কুষ্টিয়ার উন্নয়নে হানিফের পাল্লা ভারী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া, বার্তা২৪
বক্তব্য দিচ্ছেন হানিফ, ছবি: বার্তা২৪

বক্তব্য দিচ্ছেন হানিফ, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বিগত ৫ বছরে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন আর ব্যক্তি ইমেজের কারণে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুবউল আলম হানিফের পাল্লা এখন পর্যন্ত ভারী।

দেশ স্বাধীনের পর উন্নয়নবঞ্চিত এ জেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড করেছেন হানিফ। ২০১৪ সালে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে একগুচ্ছ বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। 

বিশেষ করে গত দুই যুগের দাবি ছিল মেডিকেল কলেজ, হরিপুর সেতু ও বাইপাস সড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে হানিফের সময়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে এর আগের সংসদ নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের সামনে মুলা ঝোলানো হতো। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে দীর্ঘদিন ভোটের রাজনীতি হয়েছে সদর আসনের মানুষের সাথে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই বড় তিনটি প্রকল্প শুরু করেন।   শহর সংলগ্ন একটি ইউনিয়নের জন্য গড়াই নদীর উপর শেখ রাসেল সেতু ও শহর বাইপাস সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। যার সুফল ইতিমধ্যে পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া সাংসদ হানিফ একটি আধুনিক সুইমিংপুলও নির্মাণ করেন এই এলাকায়।

বড় প্রকল্পের মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের পাশে একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ, আইটি পার্ক ও জেলা পরিষদ শিশু পার্ক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি কুষ্টিয়া শহরের বটতৈল থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত মহাসড়কটি ফোর লেনে উন্নতি করার ঘোষণা দিয়েছেন।  যার টেন্ডার হয়েছে সম্প্রতি।

কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের পাশাপাশি, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠন, জেলার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ,জেলার ক্রীড়াবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠকসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শনিবার সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বর থেকে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রচার শুরু করেন জেলার ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক। এ সময় কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, ক্রীড়া সংগঠক এসএম কাদেরী শাকিল, সনৎ পাল বাবলু, আফরোজা আক্তার ডিউসহ জেলার ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠকবৃন্দ নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালান। এছাড়াও সকালে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির উদ্যোগে চেম্বার ভবনে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালান চেম্বারের নেতৃবৃন্দ। বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গত ৫ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে সেইসব প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির দেওয়া।  বিএনপি যা দুই যুগে পারেনি, মাহবুবউল আলম হানিফ তা ৫ বছরে করে দেখিয়েছেন। এটা বড় অর্জন দলের জন্য।  পাশাপাশি গত ৫ বছরে মাহবুবউল আলম হানিফ দলমত সবার কাছে সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।  তার কাছে কাজে গিয়ে কেউ ফেরত আসেনি। এমনকি বিএনপির লোকজনও তার কাছে গিয়ে কখনো হতাশ হয়নি। তিনি তাদের কাজ করে দিয়েছেন। এ কারণে সদরে হানিফের ইমেজ আরও স্বচ্ছ হয়েছে। মাঠের প্রচার-প্রচারণায় এসব উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, মানুষ উন্নয়ন ও শান্তি চায়। বিএনপি বারবার সদরের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।  কিন্তু কোন উন্নয়ন তারা করতে পারেনি। এবার মানুষ সব পেয়েছে। তাই নৌকা ও হানিফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তি হানিফও এখন সবার কাছে জনপ্রিয়।

বাংলাদেশ তাঁতী লীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব হাজী হারুন আর রশিদ বার্তা২৪কে বলেন, তাঁতীদের উন্নয়নে কাজ করছে এই সরকার। আরও কাজ করার সুযোগ দিতে আবারও নৌকায় ভোট দিতে হবে। এজন্য আমরা প্রতিনিয়ত তাতী লীগের উদ্যোগে পাড়া মহল্লায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও সরকারের উন্নয়ন নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, কুষ্টিয়াকে মানুষ চেনে সাংস্কৃতিক রাজধানী নামে। আগামীতে চিনবে উন্নয়নের রাজধানী হিসেবে। আগামীতে এমপি নির্বাচিত হতে পারলে কুষ্টিয়ার মানুষের চাওয়া-পাওয়ার যে হিসাব আছে তা মেটাতে পারব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে গোটা কুষ্টিয়ার উন্নয়নের চিত্র বদলে যাবে। বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া ছাড়াও বেকার সমস্যা কমাতে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন ও বাইরে থেকে যাতে নতুন বিনিয়োগ আসে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার চিন্তা চলছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুবউল আলম প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও এখনো মাঠে নামতে পারেনি ধানের শীষের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার। জাকির সরকার মনোনয়ন পাওয়ায় জেলা ও সদর বিএনপিতে গ্রুপিং তৈরি হয়েছে।

জাকির হোসেন সরকার বলেন, প্রতিটি পদে পদে বাধা।  নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে। যারা আমার সাথে মাঠে ছিল তারা এখন আর কেউ নেই। আমি এখন একা। এখন নিজের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত আছি। সব অভিযোগ লিখিত আকারে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কমিশনে দিলেও কোন প্রতিকার মিলছে না।’

   

‌'নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে কোনো ধরনের গুজব ছড়ালে ছাড় নেই'



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) লুৎফুন নাহার বলেছেন, অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদেরকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্র দখল বা অন্য কোনো অজুহাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে কোনো ধরনের গুজব ছড়ালে ছাড় নেই। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা আপনাদের পাশে থাকবে। নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

সোমবার (১৩ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

লুৎফুন নাহার বলেন, আগামী ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া এবং ২৯ মে তৃতীয় ধাপে বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে গত ৮ মে প্রথম ধাপে সীতাকুন্ড, মিরসরাই ও সন্ধীপ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আগামী ২১ ও ২৯ মে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠাতব্য চট্টগ্রামের উল্লিখিত ৭টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার অফিসার ইনচার্জরাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

সভায় পুলিশ সুপার পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কবির আহমদ বলেন, প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যে কোনো ধরনের সহিংসতা রোধে জেলা পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখলে অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেব। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে গত ৮ মে প্রথম ধাপে এখানকার ৩টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল, আগামীতে অনুষ্ঠাতব্য উপজেলা পরিষদের নির্বাচনগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাসান বলেন, আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। পিভিসি ব্যানার ও পোস্টার করা যাবে না। কেউ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইলে আমরা এক চুল পরিমাণও পিছ পা হবো না। আশঙ্কার জায়গা থাকবে না। এ নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ্য হবে না। ভোট সুন্দর ও সুষ্ঠু করার জন্য যা যা দরকার সবই করা হবে। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় আমাদের একটাই চাওয়া-নির্বাচনকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করা।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ আলী বলেন, নির্বাচনে কেউ জয়ী হবে, কেউ পরাজিত হবে, এটা বাস্তবতা ও মেনে নিতে হবে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সবাই আপনাদের পাশে আছে। নির্বাচনী এলাকায় অনুমতি ব্যতীত কোনো যানবাহন চলবে না। ভোটারদেরকে কেন্দ্রে আনা-নেয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া করাও অবৈধ। আগামী ২১ মে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ১৭ মে রাত ১২টায় বন্ধ হয়ে যাবে। ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা করা যাবে।

সভায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধান বা পরিপত্র মেনে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট কেন্দ্রে বা বাইরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যা যা করা দরকার তা-ই করবো। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা মাথা নত করবো না।

সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবে। একজন প্রার্থীর পোস্টারের উপর অন্য প্রার্থীর পোস্টার লাগানো যাবে না। নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সভায় অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বলতে কিছু নেই। প্রার্থীরা যদি মনে করেন আছে, তাহলে তালিকা দিলে যাচাই-বাছাই করে দেখবো, আশঙ্কার জায়গা থাকবে না। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আইনের স্বপক্ষে থেকে যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাচনের দিন সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে ও বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক, আনসার ভিডিপি’র জেলা কমান্ড্যান্ট সাইফুল্লাহ হাবীব, র‌্যাবের এএসপি মোজাফফর হোসেন, এনএসআই’র সহকারী পরিচালক জহিরুল হক, বিজিবি’র সহকারী পরিচালক উপেন্দ্র নাথ হালদার প্রমুখ।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা ও চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

;

