Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

অলসতা ঝেড়ে ফেলুন আজ থেকেই

অলসতা ঝেড়ে ফেলুন আজ থেকেই
অলসতা সাফল্যের পথে প্রধান অন্তরায়, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

কাজের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার পেছনে প্রধান কারণটি হলো অলসতা।

অলসতার কারণেই হাতছাড়া হয়ে যায় বহু কাজ, পিছিয়ে যায় ভালো সুযোগ। মুখে যতই বলা হোক না কেন, অলসতাকে পাশ কাটানোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজেকে সেইভাবে প্রস্তুত করা।

কাজের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ও মনোযোগ ধরে রাখার অন্তরায় হিসেবেও অলসতা এসে হাজির হয় আকস্মিকভাবে। নিশ্চিতভাবেই একজনের জীবনে সবচেয়ে বড় দুর্বলতার বিষয় হিসেবে দেখা দেয় এই অলসতা। জীবন থেকে অলসতা সরিয়ে দিতে চাইলে প্রয়োজন ধৈর্য ও পরিশ্রম। একদিনেই অলসতার মতো বিষয়কে সম্পূর্ণভাবে বিদায় জানানো সম্ভব নয়। অলসতাকে ঝেড়ে ফেলতে যে নিয়মগুলো মেনে চলা প্রয়োজন, আজকের ফিচারে তা তুলে ধরা হলো।

গুছিয়ে নিতে হবে নিজের চারপাশ

খুবই সূক্ষ্মভাবে নিজের চারপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব বিস্তার করে। নিজের চারপাশের অগোছালো ও এলোমেলো অবস্থা স্বাভাবিকভাবেই মনকে কাজ করার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি করে দেয়। তাই অলসতা কাটাতে প্রথমেই নিজের চারপাশের সবকিছুকে গুছিয়ে নিতে হবে। গোছানো পরিবেশে কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

ছোট পদক্ষেপ থেকে শুরু করতে হবে

অলসতা ঝেড়ে কাজে মনোনিবেশ করার শুরুটাই হলো সবচেয়ে কঠিন। নিজের মনের ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বেশ কঠিন হয়ে ধরা দিবে। সে জন্যেই ছোট ছোট পদক্ষেতে এগুতে হবে। হয়তো অলসতার জন্যে সকালে শরীরচর্চা করা হয় না আপনার। তাহলে আজ থেকেই শরীরচর্চা করার জন্য প্রস্তুতি নিন। আধা ঘণ্টা কিংবা পনের মিনিটও নয়, মাত্র তিন মিনিট সময় বরাদ্দ রাখুন শরীরচর্চার জন্য। তিন মিনিট সময়ের জন্য নিজেকে কয়েকদিন প্রস্তুত করতে পারলে, পরবর্তীতে নিজ থেকেই শরীরচর্চা করার জন্য তাগিদ অনুভূত হবে।

কাজের প্রতি পরিপূর্ণ মনযোগ দিতে হবে

অলসতাকে পেছনে ফেলার জন্য কাজের প্রতি পরিপূর্ণভাবে মনোনিবেশ করার চাইতে ভালো কোন বুদ্ধি হতেই পারে না। কাজের ভেতর নিমজ্জিত হতে পারলে খুব সহজেই বাড়তি অলসতাকে ঝেড়ে ফেলা সম্ভব হয়। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, কাজের মাঝে দশ-বিশ মিনিট সময়ের ছোট ছোট বিরতি নিতে হবে। এই বিরতিগুলো কাজের গতি বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

তালিকা তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/20/1558334317254.jpg

হুট করে যে কোন একটি কাজ শুরু না করে তালিকা তৈরি করে গুরুত্ব অনুযায়ি কাজ শুরু করলে সবচেয়ে ভালো হয়। যে কোন একটি কাজ শুরু করলে দেখা যাবে সে কাজটি হয়তো সে সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল না। ফলে অহেতুক কষ্টের ফলাফল শূন্য হলে কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তালিকা তৈরি করে গুরুত্ব অনুযায়ি কাজ শুরু করলে কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরির হবে। যা অলসতাকে পেছনে ফেলে দিতে কাজ করবে।

উপকারিতা সম্পর্কে ভাবতে হবে

যে কাজটি আজকেই করে ফেলছেন, তার উপকারিতা বা সুবিধাটুকু কি হতে পারে ভাবুন তো। অথবা আলসেমিকে বিদায় জানিয়ে যে পরিশ্রমটুকু আপনি আজকে করছেন, তার জন্য কি ভালো দিকের মুখোমুখি হতে হবে আপনাকে সে সম্পর্কেও একটু ভাবার চেষ্টা করুন। অবশ্যই পরিশ্রমের বিপরতে প্রাপ্তিতে ভালো কিছুই অপেক্ষা করে। সেটা যখন আপনি নিজ থেকে বুঝতে পারবেন ও কল্পনা করতে পারবেন, কাজ করার বিষয়টি তখন আপনার জন্য বেশ অনেকটা সহজ হয়ে উঠবে।

