২৫০ প্রজাতির আগাছা কমিয়ে দিচ্ছে ফসলের উৎপাদন



তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খাদ্য উৎপাদনে আমরা আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও ফসলের কাঙ্ক্ষিত অর্জনে ভাগ বসাচ্ছে দেশি-বিদেশি আগাছা। ফসলের জমিতে কিংবা টবে, ড্রামে যে অবাঞ্ছিত উদ্ভিদ দেখা যায় তাই আগাছা। আগাছা চাষ করা ফসলের বৃদ্ধিতে ও পুষ্টি প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করে।

আগাছা দমন ফসল উৎপাদন প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ধানসহ অন্যান্য ফসলের খাদ্য, আলো, বাতাস ও পানিতে ভাগ বসিয়ে শস্যের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। আগাছার কারণে ফসল লিকলিকে, লম্বা, দুর্বল ও হলদে হয়ে যায় এবং কুশির সংখ্যা কমে যায়। এটি ফসলে পোকামাকড় ও রোগ বালাইয়ের আক্রমণ বাড়িয়ে দেয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, কাঁটা নটে শাক, নটে শাক, মালঞ্চ, টোপাপানা, কচু , চাঁদমালা, ছোট কুট, হাতিশুঁড়, মুথা ঘাস, হলদে মুথা, বড় চুচা, শক্ত খাগড়া, চেচরা, ক্ষুদে চেচরা, জয়না, মাটি চেচ, বথুয়া, চাপালি ঘাস, কেশটি, হেলেঞ্চা, শিয়ালমুত্রা, ঘাঘরা, বন শিমুল, বন লেটুস, বন সরিষা, মরিচ ঘাস, বন মূলা, কানাইবাশী, মনায়না, পানি কলাগাছি, কমেলিনা, কানাইনালা, ফণি মনসা, কলমী লতা, স্বর্ণলতা, মর্নিং গ্লোরি, বিন্দলতা, বড় দুধিয়া, ছোট দুধিয়া, বন মরিচা, শ্যামা ঘাস, ক্ষুদে শ্যামা, দুর্বা ঘাস, চাপড়া ঘাস, আরাইলা, চেলা ঘাস, গিটলা ঘাস, কাশ, উলু ঘাস, প্রেম কাটা, ঝরা ধান, দুধ নল, ছোট দুধ নল, বরেন্দা ঘাস, আঙুলি ঘাস, মোরারো, গইচা, ময়ুরলেজা ঘাস, ফুলকা ঘাস, শ্বেতদ্রোণ, শিয়াল লেজা, ভাতশোলা, আরাইচা, লজ্জাবতী, বন্য মশুর, মসুর চানা, নারিন্দা ঘাস, ক্ষুদে পানা, তিলক পানা, কানফুল, বেরেলা, শালুক, শাপলা, নীল পদ্ম, রক্ত কমল, পদ্ম, আমরুল শাক, হেলেঞ্চা, কচুরি পানা, পানি কচু, বিষকাঁটালী, তিতা মরিচ, পানি মরিচ, নুনিয়া ঢেঁকিশাক, ঝিল মরিচ, তিতা বেগুন, বন্য বেগুন, কাঁটা বেগুন, ধুতুরা, ফোসকা বেগুন, থানকুনি, বন ধনিয়া, বন গাজর, কাঁটা মেহেদী, মটকাসহ ২৫০ এর অধিক প্রজাতির দেশি-বিদেশি আগাছা রয়েছে ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক এক মহাপরিচালক বলেন, ফসলের চেয়ে আগাছা বেশি পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করতে পারে। এসব কারণে ফসলের ফলন ব্যাপকহারে হ্রাস পায়। বাংলাদেশে আগাছার উপদ্রবের ফলে ধানে ৪০- ৫০ শতাংশ, গমে ২৪ - ৫৮ শতাংশ, ভুট্টায় প্রায় ৪৯ শতাংশ, আলুতে ৪৩ শতাংশ, আখে ২০ শতাংশ, পাটে ৭৫-৮০ শতাংশ, চায়ে ৯ শতাংশ এবং অন্যান্য ফসলে গড়ে ২৫-৬০ শতাংশ ফলন কম হয়।

