বেরোবিতে নানামুখী আন্দোলনে শেষ হলো ২০১৯

বিবিধ, ক্যাম্পাস

আদিব হোসাইন, বেরোবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর | 2023-08-25 01:51:12

শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপাচার্যপন্থী এবং উপাচার্য বিরোধীদের দফায় দফায় আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সাল। আলোচনায় ছিল ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড। নানামুখী আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে বারবার ব্যাহত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

বছরের মার্চ মাস থেকে কর্মকর্তাদের ১১ দফা দাবির মাধ্যমে আন্দোলনের সূত্রপাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিনুর রহমানকে উপাচার্যের একান্ত সচিবের পদ থেকে অব্যাহতিসহ পদোন্নতি, চাকরি স্থায়ীকরণ, বদলিকৃতদের স্বপদে বহাল, দপ্তরগুলোকে নিজ নিজ কাজ বুঝিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রভৃতি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করে অফিসার্স এসোসিয়েশন। প্রায় সপ্তাহ ধরে চলে তাদের আন্দোলন।

কর্মকর্তাদের আন্দোলনের ৩য় দিনের মাথায় ৩ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং আপগ্রেডেশন প্রমোশন নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবিতে প্রায় ৩ মাস কর্মবিরতি পালন করে কর্মচারীরা। তাদের একটানা কর্মবিরতির ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম।

এদিকে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় থাকার সুব্যবস্থা, বিগত বছরে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ও ভর্তি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখাসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। ভর্তি পরীক্ষার কিছুদিন আগে তুমুল আন্দোলনের মুখে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এছাড়া শোকের মাসের শেষ দিকে আলোচনায় ছিল শাখা ছাত্রলীগ। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ সভাপতির দায়ের করা মামলায় কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা সাজা ভোগ করলেও ধোঁয়াশা কাটেনি এখনও।

বছরের শেষ দিকে ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজী বিভাগের শিক্ষিকা ইমরানা বারীর ছোটবোন চলতি বছরের ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটে রেকর্ড পরিমাণ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করায় জালিয়াতির অভিযোগে ওঠে। পরে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং বি-ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবিতে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকবৃন্দ। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে পাল্টা মানববন্ধন করে উপাচার্যপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আরেকটি পক্ষ।

এছাড়া বছরজুড়েই নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ও রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর