মেঘপাহাড়ের ডাক-৮

চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিবন্দনা



মাহমুদ হাফিজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গাড়ি চেরাপুঞ্জির দিকে যতো এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের এক্সাইটমেন্ট ততোই দানা বাধছে। কিশোর-যুবাদের কাছে চেরাপুঞ্জি এক নস্টালজিক গন্তব্য। স্কুলস্তরের ভূগোল বইয়ে বিশ্বের সবচেয়ে  বেশি বৃষ্টিপাত কোথায় হয়- প্রশ্নে চেরাপুঞ্জির নামটি লিখতে হয়েছে বার বার। কিশোর বয়স থেকে নামটি মনে গেঁথে রয়েছে। অতিবৃষ্টির এই বিশ্ব রাজধানীতে আজ সরজমিন দেখতে যাচ্ছি-ভেবেই গা শিউরে উঠছিল।

আজ গাড়িতে খাসি মেজবানদের ইভানিশা নেই। নতুন যোগ হয়েছে ডোডো নামে দলনেতা মিসেস ডেখারের বোন। আলাপ-গুঞ্জনে আমরা যতো চেরাপুঞ্জি শব্দ উচ্চারণ করি, তারা সোহরা সোহরা বলে খাসি ভাষায় বাতচিত করতে। ধারণা আছে চেরাপুঞ্জি বৃটিশদের দেয়া নাম। আদি নাম সোহরা ব্যবহার করতেই তারা বেশি স্বচ্ছন্দ। চেরা বা সোহরারিম ছিল আদি গ্রামটির নাম। এই ইস্ট খাসি হিল  জেলার  সাবডিভিশন। বৃটিশরা আসার পর চেরা গ্রামের দক্ষিণে তাদের সদর দফতর নির্মাণ করলে তখন থেকে এটি ‘সোহরা’ নামে পরিচিতি পায়। পরে যা চেরাপুঞ্জি নামে অভিহিত হতে থাকে। বৃটিশরা ১৮৩২ সালে এ্রখানে আসামের রাজধানীও প্রতিষ্ঠা করেছিল, ১৮৬৬ সালে তা সরিয়ে নেয়া হয় শিলংয়ে। এই সৌন্দর্যময় পাহাড়প্রকৃতির দূরত্ব শিলং থেকে ৫৬ কিলোমিটার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/17/1560769091974.jpg

এসব হিসাব নিকাশের দিকে মনযোগী না হয়ে আমরা এখন মত্ত হতে চাই বৃষ্টিবন্দনায়। কিশোর বয়স থেকে মনে  গেঁথে থাকা গন্তব্য দেখে নয়ন জুড়াতে চাই। ভারতীয় বন্ধুরাই সাবধান করে দিয়েছে, যাচ্ছো তো যাও, বৃষ্টি পাবে না। চেরাপুঞ্জিতে এখন বৃষ্টি হয় না। ভাবি, বৃষ্টি যদি না পাই, তাহলে চার পরিব্রাজকের সঙ্গে নেয়া চার রেইনকোট আর তিনটি ছাতার কি দশা হবে ! পায়ের জুতো, গায়ের জ্যাকেট সবই বৃষ্টি সহনক্ষম। বিশ্বের আর কোন ভ্রমণে এমন পূর্বপ্রস্তূতি নিয়েছি কিনা মনে পড়ে না। বৃষ্টিবন্দনায় খোদ মেঘের মধ্যে গাড়িতে বসে মনে মনে ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে, ছায়া দে রে তুই’ গেয়ে চলেছি।  

