সুন্দরবনে অগ্নিদুর্ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী বহুমাত্রিক প্রভাব



অধ্যাপক চয়ন বিকাশ ভদ্র
সাম্প্রতিক ছবি

সাম্প্রতিক ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

উদ্ভিদ ও প্রাণী বৈচিত্র্য নিয়ে আপন বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। এই বন আমাদের গর্ব। এটি বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। নানা ধরনের গাছপালা, পশুপাখি এবং মৎস্যসম্পদে পরিপূর্ণ বিশ্বখ্যাত সুন্দরবন। আমরা জানি, সুন্দরবনের মোট গাছপালার প্রায় শতকরা ৭৩ ভাগই সুন্দরী গাছ। সুন্দরী গাছ ছাড়াও এখানে রয়েছে পশুর, ধুন্দল, কেওড়া গরান, গর্জন, গোলপাতা ও ফার্নের মতো প্রায় ৩৩০ প্রজাতির গাছপালা ও উদ্ভিদ, সি ঈগাল, বাজ, সাদা বক, মাছরাঙা, কাঠঠোকরা, বনমোরগের মতো ২৭০ প্রজাতির পাখি এবং কোড়াল, ফাইসা, চিংড়ির মতো নানা ধরনের বড় ও ছোট আকারের ৪০০ প্রজাতির মাছ।

বলা প্রয়োজন, সুন্দরবন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের আধারই নয়, দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা এবং ঝড়, বন্যার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে এলাকাকে বাঁচাতে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় বনাঞ্চলের রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। বিগত প্রায় দুইশ’ বছরে কম করে হলেও ৩০ বার বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত হেনেছে সুন্দরবনের ওপর। সবশেষে সিডর, আইলা ও মহাসেনের প্রবল তান্ডবে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সুন্দরবন হারিয়েছে বিপুলসংখ্যক গাছপালা, পশুপাখি ও মৎস্যসম্পদ, এতে হুমকির সম্মুখীন বনের প্রাণিবৈচিত্র। তারপরেও ঝড়ঝঞ্ঝা, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, সিডর ও আইলার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে এলাকাকে বাঁচাতে সুন্দরবন রেখেছে সাহসী যোদ্ধার ভূমিকা। ঢাল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থকে সৈনিকের মতো সুন্দরবন রক্ষা করেছে উপকূলীয় লাখো মানুষের জীবন, তাদের বাড়িঘর, পশুপাখি, মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। বাংলাদেশের রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুন্দরবন। কিন্তু বার বার আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছে সুন্দরবন। একবার আগুন লাগার ধকল সামলে উঠার আগেই আবার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে একরের পর একর বন। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জীব বৈচিত্র্য, এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে বহু প্রাণী।

গত ৪ মে ২০২৪ শনিবার সকাল ১১টায় পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আমুরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির লতিফেরছিলা এলাকায় আগুন লেগে বন বিভাগের হিসেবেই পুড়ে যায় ৭.৯ একর বনভূমি। ৪৭ ঘন্টা পর ৬ মে দুপুর আগুন শতভাগ নিয়ন্ত্রনে আসে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সুন্দরবনে আগুন লাগা যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরই বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্গত সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে, এর পছনে স্থানীয় প্রভাবশালী কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের হাত রয়েছে। প্রতিবছরই পুড়ছে বনের নতুন নতুন এলাকা। এবারের আগুন লেগেছে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আমরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির এলাকায়। বনে সাধারণত আগুন লেগে থাকে বজ্রপাত অথবা প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে গাছে গাছে সংঘর্ষের কারণে। বন থেকে মধু, গোলপাতা, সুন্দরী গাছ আহরণরতদের ফেলে আসা বিড়ি-সিগারেটের টুকরা থেকেও আগুন লাগা বিচিত্র নয়। তবে তা খুব কমই ঘটে থাকে।

