রমজানেও চালু থাকছে ‘বনলতা’র বাধ্যতামূলক খাবার!



স্টাফ করেসপন্ডেট, রাজশাহী, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী-ঢাকা রেলপথে নতুন চালু হওয়া বিরতিহীন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সকাল ৭টায়। ঢাকায় পৌঁছে সাড়ে ১১টার দিকে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ফের ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে ট্রেনটি। রাজশাহীতে পৌঁছায় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে। আসন্ন পবিত্র রমজান মাসেও ট্রেনটির এই সময়সূচি বলবৎ থাকবে।

অথচ বনলতা ট্রেনের টিকিটের মূল্যের সঙ্গে বাধ্যতামূলক খাবার বাবদ যে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, রমজান মাসেও তা চালু রাখা হবে। ফলে ট্রেনে ভ্রমণ করা রোজাদার যাত্রীরা এই খাবার নিয়ে কী করবেন, সেই প্রশ্নে চরম সমালোচনার ‍মুখে পড়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীরা বলছেন- বনলতার চলাচলের যে সময়সূচি, তা ইফতার বা সেহরির সময়ের মধ্যে পড়ছে না। আবার টিকিটের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ১৫০ টাকার ‘বাধ্যতামূলক’ যে খাবার দেয়া হচ্ছে, তা যাত্রীরা খেতে বা সংরক্ষণ করতেও পারবেন না।

কারণ খাবারের মেন্যুতে রয়েছে একটি বার্গার, এক পিস কেক ও সিঙ্গাড়া এবং হাফ লিটার পানি। গরম আবহাওয়ার মাঝে সরবরাহ করার সময়েই খাবারে বাসি গন্ধ হয়ে যায়। অথচ রমজান মাসে বাধ্যতামূলক খাবার সরবরাহ করার বিষয়টি যাত্রীদের সঙ্গে জোচ্চুরি ছাড়া কিছুই নয়!

রাজশাহী থেকে যাওয়ার সময় খাবার দেয়ার বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে থাকলেও ঢাকা থেকে ফেরার সময়ে খাবার চালু রাখার যৌক্তিকতা দেখাচ্ছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের যুক্তি- ‘যদি কোনো কারণে ট্রেন লেট করে তবে যাত্রীরা কোথায় ইফতার করবে?’

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শুরু থেকেই বনলতায় যেভাবে খাবার দেয়া হচ্ছে, রোজার সময়ও সেভাবেই দেয়া হবে। তবে খাবারের মেন্যু বদল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

টিকিটের সঙ্গে খাবার মূল্য জুড়ে দিয়ে বাধ্যতামূলক করার ব্যাপারে যাত্রীরা সমালোচনা করলেও এখনও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি বলে দাবি করেন পশ্চিাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম) এএমএম শাহনেওয়াজ।

রোববার (০৫ মে) সন্ধ্যায় তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমাদের অন্য ট্রেনগুলোর খাবারের মান নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ বেশ পুরোনো। তবে বনলতার খাবার নিয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। এই খাবার পরিবেশন করছে বাংলাদেশ পুলিশের ‘মেট্রো বেকারি’।’

‘বাধ্যতামূলক’ ১৫০ টাকার খাবার টিকিটের সঙ্গে চার্জ করার পরও ভাড়া সহনীয় আছে দাবি করে সিসিএম শাহনেওয়াজ বলেন, রাজশাহী থেকে ঢাকা যে বাসগুলো চলাচল করে, তাদের ভাড়ার সঙ্গে তুলনা করলে ট্রেনটির যাত্রীদের রেল আসলে বিনামূল্যেই খাবার দিচ্ছে। যেখানে সাধারণ ক্লাসের বাসের ভাড়া ৫০০ টাকা, সেখানে বনলতার শোভন শ্রেণির ভাড়া ৫২৫ টাকা।

রমজানে খাবার বাধ্যতামূলক রাখার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যাত্রীরা খাবারের প্যাকেট প্রয়োজনে সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন। সন্ধ্যার পর খাবেন। তবে আলাপ-আলোচনা করে খাবারের মেন্যুতে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।’

এদিকে, বনলতার টিকিটের মূল্যের সঙ্গে বাধ্যতামূলক খাবারের জন্য ১৫০ টাকা জুড়ে দেওয়ায় প্রথম থেকেই তীব্র সমালোচনা করে আসছেন যাত্রীরা। তারা বাধ্যতামূলক খাবার বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। এরই প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম বনলতায় বাধ্যতামূলক খাবার রাখার সিদ্ধান্তটি পুর্নবিবেচনার দাবি জানিয়ে রেল মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিরতিহীন একটি ট্রেন চালু করার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তরাঞ্চলের মানুষের সেই দাবি পূরণ করেছেন। সরকারের এমন একটি ইতিবাচক কাজ, ছোট্ট কারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা হতে দেওয়া যায় না। এজন্য টিকিটের মূল্যের সঙ্গে বাধ্যতামূলক খাবারের প্রক্রিয়াটি পুর্নবিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। আশা করি- মানুষের দাবির বিষয়টি মাথায় রেখে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে রেল মন্ত্রণালয়।’