গাড়ি ছুটছে। পূর্বদিনের গাড়িচালক আজ আসেনি, নতুন একজনকে সেই চুক্তি করে পাঠিয়েছে। এই চালক কিছুটা বাংলা ভাষা জানে, আলাপীও। সে এটা ওটা দেখিয়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করতে চাচ্ছে। আমাদের মন পড়ে আছে জানালার অদূরের অপূর্বমনোহর প্রকৃতিতে। শিলং থেকে ডাউকিমুখো যে রাস্তা, সেটি ধরে ছুটে চলেছি। পথে উমতিঙ্গর নামে একটি চমৎকার পাহাড়ি ছড়া বা খাল। খালটিতে পানি বেশি নেই। ভারিবষর্ণের সময় দূর পাহাড় থেকে নুড়ি ও বড় বড় পাথরের চাঁই এসে এর তলদেশে জমা হয়েছে। এই খাল গিয়ে মিশেছে মাফলাঙ ড্যাম থেকে উৎপন্ন উমলি নদীর সঙ্গে। উমতিঙ্গর সেতু পার হয়ে বামের দিকের রাস্তা চলে গেল ডাউকির দিকে। আমরা ছুটে চলি সোজা, মাজরঙের দিকে। মাজরঙ জনবসতিটি পেরিয়ে গেলেই গাড়ি ঢুকে পড়ে চমৎকার যাদুবাস্তবতার এক মেঘদল,পাহাড়ি ক্যাসকেডময় জগতে। আশপাশের দৃশ্যপট দ্রুতই বদলে যেতে থাকে। যেখানে জনবসতি কম, প্রকৃতিরই কর্তৃত্ব। এই অপার  সৌন্দর্যের শুরু মাউকদক সেতু থেকেই। সেতু পেরিয়ে কিছুদূর এগোলে কুয়াশাময় মেঘের ভেলার মধ্যে গাড়ি ঢুকে যায়। মেঘ জাপটে ধরে আমাদের। মেঘ কাটিয়ে কাটিয়ে গাড়ি সামনে এগোতে থাকে। গাড়ির মধ্যে আনন্দে হৈ চৈ করতে থাকি সবাই। কেউ গান ধরে, কেউ ছবি তোলে, কেউ মগ্ন আলাপচারিতায়। রাস্তার ডাইনে পাহাড় বামে খাদ, কখনো বামে পাহাড় ডাইনে খাদ। পাহাড়ের গা ঘেঁষে নির্মিত রাস্তা দিয়ে বাঁকের পর বাঁক পেরিয়ে গাড়ি  উঠে যাচ্ছে ওপরে। হিসাবমতে, আমাদের ঊর্ধ্বগামী হতে হবে সমুদ্রসমতল থেকে পাঁচ হাজার ফুটের মতো। মাউকদক উপত্যকার মজাটা হচ্ছে, এখানে পাহাড়ের পর পাহাড়। দুইপাহাড়ের মাঝখানে উপত্যকাজুড়ে সাদা মেঘের মেলা খেলা করে বেড়াচ্ছে। পাহাড়ি সবুজ আর সাদা মেঘ তৈরি করছে নয়নজুড়ানো দৃশ্যপট।

আমরা এই স্বর্গীয়  সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি। আরও কয়েকটি পাহাড় পেরিয়ে গেলে কিছু জায়গা চোখে পড়ে যা মালভূমির মতো। রাস্তার পাশে বিভিন্ন হোটেল-রিসোর্টের সাইনবোর্ড। এর কিছু পর ঘন মেঘের মধ্যে ইশারা করে আমাদের হোস্ট কাম গাইড স্ট্রিমলেট ডেখার বলে ওঠেন, ‘ওই যে, কোল মাইনিং এরিয়া। এগুলোর কয়লা সব রফতানি হয়ে গেছে। এখন পরিত্যক্ত ’। একসময়ের জ্বালানি সাংবাদিক বলে এনার্জি নিয়ে আমার আগ্রহ এন্তার। দেখি ঘনমেঘের আবছা আঁধারে টিলা টিলা কিছু একটা দেখা যায়। কিছু ছোটখাটো স্থাপনাও আছে। র‍্যাটহোল মাইনিংয়ে মেঘালয়ে পাহাড় খুঁড়ে কয়লা তোলা হয় বলে মাইনিংয়ের বড় কোন স্থাপনা নেই বুঝতে পারি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/17/1560769106497.jpg