সুন্দরবন একদিকে যেমন বাংলাদেশের গর্ব, অন্যদিকে বিশ্ব ঐতিহ্য বা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশও বটে। আর তাই বন ও জলদস্যুদের উৎপাত এবং দুর্বৃত্তদের বারবার আগুন লাগানোর বিষয়টি উদ্বেগজনক। চক্রটি শুকনো মৌসুমে বনে আগুন লাগিয়ে প্রশস্ত করে মাছ চাষের পথ। এর পাশাপাশি বনের জায়গা দখল করাও আরেকটি উদ্দেশ্য হতে পারে। বন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, সর্বশেষ অগ্নিকা-সহ আগের ২৪টি ঘটনায় সুন্দরবনের প্রায় ৮৫ একর বনভূমির বিভিন্ন ধরনের গাছপালা পুড়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে জীববৈচিত্র্য। স্থানীয় গ্রামবাসীদের ভাষ্য, প্রধানত মাছ চাষের জন্যই প্রতিবছর দুষ্টচক্র আগুন লাগিয়ে থাকে সুন্দরবনে। সুন্দরবনে বারবার আগুন লাগার পেছনে কিছু মানুষের দুরভিসন্ধি ও হঠকারিতাই প্রধানত দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে ।

আগুনের যে প্রভাব থাকছে অনালোচিত

এবার বারবার আগুন লাগায় এই ম্যানগ্রোভ বনের জীবকুলের উপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবো। ম্যানগ্রোভ বন হল বিশ্বের সবচেয়ে উৎপাদনশীল বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে একটি কারণ প্রচুর পরিমাণে জীববৈচিত্র্য রয়েছে, যার মধ্যে মাইক্রো থেকে ম্যাক্রো-অর্গানিজমের পাশাপাশি অমেরুদন্ডী এবং মেরুদন্ডী প্রাণী রয়েছে। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদগুলি উপকূলীয় সুরক্ষা, স্থিতিশীলতা, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, কার্বন সংরক্ষণ, জল পরিস্রাবণ এবং বিশুদ্ধকরণের মতো অসংখ্য পরিবেশগত ভূমিকা পালন করে। ম্যানগ্রোভের অন্যান্য সহায়ক পরিসেবাগুলি হল পুষ্টিকর সাইকেল চালানো, মাটি তৈরি করা এবং মাছ ও পাখিদের বাসস্থান এবং বাসা বাঁধার জায়গা হিসাবে পরিবেশন করা। ম্যানগ্রোভগুলি প্রায়ই জলাবদ্ধ জলাভূমি পরিবেশে পাওয়া যায় যা ধাতু সমৃদ্ধ। বিভিন্ন ধরণের আগাছা মাটিতে বাস করে এবং খাদ্য শৃঙ্খলে প্রাথমিক উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। ম্যানগ্রোভ বনের চারপাশে আগাছার উপস্থিতি বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে গুল্ম আগুনের জন্য নিজেদের সংবেদনশীল করে তোলে। এছাড়াও, নৃতাত্ত্বিক ক্রিয়াকলাপ যেমন বন উজাড়, বালি খনন, বাড়ি নির্মাণ, পুনরুদ্ধার এবং তৈলকরণ কার্যক্রম ম্যানগ্রোভ গাছপালাকে ধ্বংস করে এবং ম্যানগ্রোভ বনে পলি জমে যা জলাভূমিকে বালুকাময় মাটিতে রূপান্তরিত করে।

বালুকাময় মাটি আগাছা এবং ম্যাক্রোফাইটের বিস্তারকে সমর্থন করে। বনের ক্ষয়প্রাপ্ত অংশে আগাছার বৃদ্ধি অ-ম্যানগ্রোভ প্রজাতি যেমন আর্থ্রোপড (প্রজাপতি, মৌমাছি, ওয়াপ এবং পিঁপড়া), ইঁদুর (বুশ ইঁদুর), সাপ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের আকর্ষণ করে। বনের চারপাশের ঝোপগুলিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়া হলে তা সমগ্র বাস্তুতন্ত্রকে বিপন্ন করে, এটি মাটি এবং গাছপালাগুলির উপর তাপের বিরূপ প্রভাব পড়ে। গাছের পাতা শুকিয়ে গেলে (অক্টোবর-মার্চ) এবং সহজেই দাহ্য হলে শুষ্ক মৌসুমে পোড়ার ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে যাওয়ার ফলে ফলে বনের মাটির উপর পরিবেশগত প্রভাব পড়ে এবং ম্যানগ্রোভ বনের অন্যান্য জীবের উপরও এ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। উদ্বায়ী মাটির রাসায়নিকগুলি উচ্চ তাপমাত্রার অধীনে বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে এবং অ্যাসিড বৃষ্টি হিসাবে ফিরে আসে, উপরন্তু তরল রাসায়নিকগুলি বৃষ্টিপাতের সময় ভূগর্ভস্থ জলের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জলের উৎস এবং প্রতিবেশী জলাশয়কে দূষিত করার জন্য সঞ্চারিত হয় পোড়ানোর সময় জ্বলন্ত আগুন মাটিতে বসবাসকারী ঘাস এবং জীবগুলিকে মেরে ফেলে।