এদিকে, একই দাবিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ এপ্রিল উদ্বোধনের পর ২৭ এপ্রিল থেকে বাণিজ্যিকভাবে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচল করছে বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস। বনলতায় ১২টি বগিতে ৬৬৪টি শোভন চেয়ার এবং ২৬০টি এসি চেয়ার। শোভন চেয়ারের টিকিটের মূল্য ৩৭৫ টাকা। তবে টিকিটের সঙ্গেই বাধ্যতামূলক খাবারের জন্য ১৫০ টাকা চার্জসহ ৫২৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর এসি চেয়ারে বাধ্যতামূলক খাবারসহ টিকিটের মূল্য ৮৭৫ টাকা।

অন্যদিকে, রাজশাহী থেকে সকাল ১০টার দিকে সিল্কসিটি, বিকেল ৪টায় পদ্মা ও রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধুমকেতূ এক্সপ্রেস নামে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন আগে থেকে যাতায়াত করছে। এই ট্রেনে রাজশাহী থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে রাজশাহীতে পৌঁছে প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এসব ট্রেনে শোভন চেয়ারে ভাড়া ৩৪০ টাকা। ফলে বাধ্য না হলে কেউ বনলতায় যাতায়াত করছে না। ফলে শুরু থেকেই যাত্রী হারাচ্ছে বনলতা এক্সপ্রেস।

   

গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাজ্যকে পাশে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

শান্তিপূর্ণ ও সংঘাতমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠা এবং গাজা ও ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

লন্ডনের স্থানীয় সময় বুধবার (১ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের ৫৪তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত কূটনৈতিক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজা এবং ইউক্রেনসহ বিশ্বব্যাপী সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিকটবর্তী ঐতিহাসিক চার্চিল হলে এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল প্রধান অতিথি এবং হাউস অব কমন্সের নেতা পেনি মর্ডান্ট, যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও জাতিসংঘের এফসিডিও মন্ত্রী লর্ড তারিক আহমেদ, পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক ছায়াসচিব স্টিভ রিড  এবং বাংলাদেশ নিয়ে সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের চেয়ারম্যান রুশনারা আলী এমপি বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখের উপস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান তার বক্তব্যে জাতির পিতা, সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সমর্থনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার, সেদেশের নাগরিক এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উষ্ণ অভ্যর্থনাকারী এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশকারী প্রয়াত সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার হ্যারল্ড উইলসনকে কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যের সহায়তার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসামান্য প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের নজর এখন ২০৩০ সালের মধ্যে ৯ম বৃহত্তম ভোক্তা বাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর 'স্মার্ট বাংলাদেশ' হতে চলা আমাদের দেশের দিকে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান এ সময় ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন পত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ায় ব্রিটিশ  প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনককে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি 'বঙ্গবন্ধু-এডওয়ার্ড হিথ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাওয়ার্ড' এবং 'বঙ্গবন্ধু-হ্যারল্ড উইলসন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাওয়ার্ড' চালু করার জন্য যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রশংসা করেন।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। পেনি মর্ডান্ট এমপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। লর্ড তারিক আহমেদ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টার  প্রশংসা করেন। তারা প্রত্যেকেই  যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজে  ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন ও বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের উন্নয়নে অবিচল অংশীদার থাকবে।

;

বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার সামনে শ্রমিকদের অবস্থান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা জেলার সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (২ মে) সন্ধ্যায় সাভারের কলমা এলাকায় রেবেলা অ্যাপারেলস নামে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় তাদের।

শ্রমিকরা জানান, তিন বছর আগে কারখানাটি চালু হয়। তখন থেকেই বেতন, ওভার টাইম পরিশোধ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করে আসছিল কর্তৃপক্ষ। এ বছরও একইভাবে বেতন বকেয়া রাখছিল তারা। সম্প্রতি ঈদ-উল-ফিতরের দুই দিন আগে অর্ধেক বেতন পরিশোধ করা হয় শ্রমিকদের। ঈদের পরে পুরো বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও তা কয়েকবার ঘুরিয়ে পরিশোধ করা হয়নি। সবশেষ ২৮ এপ্রিল বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। এরই জেরে বৃহস্পতিবার অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