পোশাক নির্বাচন করুন বুঝেশুনে

একদম প্রথম পয়েন্টে বলা হয়েছিল, নিজের চারপাশ গুছিয়ে নেওয়ার কথা। এখানে বলা হচ্ছে নিজেকে সুন্দর পোশাকে সজ্জিত করার কথা। এর পেছনে যুক্তিযুক্ত কারণ আছে অবশ্যই। আপনি যখন খুব ফিটফাট ও কেতাদুরস্ত থাকবেন, আপনার মাঝে কাজ করার প্রবণতা তৈরি হবে। কিন্তু আপনি যখন খুবই অগোছালো পোশাকে থাকবেন, আপনার মনের উপরেও তা নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে, যা থেকে দেখা দেবে আলস্য। তাই নিজের চারপাশের পাশাপাশি নিজেকেও টিপটপ রাখতে হবে সবসময়।

আরও পড়ুন: যে অভ্যাসগুলো কমাবে বয়স বৃদ্ধির হার

আরও পড়ুন: শিখতে হবে ‘না’ বলা!

আপনার মতামত লিখুন :

ছারপোকা দূর করবে এই জিনিসগুলো

ছারপোকা দূর করবে এই জিনিসগুলো
টি ট্রি অয়েল, লবণ ও ল্যাভেন্ডার পাতা ছারপোকা দূর করতে কার্যকরি উপাদান

ছারপোকা দেখা দেওয়ার সমস্যাটি একইসাথে খুব বিরক্তিকর ও সাধারণ।

যারপরনাই এ সমস্যায় ভোগান্তি পোহাতে হয় ছারপোকাযুক্ত আসবাব, বিছানা, সোফা প্রভৃতি ব্যবহারকারীকে। রাতের দিকে সাধারণত এদের উপদ্রব বেশি দেখা যায়।

মূলত স্যাঁতস্যাঁতে ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাসহীন স্থানে ছারপোকা বেশি হয়। সেক্ষেত্রে বিছানা, বালিশ, কুশন, তোশকের মতো নরম স্থানে ছারপোকা হলে রোদের আলোতে কয়েকদিন এই জিনিসগুলো রাখা হলে ও পোকামাকড় দূর করার স্প্রে ব্যবহার করা হলে ছারপোকা বেশিরভাগ সময় দূর হয়ে যায়।

তবে ঢাকা শহরে বহু স্থানের বাড়িতেই রোদের আলো প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া অন্যান্য আসবাবে ছারপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে রোদের আলোতে দেওয়া কষ্টকর। সেক্ষেত্রে কিছু উপাদানের ব্যবহারে আসবাবসহ অন্যান্য জিনিসপত্র থেকে সহজেই ছারপোকা দূর করা যাবে।

টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের গন্ধ ছারপোকা সহ্য করতে পারে না। ফলে উপকারী এই এসেনসিয়াল অয়েলের ব্যবহারে ছারপোকা দূর করা যাবে ঝামেলাহীনভাবে। ২০০ মিলিলিটার পানিতে ২০ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ছারপোকাযুক্ত আসবাবে স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। এতে করে ছারপোকা দূর হবে এবং পুনরায় ছারপোকা যেন ফিরে না আসে, সেজন্য আসবাবে ১০ দিন পরপর টি ট্রি অয়েলযুক্ত পানি স্প্রে করতে হবে।

বেকিং সোডা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034457047.jpg

প্রতি রান্নাঘরেই এই উপাদানটি পাওয়া যাবে। শুধু রান্নার কাজে নয়, ছারপোকা দমনেও দারুণ কার্যকরি এই উপাদানটি। ছারপোকা আক্রান্ত আসবাবের উপর বেকিং সোডা ছিটিয়ে একদিনের জন্য রেখে দিতে হবে এবং একদিন পর পুনরায় বেকিং সোডা ছিটাতে হবে। এতে করে ছারপোকা মরে যাবে।