সমস্যা হল গুল্ম পোড়ানো মাটির গঠনকে ধ্বংস করে এবং জলাবদ্ধ ম্যানগ্রোভ মাটি এবং আশেপাশের জলে রাসায়নিক পদার্থের ক্ষয় ঘটায়। মাটির প্রোফাইলে ভারী ধাতুর ছিদ্রের ফলে মাটির পুষ্টির ক্ষতি হয়, যা মাটির পৃষ্ঠের জীবের উপর নতিবাচক প্রভাব ফেলে। মাটির উপরের মাটির পুষ্টি এবং মাটির উন্নতি সাধনকারী জীব যেমন কঁচো এবং কীটপতঙ্গের ক্ষয় হয় যা পচন এবং বায়ুচলাচলের সুবিধার্থে মাটিতে ঢোকে। ঝোপের আগুনের তাপে ধীর গতির প্রাণীর মৃত্যু হয় । পোড়া গাছের ধোঁয়া এবং কালি বায়ুমন্ডলীয় কণা বৃদ্ধি করে। পোড়া গাছের ধোঁয়া এবং কালি বায়ুমন্ডলীয় কণার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি বায়ুমন্ডলীয় কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধিতে অবদান রাখে যার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধি পায়। পোড়ানোর তাপ ম্যানগ্রোভের পাতাকে সঙ্কুচিত করে এবং তাদের সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ফলে উদ্ভিদ সঠিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ এবং অক্সিজেন ত্যাগ করতে পারে না।

বন না থাকলে একদিকে যেমন বাঘ, চিতল হরিণসহ অমূল্য বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে অন্যদিকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ বিবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন হবে জনপদ ও বসতি। বার বার সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সামগ্রিক ভাবে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে । গত ২২ বছরে সংরক্ষিত এই ম্যানগ্রোভ বনে ৩২ বার আগুন লেগে বড়গাছসহ লতাগুল্ম মারা গেছে। অগ্নিকান্ডের ফলে প্রাণীকূলের আবাস ও প্রজননস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন্যপ্রাণীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। বনের প্রাণ-প্রকৃতির শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রভাব পড়েছে বনের প্রাণীকূলের খাদ্যচক্রে। চরম আঘাত আসে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের উপর।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আমুরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির লতিফের ছিলা এলাকায় লতাগুল্ম বেশি থাকার কারণে আগুনে শুকনো পাতা বেশি পুড়েছে, বড় গাছের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে জানা গেছে, পুড়ে যাওয়া স্থানে লতাপাতা ও গুল্মজাতীয় সিংড়া ও বলা গাছ বেশি ছিল। সিংড়া ও বলা গাছ ম্যানগ্রোভের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ। আগুন লাগার এ স্থানটি ছিল পাখিদের আশ্রয়স্থল। নানা ধরণের কীটপতঙ্গ, শামুক, ব্যাঙ ও পাখির বিচরণ এখানে লেগেই থাকত। সুন্দরবন এক জটিল বাস্তুসংস্থান। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুজীব, ছোট-বড় উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমন্বয়ে এক বৃহৎ খাদ্যশৃঙ্খল তৈরি হয়েছে এখানে। বনের কোথাও আগুন লাগলে সে স্থানের খাদ্যশৃঙ্খল এলোমেলো হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। এই আগুনের কারণে বড় প্রভাব পড়তে পারে অজগরের ওপর। কারণ এই প্রাণীটি ধীরে চলে। এ ছাড়া কীটপতঙ্গ এবং ক্ষুদ্র প্রাণী যারা দ্রুত চলাফেরা করতে পারে না তারা ক্ষতির মুখে পড়বে। বাঘ, শূকর, হরিণ তারা দ্রুত সরে যেতে পারে; তাই তাদের ক্ষতির সম্ভাবনা কম।