বিভিন্ন প্রজাতির আগাছা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, কোনও সন্দেহ নেই যে, আগাছা আমাদের ফসল উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে এদেশে খালি হাতে, নিড়ানি যন্ত্র দিয়ে এবং আগাছানাশক ব্যবহার করে ফসলের আগাছা দমন করা হয়। কিন্তু আগাছানাশক এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ। এর ব্যবহার সঠিকভাবে এবং সঠিক পদ্ধতিতে না করলে মাঠ ফসলের পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে কৃষকদের আগাছা ব্যবস্থাপনা বা দমন বিষয়ে নানা ধরনের পরামর্শ ও পরিকল্পনা দিয়ে থাকি। তবে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে পরিবেশবান্ধব আগাছা ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, সঠিক নিয়মে ও সঠিক পদ্ধতিতে আগাছা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন ১৮-২২ ভাগ বাড়ানো সম্ভব।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য সংস্থানের জন্য একদিকে বিদেশ থেকে কৃষি পণ্য সামগ্রী আমদানি করা হচ্ছে, অন্যদিকে শষ্য বীজও আমদানি করতে হচ্ছে। কিন্তু এসব বীজের সঙ্গে নানা জাতের আগাছা বীজও আমাদের অজান্তেই চলে আসছে। ফলে বিদেশি বীজ আমাদের দেশে বাসা বাঁধছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষিজ পণ্য বা বীজ আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গ নিরোধ কেন্দ্রের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। তা না হলে নানা ধরনের রোগ জীবাণু ও আগাছা ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক নিয়ম মেনে আমদানি না করায় আমদানিকৃত বীজের মাধ্যমে এসেছে অনেক আগাছা। এজন্য বিদেশি কোনো কৃষিজ পণ্য বা বীজ আমদানিও আগেই পণ্যগুলো নিয়ে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।

কৃষি কর্মকর্তা এবং ছাদ বাগাদ সম্প্রসারণ বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক মো. তাহেরুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ছাদ বাগানেও আগাছা দমন জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশে নির্মল বাতাস, কেমিকেল ছাড়া নিরাপদ ও পুষ্টিমান সমৃদ্ধ সবজি ও ফলমূল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে আগাছার কারণে। তবে ছাদ বাগান যেহেতেু বৈজ্ঞানিকভাবে করা হচ্ছে । সেখানে আগাছা দমন সহজ।

   

রংপুর অঞ্চলে বোরো মৌসুমে বিএডিসির ধানবীজ অবিক্রিত



স্টাফ করেসপন্ডন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর অঞ্চলে নানা কারণে বোরো মৌসুমে সরকারি বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ধান বীজ অবিক্রিত থাকছে। চলতি মৌসুমে বরাদ্দকৃত বোরো বীজের মধ্যে প্রণোদনা হিসেবে কৃষকদের প্রদান করার পরেও অবিক্রিত রয়েছে ৯৩৬ দশমিক ৬৯৬ মেট্রিক টন। গতবছর বোরো মৌসুমেও ২ হাজার ৯৬৫ মেট্রিকটন বরাদ্দকৃত ধান বীজের মধ্যে অবিক্রিত বীজ ছিলো প্রায় ১ হাজার টন।

শুধু তাই নয় কোন কোন ডিলার তার ধান বীজ বরাদ্দ উত্তোলন করলেও কৃষকের চাহিদা না থাকায় সকল বীজ বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কৃষকরা যেমন মান সম্পন্ন বীজ ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তেমনি পরবর্তীতে খাবার হিসেবে ধান বীজ বিক্রি করায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বীজ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্তদের।

ডিলারদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, একেক এলাকার কৃষক আলাদা আলাদা ধান আবাদ করেন। তাদের চাহিদা সামনে রেখে বীজ সরবরাহ করা দরকার। বিশেষ করে নতুন জাতের বীজকে জনপ্রিয় করতে কৃষি সম্প্রসারণের সাথে আরো সমন্বিতভাবে কাজ করাসহ প্রচারণায় জোর দিতে হবে।

বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক (বীজ বিপনন) এর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় (নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর) ২০২৩-২৪ মৌসুমে বোরো ধান বীজের বরাদ্দ ছিলো ২ হাজার ৮০৮ দশমিক ৩২৫ মেট্রিক টন। (কৃষকদের প্রনোদনা হিসেবে ৭শ টন প্রদানসহ) ডিলাররা উত্তোলন করেছেন ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৬১৯ মেট্রিক টন। অবিক্রিত বীজের পরিমাণ ৯৩৬ দশমিক ৬৯৬ মেট্রিক টন। রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় নিবন্ধিত ডিলারের সংখ্যা হচ্ছে ৮৫১ জন।

এবার ২৪টি জাতের বোরো বীজ কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। বিএডিসি (বীজ বিপণন) রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ সুলতান বলেন, সারাদেশে বীজের প্রয়োজন হয় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন।

বিএডিসিসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ উৎপাদন হয় ১লাখ ২৭ হাজারের মতো। তাই বীজ অবিক্রিত থাকার এটি কারণ। এছাড়া কৃষকেরা সহজে নতুন জাত নিতে চায় না ফলে বীজ অবিক্রিত থাকে। অবিক্রিত জাতের মধ্যে প্রায় ব্রি ৮৯ জাত বীজ আছে প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ। এগুলো এখন পুনর্নির্ধারণ দামে বিত্রিু হবে। দাম হবে প্রতি কেজি ৩৩ টাকা থেকে ৩৫ টাকা।

;

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাবি শিক্ষক ফোরামের র‌্যালি



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে র‌্যালি করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোড থেকে র‌্যালি শুরু হয়।

র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয় বুদ্ধিজীবী চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান (মুক্তা) বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশকে সকল ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে তারা এ দেশে বাকশাল কায়েম করতে চেয়েছিলো। কিন্তু জিয়াউর রহমান সেটা হতে দেন নি। তিনি সকল মানুষকে সেদিন জালিমদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তারই স্মরণে আজকে আমরা এই দিন পালন করছি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে বাকশালতন্ত্র কায়েম করেছে। দেশে গনতন্ত্র নেই। বিরোধী দলের কোন মানুষ কথা বললে তাকে মামলা দেওয়া হয়, হয়রানি করা হয়। গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের আন্দোলনে হামলা করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, আহত, নিহত, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়।

সমাবেশে অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক ফজলুল হক, অধ্যাপক হাছানাত আলীসহ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহী ও জনতার বিপ্লব এর স্মরণে এ দিবসটি পালিত হয়। কর্নেল (অবঃ) আবু তাহের এর নেতৃত্বে সংঘটিত এই বিপ্লব জেনারেল খালেদ মোশাররফের তিনদিনের সরকারের পতন ঘটায়। এই বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দীদশা থাকে মুক্তি পান, এবং পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসেন।

;

ফুল চাষে বদলেছে ভাগ্য, মাসিক আয় ৪০ হাজার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
ফুল চাষে স্বাবলম্বী  গোপীনাথ । ছবি: বার্তা২৪

ফুল চাষে স্বাবলম্বী গোপীনাথ । ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্যের জমিতে কাজ করে কিংবা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন গোপীনাথ। নিজের অদম্য ইচ্ছে শক্তি আর প্রচেষ্ঠায় সখের বসে নিজ বাড়ির উঠানে গড়ে তোলেন ফুলেন বাগান। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সেখান থেকেই ভাগ্য বদল শুরু। নিবিড় পরির্চযা আর যত্নে গড়ে তুলেন এই দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। বলা হয়, যে মানুষ ফুলকে ভালোবাসে তার সুন্দর মন আছে। ফুল প্রেমী আর ভ্রমণ পিপাসুরা অবসর সময়ে ছুটে আসেন গোপীর বাগানে। ফুলের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হন গোপীনাথ বর্মন।