বৃষ্টির বিশ্ব বাড়িতেই আছি। জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে মেঘ ছুঁতে পারছি না। কিছূক্ষণ বাইরে হাত রাখলেই হাত ভিজে যাচ্ছে পানিতে, কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই। সামনে চেরাপুঞ্জি টাউনশিপ। আমরা সেদিকে না গিয়ে সোজা এগোতে থাকি। হাতের বামদিকে ইকো পার্ক যাওয়ার রাস্তা পেরিয়ে গেলে সেভেন সিস্টার  ফলস। মেঘে ঢাকা বলে সেখানে ছবি তোলার জো নেই। আমরা সেখানে না নেমে বাংলাদেশ ভিউপয়েন্ট পেরিয়ে এগিয়ে যেতে থাকি খুব কাছ থেকে বাংলাদেশ দেখতে। গন্তব্য চেরাপুঞ্জি সেন্টার থেকে আট কিলোমিটার দূরে কোহ রামহা পিকনিক স্পট ও থাংখারাং পার্ক।

আট কিলোমিটার রাস্তার তিন কিলোমিটার কাঁচা। কংক্রিটের বদলে পাহাড়ি নুড়ি আর মাটি বালির। কাঁচা রাস্তাটির কোথাও কোথাও এবড়োখেবড়ো। ভারিবর্ষণ হলে তা আর চলার মতো অবস্থা থাকে না, বন্ধ হয়ে যায়। সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছতে এপথ ক্রমশ পাহাড়ি ঢালুর দিকে নামতে থাকে। সচরাচর ড্রাইভাররা এই স্পটের দিকে ভুলেও যেতে চায় না বলে জানাচ্ছে আমাদের আজকের ড্রাইভার। এমনিতে দূর, রাস্তা কাঁচা, দূর্গম। এরওপর একবার আটকে পড়লে ফিরে আসা দুষ্কর। তাই সেভেন স্টার জলপ্রপাতের কাছে ‘বাংলাদেশ ভিউপয়েন্ট’ নামের একটা জায়গায় নিয়ে বায়োস্কোপওলার মতো ‘ওই যে বাংলাদেশ’ বলে গাড়িচালকরা পর্যটকদের দিয়ে থাকে। আমাদের সঙ্গে খাসি হোস্টগণ, আমাদের ফাঁকি দেয়ার জো ড্রাইভারের নেই।

যাওয়ার পথে আর কোন গাড়ি দেখি না। ইতোমধ্যে বেলা গড়িয়ে বিকালের দিকে মোড় নেয়াও আরেকটি কারণ হতে পারে। একপাশে পাহাড়, আরেকপাশে ঘনবন মাঝে  মধ্যে পাতলা। চলার পথে মুহূর্তে চোখে ধরা দেয় অদূরের সমতলভূমি। পানিতে ভাসমান সবুজ থোকা থোকা গ্রাম। গুগলে দেখি, সেটা বাংলাদেশের কোম্পানিগঞ্জ।

ভ্রমণসঙ্গী কবি কামরুল হাসান বললেন, প্রাকৃতিক  সম্পদওলা পাহাড়ের সবগুলোই প্রতিবেশীদের, আমাদের শুধুই সমতল?

বললাম, জানে র‍্যাডক্লিফ সাহেব।

বললেন, সাহেব তো আর নিজহাতে মাপজোঁক করেননি।

   

৫০ বছর আগে মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি আজও শ্রেষ্ঠ



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সালটা ১৯৬৮। বিশ্বব্যাপী মানুষ মেতে উঠেছিল বড়দিনের আনন্দে। তখনো জানতো না, বড়দিন উপলক্ষে তারা একটি বিশেষ উপহার পেতে চলেছে। পৃথিবী থেকে আমরা হরহামেশাই চাঁদ দেখি। অমাবস্যা-পূর্ণিমা, এমনকি পক্ষের মাঝামাঝি সময়ের বদৌলতে নানা দৃষ্টিকোণে নানা আকারের চাঁদ দেখতে পাই। তবে চাঁদ থেকে পৃথিবী দেখতে কেমন? এরকমটা হয়তো অনেকেই ভাবেন।

নাসার মহাকাশচারীরা অ্যাপোলো ৪ এ করে তখন চাঁদের চারপাশে টহল দিচ্ছে। সেখান থেকে তারা চাঁদের বাসকারীদের দৃষ্টিতে পৃথিবী কেমন হবে তার এক নমুনা জোগাড় করেন। ক্রিসমাসের কিছুদিন আগে ক্রুরা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করার সময় ব্যারেন লুনার হরিজোন থেকে একটি ছবি তোলে। সেখানে সুদূর মহাকাশ থেকে পৃথিবীর একটি সুন্দর দৃশ্য ধারণ করা হয়। চমৎকার সেই রঙিন ছবিটি সবকিছু পরিবর্তন করতে চলেছিল।

