্রযুক্তি ও পণ্য।

হেয়ার ড্রায়ার সেক্ষেত্রে খুব একটা নতুন কোন প্রযুক্তি না হলেও, এর ব্যবহারের মাঝে এখনও খুঁজে যাওয়া স্বস্তি। বিশেষ করে যাদের সময়ের ভীষণ স্বল্পতা তাদের জন্য হেয়ার ড্রায়ার দারুণ একটি অনুষঙ্গ।

গোসলের পর ঝটপট চুল শুকিয়ে নিতে চাইলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু উপকারী এই অনুষঙ্গটি ব্যবহারের অসাবধানতায় দেখা দিতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। ঘটতে পারে জীবনহানি।

সামান্য এই হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে অসতর্কতাই কাল হলো রাশিয়ান ক্যাসিনো স্টার লিলিয়ান নোভিকোভার জীবনে। দুর্ঘটনাবশত হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের সময় বিদ্যুৎ তাড়িত হয়ে ১১ জুন মারা যান ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/17/1560769955759.jpg

খুব সামান্য ভুলের জন্যেই হয়তো মাশুল দিতে হবে অনেক বড়। তাই আগে থেকেই সাবধান হয়ে যাওয়া, নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। আজকের ফিচারে আলোচনা করা হলো হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে এবং কোন নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।

১. হেয়ার ড্রায়ার কিনতে হবে দেখেশুনে। যেনতেন ব্র্যান্ডের কিংবা স্বল্প দামী চায়নিজ হেয়ার ড্রায়ার কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরণের হেয়ার ড্রায়ার সহজেই নষ্ট হয়ে যায় এবং এগুলো থেকে বিদ্যুৎ তাড়িত হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

ব্র্যান্ডের হেয়ার ড্রায়ারের মাঝে প্যানাসনিক, ফিলিপস, কেমেই, শাওমি, নোভা ও প্রফেশনালকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার কেনার সময় ১০০০ টাকার উপরে ওয়ারেন্টি দেখে এরপর কিনতে হবে।

২. ইলেকট্রনিক পণ্যের মেয়াদ খুব লম্বা সময় থাকে না এবং নির্দিষ্ট একটি সময় পরে এই সকল পণ্যে সমস্যা দেখা দেয়। যে কারণে টিভি, ফ্রিজ কিংবা এসির মতো হেয়ার ড্রায়ারও নির্দিষ্ট সময় পর সার্ভিসিং করানো প্রয়োজন। সার্ভিসিং করানো হলে এই জিনিসটি নির্ভয়ে ব্যবহার করা যাবে।

৩. প্রতিবার হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের আগে এর সকেটের অংশটি এবং কানেকশনের অংশটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে, এই সকল অংশে পোড়া দাগ রয়েছে কিনা। একইসাথে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পরে খেয়াল করতে হবে, হেয়ার ড্রায়ার থেকে এবং সকেটের অংশ থেকে কোন ধরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে কিনা। যদি পোড়া দাগ দেখা যায় এবং শব্দ শোনা যায় তবে দ্রুত সার্ভিসিংয়ে দিতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/17/1560769977387.jpg

৪. পানিযুক্ত স্থানের পাশেপাশে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যাবে না। এতে করে বিদ্যুৎ তাড়িত হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায় অনেকখানি। শুষ্ক স্থানে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে হবে।

৫. চুল অতিরিক্ত ভেজা থাকলে এবং হাতে পানি থাকলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যাবে না। এতে করে খুব সহজেই বিদ্যুৎ তাড়িত হওয়ার সম্ভবনা থাকে এবং বিপদের সম্ভবনা থাকে।

৬. হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের পর বিছানা কিংবা সোফার উপরে রাখা যাবে না। ব্যবহারের পর হেয়ার ড্রায়ারের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় অনেকখানি। উত্তপ্ত হেয়ার ড্রায়ার এই সকল নরম স্থানে রাখা হলে, গরম ভাপ বের হতে পারে না। এতে করে হেয়ার ড্রায়ারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বিছানা কিংবা সোফায় আগুন ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৭. ব্যবহার শেষে অবশ্যই মনে করে হেয়ার ড্রায়ারের সুইচ অফ করে আন প্লাগড করতে হবে। সামান্য এই ভুল থেকে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বিত্তবান হতে গড়ে তুলতে হবে ‘তিন অভ্যাস’

আরও পড়ুন: যে অভ্যাসগুলো কমাবে বয়স বৃদ্ধির হার

আপনার মতামত লিখুন :

ভালো হয়নি পরীক্ষার ফল!