গোপীনাথ এখন ৫ বিঘা জমিতে ফুলের চাষ করছেন। দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করেছেন বিশ্রামাগার। তার প্রতিদিনে আয় এখন ১ হাজার টাকা।

সরেজমিনে জানা যায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচন্ডী ইাউনিয়নের বাফলা গ্রামের বাসিন্দা গোপীনাথ বর্মন একটি ফুলের বাগান করেন। সেখানে কয়েক প্রজাতির ফুলের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির উঠানে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলেন একটি ফুলের বাগান। কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতায় তিনি ৫ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে এখন স্বাবলম্বী।

ওই বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে রজনীগন্ধা, জারবেরা গোলাপ, গেন্ডারিয়া, ক্যানডুলার, গাচুবাম ট্রেটাজ, মন্ডিওঝাউ, চাইনিজ পাম্প, ললনি পাম্প, ময়ুরপঙ্কিরাজ কার্পেট ঘাসসহ নানা প্রজাতির মূল্যবান ফুল।

প্রতিদিন ফুলপ্রেমী দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন তার বাগানে। দর্শনার্থীদের ১০ টাকা টিকিট কেটে ঢুকতে হয় ওই বাগানে।

গোপীনাথ বর্মন জানায়, ফসলের তুলনায় ফুল চাষে উৎপাদন খরচ কম। ৫ বিঘা জমিতে বছরে খরচ হয় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। আর সব মিলিয়ে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস ও ভ্যালেন্টাইন ডে ছাড়াও বিশেষ দিবসগুলোতে ৫০ হাজার টাকারও বেশি ফুল বিক্রি হয়।

;

কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

উন্নয়নশীল আটটি দেশের জোট বা ডি-৮ ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষিপ্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য একটি ‘বহুদেশীয় সমন্বিত প্রকল্প’  নিতে বাংলাদেশের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।

যার মাধ্যমে ডি-৮ভুক্ত এসব দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি বিষয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা শীর্ষক ৭ম ডি-৮ মন্ত্রীপর্যায়ের ভার্চুয়াল মিটিংয়ের শেষ দিনে আট দেশের কৃষিমন্ত্রীরা এ প্রস্তাব এবং ঢাকা ইনিসিয়েটিভ অনুমোদন করেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা যেমন, আইডিবি, এফএও, ইরি, ইফাদ প্রভৃতি থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালিত হবে। খুব শিগগির এই প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

ড. রাজ্জাক আরও বলেন, ডি-৮ দেশসমূহে ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন খুবই জরুরি। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে এটি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ডি-৮ভুক্ত দেশসমূহের কৃষিখাত ২৬% মানুষের কর্মসংস্থান করে থাকে আর জিডিপিতে অবদান প্রায়  ১৩.৫০%। এছাড়া, এ জোটের দেশগুলোতে ৬০% মানুষ  গ্রামে বসবাস করে এবং তারা মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল। কাজেই, আজকের ঢাকা ইনিসিয়েটিভ ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন, বিনিময় এবং খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় ডি-৮ এর মহাসচিব ইসিয়াকা আব্দুল কাদির ইমাম, ইন্দোনেশিয়ার কৃষিমন্ত্রী সাইয়ারুল ইয়াসিন লিম্পু, ইরানের কৃষিমন্ত্রী সৈয়দ জেএস নেজাদ, মালয়েশিয়ার কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রী রোনাল্ড কিয়ান্দি, পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী সৈয়দ ফখর ইমাম, তুরস্কের পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আকিফ ওজকাল্ডি, নাইজেরিয়ার কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ফেডারেল মন্ত্রী মো. মাহমুদ আবুবকর এবং মিশরের এআরসির শিরীন আসেম  কৃষিক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা, সম্ভাবনা, করণীয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, এফএও, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, আইএফএডি, ইরি ও সিমিটের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

;