বন্যপ্রাণীরা আগুনে ভয় পায়। বনে হঠাৎ আগুন লাগিয়ে দিলে জন্তুরা ভয় পেয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে এ দিক ও দিন ছুটতে থাকে। হারিয়ে যায় ওদের বাসস্থান। আগুন লেগে বনের নীচের দিক পরিষ্কার হয়ে গলে শিকারিদের শিকারেও সুবিধা হয়। বাসস্থান বা লুকনোর জায়গা না মেলায় সহজেই বন্যপ্রাণীরা শিকার হয়। আগুনের ভয়ে ছুটোছুটিতে অনেক পশুর বাচ্চাও পালাতে পারে না। শিকারিরা সহজেই তাদের শিকার করে। এমনকি, বড় প্রাণীরাও অনেক সময়ে আগুনে ঝলসে যায়, না হয় মারা যায়। আগুন নেভার পরে আতঙ্কের রেশে অনেক প্রাণীর বংশবৃদ্ধিও ব্যাহত হয়। আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায়না-বাদ যায় না সবুজ লতা-পাতা, উদ্ভিদের কন্দ, বীজ ও মূল, মাটির নানা উপকারী জৈব-অজৈব পদার্থ। সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের এই অংশটি উঁচু হওয়াতে সেখানে অজগরের আবাসস্থল রয়েছে। এ ছাড়া হরিণ, বানর, শূকর, বাদুড়সহ নানা প্রজাতির প্রাণীর বিচরণ তো রয়েছেই। ফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা এবং তাদের আবাসস্থল। তবে আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দ্রুত চলাফেরা করতে না পারা প্রাণী, পতঙ্গ এবং বিশেষ করে অজগর।

বাঘ গবেষকরা বলছেন, বাঘেরা আগুন ও শব্দকে বেশি ভয় পেয়ে থাকে। তাই সুন্দরবনের চাঁদপাই রঞ্জের আমরবুনিয়া ক্যাম্পের বনাঞ্চলের আগুনে বেশি প্রভাব পড়বে বাঘের ওপর। পুর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, টেরিটোরিয়াল প্রাণী হওয়াতে বাঘেরা সহসা অন্য এলাকায় গিয়ে অভিযোজিত হতে পারবে না। অন্যদিকে আগুন বেশিদূর না গড়ালেও বাঘের শিকার প্রাণীরা আগুনের কারণে এই এলাকা ছেড়ে চলে গলে খাদ্য সংকটে পড়তে পারে বাঘেরা। বাঘেরা নির্দিষ্ট এলাকায় বিচরণ করে থাকে। এই এলাকায় যে বাঘগুলো ছিল সেগুলো এখন বনের অন্য পাশে চলে যেতে বাধ্য হবে। এতে খাদ্য শিকারে তারা সমস্যায় পড়তে পারে। কারণ বাঘের শিকার প্রাণী হরিণ, শূকর, শজারুসহ বিভিন্ন ছোট-বড় প্রাণী এই এলাকা থেকে সরে যেতে পারে। যেহেতু বনের ওই এলাকায় একটি দুর্যোগ ঘটেছে, তাই সহসা এই এলাকায় ফিরে আসতে চাইবে না বাঘ, হরিণসহ বন্য প্রাণীরা। শিকারি প্রাণী কমে গেলে বাঘের খাদ্যের অভাব হবে। আর বাঘেরা বেশি দিন ক্ষুধার্ত থাকলে লোকালয়েও তাদের শিকার খুঁজতে আসার আশঙ্কা রয়েছে। যতদিন আগুনের ক্ষয়ক্ষতি থাকবে ততদিন আগুন লাগা বনে বন্য প্রাণীর আনাগোনা থাকবে না। যেসব প্রাণী চলাচল করতে পারে তারা দ্রুত সরে গিয়ে রক্ষা পেতে পারে। তবে উদ্ভিদসহ নিম্ন শ্রেণির যে প্রাণীগুলো রয়েছে; যেমন- পোকামাকড়, শামুক, সরীসৃপ ইত্যাদি প্রাণী এ ধরণের আগুনে বেশিই মারা পড়ে। সেকারণেই উদ্বেগ বাড়ছে এই ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনার আধিক্যে।

অতীতের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় দেখা যাবে, সুন্দরবনে ঠিক মার্চ-এপ্রিল-মে মাসের সময়টা এলেই আগুন লাগে। এ জন্যে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে এ আগুন প্রাকৃতিক নয়, মানুষের লাগানো। বনের এই এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে এ সময়। এ সময় সুন্দরবনের এই এলাকা কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। কেউ যেন মার্চ -এপ্রিল-মে মাসে ঐ অঞ্চলে বিড়ি, সিগারেট না খায়, মশাল না জ্বালায় সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে হবে। আর যেহেতু প্রতি বছরই এমনটি ঘটছে, তাই শীতকালের এই সময় এ এলাকায় বনজীবীদের পাশ বন্ধ করে টহল জোরদার করা যেতে পারে। ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যেতে পারে এক্ষেত্রে। সেইসঙ্গে বন বিভাগের দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় তহবিলের জোগান অপরিহার্য। সর্বোপরি দরকার বনজীবী, ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি। সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার আমাদের স্বার্থেই। বুক পেতে সিডর, আইলার তান্ডব মোকাবেলা করার কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। ভুলে গেলে চলবে না রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অন্যন্য উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বাস এই সুন্দরবন।