ভালো হয়নি পরীক্ষার ফল!
আশানুরূপ ফল না হলে ভেঙে পড়া যাবে না, ছবি: সুমন শেখ

পরীক্ষা, পরীক্ষার ফল, সিজিপিএ- এই শব্দগুলো সবসময়ই মনের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

প্রস্তুতি যতই ভালো থাকুক না কেন, ঠিকই মনের মধ্যে খুঁতখুঁত করে, অশান্তি বোধ হয়। ব্যাপারটাই এমন অশান্তিদায়ক যে!

কিন্তু যতই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, নিয়মমাফিক ঠিক সময়ে পরীক্ষাও হবে, পরীক্ষার ফলাফলও বের হবে। নিজেকে শুধু পরীক্ষার জন্যে নয়, ফলাফল গ্রহণের জন্যেও প্রস্তুত করা প্রয়োজন। বলা যেতে পারে, এটাও পড়ালেখা ও পরীক্ষার মতো অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়।

ভালো ফলাফল সবার কাম্য হলেও ব্যতিক্রম ঘটনাও থাকে। আশানুরূপ ফল যতটা ভালোলাগা ও আনন্দ নিয়ে আসে, আশানুরূপ ফল না হলে তার চেয়ে বেশি হতাশা ও মনঃকষ্ট তৈরি করে। কিন্তু সবার আগে একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, এই ফলাফলেই সবকিছু থেমে যাবে না।

ফলাফল যদি আশানুরূপ না হয় সেক্ষেত্রে ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই বাজে সময়টাতে কিছু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন ভবিষ্যৎ সময়ে উঠে দাঁড়ানোর জন্য।

নিজেকে শান্ত রাখা

ফলাফল যেমনই বা যতটাই খারাপ হোক না কেন, নিজেকে শান্ত রাখতে হবে অবশ্যই। স্বাভাবিকভাবে এ সময়ে একসাথে অনেক ধরনের অনুভূতি কাজ করবে, অশান্তি ও অস্থিরতা চরমে থাকবে। কিন্তু কোন কিছুই তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই ফলাফল গ্রহণের পর নিজেকে শান্ত রাখাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের মতো কাজ।

অন্যের ফলের সাথে তুলনা থেকে বিরত থাকা

ভুলেও এই কাজটি করা যাবে না। অন্ততপক্ষে ফলাফল গ্রহণের পর থেকে বেশ কিছুদিনের জন্য। এতে করে শুধু মানসিক চাপই বৃদ্ধি পাবে। সহপাঠীদের সাথে ফলাফল তুলনা ও বিশ্লেষণ করা খুবই সাধারণ একটি কাজ। কিন্তু নিজের মনমতো ফলাফল না হলে সেক্ষেত্রে এ কাজটি থেকে বিরত থাকাই ভালো হবে।

কারো সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা

পরীক্ষা, পরীক্ষার ফলাফল, নিজের প্রত্যাশা- সবকিছু নিয়ে খোলাখুলিভাবে কারোর সাথে আলোচনা করতে পারলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। সেটা হতে পারে সহপাঠী, বন্ধু, বড় ভাই-বোন অথবা পরিবারের কেউ। তবে এমন কারো সাথে আলোচনা করতে হবে, যে অহেতুক ব্যঙ্গ না করে আপনার মানসিক অবস্থা বুঝে আপনাকে ভালো ও কার্যকর পরামর্শ দিতে পারবে।

নিজেকে নিজের সময় দেওয়া

ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে বিষাদগ্রস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ সময়ে যদি কারোর সঙ্গ ভালো না লাগে তবে একেবারে নিজের মতো করে সময় কাটালে উপকার হবে। প্রয়োজনে সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকেও সাময়িক সময়ের জন্য দূরে থাকতে হবে। একান্তে নিজের মতো কিছু সময় কাটাতে পারলে নিজের সার্বিক পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা যাবে।

পরবর্তী করণীয় নিয়ে পরিকল্পনা

একান্তে নিজের মতো সময় কাটানোর মাঝে মনের মাঝে ছক কেটে ফেলা যায় কি করা যেতে পারে পরবর্তী সময়ে। কারণ এই ফলাফলেই সবকিছুর শেষ নয়। বরং এখান থেকেই শুরু হবে বড় ধরনের যুদ্ধ ও প্রস্ততি।

বাবা-মায়ের সাথে আলোচনা করা

অপ্রত্যাশিত ফলাফলে শুধু নিজের নয়, সাথে বাবা-মায়েরও মন খারাপ হয়। তাদের সাথে সরাসরি এ বিষয় নিয়ে কথা বললে, আলোচনা করলে ইতিবাচক কোন দিক পাওয়া যাবে। অবশ্যই তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারি। তাই তাদের পরামর্শ গ্রহণ করলেও উপকার পাওয়া যাবে।

তবে সব কিছুর শেষে একটা বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, নিজেকে শক্ত রাখতে পারলেই উত্তরণ করা যাবে এই পরিস্থিতি থেকে।

আরও পড়ুন: মন ভালো হবে মুহূর্তেই!

