Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যে অভ্যাসগুলো কমাবে বয়স বৃদ্ধির হার

যে অভ্যাসগুলো কমাবে বয়স বৃদ্ধির হার
বয়স বাড়ুক ধীর গতিতে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বয়সকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সময়ের কাঁটায় আটকে রাখতে পারলে নিশ্চয় খুব ভালো হতো।

দুঃখের বিষয় হলো, সময় ও বয়সকে কোনভাবেই একই স্থানে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তবে এখানে খুব সুক্ষভাবে একটি ‘কিন্তু’ আছে। বয়সকে নির্দিষ্ট সময়ে বেঁধে রাখতে না পারলেও, বয়স বৃদ্ধিকে ধীর গতির করতে পারবেন খুবই উপকারী কয়েকটি নিয়মকে আত্মস্থ করার মাধ্যমে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

খুব সহজভাবে বললে- আমরা তাই, যা আমরা খাই। অর্থাৎ আমরা প্রতিদিন যে সকল খাবার গ্রহণ করছি, শারীরিকভাবে আমরা নিজেরা সেটাই হয়ে উঠছি। অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে অসুস্থ, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে সুস্থ। আমরা নিজেরাই যদি ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড, প্রসেসড ফুড ও উচ্চমাত্রার চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে ফেলি, তবে সুস্থতা পাওয়ার আশা সেখানে একেবারেই অমূলক। যত বেশি অসুস্থতা দেখা দেবে, তত বেশি শরীরের বয়স বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

শরীরচর্চা করুন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557730365138.jpg
অল্প সময়ের জন্য হলেও দৌড়ানোর অভ্যাস করতে হবে 

 

শরীরচর্চা শুধুই শরীরকে ফিট রাখতে নয়, শারীরিক শক্তিকে বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ শরীরের পেশী ও হাড়কে মজবুত করে। এমনকি প্রতিদিন ১০-২০ মিনিটের শরীরচর্চা অথবা দৌড় আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।

কাজে লাগান মস্তিষ্ককে

আমাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতোই মস্তিষ্ককে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না যায়, তবে মস্তিষ্ক তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে অনেকখানি। যে কারণে মস্তিষ্কের ব্যবহার সম্বন্ধে বলা হয়ে থাকে, ‘এটার যথাযথ ব্যবহার করো অথবা এটাকে হারিয়ে ফেলো’। আমরা ভাবি বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা তথা চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটবে। কিন্তু সঠিক বিষয়টি হলো, যেকোন বয়সেই মস্তিষ্ককে যদি ভালোভাবে কাজ করানো যায়, তবে তা চমৎকার পারফর্ম্যান্স দেখাবে। মস্তিষ্ককে সচল রাখতে পাজল গেম, ম্যাথ সলভিং গেম, নতুন ভাষা শেখার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।

ঘুমান পর্যাপ্ত

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557725924958.jpg
ঘুমাতে হবে পর্যাপ্ত

 

কাজের চাপ ও ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, ঘুমের ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেওয়া যাবে না মোটেও। ঘুম যত কম হবে, শরীরের ওপর তত বেশী চাপের সৃষ্টি হবে। এতে করে খুব স্বাভাবিকভাবেই শরীর বুড়িয়ে যেতে শুরু করবে সময়ের আগেই। প্রতিদিনের কর্মব্যস্তময় সময়ের মাঝে ঘুমের জন্য অবশ্যই ৭-৮ ঘন্টা সময় আলাদা করে রাখতেই হবে।

পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান

নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য অন্যান্য সকল কাজের মাঝে আরও যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে, সেটা হলো নিজেকে আনন্দিত রাখা, প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে রাখা। শারীরিক সুস্থতা যেমন বয়সের উপরে প্রভাব ফেলে, ঠিক একইভাবে মানসিক সুস্থতাও বয়সের উপর প্রভাব বিস্তার করে। একাকীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। তাই চেষ্টা করুন নিজেকে সবসময় আনন্দিত রাখার জন্য। পছন্দের মানুষের সাথে সময় কাটানোর ফলে মানসিক প্রশান্তি শারীরিকভাবেও ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।

আরও পড়ুন: বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন?

আরও পড়ুন: জীবন হোক আনন্দ ও হাসিতে ভরপুর

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র