ছবিটি তুলেছিলেন মার্কিন নভোচারী বিল অ্যান্ডার্স এবং জিম লাভেল। ছবিটি ধারণ করার পর মহাকাশ বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে যান। অর্ধ শতাব্দী পার হয়ে যাওয়ার পরও এটিকে প্রকৃতির সবচেয়ে আইকনিক ছবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এটিই মহাকাশ থেকে তোলা প্রথম রঙিন এবং উচ্চ রেজুলেশনের ছবি।

১৯৭০ সালে পরিবেশ সচেতনতা এবং এই ব্যাপারে সক্রিয়তা বাড়ানোর উদ্দেশে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে পৃথিবী দিবস প্রচারিত হওয়ার কারণে ছবিটিকে বিশেষ কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাইকেল প্রিচার্ড ছবিটিকে নিখুঁত দাবি করেন। তিনি বলেন, এই ছবিটি পৃথিবীর এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছিল, যা আগে কোনো ছবি করতে পারেনি। প্রকাণ্ড মহাবিশ্বে পৃথিবীর অস্তিত্ব কতটা ক্ষুদ্র গ্রহ, তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ছবিটি।

১৯৬০ সালের পরই পৃথিবী নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। ষাটের দশকের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মানুষ অনুধাবন করে পৃথিবীকে আজীবন একইভাবে ব্যবহার করা যাবে না। গ্রহের প্রতি আমাদের আরও অনুরাগী হতে হবে। সেই উদ্দেশে ১৯৬৯, ‘৭০ ও ‘৭১ সালে ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ’, মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি’ এবং ‘গ্রিনপিস’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ছবিটি প্রকাশের ১৮ মাস পর ২০ মিলিয়ন মার্কিন নাগরিক পৃথিবী রক্ষার আন্দোলনে রাস্তায় নামে।

পৃথিবী রক্ষা করার জন্য মানুষদের উৎসাহিত করার বেলায় ছবিটি অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। এখনো অবদি মহাকাশ থেকে পৃথিবীর পাঠানো ছবিগুলোর মধ্যে ১৯৬৮ সালে বড়দিনের আগে তোলা সেই ছবিটিকে শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করা হয়।

;

মাঝরাতে আইসক্রিম, পিৎজা খাওয়া নিষিদ্ধ করল মিলান!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: স্কাই নিউজ

ছবি: স্কাই নিউজ

  • Font increase
  • Font Decrease

আইসক্রিম, পিৎজা অনেকের কাছেই ভীষণ পছন্দের খাবার। তবে ইউরোপসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে মাঝরাতে এসব মুখরোচক খাবার ও পানীয় খাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ইতালিতে জেলাটিনের তৈরি আইসক্রিম খুব বিখ্যাত। এজন্য ইতালিতে 'জেলাটো সংস্কৃতি' নামে একটা কালচার গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইতালির মিলানের বাসিন্দাদের জন্য একটি নতুন আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন- স্কাই নিউজ।

মিলানে বসবাসকারীদের অধিকাংশই মাঝরাতে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে আইসক্রিম, পিৎজা, ফাষ্টফুড জাতীয় খাবার ও পানীয় পান করে থাকে। এতে করে সেখানকার এলাকাবাসীদের রাতের ঘুম বিঘ্নিত হয়। নতুন প্রস্তাবিত আইনে শহরবাসীর রাতের ঘুম নির্বিঘ্ন করতে মধ্যরাতের পর পিৎজা ও পানীয়সহ সব ধরনের টেকওয়ে খাবার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে মধ্যরাতের পর আইসক্রিম নিষিদ্ধ করার চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৩ সালে, তৎকালীন মেয়র গিউলিয়ানো পিসাপিয়া অনুরূপ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু 'অকুপাই জেলাটো' আন্দোলনসহ তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরে তিনি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