রান্নাতে সুস্থ মস্তিষ্ক!

রান্নাতে সুস্থ মস্তিষ্ক!
প্রিয় খাবার রান্না শুধু মন নয়, ভালো রাখবে মস্তিষ্ককেও, ছবি: সংগৃহীত

আমাদের শরীরে অন্যান্য পেশীর মতো মস্তিষ্কও একইভাবে কাজ করে।

যে কারণে মস্তিষ্কের সুস্থতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে, প্রয়োজন হবে তাকে নিয়ে কাজ করা বা তাকে কাজ করানো। বেশ কয়েক ধরনের উপায় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা যায়, যার মাঝে নিত্যদিনের রান্নাবান্নাও রয়েছে। আনন্দ নিয়ে প্রিয় খাবারটি রান্না করাও এক ধরনের মস্তিষ্কের ব্যায়ামের অন্তর্ভুক্ত!

তবে রান্নাবান্নাতে আগ্রহ না থাকলেও সমস্যা নেই, এর সাথে আরও কয়েক ধরনের ভিন্নমাত্রিক কার্যক্রম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।  

বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখুন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563339636913.jpg

ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে নির্দিষ্ট কোন একটি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার ক্লাসে ভর্তি হয়ে যান। যেটা হতে পারে গিটার, বাঁশি অথবা পিয়ানো। বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার মাধ্যমে মন প্রফুল্ল হয় ও মস্তিষ্কের উপর ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়।

মনে মনে অংক করুন

কিছু সময় ক্যালকুলেটরকে সরিয়ে নিজ মনে হিসাবনিকাশ সেরে নিতে হবে। মন বলতে বোঝানো হচ্ছে মাথা। ছোটখাটো যোগ-বিয়োগের ক্ষেত্রে নিজে নিজেই হিসাবগুলো করে নিতে হবে। যা মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখতে ও দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করে।

অতীতের কোন ঘটনা মনে করার চেষ্টা করুন

আগেকার সময়ে ঘটে যাওয়া ভালো ও আনন্দদায়ক কোন ঘটনার স্মৃতিচারণ মনকে ভালোই করবে না, সাথে মস্তিষ্কের চর্চাতেও ভূমিকা রাখবে। স্মৃতি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির ফলে নিউরাল সংযোগ দৃঢ় হয়।

পছন্দের খাবার রান্না করুন

অনেকের কাছে অবাক হওয়ার মতো তথ্য হলেও, প্রিয় ও পছন্দের খাবার খুব আয়োজন করে রান্না করাও আপনার মস্তিষ্কের উপরে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে বলে জানাচ্ছে গবেষকেরা। রান্নার আয়োজনে রেসিপি অনুযায়ী সকল উপাদান সংগ্রহ করা, গুছিয়ে রাখা, পরিমাণ ঠিক রাখা, সময় ধরে জিনিসপত্র ব্যবহার করা, খাবারের দারুণ দৃশ্য, সুগন্ধ ও স্বাদ মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে ও কর্মক্ষম রাখতে কাজ করে। যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন কাজে অবদান রাখে।

পাজল গেম খেলুন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563339620109.jpg

মস্তিষ্কের পাশাপাশি চোখের কোঅর্ডিনেশনকে সমন্বিত রাখতে চাইলে পাজল গেম খেলতে হবে। মোবাইল বা ট্যাবে পাজল গেম না খেলে বাস্তবের পাজল বক্সের পাজল গেম খেলা হবে উত্তম পন্থা। এতে করে মস্তিষ্ক নানাভাবে চিন্তা করে, সংযোগ খোঁজার চেষ্টা করে, অমিলের ভেতর থেকে মিলকে খুঁজে বের করতে কাজ করে। যা সামগ্রিকভাবে মস্তিষ্কের উপর উপকারী প্রভাব বিস্তার করে।

নতুন ভাষা শেখা শুরু করুন

জানার তো কোন শেষ নেই। সেক্ষেত্রে পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কোন ভাষা শেখা শুরু করুন। যা জ্ঞানীয় কার্যকারিতার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: হিমশিম খাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে?

আরও পড়ুন: বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র