Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেট কারা!

চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেট কারা!
কোরবানির পশুর চামড়া
ইসমাঈল হোসাইন রাসেল
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

চামড়া শিল্পই দেশের অর্থনীতির জন্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সম্ভাবনাময় এ খাতের প্রধান কাঁচামাল চামড়ার দাম বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। কিন্তু কেন চামড়ার বাজার এমন অস্থিতিশীল, তার সমীকরণ কিছুটা জটিল। একে অপরকে দোষারোপ, সিন্ডিকেটসহ রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ। আর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়তে হয় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। তাদের অভিযোগ, আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের তৈরি সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। পরিস্থিতি যখন এমন, তখন প্রশ্ন উঠেছে চামড়ার বাজারের সিন্ডিকেট কারা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেওয়া দর অনুযায়ী লবণ মিশ্রিত চামড়া ২০ বর্গফুটের একটি চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছয়শ থেকে সাতশ টাকা। সেখানে লাভের আশায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাসা-বাড়ি থেকে চামড়া কিনেছেন তিনশ থেকে চারশ টাকা দরে। কিন্তু মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তারা। আড়তদাররা চামড়া কেনার টাকার অভাব আর সংরক্ষণের কথা বলে জটিল সমীকরণে ফেলে দেন মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। ফলে আড়তদাররা সরাসরি চামড়া না কেনায় মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় চামড়া নিয়ে বসে থাকতে বাধ্য করে। পরে চামড়া নষ্ট হওয়ার আতঙ্কে নামমাত্র মূল্যে লোকসানে বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আর কম দামে কিনে মধ্যসত্ত্বভোগীরা মুনাফা রেখেই সেই চামড়া বিক্রি করেন আড়তদারদের কাছে। যা পরে আড়তদাররা লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে ট্যানারি মালিকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে কিংবা তার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করেন। আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা মধ্যসত্ত্বভোগী তৈরি করে মাঝখান থেকে বেশি লাভবান হয় বলে জানা যায়।  

আরও পড়ুন: সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লবণের দাম, বিক্রি হয়নি অর্ধেকও

সূত্র বলছে, অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়ার ব্যবসা সম্পর্কে অজ্ঞ। ফলে তারা অল্পতেই হতাশ হয়ে লোকসানে পড়েন। কারণ প্রথম দিনেই তারা চামড়া বিক্রি করতে না পারলে অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়েন, এবং পুঁজি হারানোর শঙ্কায় পড়ে যান। কিন্তু এই চামড়া তারা লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে ১৫ দিন রাখতে পারলেই লাভবান হতে পারেন। সেক্ষেত্রে বাজারের পুঁজি নেই এমন অজুহাতে মধ্যসত্ত্বভোগীরা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা এসব চামড়া কম দামে কিনে বাড়তি মুনাফা অর্জন করছে। আর সার্বিকভাবে যারা পশু কোরাবানি করেন, তারা দাম কম পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা থাকে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। কারণ তারাই তৃণমূল পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহ করেন। তারা যখন আড়তদারদের কাছ থেকে দাম পান না, তখন তার প্রভাব পড়ে গোটা দেশের চামড়ার বাজারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/13/1565693215249.jpg

জানা গেছে, ঢাকায় ২০১৩ সালে যেখানে গরুর চামড়ার দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, সেখানে এ বছর এই চামড়ার দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সময় খাসির চামড়ার দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। দুই ভাগ কমে এ বছরে এর দাম নেমে এসেছে ১৮ থেকে ২০ টাকায়। অনেক ক্ষেত্রে খাসির চামড়া বিনামূল্যেও দেওয়া হয়। এ বছর এক কোটি পিস পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন। গত বছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল সোয়া এক কোটি পিস। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১৫ লাখ পিস চামড়া কম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন তারা ব্যবসায়ীরা।

লালবাগের পোস্তায় চামড়ার পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে লবণ দেয়ার কাজ চলছে আড়তগুলোতে। সব মিলিয়ে এবার ৭ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে পোস্তায়। আড়তে চামড়া লবণজাত অবস্থায় থাকবে ২০ থেকে ২৫ দিন। এরপর এখান থেকে চামড়া নেবেন ট্যানারি মালিকরা।

তবে সাইন্সল্যাব এলাকায় গড়ে ওঠা বাজারের অর্ধেক চামড়া আজ রাতের মধ্যে সাভারের হেমায়েতপুরে চলে গেছে। সেখানে গিয়ে লবণ লাগানো হবে। বাকি ৩০ শতাংশ চামড়া যাবে হাজারীবাগে। আর সাধারণত ২০ শতাংশ চামড়া যায় পোস্তায়। পরে হাজারীবাগ ও পোস্তা থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে নিয়ে যাওয়া হবে।

আরও পড়ুন:  চিরচেনা রূপ হারিয়েছে পোস্তা!