কোলে শিশু সন্তানকে নিয়ে বসেছিলেন এক শ্রমিক। তিনি বলেন, দুই মাস হয়ে গেছে বেতন পাই না। বারবার ঘুরাচ্ছে। বাসার খরচ, বাসা ভাড়া মেটাতে পারছি না। সংসার চালাতে পারছি না। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বেতন না দিলে বাসায়ও যেতে পারবো না।

আরেক শ্রমিক বলেন, বেতন দেয় না দুই মাস হলো। ওভারটাইম ডিউটি করালেও সেটার পুরো টাকা দেয় না। এখন ডেট দিয়েও ঘুরাচ্ছে। এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।

রেবেলা অ্যাপারেলস ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়হান আহমেদ বলেন, ঈদের আগে একটি শিপমেন্ট না পাওয়ায় বেতন দেরিতে দেওয়া হয়েছে। তবে ঈদের আগে অর্ধেক বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। বাকিটাও করা হবে। তবে সেজন্য বিক্ষোভ করা শ্রমিকদের ইস্তফা দিতে হবে।

শিল্প পুলিশ ১ এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম বলেন, বিষয়টি জানা নেই। সম্ভবত কারখানাটি নিবন্ধিত নয়। সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করছে। শ্রমিকরা অভিযোগ করলে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

;

তীব্র তাপদাহে সড়কের বিটুমিন গলে যাওয়া, উত্তর খুঁজতে ঘটনাস্থলে দুদক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
তীব্র তাপদাহে যশোরে বিটুমিন গলে যাওয়া, উত্তর খুঁজতে ঘটনাস্থলে দুদক

তীব্র তাপদাহে যশোরে বিটুমিন গলে যাওয়া, উত্তর খুঁজতে ঘটনাস্থলে দুদক

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি মৌসুমে এপ্রিল মাসে দেশজুড়ে ছিল তীব্র তাপপ্রবাহ। এর ফলে যশোরে সড়কের বিটুমিন (পিচ) গলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে তা অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারই ধারাবাহিকতায় যশোর-নড়াইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গলা বিটুমিন (পিচ) পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখেন দুদকের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (২ মে) দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপপরিচালক আল আমিন বলেন, বিটুমিন (পিচ) গলার ঘটনা পরিদর্শনে আমাদেরকে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে এসে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গলা পিচ পরীক্ষা করেছি। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত লিপিবদ্ধ করে আমরা প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক চিরঞ্জন নিয়োগী, সহকারী পরিদর্শক সাফিউল্লাহসহ সড়ক বিভাগের দুইজন সহকারী প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।

 

;

প্রতীকী মূল্যে বে-টার্মিনালের জন্য ৫০০ একর জমি পেল চট্টগ্রাম বন্দর



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতীকী মূল্যে বে-টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য ৫০০ একর সরকারি খাস জমি বরাদ্দ পেল চট্টগ্রাম বন্দর। বঙ্গোপসাগরের পাড়ে আউটার রিং রোড ঘেঁসে বাস্তবায়নাধীন প্রধানমন্ত্রীর এই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পাওয়া জমির দাম রাখা হয়েছে মাত্র তিন কোটি তিন টাকা। সরকার নির্ধারিত এই ফি জমা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার (২ মে) বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) পান্না আকতারের সই করা চিঠিতে তিন মৌজায় ৫০০ দশমিক ৭০৬৩ একর জমির বিপরীতে পৃথক তিন চালানে এক কোটি এক টাকা করে তিন কোটি ৩ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে বন্দোবস্ত পাওয়া ৫০০ দশমিক ৭০৬৩ এর জমির মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণ কাট্টলী মৌজার ৬২ দশমিক ২২৫২ একর, উত্তর হালিশহর মৌজার ৩৩৯ দশমিক ২৬৭৫ একর এবং হালিশহর মৌজায় ৯৯ দশমিক ২১৩৬ একর খাস জমি। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে হালিশহর এলাকার সাগর উপকূলে মোট আড়াই হাজার একর জমিতে গড়ে উঠছে বে টার্মিানাল প্রকল্প।

চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) পান্না আকতার। তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন মৌজায় ৫০০ একর জমির জন্য নির্ধারিত এক কোটি এক টাকা করে তিন কোটি তিন টাকা পৃথক তিন চালানে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠি পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বে-টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য প্রতীকী মূল্যে ৫০০ একর জমি জেলা প্রশাসন থেকে দীর্ঘমেয়াদে বন্দোবস্ত পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্য জমা দেওয়া জন্য জেলা প্রশাসন চিঠি দিয়েছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৬ সাল থেকে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় জায়গা ভরাট করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বছরই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ২০২৬ সালে আংশিকভাবে কার্যক্রম শুরু করারও লক্ষ্য রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

;