লেখকঃ মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান।

সুস্থ পরিবেশ-স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী



স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, বার্তা২৪. কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪, বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৪’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী

ছবি: বার্তা২৪, বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৪’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, সুস্থ পরিবেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি। শুধু দেশের জিডিপির হার বৃদ্ধি করে উন্নয়ন করলে পরিবেশের দিকে নজর না দিলে কিছুই স্থায়ী হবে না।

বুধবার (৩ জুলাই) পরিবেশ অধিদফতরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৪’ সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, যুবকদের পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন কাজে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। জাতির জনকের পরিবেশ নিয়ে দূরদর্শী চিন্তা ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরপরই বৃক্ষরোপন কর্মসূচি করেন তিনি।

এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় জাতীয় সংসদে প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে বলেও জানান তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।

ফারহিনা আহমেদ বলেন, পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের নিজের জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। এককভাবে সরকারের পক্ষে পরিবেশের সমস্যা সমাধান করা কঠিন। নাগরিকেরা দায়িত্ববান হলে সবাই মিলে সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ফারহিনা আহমেদ আরো বলেন, ২০২৩ সালে আমরা প্লাস্টিকের দূষণ রোধে এবং সচেতনতায় কাজ করেছি। এ বছর মরুময়তা রোধ, জমির উর্বরতা নষ্ট রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার ও ভূমি রক্ষায় কাজ করছি।

বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করেন।

;

মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ উন্নয়নে সবুজায়ন প্রকল্প



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সবুজায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত এবং পরিবেশের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ‘স্মার্ট নাগরিক’ গড়তে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

শনিবার (২৯ জুন) রাজধানীর খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান-২০২৪-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক উন্নয়নের জন্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করে সব ক্ষেত্রে জয়ী হতে নিজেকে প্রস্তুত করবে।

এ সময় তিনি সব ধরনের অনিয়ম থেকে দূরে থেকে যথাযথভাবে পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের আহ্বান জানান তিনি

পরিবেশমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে নতুন বিভাগ খোলা, নতুন ভবন নির্মাণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সুবিধা প্রদানসহ শিক্ষার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণেরও আশ্বাস দেন।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইমাম জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গভর্নিং বডির সভাপতি মো. আবদুর রউফ, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে গাছের চারা রোপন করেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন।

;

গাছেদের পরিচর্যায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গাছ, আরো গাছ। এখন যেভাবে উষ্ণ হচ্ছে পৃথিবী, তাতে প্রকৃতিতে ধস নামার জন্য হাতে আর খুব বেশি সময়ও নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদেরা। এই সময়ে শুধু নতুন গাছ লাগানোই নয়, পুরনো গাছেদের যত্ন এবং পরিচর্যাও সমান প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি ছোট্ট পদক্ষেপকেও স্বাগত জানাচ্ছে বিশ্ব। ঠিক এমনই এক সময়ে সম্প্রতি পার হয়ে যাওয়া ‘বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস’ উপলক্ষে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চালু হয়েছে গাছেদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা!

জানা যায়, নানা সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপড়ে যায় বহু গাছ। কখনো আবার নির্মাণের কাজে বাধা তৈরির ‘অপরাধে’ নির্বিচারে কেটে ফেলা হয় তাদের। এই অ্যাম্বুলেন্স সেবায় তাদেরই তুলে নিয়ে গিয়ে নতুন করে মাটিতে লাগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ধারণাটি প্রথম মাথায় এসেছিল পরিবেশ নিয়ে আন্দোলনকারী ডা. কে আবদুল ঘানির মাথায়। ভারতের সবুজ মানুষ, ‘গ্রিন ম্যান অব ইন্ডিয়া’ বলে পরিচিত ডা. আবদুল ঘানি ইতোমধ্যে ৫০ লাখ গাছ লাগিয়েছেন।

একটি বেসরকারি সংস্থার কাছে তিনি এ প্রস্তাব রাখলে, সংস্থাটি তার চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করতে রাজি হয়।