চামড়ার বাজারের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে দাউদকান্দি থেকে আসা মেম্বার রহম আলি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, '১২ বছর যাবত এই ব্যবসা করি, কিন্তু এমন লস কোনদিন হয় নাই। কেউ চামড়া নিতে চায়না, দামও কয় না। আড়তদাররা কয় হেগো কাছে টাকা নাই। এহন আমি সব চামড়া ফেরত নিয়া যামু, লবণ দিয়া রাইখা দিমু। পরে ভালো দাম পাইলে বেচুঁম, নইলে সব লস হইবো।'

আর আড়তদাররা জানান, পুঁজি না থাকায় তারা চামড়া কিনতে পারছেন না। ট্যানারি মালিকরা বকেয়া পরিশোধ করলে সমস্যা থাকবে না। বাজারও আগের মতোই চাঙা হয়ে যাবে। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা বাজারে এই সংকট তৈরি করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/13/1565693243497.jpg

তবে ট্যানারি মালিকরা মনে করেন চামড়ার আড়তদার ও ফড়িয়াদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে চামড়ার দাম কমে যাচ্ছে। ফলে সংকটে পড়ছে চামড়ার বাজার। কিন্তু চামড়ার বাজারে কোনও সিন্ডিকেট আছে বলে মনে করেন না আড়তদার ও ফড়িয়ারা। তাদের দাবি শুধুমাত্র ট্যানারি মালিকরা পাওনা অর্থ পরিশোধ করলেই সমস্যার সামাধান সম্ভব।

কারা চামড়ার বাজারের সিন্ডিকেট জানতে চাইলে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, চামড়ার বাজার অস্থিতিশীল করছে পোস্তার ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন আমাদের কাছে ২৫০ কোটি টাকা পাওনা আছেন, এটি একদমই সত্য নয়। তারা আমাদের কাছে ১৫০ কোটি টাকার মতো পাওনা আছেন। অধিকাংশ ট্যানারি মালিকই ইতোমধ্যর তাদের অর্থ পরিশোধ করেছেন। সাভারে স্থানান্তরিত ট্যানারিগুলোও প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করেছে। আমাদের ব্যবসা ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার, সেখানে এমন সমস্যা কিছুটা হবেই। তবে কাঁচা চামড়ার বাজারটা তারাই নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে আমাদের কোন হাত নেই। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যখন পোস্তায় চামড়া বিক্রি করতে যান, তখন তারা সেটি তিনশ' কিংবা তার চেয়ে কিছু বেশি টাকা দিয়ে চামড়া কেনেন। কিন্তু আমাদের কাছে বিক্রির সময় তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করেন। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পোস্তার ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত হবার বিষয়টি সঠিক নয়। এখানে সিন্ডিকেটও কাজ করে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কিভাবে লাভবান হতে পারেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৌসুমি ব্যবসয়ীরা অনেক সময় না বুঝে কম দামে চামড়া বিক্রি করে দেন। কিন্তু তারা যদি ট্যানারিগুলো যখন চামড়া কিনে, তখন বিক্রি করে তাহলে কিন্তু তাদের কোন লোকসান হবে না। এই সময় পর্যন্ত তারা চামড়া লবণ দিয়ে রাখলেই সমস্যা হয় না। কিন্তু সাধারণত চামড়া অনেক হাত বদল হওয়ার কারণে সংকট হয় বেশি। কারণ মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফড়িয়ারা চামড়া কিনে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেন, তারা আবার আমাদের কাছে অনেক বেশি দামে চামড়া বিক্রি করেন। ফলে অনেক হাত ঘুরে চামড়ার দামও বাড়তে থাকে। কিন্তু বঞ্চিত হন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন:  চামড়ায় নিঃস্ব ফড়িয়ারা, লাভবান আড়তদাররা

আর চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেট আছে, তা মানতে নারাজ বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে তিনি বলেন, চামড়ার বাজারে কোনও সিন্ডিকেট হয় না। প্রতিবছর ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেটের কথা বলেন, কিন্তু এটি সঠিক নয়। সমস্যা হয় তাদের কাছে পাওনা টাকা যখন আমরা পাই না তখনই। তারা প্রচুর টাকা বকেয়া রেখেছেন। তাদের কাছে ৩৫০ কোটি টাকার মতো আমরা পাওনা রয়েছেন আমাদের আড়ৎদাররা। কিন্তু আমরা একেবারেই চামড়া কিনছি না বিষয়টি তেমন নয়, কিন্তু আমরা যে পরিমাণ কিনতে চাচ্ছি তা পুঁজির অভাবে কিন্তু পারছি না। সবার কাছে টাকা থাকলে বাজারে প্রতিযোগিতা থাকত, ফলে চামড়ার দামও বাড়ত।

তিনি বলেন, বাজারে কম দাম হলেও চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে। আর জেলা পর্যায়ের যারা এখনও চামড়া আনতে পারেননি, তারা কিন্তু লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করে রেখেছেন। ফলে চামড়া পচে যাচ্ছে বিষয়টি তাও নয়। ৮০ ভাগ ফড়িয়ারাও কিন্তু এখন লোকসানে আছেন। ফলে ট্যানারি মালিকরা বকেয়া পরিশোধ করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