এরপর আবারও মিলানে এ আইনটি প্রস্তাব করেছেন ডেপুটি মেয়র মার্কো গ্রানেল্লি। দেশটির ১২টি জেলা এই প্রস্তাবের আওতাভুক্ত হবে বলে জানিয়েছে মিলান কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে মিলানের মেয়র গ্রানেল্লি বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিকতা ও বিনোদন এবং বাসিন্দাদের শান্তি ও প্রশান্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

প্রস্তাবটি নিম্নলিখিত এলাকাগুলোতে প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে মিলান কর্তৃপক্ষ: নোলো, লাজারেটো, মেলজো, ইসোলা, সারপি, ভায়া সিজারিয়ানো, আরকো ডেলা পেস, কোমো-গাইআউলেন্টি, পোর্টা গ্যারিবল্ডি, ব্রেরা, টিসিনিজ এবং দারসেনা-নাভিগলি।

জানা যায়, প্রস্তাবটি মে মাসের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর থাকবে এবং নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এটি প্রতিদিন রাত ১২.৩০ টায় এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং সরকারী ছুটির দিনে রাত ১.৩০ টা থেকে প্রয়োগ করা হবে। তবে এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নাগরিকদের মে মাসের শুরু পর্যন্ত আপিল করার এবং আইন পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়ার সময় রয়েছে।

 

 

 

;

অস্ট্রেলিয়ায় নিখোঁজ কুকুর ফিরলো যুক্তরাজ্যের মালিকের কাছে



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অস্ট্রেলিয়ায় ঘুরতে এসে নিখোঁজ হয় যুক্তরাজ্যের এক দম্পতির পালিত কুকুর। যুক্তরাজ্যে আসার ১৭ দিন পর মিলো নামের কুকুরটিকে ফিরে পেয়েছেন জেসন হোয়াটনাল নিক রোল্যান্ডস দম্পতি।

হোয়াটনাল এবং তার সঙ্গী নিক সম্প্রতি তাদের কুকুর মিলোকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া পরিদর্শনে যান। তারা যখন সোয়ানসিতে বাড়িতে যাচ্ছিলেন তখন মেলবোর্ন বিমানবন্দরে তার হ্যান্ডলার থেকে কুকুরটি পালিয়ে যায়।

সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী কুকুরটিকে অবশেষে মেলবোর্নের শহরতলিতে ১৭ দিন পর খুঁজে পাওয়া যায়।


হোয়াটনাল স্কাই নিউজকে বলেন, ‘মিলোকে ফিরে পাওয়াটা খুবই আশ্চর্যজনক ছিল আমার জন্য। যখন আমি আমার প্রিয় মিলোর (কুকুর) সাথে পুনরায় মিলিত হয়েছিলাম, তখন আমি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম। আমার কান্না দেখে অন্যরাও কেঁদেছিল। এটি সত্যিই আবেগপ্রবণ ছিল।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্য প্রান্তে থেকে মিলোর কথা চিন্তা করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। আমরা জানতাম না মিলো কোথায় আছে। এটি বেশ হতাশাজনক ছিল আমাদের জন্য, কিছুটা আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাকে ফিরে পাবো ভাবিনি।

মিলোকে পাওয়ার জন্য সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলাম, তখন স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে সাহায্য আসে, তারা মিলোর সন্ধান দেয়। মিলোকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ।

;

আমার হাতের পাখা যেন তাদের আরাম দিচ্ছে!



মৃত্যুঞ্জয় রায়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
ছবি: বার্তা২৪, তালপাতার পাখা বিক্রি করছে পাঁচ বছরের শিশু মাহমুদুল্লাহ

ছবি: বার্তা২৪, তালপাতার পাখা বিক্রি করছে পাঁচ বছরের শিশু মাহমুদুল্লাহ

  • Font increase
  • Font Decrease

আবু বক্কর (৬২)। বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে তিনি এখন পাকা বিক্রেতা। প্রচণ্ড তাপদাহে মানুষ যখন ঠান্ডা বাতাসের প্রশান্তি খুঁজছে, তখন তিনি গ্রামে গ্রামে গিয়ে তালপাতার পাখা বিক্রি করছেন।