সাদা ভিনেগার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034474797.JPG

ভিনেগারের তীব্র গন্ধ ছারপোকার যন্ত্রণা দূর করতে খুবই ভালো কাজ করে। বিশেষত আসবাবপত্রে ছারপোকা দেখা দিলে, সেক্ষেত্রে সাদা ভিনেগারের ব্যবহার সবচেয়ে উপকার দেবে। সমপরিমাণ পানি ও সাদা ভিনেগার মিশিয়ে পরপর কয়েকদিন ছারপোকাযুক্ত আসবাব মুছলে ছারপোকা চলে যাবে। ছারপোকা দূর হয়ে যাওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে একবার ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে আসবাব মুছে নিতে হবে।

লবণ

সাধারন লবণ খুব ভালো ছারপোকা রিপ্যালেন্ট হিসেবে কাজ করে। বিছানা, বালিশের মতো জিনিসে ছারপোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে লবণ মিশ্রিত পানি স্প্রে করে শুকাতে হবে। এতে করে ছারপোকা দূর হয়ে যাবে।

ল্যাভেন্ডার পাতা

ল্যাভেন্ডারের মতো উপকারী পাতার গন্ধে ছারপোকা খুব দ্রুতই পালায়। জামাকাপড়ে বা বালিশ ও কুশন কভারে ছারপোকার আনাগোনা দেখা দিলে ল্যাভেন্ডার পাতা রেখে দিতে হবে। ব্যস ছারপোকার জন্য আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

আরও পড়ুন: কর্নস্টার্চ ও কর্নফ্লাওয়ারের মাঝে পার্থক্য কী?

আরও পড়ুন: সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার কি নিরাপদ?

ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার কি নিরাপদ?
ননস্টিক পাত্র

এখনকার সময়ে রান্নাবান্নার কাজে ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার সর্বত্র।

এ পাত্রগুলো ব্যবহারে সুবিধা থাকার ফলে এতো বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয় ননস্টিক পাত্র। এতে খাবার পোড়ার সম্ভবনা থাকে না বললেই চলে, খাবার খুব সহজে ও দ্রুত রান্না করে নেওয়া যায় বলে ঘরে ঘরে ননস্টিক পাত্রের চল।

কিন্তু সহজলভ্য ও সহজে ব্যবহারযোগ্য ননস্টিক পাত্রের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা আছে কি? এ ঘরানার পাত্র ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে ফেলে দিচ্ছে কি না, সেটা জানা প্রয়োজন নিজের ও পরিবারের মানুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে।

সাম্প্রতিক সময়ের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ননস্টিক পাত্র থেকে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ নামক এক ধরনের পদার্থ এ সকল পাত্রে রাঁধা খাবারের সাথে মিশে যায়। যা আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের খাবারের সাথে গ্রহণ করে থাকি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এর পরীক্ষা মতে ননস্টিক পাত্র থেকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল উপাদান নির্গত হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

গবেষণা থেকে কী পাওয়া গিয়েছে?

FDA এর গবেষণালব্ধ ফল থেকে জানা যায়, ননস্টিক পাত্র থেকে পাওয়া যায় PFAs। যা ৫,০০০ সিনথেটিক গ্রুপের একটি কেমিক্যাল। এই কেমিক্যালটি ফরএভার কেমিক্যাল নামেও পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, ৯৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের রক্তেই এই কেমিক্যালটির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।

দেশটির এনভারমেন্টাল প্রটেকশন অ্যাজেন্সি দাবি করছে, প্রাকৃতিক কোন খাদ্য উপাদান থেকেই এই ক্ষতিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করার কোন সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ননস্টিক পাত্রের ব্যবহারের ফলেই ক্ষতিকর এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566024581866.jpg

এতে ক্ষতির সম্ভাবনা কতটুকু?

FDA জানাচ্ছে রক্তে PFAs এর মাত্রা কম থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তবে অতি উচ্চ তাপমাত্রায় ননস্টিকি পাত্রে খাবার রান্না করা হলে PFAs খাবারের সাথে বিপদজনক মাত্রায় মিশে যেতে পারে। যার ফলে ক্যানসার, বন্ধ্যাত্ব, কিডনি ও লিভার ড্যামেজের মতো সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

সমাধান কী?

প্রায় সকল ধরনের ননস্টিক পাত্রেই PFAs এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাই অ্যালুমিনিয়াম ও টেনফয়েল জাতীয় ননস্টিক পাত্র ব্যবহার ও ক্রয় করা থেকে বিরত থেকে সিরামিক, স্টেইনলেস স্টিল কিংবা টেমপারড গ্লাসের পাত্রের ব্যবহারে অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ সকল পাত্র ব্যবহারে অভ্যাস্ততা গড়ে তুলতে হবে।

আরও পড়ুন: এক কাপ কফিতে কতখানি ক্যাফেইন থাকে?

আরও পড়ুন: রান্নাতে সুস্থ মস্তিষ্ক!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র