কৃষিতে ভূ-গর্ভস্থ পানির যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে জরিপ



তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কৃষিতে ভুগর্ভস্থ পানির যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে জরিপ

কৃষিতে ভুগর্ভস্থ পানির যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে জরিপ

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রমশই নিচে নামছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। কৃষি প্রধান এই দেশে ভূগর্ভস্থ পানিরই কৃষি উৎপাদন সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। বাড়ছে খরচ। কিন্তু এই ভূ-গর্ভস্থ পানিরই যথেচ্ছ ব্যবহারে ভাবিয়ে তুলছে কৃষি বিশেষজ্ঞদের। কিভাবে এই ভূ-গর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলে কাজ শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

ভূ-গর্ভস্থ পানির সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশের সেচ নির্ভর কৃষি ব্যবস্থার দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক সমীক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বরেন্দ্রসহ ১২ জেলার ১৫ টি উপজেলায় জরিপ কাজ শুরু হয়েছ। এর ফলোফলের ভিত্তিতে আমরা বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে কর্মকর্তা এবং ড. আবদুছ ছালাম।

তিনি বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ভু-গর্ভস্থ পানির সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশের সেচ নির্ভর কৃষি ব্যবস্থার দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরা জন্য কাজ চলছে। তবে এটি এখন বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআরআই)। সমীক্ষার কাজ জুলাই ২০২০ এ শুরু হয়েছে যা শেষ হবে জুন ২০২৩।

তিনি বলেন, এটি একটি বড় কাজ। এর সঙ্গে সরকারি চারটি প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করছে। অন্যগুলো হলো, বিএআরআরআই, বিএমডিএ, এবং বিএডিসি। যৌভভাবে পরিচালক এ কাজ টি শেষ হলে দেশের কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়র তথা ভূগর্ভস্থ পানির যথেচ্ছা ব্যবহার, সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

বিএআরআরআই প্রকল্প সূত্র জানায়, স্বল্প দক্ষ, স্বল্প উৎপাদনশীল ও অপচয়মূলক পানি ব্যবস্থাপনা থেকে উচ্চদক্ষ, উচ্চতর উৎপাদনশীল এবং কম অপচয়মূলক পানি ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক প্রণোদনা তৈরীর ক্ষেত্রেনীতি নির্ধারণে সহায়তাকরণ,

৫টি অঙ্গভিত্তিক (পানির পরিমাণ ভিত্তিক সেচ চার্জ, স্মার্ট কার্ড, AWD প্রযুক্তি, পানি সরবরাহের দক্ষতা, কমিউনিটি ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা, প্রস্তাবিত পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিএমডিএ ও বিএডিসি এর গভীর নলকূপ এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ, পানির সাশ্রয়, দক্ষতা ও উৎপাদনশীল বুদ্ধিকরণ

অগভীর নলকূপ এবং বেসরকারি খাতে গভীর নলকূপ সেচের উপর সমীক্ষা পরিচালনা করার জন্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ সকল ক্ষেত্রে কিভাবে সেচ পানির বাজারকে আরো দুক্ষ ও উৎপাদনশীল করা যায় তা নিরূপণকরণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ৭৬ লাখ ১৪ হাজার ৫৭২ হেক্টর জমিতেই সেচ দিতে হয়। এসব জমির শতকরা ১৫ ভাগে ভূ-উপরিস্থ এবং শতকরা ৮৫ ভাগে ভূ-গর্ভস্থ পানি দিয়ে সেচ দেওয়া হয়। বর্তমানে ৩৬ হাজার গভীর নলকূপ ও ১৬ লাখ অগভীর নলকূপ রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদন করতে মাটির প্রকারভেদে তিন থেকে পাঁচ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ পানির অর্ধেকেরও বেশি অপচয় হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, প্রচলিত সেচ ব্যবস্থাপনায় জমি ও ফসলে প্রকৃত চাহিদার চেয়েও দুই থেকে তিনগুণ বেশি পানি দেওয়া হয়। এতে পানির ব্যাপক অপচয় হয়। পানির এই অপচয় রোধে বিকল্প সেচ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানেকৃষকদের মাঝে ‘ফারো সেচ’ পদ্ধতি পরিচিতি পেয়েছে। যা এ দেশের প্রেক্ষাপটে খুবই উপযোগী। এতে পানির অপচয় শতকরা ৩০ ভাগ পর্যন্ত কমানো যায়।

   