ফেনী সদর উপজেলায় নির্বাচনী আমেজ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ফেনী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৬ষ্ঠ ধাপে ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলায় ও পৌর এলাকায় নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ায় ফেনীতে বইছে উৎসবের আমেজ। ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহর ও সদর এলাকা। মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

প্রচারণার প্রথমদিনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল। নির্বাচনকে সাফল্যমণ্ডিত করতে বর্ধিত সভা করেছে ফেনী পৌর আওয়ামী লীগ ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ।

সোমবার (১৩ মে) সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে বিকালে নির্বাচনী গণসংযোগ করেন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। এসময় জেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণসংযোগটি ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় হতে শুরু হয়ে, মিজান রোড, ট্রাংক রোড, শহীদুল্লাহ্ কায়সার সড়ক হয়ে ফেনী বড় বাজারের বিভিন্ন পট্টি ঘুরে বড় মসজিদ রোড হয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এসময় দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি দোকানপাট, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের কাছে ভোট কামনা করেন তারা।

গণসংযোগে ফেনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন দলীয় নেতাকর্মীরা। নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সকল গণসংযোগ, বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান তারা।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৪ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত ১৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। যার মধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগের বর্ধিত সভা, সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বর্ধিত সভা, মহিলা সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে পথসভা ও গণসংযোগ রয়েছে।

এসময় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি করিম উল্ল্যাহ বিকম, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আইনুল কবির শামীম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, জেলা আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক একে শহীদ উল্ল্যাহ খোন্দকার, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আহমেদ রিয়াদ আজিজ রাজীব, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তোফায়েল আহম্মদ তপু, সাধারণ সম্পাদক নূর করিম জাবেদসহ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

;

ফটিকছড়ির মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানকে শোকজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ফটিকছড়ির মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানকে শোকজ

ফটিকছড়ির মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানকে শোকজ

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. ইসমাইল হোসেন ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম আবু তৈয়বকে শোকজ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের দু’জনকে আগামী ১৪ মে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার (১৩ মে) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত ৯ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম আবু তৈয়ব আনারস প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে মানহানিকর বক্তব্য দেন। তিনি ওই প্রতীকের পক্ষে ভোট না দিলে ভোটারদের ‘মীর জাফর’ হবে বলে উল্লেখ করেন। তার ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধি ১৮ (ক) এর লঙ্ঘন।

এবিষয়ে এইচ এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘এলাকার সভা-সমাবেশে জনগণের হয়ে আমাদের অনেক কথাই বলতে হয়। আমরা ছোটকাল থেকে রাজনীতি করি। আমরা গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করি।’

অপরদিকে, গত ১১ মে ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. ইসমাইল হোসেন তার ফেসবুক পোস্টে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং একই সাথে পূর্ববর্তী নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলায় আচরণ বিধিমালা এর ৫ (ক) এর উপবিধি লঙ্ঘন করেছেন।

মেয়র মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি জনগণের মুখপত্র হিসেবে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। এতে বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কিনা ভেবে দেখিনি। তবে আমরা জনগণের কথা বলি।’

;

প্রকাশ্যে ভোট প্রদান: এমপি মল্লিককে ইসিতে তলব



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গত ৮ মে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ায় বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ মল্লিককে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (১৫ মে) দুপুর ১২টায় নির্বাচন ভবনে তার অপরাধের ব্যাখ্যা চাইবে ইসি।

সোমবার (১৩ মে) ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এমপি আবদুল হাফিজ মল্লিককে চিঠি পাঠান।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে অনুষ্ঠেয় বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন আপনি ৪৭নং মঙ্গলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট প্রদান করেছেন। যার ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়) ছবিসহ প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশ্যে ভোট প্রদান করে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা না করা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি ৭৮ এর বিধান অনুসারে শাস্তিযোগ্য নির্বাচনি অপরাধ। উক্ত অপরাধ সংঘটনের কারণে আপনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও পদ্ধতিগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পীকারের কাছে কেন পত্র প্রেরণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী বুধবার (১৫ মে) দুপুর ১২টায় নির্বাচন কমিশনে আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

এই অবস্থায়, মাননীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে আপনাকে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো৷

;