আবু বক্কর বার্তা২৪.কমকে বলেন, স্ত্রীসহ ছয় মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। তবে মেয়েদের বিয়ে দিতে পেরেছি। কিন্তু বয়সের ভারে ঠিকই আমরা একা থেকে গেলাম। শেষ বয়সে গ্রামে গ্রামে তালপাতা পাখা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। শুধু সংসার না, এই টাকায় আমার পায়ের শিরার ব্যথার ওষুধও কিনতে হয়। একবেলা ওষুধ না খেলে চলতে পারি না।

এদিকে, পুরনো ব্যবসার ঋণের বোঝা আর অন্যদিকে অসুস্থ হয়ে ওষুধসহ সংসারের খরচ। শেষ বয়সে তালপাতার পাখাই আমার একমাত্র জীবনসঙ্গী বলেন আবু বক্কর।

তালপাতার পাখা বিক্রি করছেন আবু বক্কর, ছবি- বার্তা২৪.কম

বুধবার (২৪ এপ্রিল) সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের কবিগানের অনুষ্ঠানে সরেজমিন দেখা যায়, একপাশে তালপাতার পাখা বিক্রি করতে ব্যস্ত ছোট্ট পাঁচ বছরের শিশু মাহমুদুল্লাহ। এই গরমে যখন তার ঘরে থাকার কথা, তখন সে নানা-নানীর সঙ্গে এসে তালপাতার পাখা বিক্রি করছে। কবিগানে বসে থাকা সব শ্রোতার কাছে গিয়ে বলছে, পাখা লাগবে, পাখা! কথা বলতে চাইলেও এ পাশ ওপাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে, ক্রেতার কাছে।

এক ফাঁকে তাকে কাছে পেয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, এই বয়সে পাখা বিক্রি করছো কেন! এ প্রশ্নের উত্তরে বার্তা২৪.কমকে মাহমুদুল্লাহ বলে, প্রচণ্ড গরমে স্কুল ছুটি। তাই, নানা-নানীর সঙ্গে চলে এসেছি মেলায় পাখা বিক্রি করতে। মানুষজন আমার কাছ থেকে যেন বেশি পাখা কেনে (ক্রয়), তাই আমি মেলায় তাদের সঙ্গে এসেছি।

অনেক উৎসাহের সঙ্গে সে বলে, গরমে আমার হাতের পাখায় যেন তাদের আরাম দিচ্ছে! মেলা হলে আমি সেখানে চলে যাই পাখা বিক্রি করতে। ঘোরাঘুরিও হয় আর টাকা ইনকামও হয়। টাকার জন্য বের হয়ে পড়েছি। আমরা পাখা বিক্রি করে পেট চালাই। নানা-নানী বুড়ো হয়ে গেছে। তাই, আমি সঙ্গে এসে তাদের কষ্টটাকে একটু ভাগাভাগি করে নিচ্ছি।

যেখানে প্রচণ্ড তাপে মানুষজন নাজেহাল, সেখানে ছোট্ট মাহমুদুল্লাহ ছুটে চলেছে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পাখা বিক্রি করতে। ছোট্ট শিশু হলেও গরম যেন তার কাছে কিছু না, পেটের তাগিদে!

আরেক পাখা বিক্রেতা তালা উপজেলার হরিণখোলা গ্রামের বাসিন্দা ভদ্রকান্ত সরকার (৭০)। ১২-১৪ বছর ধরে এই পেশায় আছেন তিনি।

চলছে তালপাতার পাখার বিকিকিনি, ছবি- বার্তা২৪.কম

শেষ বয়সে পাখা কেন বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বার্তা২৪.কমকে ভদ্রকান্ত বলেন, চাল কিনে খেতে হয়। খুব কষ্টের সংসার! ছেলে-মেয়ে আছে। তারা তাদের মতো কাজ করে খায়। মা বাবার বয়স হয়ে গেলে ছেলে আর আমাদের থাকে না। আমরা বৃদ্ধ বয়সে কেমন আছি, সেটা জানার সুযোগ তাদের থাকে না। শেষজীবনটা এভাবে পাখা বিক্রি করে কাটিয়ে দেবো। কী আর করবো! কপালে যা আছে, শেষপর্যন্ত তাই হবে। কপালে ছিল, এমন বৃদ্ধ বয়সে গ্রামে গ্রামে পাখা বিক্রি করতে হবে!

;