কীভাবে কাজ করে গাছেদের অ্যাম্বুলেন্স
জানা গেছে, উপড়ে যাওয়া গাছকে নিয়ে গিয়ে অন্য জায়গায় লাগানোর পাশাপাশি এই অ্যাম্বুলেন্স বিভিন্ন জায়গায় বয়ে নিয়ে যায় নানান গাছের বীজও। শহরের মানুষদের মধ্যে গাছ লাগানো-সংক্রান্ত সমস্ত রকম সচেতনতা ও সাহায্য করেন তারা। কোনো গাছ মারা গেলে, তার অংশগুলো ঠিক জায়গায় পৌঁছেও দেন তারা।

এই অ্যাম্বুলেন্সেই থাকেন দক্ষ মালী ও গাছকর্মীরা। তাদের সঙ্গে থাকে বাগান করার নানান জিনিসপত্র- সার, পানি, ঝারি, খুরপি ইত্যাদি।

এই প্রকল্পে বিশেষভাবে সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থা ‘সাসা'-এর কর্মকর্তা সুরেশ কুমার যাদব বলেন, একইসঙ্গে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, সেইসঙ্গে গাছের সংখ্যাও কমছে। এই অবস্থায় বড় বড় প্রাপ্তবয়স্ক গাছগুলির মৃত্যু বোধহয় আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া কষ্টকর! সে জন্যই কোনো গাছ যাতে প্রাকৃতিক বা বিশেষ কারণে মরে না যায়, সে কারণে সেগুলিকে রক্ষা করার এই উদ্যোগ এই সময়ে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে হয়েছে আমাদের। এ জন্য যেসব যন্ত্রপাতি বা ওষুধপত্র দরকার, তা সবই আমরা রেখেছি অ্যাম্বুলেন্সে। কোথাও থেকে গাছ তুলে এনে অন্য জায়গায় লাগানোর জন্যও অত্যাধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ভারতের এই 'সবুজ মানুষ' ডা. আবদুল ঘানি ইতোমধ্যে ৫০ লাখ গাছ লাগিয়ে ফেলেছেন, ছবি- সংগৃহীত

অ্যাম্বুলেন্স প্রকল্পের উদ্যোক্তা ডা. আবদুল ঘানি বলেন, কত গাছ ঝড়ে উপড়ে যায়। পড়ে পড়ে মারা যায়। সেগুলো নতুন করে আর লাগানোর ব্যবস্থা করাই হয় না। এই অ্যাম্বুলেন্স আর তা হতে দেবে না। হেল্পলাইনে ফোন করা মাত্রই আমরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পৌঁছে যাবো এবং বিনামূল্যে গাছটিকে সরিয়ে আনবো।

আবদুল ঘানি আরো বলেন, শুধু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপড়ে যাওয়াই নয়, অনেক সময়েই দেখা যায়, গাছের কারণে সমস্যায় পড়ছেন পথচারী বা শহরবাসী। সেগুলি কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আমাদের জানালে আর এভাবে মারতে হবে না গাছগুলিকে। যত্ন করে তাদের সরিয়ে অন্যখানে লাগিয়ে দেবো আমরা।

;

জলবায়ু মোকাবিলা-পানি ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু মোকাবিলা ও পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও ক্রায়োস্ফিয়ার সংরক্ষণ বিষয়ে কথার ফুলঝুরি ও প্রতিশ্রুতি প্রদানের চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

মন্ত্রী এ চ্যালেঞ্জগুলির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সক্ষম বৈশ্বিক সংহতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থানের আহ্বান জানান।

তাজিকিস্তানের দুশানবেতে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য পানি’ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনে মঙ্গলবার (১১ জুন) কান্ট্রি স্টেটমেন্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী এসব কথা বলেন।

এ অধিবেশনে বৈশ্বিক নেতা ও স্টেকহোল্ডাররা পানি, জলবায়ু এবং ক্রায়োস্ফিয়ার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আমাদের কথা এবং প্রতিশ্রুতির চেয়ে পানি, জলবায়ু এবং ক্রায়োস্ফিয়ার বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ এবং কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য অর্জন এবং একটি স্থায়ী ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সংহতি, রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা এবং নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, আন্তর্জাতিক দশক ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য পানি’ উদ্যোগের ৩য় হাই লেভেল আন্তর্জাতিক সম্মেলন দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু একটি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রচেষ্টার সমন্বয় ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

তার বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশে এ বৈশ্বিক উদ্যোগগুলির প্রতি অঙ্গীকার এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

;