Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

২০১৯ হোক ক্যারিয়ারের বছর

২০১৯ হোক ক্যারিয়ারের বছর
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শুরু হয়ে গেছে নতুন বছর।

শুধু কথার কথা নয়- সত্যিকার অর্থেই পুরনো জঞ্জালকে পেছনে ফেলে, নিজেকে নতুনভাবে গুছিয়ে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে হবে। সত্যি কথা হলো, নতুন বছরের প্রতিটি দিন, এক একটি নতুন সম্ভাবনা। এই নতুন বছরকে কীভাবে কাজে লাগাবেন, কীভাবে নিজেকে পরিণত করবেন সেটা কিন্তু সম্পূর্ণই আপনার উপর নির্ভর করে।

বিশেষত ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন প্রতিটি চাকরিজীবীকে আরও বেশি মনযোগী হতে হবে নিজের কাজ নিয়ে। গোছানো ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া সকলের প্রয়োজন।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে

দেরী করে ঘুমানো ও দেরী করে ঘুম থেকে ওঠা কখনোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। কর্মক্ষেত্রে ভালো করতে চাইলে অবশ্যই নিজেকে সুস্থ রাখতে হবে। তাই সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার কোন বিকল্প একেবারেই নেই। অ্যামেরিকার ন্যাশনাল ইস্টিটিউট অফ হেলথ জানায়, সঠিক মাত্রার ঘুম মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি দৃঢ় করতে কাজ করে এবং আট ঘন্টার পূর্ণ ঘুম শেষে সকালে ওঠার পর মস্তিষ্ক পরিপূর্ণভাবে কাজ করতে পারে।

গড়তে হবে গুছিয়ে কাজ করার অভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/01/1546326043666.jpeg

শুধু অফিসের কাজ নয়, নিজের ব্যক্তিগত কাজ কিংবা বাসার কাজের ক্ষেত্রেও গোছানো স্বাভাব আয়ত্বে আনতে হবে। এতে করে সবকিছুই খুব সহজে ও ঝামেলাবিহীনভাবে করা সম্ভব হবে। যেমন, আগামী পুরো সপ্তাহে অফিসে পরার জামা আগে থেকে রেডি করে রাখলে, অফিসের যাবার আগে তুলনামূলক কম সময় প্রয়োজন হবে। এমনকি পরবর্তী মিটিং এর কাজ আগে থেকে জানা থাকলে, সেইভাবে পরিকল্পনা করে রাখলেও দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

শুরু করতে হবে শরীরচর্চা

ক্যারিয়ারের সঙ্গে শরীরচর্চার বিষয়টি অদ্ভুত শোনালেও নিজেকে একটিভ রাখার জন্য শরীরচর্চার কোন বিকল্প নেই। গবেষকেরা জানান, শরীরচর্চার ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। উভয় কারণই শরীরে এনার্জি বৃদ্ধি করে এবং শারীরিক ও মানসিক স্ট্রেস কমায়। স্বাভাবিকভাবেই আপনি যত বেশি স্ট্রেস ফ্রি থাকতে পারবেন, তত বেশি নিজের কাজের প্রতি মনযোগী হতে পারবেন। তাই প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করার অভ্যাসটা আজ থেকে গড়ে তুলুন।

সাপ্তাহিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/01/1546326205345.jpeg

একেবারে খুব বড় কোন লক্ষ্য নির্ধারণ করার প্রয়োজন নেই। সাপ্তাহিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। পরবর্তি সপ্তাহে কোন কাজগুলো শেষ করবেন সেটা ঠিক করুন। সেই অনুযায়ী কাজ করুন। লক্ষ্য পূরণ হলে পরবর্তি সপ্তাহের জন্য পরিকল্পনা করে ফেলুন। এভাবে ছোট ছোট লক্ষ্য পুরণের মাধ্যমেই বড় অনেক কাজ শেষ করে ফেলা সম্ভব হবে।

কাজ করুন দক্ষতার সাথে

কাজ তো সকলেই করেন, কিন্তু বুদ্ধি ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন খুব কম মানুষ। নতুন বছরে তাই কাজ করার চেষ্টা করুন পরিকল্পনা মাফিক, দক্ষতার  সাথে। যে কাজটি দুই ঘণ্টার মাঝেই শেষ করা সম্ভব, তার জন্য দুই দিন পরিশ্রম করা অর্থহীন। তাই নিজের কাজগুলো ভাবুন, পরিকল্পনা করুন, কাজের ধরণকে জানার চেষ্টা করুন। এতে করে অহেতুক পরিশ্রম করার প্রয়োজন হবে না।

সেলফ ইমপ্রুভমেন্ট এর দিকে নজর দিন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/01/1546326091307.jpeg

নিজের কর্ম দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর ক্ষেত্র পাওয়া যাবে, যেখানে নিজেকে সময় দিতে হবে। নিজের মাঝে সবসময় নতুন কিছু শেখার ও জানার মনোভাবটাকে ধরে রাখতে হবে। কারণ শেখার কোন শেষ নেই। যেকোন ক্ষেত্রেই, যত বেশি শেখা যাবে, ততবেশি নিজেকে পরিণত করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। শেখার জন্য যে রীতিমত ক্লাস করতে হবে, পরীক্ষা দিতে হবে- এমনটা নয়। ইউটিউবে শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা, শিক্ষামূলক কোন বই পড়া এমনকি কর্পোরেট লাইফের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কোন ক্লাসে অংশ নেওয়াও হতে পারে ইতিবাচক পদক্ষেপ।

পরিকল্পনা করুন ছুটি কাটানোর

ক্যারিয়ারের মাঝে ছুটি কাটানোর কথা বলা হচ্ছে হবে অবাক হবে না। ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের মাঝে হাঁপিয়ে উঠলে খুব স্বাভাবিকভাবেই কাজের গতি ধীর হয়ে যায়। কাজের প্রতি বিরক্তিভাব চলে আসে। তাই সময় বুঝে ৫-৭ দিনের ছুটির পরিকল্পনা করে ফেলুন।

আরো পড়ুন: ক্যারিয়ারে যখন হতাশা!

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র