প্রসঙ্গত, সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী ঢাকায় কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুটের চামড়া লবণ দেওয়ার পরে ৯০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে চামড়া বেচা-কেনা হচ্ছে আরও কম দামে।

আরও পড়ুন:  রংপুরে চামড়ার সরবরাহ কম, হতাশ ব্যবসায়ীরা

চামড়া পাচার রোধে বেনাপোল সীমান্তে সতর্কতা

আপনার মতামত লিখুন :

রাজধানীতে শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

রাজধানীতে শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক
মাদক ব্যবসায়ী আসমা বেগম।

রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা হতে ৪৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব।

সোমবার (২৬ আগস্ট) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব ২ এর মেজর মোহাম্মাদ আলী বলেন, 'রোববার (২৫ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব তাকে আটক করে।'

তিনি আরও বলেন, 'শীর্ষ ওই নারী মাদক ব্যবসায়ীর নাম আসমা বেগম। তিনি ২০/২৫ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা তাদের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছি। একে একে এই সিন্ডিকেটের সবাইকে আটক করা হবে।' 

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা ২০০ পরিবার, আতঙ্কে ১৫ চরবাসী

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা ২০০ পরিবার, আতঙ্কে ১৫ চরবাসী
পানির স্রোতে ভাঙছে পদ্মার পাড়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহীতে উজানের ঢলে নেমে আসা পানিতে ফেঁপে উঠছে পদ্মা। বিপদসীমার মাত্র ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। তবে সেটা রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধা এলাকায়। যেটিকে পদ্মার রাজশাহী পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়। পদ্মার মূল পয়েন্টে বিপদসীমা এখনো অতিক্রম না করলেও জেলার বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙনের কবলে পড়ে এরই মধ্যে বসত-ভিটা ছাড়া হয়েছেন দুই শতাধিক পরিবার। তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন চকরাজাপুরের ১৫টি চরের মানুষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796058911.jpg

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মায় ফুলে ফেঁপে ওঠা পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে নদীর পাড়। পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ে পাড় ভেঙে চকরাজাপুর ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেসে গেছে গাছপালা। আর ৫০ গজ ভাঙলেই পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর নাপিতের মোড় ও কিশোরপুর এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গিয়ে ঠেকবে ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। তবে ভাঙন রোধে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচে পদ্মার পানি

চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর চরের মান্নান মন্ডল, মিজানুর রহমান, সামাদ মালিথা, হানে ফকির, হাফিজুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, হানু কাজী, সাইদুল ইসলাম, মজনু মোল্লা ও চকরাজাপুর চরের হাসান শেখ, জব্বার মন্ডল, হিরো মন্ডল, শাহিনা বেগম, ফজলু শিকদার, আকতার মন্ডল, রহমান মোল্লা হাফিজুর রহমানসহ শতাধিক পরিবার ভিটে-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796157103.jpg

তাদের মতো ভাঙন আতঙ্কে ঠিকানা খুঁজছেন চকরাজাপুর চরের আরো শতাধিক পরিবার। ঠিকানা হারিয়ে কোথায় যাবেন তা নিয়েও দুঃশ্চিন্তা তাদের। পানিবন্দি হয়ে গবাদিপশু নিয়ে অবর্ণনীয় জীবন যাপন করছেন কালিদাখালি, চকরাজাপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, চকরাজাপুর, পলাশি ফতেপুর, ফতেপুর পলাশি, লক্ষীনগর, চকরাজাপুর, পশ্চিম চরকালিদাস খালী, পূর্ব চকরাজাপুর, জোতাশি, মানিকের চর, লক্ষিনগর, টিকটিকিপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, নওশারা-মহদীপুর চরের মানুষ।

স্থানীয় সবুর মল্লিক ও লিটন আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, নদী তীরবর্তী বাঁধের পশ্চিমপাড় থেকে এ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে অরক্ষিত এলাকার আরও অনেক জমি ও ঘরবাড়ি নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে।

চকরাজাপুর চরের মোস্তাক আহম্মেদ শিকদার বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পদ্মায় বিঘার পর বিঘা জমির ধান, পাট, আবাদি জমি, গাছপালা হারিয়ে গেছে। মানুষদের সহযোগিতা তো দূরের কথা সান্ত্বনা দেওয়ার মতোও কেউ নেই। বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ভাঙন ঠেকানোর আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’

আরও পড়ুন: বর্ষায় শান্ত পদ্মা ফুঁসে উঠছে শরতে

পূর্ব চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ার শওকত জামান বলেন, ‘কয়েক দিনের পানি বৃদ্ধির কারণে ফসলি জমিসহ গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোনো রকম বেঁচে আছে দুই শতাধিক পরিবার। তারা এখন ঘরবাড়ি সরাতে ব্যস্ত।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796113226.JPG

চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা এরমধ্যেই ৩০টি পারিবারের তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেছি। অন্যদের ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। যাদের ঘর-বাড়ি ভেঙেছে তাদের সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।’

জানতে চাইলে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহিন রেজা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ৩০টি পরিবারের তালিকা পেয়েছি। সেটি উপরমহলে জানানো হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ পেলে তাদের পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া ভাঙনের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র