রংপুর অঞ্চলে বোরো মৌসুমে বিএডিসির ধানবীজ অবিক্রিত



স্টাফ করেসপন্ডন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর অঞ্চলে নানা কারণে বোরো মৌসুমে সরকারি বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ধান বীজ অবিক্রিত থাকছে। চলতি মৌসুমে বরাদ্দকৃত বোরো বীজের মধ্যে প্রণোদনা হিসেবে কৃষকদের প্রদান করার পরেও অবিক্রিত রয়েছে ৯৩৬ দশমিক ৬৯৬ মেট্রিক টন। গতবছর বোরো মৌসুমেও ২ হাজার ৯৬৫ মেট্রিকটন বরাদ্দকৃত ধান বীজের মধ্যে অবিক্রিত বীজ ছিলো প্রায় ১ হাজার টন।

শুধু তাই নয় কোন কোন ডিলার তার ধান বীজ বরাদ্দ উত্তোলন করলেও কৃষকের চাহিদা না থাকায় সকল বীজ বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কৃষকরা যেমন মান সম্পন্ন বীজ ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তেমনি পরবর্তীতে খাবার হিসেবে ধান বীজ বিক্রি করায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বীজ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্তদের।

ডিলারদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, একেক এলাকার কৃষক আলাদা আলাদা ধান আবাদ করেন। তাদের চাহিদা সামনে রেখে বীজ সরবরাহ করা দরকার। বিশেষ করে নতুন জাতের বীজকে জনপ্রিয় করতে কৃষি সম্প্রসারণের সাথে আরো সমন্বিতভাবে কাজ করাসহ প্রচারণায় জোর দিতে হবে।

বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক (বীজ বিপনন) এর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় (নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর) ২০২৩-২৪ মৌসুমে বোরো ধান বীজের বরাদ্দ ছিলো ২ হাজার ৮০৮ দশমিক ৩২৫ মেট্রিক টন। (কৃষকদের প্রনোদনা হিসেবে ৭শ টন প্রদানসহ) ডিলাররা উত্তোলন করেছেন ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৬১৯ মেট্রিক টন। অবিক্রিত বীজের পরিমাণ ৯৩৬ দশমিক ৬৯৬ মেট্রিক টন। রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় নিবন্ধিত ডিলারের সংখ্যা হচ্ছে ৮৫১ জন।

এবার ২৪টি জাতের বোরো বীজ কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। বিএডিসি (বীজ বিপণন) রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ সুলতান বলেন, সারাদেশে বীজের প্রয়োজন হয় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন।

বিএডিসিসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ উৎপাদন হয় ১লাখ ২৭ হাজারের মতো। তাই বীজ অবিক্রিত থাকার এটি কারণ। এছাড়া কৃষকেরা সহজে নতুন জাত নিতে চায় না ফলে বীজ অবিক্রিত থাকে। অবিক্রিত জাতের মধ্যে প্রায় ব্রি ৮৯ জাত বীজ আছে প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ। এগুলো এখন পুনর্নির্ধারণ দামে বিত্রিু হবে। দাম হবে প্রতি কেজি ৩৩ টাকা থেকে ৩৫ টাকা।

;

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাবি শিক্ষক ফোরামের র‌্যালি



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে র‌্যালি করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোড থেকে র‌্যালি শুরু হয়।

র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয় বুদ্ধিজীবী চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান (মুক্তা) বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশকে সকল ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে তারা এ দেশে বাকশাল কায়েম করতে চেয়েছিলো। কিন্তু জিয়াউর রহমান সেটা হতে দেন নি। তিনি সকল মানুষকে সেদিন জালিমদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তারই স্মরণে আজকে আমরা এই দিন পালন করছি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে বাকশালতন্ত্র কায়েম করেছে। দেশে গনতন্ত্র নেই। বিরোধী দলের কোন মানুষ কথা বললে তাকে মামলা দেওয়া হয়, হয়রানি করা হয়। গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের আন্দোলনে হামলা করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, আহত, নিহত, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়।

সমাবেশে অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক ফজলুল হক, অধ্যাপক হাছানাত আলীসহ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহী ও জনতার বিপ্লব এর স্মরণে এ দিবসটি পালিত হয়। কর্নেল (অবঃ) আবু তাহের এর নেতৃত্বে সংঘটিত এই বিপ্লব জেনারেল খালেদ মোশাররফের তিনদিনের সরকারের পতন ঘটায়। এই বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দীদশা থাকে মুক্তি পান, এবং পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসেন।

;

ফুল চাষে বদলেছে ভাগ্য, মাসিক আয় ৪০ হাজার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
ফুল চাষে স্বাবলম্বী  গোপীনাথ । ছবি: বার্তা২৪

ফুল চাষে স্বাবলম্বী গোপীনাথ । ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্যের জমিতে কাজ করে কিংবা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন গোপীনাথ। নিজের অদম্য ইচ্ছে শক্তি আর প্রচেষ্ঠায় সখের বসে নিজ বাড়ির উঠানে গড়ে তোলেন ফুলেন বাগান। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সেখান থেকেই ভাগ্য বদল শুরু। নিবিড় পরির্চযা আর যত্নে গড়ে তুলেন এই দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। বলা হয়, যে মানুষ ফুলকে ভালোবাসে তার সুন্দর মন আছে। ফুল প্রেমী আর ভ্রমণ পিপাসুরা অবসর সময়ে ছুটে আসেন গোপীর বাগানে। ফুলের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হন গোপীনাথ বর্মন।

গোপীনাথ এখন ৫ বিঘা জমিতে ফুলের চাষ করছেন। দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করেছেন বিশ্রামাগার। তার প্রতিদিনে আয় এখন ১ হাজার টাকা।

সরেজমিনে জানা যায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচন্ডী ইাউনিয়নের বাফলা গ্রামের বাসিন্দা গোপীনাথ বর্মন একটি ফুলের বাগান করেন। সেখানে কয়েক প্রজাতির ফুলের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির উঠানে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলেন একটি ফুলের বাগান। কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতায় তিনি ৫ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে এখন স্বাবলম্বী।

ওই বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে রজনীগন্ধা, জারবেরা গোলাপ, গেন্ডারিয়া, ক্যানডুলার, গাচুবাম ট্রেটাজ, মন্ডিওঝাউ, চাইনিজ পাম্প, ললনি পাম্প, ময়ুরপঙ্কিরাজ কার্পেট ঘাসসহ নানা প্রজাতির মূল্যবান ফুল।

প্রতিদিন ফুলপ্রেমী দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন তার বাগানে। দর্শনার্থীদের ১০ টাকা টিকিট কেটে ঢুকতে হয় ওই বাগানে।

গোপীনাথ বর্মন জানায়, ফসলের তুলনায় ফুল চাষে উৎপাদন খরচ কম। ৫ বিঘা জমিতে বছরে খরচ হয় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। আর সব মিলিয়ে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস ও ভ্যালেন্টাইন ডে ছাড়াও বিশেষ দিবসগুলোতে ৫০ হাজার টাকারও বেশি ফুল বিক্রি হয়।

;

কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

উন্নয়নশীল আটটি দেশের জোট বা ডি-৮ ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষিপ্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য একটি ‘বহুদেশীয় সমন্বিত প্রকল্প’  নিতে বাংলাদেশের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।

যার মাধ্যমে ডি-৮ভুক্ত এসব দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি বিষয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা শীর্ষক ৭ম ডি-৮ মন্ত্রীপর্যায়ের ভার্চুয়াল মিটিংয়ের শেষ দিনে আট দেশের কৃষিমন্ত্রীরা এ প্রস্তাব এবং ঢাকা ইনিসিয়েটিভ অনুমোদন করেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা যেমন, আইডিবি, এফএও, ইরি, ইফাদ প্রভৃতি থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালিত হবে। খুব শিগগির এই প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

ড. রাজ্জাক আরও বলেন, ডি-৮ দেশসমূহে ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন খুবই জরুরি। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে এটি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ডি-৮ভুক্ত দেশসমূহের কৃষিখাত ২৬% মানুষের কর্মসংস্থান করে থাকে আর জিডিপিতে অবদান প্রায়  ১৩.৫০%। এছাড়া, এ জোটের দেশগুলোতে ৬০% মানুষ  গ্রামে বসবাস করে এবং তারা মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল। কাজেই, আজকের ঢাকা ইনিসিয়েটিভ ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন, বিনিময় এবং খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় ডি-৮ এর মহাসচিব ইসিয়াকা আব্দুল কাদির ইমাম, ইন্দোনেশিয়ার কৃষিমন্ত্রী সাইয়ারুল ইয়াসিন লিম্পু, ইরানের কৃষিমন্ত্রী সৈয়দ জেএস নেজাদ, মালয়েশিয়ার কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রী রোনাল্ড কিয়ান্দি, পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী সৈয়দ ফখর ইমাম, তুরস্কের পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আকিফ ওজকাল্ডি, নাইজেরিয়ার কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ফেডারেল মন্ত্রী মো. মাহমুদ আবুবকর এবং মিশরের এআরসির শিরীন আসেম  কৃষিক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা, সম্ভাবনা, করণীয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, এফএও, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, আইএফএডি, ইরি ও সিমিটের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

;