গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাহাড় সমান অনিয়ম

বিবিধ, স্বাস্থ্য-বার্তা

মাজেদুল হক মানিক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৩.কম, মেহেরপুর | 2023-08-31 23:11:09

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান হাসপাতালে আসেন মনমত। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকলেও কর্মচারীদের অনেকেই থাকেন না হাসপাতালে।

নার্সদের কয়েকজন চলেন আপন মনে। রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয় তা যেমন নিম্নমানের তেমনি পরিমাণেও কম। রোগী না থাকলেও বন্ধ হয় না বেদ্যুতিক বাতি ও ফ্যান। আবার অত্যাধুনিক জেনারেটর চলে কাগজ-কলমে। বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতাল যেন ভূতের বাড়ি।

এই হল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তথা গাংনী হাসপাতালের রোজকার চিত্র। রোববার (১২ মে) দুপুরে হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শনে এলে এসব অনিয়ম চোখে পড়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন। সঙ্গে ছিলেন কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, প্রতিদিনের খাবারে মাছ বরাদ্দ ২৩৬ গ্রাম করে। রোগীরা পাচ্ছেন ৫০ গ্রাম। পচা ডাল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য দিয়ে রান্না করা হয়। অপরদিকে রোগীর বেডসিট ও অন্যান্য কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের আলামত পাওয়া গেছে। দুর্নীতির কারণে খাবার ও ওয়াশিং ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমকর্তা হাসপাতালে ঠিকমত থাকেন না। এদিন পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালে ছিলেন না।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তিনি প্রশিক্ষণে আছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। হাসপাতালেও প্রশিক্ষণে যাওয়ার কোনো কাগজপত্র নেই।
অপরদিকে, হাসপাতালের অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানানোর জন্য এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।

দুপুরে সংসদ মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন আকস্মিক হাসাপাতালে ঢুকে সোজা রান্নাঘরে ঢুকে পড়েন। সেখানে ধরা পড়ে নিম্নমান ও পরিমাণের চেয়ে কম খাবারের বিষয়টি। পরে তিনি চারতলায় রোগী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে নোংরা পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ অপচয়ের দৃশ্য দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শন খাতায় অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে আরএমও বিডি দাসও লিখিত নোট দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, রোগীদের টয়লেট নোংরা আর স্টাফদের টয়লেট অনেক পরিষ্কার। লোক নেই জন নেই তবুও লাইট ও ফ্যান চালান হচ্ছে। সরকারি এই সম্পদ অপচয়কারীদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও একজন চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মচারীর বিষয়েও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর