প্রশান্ত পশ্চিম



মাহমুদ হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্ব-৮

বড় ভাইয়ের সঙ্গে মাছ ধরতে যাবো আটলান্টিকে। পূর্বরাতে আনুষ্ঠানিক নৈশাহার সেরে তিনি বিলম্বে ফেরায় পরিকল্পনায় দোনোমোনো ছিল। সকাল হলেও কোমল বিছানায় গড়াগড়ি করছি। খবর এলো, নিচে মান্যবর বড় ভাই ব্রেকফাস্ট সেরে তৈরি। ফিশিংয়ে গেলে এখনই তৈরি হয়ে নামতে হবে।

ঘড়িতে বেলা এগারোটা। পোটোম্যাক নদীবিধৌত মার্কিন মুলুকের অতলান্তিক পূব ভ্রমণে এ্যাক্টভিটি চাই আমার, একপায়ে খাড়া আমি। ধড়মড়িয়ে বিছানা ছেড়ে ত্রস্তহাতে তৈরি হতে গিয়ে দশা হলো মিস্টার বিনের দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার মতো । ব্রাশে পেস্ট লাগাতে গিয়ে হাতে লাগিয়ে ফেললাম। সেভ করতে গিয়ে জায়গায় জায়গায় শ্রুশ্মূগুম্ফ থেকেই গেল। গায়ে প্যান্ট টিশার্ট গলাতে গিয়ে  দৌড়ে নিচে নামি। ডাইনিং টেবিলে ব্রেকফাস্ট দেয়াই ছিল। ডিম রুটি নাকে মুখে গুঁজে বড় ভাইর অফিসে হাজির হই-

আই এ্যাম রেডি।

‌ওহ, আপনি তৈরি ! দ্যাটস ফাইন।  চলুন, বেরোই’।

নীল গ্যাবার্ডিন প্যান্টের ওপর ছাইরঙা টিশার্ট চাপিয়েছি। চুলটুল ঠিকঠাক নেই। আটলান্টিকে মাছ ধরার ড্রেসকোড সম্পর্কে আমি অজ্ঞ। জিজ্ঞেস করি, চলবে কী না!

এর চেয়ে খারাপ কিছু নাই আপনার। আমার মতো ব্যাগি প্যান্ট দেবো নাকি?

বললাম- না এতেই আমি সই।

আমি মাছ আরি, আর আলাউদ্দীন মাছ তুলে আইসবক্সে ভরে

গৃহসহকারী জসীম দুটি কাউবয় ক্যাপ এনে দিয়েছে, তাতে কোরিয়ার গল্ফ ক্লাবের মনোগ্রাম। টুপি দুটি নতুনই। মার্কিন মুলুকে কোরিয়া কোত্থেকে এলো এ নিয়ে ভাবতে গিয়ে দেখি   তিনি  সঙ্গে সঙ্গেই মাথায় পরে নিয়েছেন। তাকে লাগছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলের সাবেক ক্যাপ্টেন অর্জুনা রানাতুঙ্গার মতো। আমারটা হাতে নিয়েই গাড়িতে উঠে বসলাম ফিশিংস্পটে গিয়ে পরবো বলে। আসনবহুল নতুন হোন্ডাগাড়িতে চেপে বসতেই চালক আলাউদ্দিন হুশ করে সবুজ প্রাঙ্গণের পিচঢালা বঙ্কিমপথ ঘুরে এ্যালাওয়ে কোর্ট সড়কে উঠলো। সোয়া ঘন্টার ড্রাইভের লক্ষ্যে তারপর উঠে গেল এ্যালাওয়ে ড্রাইভে- গন্তব্য বাল্টিমোর সাগরপ্রান্তের ফিশিং ঘাট ।

ওয়াশিংটন ডিসিকে বেড় দিয়ে রাখা ইন্টারস্টেট ক্যাপিটাল ৪৯৫ বেল্টওয়ে ধরে গাড়ি উঠলো ৯৫ নম্বর সড়কে। এই সড়ক ধরে বাল্টিমোর কেন নিউইয়র্ক হয়ে আমেরিকার আরও আরও নানা রাষ্ট্রে চলে যাওয়া যায়। ভেতরে শুরু হয়েছে নানারকম গল্প। পথের সবুজ, দূরের পাখি, পোটোম্যাক এলাকার ঝর্ণা, যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক নেটওয়ার্ক, ড্রাইভিংয়র নানা রীতি এসব। গল্প এসে ঠেকেছে ভূরাজনীতি ও  সাদা কালো তামাটে বর্ণবৈষম্যে। বড় ভাই’র একটা কথা খুব মনে ধরলো আমার –

‘দেখুন বিশ্বজুড়ে যতো রকমের শাসন আছে, সেসব শাসন জাতি বা দেশের নামে যেমন মার্কিন শাসন, বৃটিশ শাসন, ফরাসি শাসন ইত্যাদি। একমাত্র ইসলামবিশ্বাসী জাতিগোষ্ঠির শাসনকে চিহ্নিত করতে মুসলিম শাসন নামে অভিহিত করা হয়। আমাদের অঞ্চলে ঘোরি, মামলুক, খিলজি, লোদী, তুর্কি মোগল আমলের শাসনকে বিদেশি দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলিম বা ইসলামী শাসন নামে অভিহিত করা হয়। তারা বাংলাসহ ভারতবর্ষ শাসন করতে গিয়ে ইসলামের আলোকে কিছু করে নাই। তাই এটা একধরনের চিন্তাগত বন্ধাত্ব।

মাছ ধরা

বিশ্বরাজনীতি নিয়ে আমার জ্ঞান ও আগ্রহ সীমিত বলে হা হু করে শুনে যাই। এ পর্যায়ে বলি-

আমাদের নিজেদের ইতিহাসবিদরাই তো মুসলিম বা ইসলামী শাসন নামে অভিহিত করেছে।‘

গাড়ি বড় সক ধরে বাল্টিমোর উপত্যকা, তারপর শহর নানা সড়ক ধরে আবারও সড়কে উঠে যায়। উপত্যকা ধরে ঢুকে বনবনানীময় একটি এলাকায়। দু’দিকে ঘনবনের মধ্য দিয়ে নির্জন সড়ক। তারপর গাড়ি আমাদের নিয়ে থামায় কানা রাস্তার মাথার এক নির্জন ডুপ্লেক্স বাড়ির চত্বরে। আমি খানিক্ষণ আগেই ভাবছিলাম গাড়ি হয়তো ভুল পথে যাচ্ছে। গাড়ির বনেটে বন্দুক নাই, খেয়াজাল। আমরা হরিণ বাঘ নয়, যাচ্ছি আটলান্টিক উপকূলে মাছ ধরতে!

আমার কথায় ঠিক। চালক আলাউদ্দিন বললো, পূর্বদিন যার কাছ থেকে জাল কেনা হয়েছিল। তার কার্ডের নম্বরটি গুগলম্যাপে দেয়ায় গুগল আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। ভাবলাম, গুগল ম্যাপ তো আর আমাদের মনের খবর জানে না। আমরা জালবিক্রেতার বাড়িতে যাবো না, যাবো জাল নিয়ে সমুদ্র মাছ ধরতে।

এ নিয়ে খানিক্ষণ হাসাহাসি হলো। আলাউদ্দিন বললো-

সরি স্যার। উই আর গোনা টেন মিনিট লেট অনলি।

এ্যাবাউট টার্ন করে সে আবার বড় রাস্তায় উঠলো।

ছয় পাউন্ডের রুই

১৫০ ইস্টার্ণ বুলুভার্ড থেকে এক্সিট নিয়ে গাড়ি  উপত্যকার তীর চলতে শুরু করলো। এটা রিভারসাইড ড্রাইভ। বামে শহরের ঘরবাড়ি, ডানো উপত্যকা তীর। উপত্যকায় নৌ হারবার। এখানে দেখা যায় স্পিডবোট, সৌখিন মাছ ধরার ট্রলার আর মাঝে মধ্যে কাঠের পিয়ের বা ঘাট। বুঝে যাই এবার ঠিকপথে এগুচ্ছি। রিভারসাইড ড্রাইভের শেষ মাথা গিয়ে শেষ হয়েছে বৃত্তাকার এক ভূমিতে। যার পাশে আদিগন্ত সবুজ জলরাশি। এখানে সামুদ্রিক সবুজ বৃক্ষরাজি আর সামুদ্রিক উন্মুক্ত বায়ুকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পার্ক। মধ্যে মধ্যে বসার বেঞ্চি, বার বি কিউ করার উন্মুক্ত অঙ্গণ আর বৃক্ষছায়া ঘেরা জায়গাটিতে সামুদ্রিক বাতাস নিয়ত সঙ্গ দিচ্ছে। এই ভরদুপুরেও এখান সময় কাটাতে এসেছে দুয়েকটি পরিবার। মাছ ধরে পার্কেই বারবি কিউ করছে কেউ কেউ। জায়গাটি পেশাদার ও সৌখিন মৎস্যশিকারীদের প্রিয় গন্তব্য দেখেই বুঝে যাই। পার্কের শেষপ্রান্তে বৃত্তাকার তীরে পাথরের চাঁই। একপ্রান্তে কাঠের প্রশস্ত ঘাট। সৌখিন মৎসশিকারীরা পাথরে বসে কিংবা ঘাটের পাটাতনে বসে ছিপ ফেলে মাছ ধরায় নিমগ্ন। জায়গাটির নাম কক্সপয়েন্ট। আমাদের প্রিয় দরিয়ানগর কক্সবাজারের কথা মনে করিয়ে দেয়।

বড় ভাই সবুজ প্রাঙ্গণ দেখেই বাচ্চাদের মতো উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন। ভাবলাম, এই মাছ ধরার বাহানা নিজস্ব ঘেরাটোপ থেকে বের হয়ে বড় ভাই উদার সমুদ্রপারে এসেছেন, নিজের ভেতরের চাপ ঝাড়তে-যাকে পোশাকী ভাষায় বলে – আনউইন্ডিং।  

দুপা দুই কনুইয়ের ওপর করে করে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন। কোমর, উদর, ঘাড়, মস্তক সমান্তরাল। বললেন-

আসুন ব্যায়াম করি।

বোকার মতো ভাবলাম, সমুদ্রে নামার আগে এ বোধ হয় এক প্রিপারেশন। একই আসনে ব্যায়ামের ভঙ্গি করতে গিয়ে একমিনিটও থাকতে পারলাম না। বললাম-

চলুন। আপনাকে ইয়োগা শিখিয়ে দিই।

ইয়া বড় মাছ দেখতে ছুটে এলো ক্রিশ্চিয়ানো, ম ... শ্চিয়ান, ছেলে ক্রিস্টোফার ও দুই কন্যা

আলাউদ্দিন গাড়ির বনেট খুলে বারোহাত লম্বা দেশি খেয়াজাল, চারহাত লম্বা মার্কিন কারেন্ট জাল, মাছ রাখার আইসবক্স নিয়ে ঘাটে উপস্থিত। আমরা ব্যায়াম সেরে ঘাটে যাই। পাইনগাছের লম্বা কাঠ দিয়ে বানানো ঘাটের পাটাতন। চারদিকে মোটা মোটা খাম্বা পানির নিচ থেকে পাটাতন হয়ে বুকসমান উঁচু করে স্থাপন করা। পাটাতনের বিভিন্ন প্রান্তে দুই বাচ্চাসহ এক ভদ্রমহিলা, জার্মান কবি গুন্টাগ্রাস চেহারার এক বুড়ো আর শশ্রুমন্ডিত এক মধ্যবয়স্ক ছিপ ফেলে বসে আছে। ছিপ ফেলে সামুদ্রিক রোদে বসে উপত্যকার ঢেউ গুণতে গুণতে গুন্টারগ্রাসের ফর্সা চেহারা লাল টকটকে হয়ে গেছে। বয়সে ভাটার ছাপ পড়লেও তার আগ্রহে কোন ভাটা নেই। জানা গেল, সকালেই তারা ছিপ ফেলেছে। এখন বেলা দুইটা আড়াইটা পর্যন্তও কোন একটি মাছও তুলতে পারেনি। এদিকে সঙ্গের বাচ্চারা মাছ দেখার জন্য পাগলপারা। বুড়ো পেশাদার মৎস্যশিকারীর মতো বড়শি, ছিপ ও মৎস্যখাদ্য সম্ভারসহ একটি বিশেষ এ্যাঙলিং বক্স নিয়ে এসেছেন। জাল বের করে মৎস্যশিকারে আমাদের যোগারজন্ত বুড়ো দুটি শিশু দুটিকে দেখাচ্ছেন। বুঝে যাই, তিনটি ছিপ ফেললেও তারা আসলে একই পরিবারের। বাচ্চাকে মাছ ও মাছ ধরা দেখাতে নিয়ে এসেছেন।

সমুদ্রের বিস্তীর্ণ জলরাশির সামনে দাঁড়াতেই বুক ভরে দেয় স্বতঃশ্চল সামুদ্রিক বাতাস। এ জলরাশির একটি নাম আছে। আটলান্টিক পূর্ব উপকূলের সিজাপিক উপত্যকায় মিশেছে আশপাশের পাহাড়পুঞ্জে উৎপন্ন দেড়শর বেশি নদী। এই স্রোতময় এই নদীর নাম ব্যাক রিভার। রোজডেল কমিউনিটি অধ্যূষিত রোজডেল থেকে উৎপন্নের পর মাত্র ৯ মাইল পাড়ি দিয়েই বাল্টিমোর শহরের দুই মাইল পূর্বে তা আত্মাহুতি দিয়েছে অতলান্তদুহিতা সিজাপিক উপত্যকায়। আমরা ব্যাক রিভারের মোহনায় ফিশিং করতে নেমেছি।

খেয়া জাল ফেলা

পানির ওপরে খুব নিচু হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে কয়েকটি  ঈগল। পাখি দেখেই আমি বুঝতে পারি এই নদীতে মাছ আছে। ছোটবেলায় আমার গ্রামের খন্দকার পাড়ার অগ্রজতুল্য বাকপ্রতিবন্ধী আমিনের সঙ্গে খেয়াজালে মাছ ধরেছি খুব। পানি দেখেই আমিন বুঝে যেতো পানির নিচে মাছ আছে কিনা। বড়শি হোক বা খেয়াজাল, মাছ ধরায় আমিনকে কেউ কোনদিন হারাতে দেখেনি। যাহোক, বড় ভাই সিগারেট ধরিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে সামুদ্রিক বাতাস উপভোগ করছেন। আলাউদ্দিন ছয়হাতি কারেন্ট জালটি বাম হাত দিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। মান্যবর  জালের ধারে কাছেও আসছেন না, অথচ সকাল থেকে মাছ ধরায় বেরোতে তার তোড়জোড়ে ছিল অন্তহীন। হয় তিনি জাল মারতে পারেন না, নয় আমাকে সুযোগ দেয়ার জন্য এই কৌশল। আমি খেয়াজালে হাত দিতে গেলে বললেন-

জসিমই ফেলবে। উয়ো চিজ আপকে লিয়ে নেহি, আপনি পারবেন না।

আনকোরা জাল আর নদীর পানি দেখে আমার ভেতরে নষ্টালজিয়া উথলে ওঠে। কোন উত্তর না দিয়ে জাল বাগিয়ে কাঠের পাটাতনে ঝুঁকে সজোরে পানিতে ফেলি। জালটি এমন গোলাকার বৃত্ত আঁকে যা দেখে বড় ভাই উল্লাসে ফেটে পড়ে একের পর ছবি তুলতে থাকেন। বলি-

ভিডিও, ভিডিও। ইউটিউবে মাছ মারার প্রচুর ভিডিও দেখেছি। খুব জনপ্রিয়।

বললেন-

আগে পারফরেমেন্স ভাল হোক, তারপর ভিডিও আর রেওয়ার্ড।

প্রথম খ্যাওয়ে কয়েকটি মাছ উঠলো। আমাদের কই মাছের চেয়ে বড়, তেলাপিয়ার চেয়ে ছোট। হলুদাভ গা। স্থানীয় নাম ইয়েলো পার্সার।

পরিব্রাজক যখন মৎস্যশিকারী

সূর্য মাথার ওপর জ্বলছে অসীম তেজে। পাটাতনের সামনের দিকে বড়শি ফেলে অপেক্ষমান গুন্টারগ্রাসের পরিবার। পেছনের পানিতে ছায়া পড়েছে। আমি কৈবর্ত্যপ্রিয় মানুষ। দক্ষ ধিবরের মতো ভাবি, এখানে মাছ যা আছে, তা ছায়ার দিকেই আছে। সমুদ্রের দিকে পিছন ফিরে আমি পাটাতনের ছায়ার দিকে জাল ফেলি। মূহুর্তেই টের পাই বড় কিছু একটা বাধিয়েছি। রশি ধরে টান দিতেই বড় মাছ লাফাতে থাকে। সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বড় ভাই মোবাইল ক্যামেরা তাক করেন। জাল তুলতেই পুরো নদীপার জসিম, বড় ভাই আর গুন্টারগ্রাসের পরিবারের উল্লাসে ফেটে পড়ে। অবাক হয়ে দেখি জালে লাফাচ্ছে তিন কেজির বেশি ওজনের গ্রাসকার্প, এক কেজি ওজনের এলওয়াইফ-যা দেখতে একদম পদ্মার ইলিশের মতো। সাত আটটা ইয়েলো পার্সও উঠেছে জালে। আমি হৎবিহ্বলতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। জসিম মাছগুলো বের করে বক্স রাখতে থাকে, বড় ভাই ছবি তোলায় ব্যস্ত। গুন্টারগ্রাস ততক্ষণে নাতি-নাতনিদের নিয়ে বিস্ময় বিমুগ্ধ চোখে আমাদের ফিশ বক্সের ওপর ঝুঁকে পড়েছে। পিয়েরে চলতে থাকা আমাদের এসব কাণ্ড দেখে ছিপ রেখে  ছুটে আসে অদূরের এক এ্যাঙলার।  মাছ দেখে হতবাক হয়ে আনন্দ করে করতে করতে ফিরে যায়।

বিশেষ জাল দিয়ে মাছ ধরার খবর  কক্সপয়েন্ট এলাকায় রাজ্য হয়ে যায়। এ্যাঙলাররা একের পর এক পাটাতনে এসে মাছ দেখে ওয়াও ওয়াও বলে উল্লাস করতে থাকে। সকাল থেকে অর্ধদিন কাটিয়েও যারা  পানি থেকে তুলতে পারেনি চুনোপুটি, কয়েক মিনিটের মধ্যে অর্ধবক্স মাছ ধরা তাদের কাছে অবাকবিস্ময়।  কয়েকজন এ্যাঙলার অনুমতি নিয়ে আমাদের মাছে ছবি তোলে। অনেকে তাদের মোবাইলের ছবি গ্যালারি থেকে পূর্বে ধরা মাছের ছবি দেখায়। একজন বলে- দিস ইজ রেয়ার ফিশ। এসব উল্লাসে পার্কে বেড়াতে আসা একটি পরিবারকে বেঞ্চ আটকে রাখতে পারেনি। ছুটে এসে বক্সের ওপর ঝুঁকে পড়ে দারা পরিবার। কর্তার নাম ক্রিশ্চিয়ানো। জাতিতে মেক্সিকান। সঙ্গে মিসেস ক্রিশ্চিয়ানো, ক্রিস্টোফার নামের তাদের কনিষ্ঠপুত্র আর পিঠেপেঠি বয়সের দুই কন্যা। বড় মেয়েটি কৈশোরে পা দিতে চলেছে। ওয়াও বলে মাছের বক্সের দিকে ঝুঁকে থাকে সে। পরিবারটির আগ্রহ দেখে বড় ভাইয়ের ইশারায় কিছু মাছ উপহার দেয়ার প্রস্তাব দিই। ক্রিশ্চিয়ানো সম্মত হলেও মিসেস ক্রিশ্চিয়ানো তাকে নিরস্ত করেন। বোঝা যায়, তাজা মাছ কেটে বেছে রান্নার ঝামেলায় যেতে নারাজ এই মেক্সিকান বধু।

অতি উৎসাহী দুয়েকজন এ্যাঙলার তো এই্ সাফল্যে আমেক কোলে তুলে নাচায় আর কী! ব্যাক রিভারের পাটাতনে দাঁড়িয়ে আমি সিজাপিক উপত্যকার ওপর দিয়ে আটলান্টিক মহাসমুদ্রের তাকিয়ে থাকি। চোখের কোণায় অশ্রু। আব্বার স্মৃতি মনে ভেসে উঠে কান্না এলো বড়। আব্বা আজ নেই। ছেলেবেলায় তাঁর শেখানো খেয়াজাল ফেলার কসরত জীবনের প্রান্তবেলায় সাতসমুদ্র তেরোনদী পারে দেশিবিদেশিদের আনন্দ জোগালো! আব্বার সখের অন্যতম ছিল নিজস্ব খেয়াজাল দিয়ে মাছ ধরা, খাওয়া ও বিতরণ।

সাগরে পাখি ওড়াওড়ি করে্। দ্রুতবেগে মোটরবাইক ও স্পিডবোডে অনেকে মাছ ধরে। সকালে বের হওয়া মাছ ধরার বোটগুলো অদূরের বোটঘাটে ফিরে আসতে থাকে। সম্মানিত আমাকে বলেন-

পরেরবার স্পিডবোট ভাড়া নিয়ে আমরা সাগরের গভীরে যাবো, দ্বীপে যাবো। আপনার যে দক্ষতা দেখবেন মাছ কাহাকে বলে।

আমরা বিরতি নিই। সেভেন ইলেভেন থেকে আনা হটডগ আর বোতলজাত ডাবলশট কোল্ড কফিতে এনার্জিজাইজড হই। আরও খানিক্ষণ মাছ ধরে প্রতি খ্যাওয়ে মাছ ওঠার সংখ্যা কমতে থাকে। তখন ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিই। মাছের বক্সটির সামনে হাতল, পেছনে চাকা লাগানো। হাতল ধরে টেনে নিতে থাকেন বড় ভাই। আমি পানির বোতল আর কফির ক্যান হাতে পেছনে পেছনে হাটি। জাল দুটি নিয়ে আগে আগে হাটতে থাকে আলাউদ্দিন। কক্সপয়েন্ট পার্ক ও সাগরতীরে যতো মানুষ ছিল- তারা বাঙালির দীপ্ত, দৃঢ় ও বীর পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে থাকে।

ব্যাক রিভারকে ব্যাকে রেখে গাড়ি ছুট পোটোম্যাক রিভারের দিকে। আমরা চিকের গরম চিকেন র‍্যাপে কামড় দিয়ে কোল্ড কফিতে চুমুক দিই। আমেরিকায় গরম ও ঠান্ডা একসঙ্গে চলে।

   

চট্টগ্রামে এক টুকরো ‘চায়ের রাজ্য’



সাফিনাতুন জাহান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কোদালা চা বাগানটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পর্যটকদের কাছে। চায়ের রাজ্য বলতে আমরা শুধু সিলেটের শ্রীমঙ্গলের কথাই বুঝি। কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম ও অন্যতম চা-বাগান আছে রাঙ্গুনিয়ার কোদালা ইউনিয়নে। 

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সফরভাটা গোডাউন বাজার ধরে সোজা ১০ কিলোমিটার দক্ষিণাংশে কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেষা এই চা বাগানের দেখা মিলবে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ প্রতিদিন ছুটে আসছে এই চা বাগানে। সারি সারি উঁচু নিচু পাহাড়ের গা ঘেঁষে লাগানো আছে সব চায়ের গাছ। যেদিকে চোখ যায় শুধুই সবুজ। সেইসাথে চা শ্রমিকদের কর্মতৎপরতা, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, ব্রিটিশ বাংলো, সবুজ বনায়ন আপনাকে মুগ্ধ করে তুলবে। বর্ষায় ঝিরি বৃষ্টির দিনে চা-বাগান যেন হয়ে ওঠে আরও সবুজ। প্রকৃতি নিজেকে সাজিয়েছে আপন মহিমায়। 


এসময় চা বাগান দেখতে আরও নান্দনিক লাগে। বর্তমানে শীতেও চা-বাগানে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের আনাগোনা রয়েছে। বর্তমানে ফটোগ্রাফি, প্রি ওয়েডিং ও পোস্ট ওয়েডিং শ্যুটের জন্যও দিন দিন মানুষের পছন্দের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে এই চা বাগান।

কোদালা চা বাগান প্রতিষ্ঠিত করা হয় ১৮৯৪ সালে। জানা যায়, ব্রিটিশরা কর্ণফুলী নদী দিয়ে আসা যাওয়ার সময় কোদালা চা বাগানের বিস্তীর্ণ জায়গা দেখে চা বাগান করার উদ্যোগ নেয়। পাহাড় বেষ্টিত ঘন সবুজে ঘেরা ৪২০০ একর জায়গা জুড়ে কোদালা চা বাগান অবস্থিত। কোদালা চা বাগানের মধ্যে কিছু জায়গা জুড়ে রাবার বাগান রয়েছে। এবং এই চা বাগানের বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে রয়েছে একটি কৃত্রিম লেক। এবং একই সাথে পর্যটকরা দেখতে পাবে চা ও রাবার প্রক্রিয়াকরণ কারখানা।বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বমোট ১৬২টি চা বাগানের মধ্যে গুণে মানে ও আয়ে কোদালা চা বাগানের অবস্থান তৃতীয়। বর্তমানে সিটি গ্রুপের মালিকানায় চা-বাগানটি পরিচালিত হচ্ছে।


যেভাবে যাবেন:

চট্টগ্রাম শহরের কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে লোকাল কিংবা রিজার্ভ সিএনজি চালিত ট্যাক্সি করে কোদালা চা বাগান যাওয়া যায়। তবে লোকাল সিএনজি যোগে গেলে রাঙ্গুনিয়ার সফরভাটা গোডাউন বাজারে নেমে আবার সিএনজি চালিত ট্যাক্সি করে পোঁছাতে হবে চা বাগানের গেইটে৷ এছাড়া চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত বোট ভাড়া করে নদীপথেও চা বাগানে যাওয়া সুযোগ আছে৷

যারা সময়ের অভাবে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ঘুরে আসতে পারছেন না। চা বাগান প্রিয় মানুষরা খুব সহজেই চট্টগ্রামের এই নৈসর্গিক চা-বাগান দেখে আসতে পারেন। সবুজ বনায়ন ও চা পাতার গাছে ঘেরা এই কোদালা চা বাগানের অপূর্ব সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

;

বন্ধুর থেকে সাইকেল শেখা সাকিব বের হয়েছেন ৬৪ জেলা ভ্রমণে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সাইদুল ইসলাম সাকিব (২১)। চট্টগ্রামের পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন সাইকেল চালানো শিখেছে বন্ধুদের কাছ থেকে। এরপর সাইকেলে ৬৪ জেলা ভ্রমণের নেশা জাগে তার। একা একা বেরিয়ে পড়েন ৬৪ জেলা ভ্রমণে।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের জিরো পয়েন্ট থেকে সাইকেলে ৬৪ জেলা ভ্রমণের যাত্রা শুরু করেন তিনি। "জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ হোক, সুরক্ষিত থাকুক ধরণীর লোক’'-এ প্রতিপাদ্যে ভ্রমণে বের হন তিনি। এছাড়া ৬৪ জেলায় গিয়ে ৬৪টি গাছ লাগাবেন বলে জানান সাকিব। কিন্তু এটি তার সাইকেলে দ্বিতীয় ৬৪ জেলা ভ্রমণ। তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার কলাউজান এলাকার বাসিন্দা।

সাইদুল ইসলাম সাকিব বার্তা২৪.কম-কে বলেন, "অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন বন্ধুদের সাইকেল চালানো দেখে উদ্বুদ্ধ হই সাইকেলের প্রতি। এরপর বন্ধুদের কাছ থেকে সাইকেল চালানো শিখি। কিন্তু দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় পর্যন্ত রাস্তায় সাইকেল চালাতে ভয় পেতাম। এরপর ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি একা একা বেরিয়ে পড়ি সাহস করে। টেকনাফ থেকে শুরু করে ৩৯ দিনে প্রথমবারের মতো সাইকেলে ৬৪ জেলা ভ্রমণ শেষে ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছেছি"।

সাকিব জানান, "এবারে জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ হোক, সুরক্ষিত থাকুক ধরণীর লোক এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বের হয়েছি। এছাড়া ৬৪ জেলায় ৬৪ টি গাছ লাগাবো। যেহেতু আমরা সবাই পরিবেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছি সেহেতু জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করে পৃথিবীর মানুষকে সুরক্ষিত রাখার বার্তা জানাবো"।

সাইদুর রহমান সাকিব প্রথম দিন টেকনাফ জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে উখিয়া হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার-রামু-আলীকদম হয়ে ১১৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বান্দরবান পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। তৃতীয় দিন বান্দরবান থেকে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া-পটিয়া-চট্টগ্রাম হয়ে রওয়ানা দিবেন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে। ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ৬৪ জেলা ভ্রমণ করে চট্টগ্রামে এসে শেষ করার ইচ্ছে তার।

;

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি টেক ট্রিপের আত্মপ্রকাশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি টেক ট্রিপের আত্মপ্রকাশ

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি টেক ট্রিপের আত্মপ্রকাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

টেক ট্রিপ লিমিটেড, ইউএস বাংলা গ্রুপের একটি গর্বিত উদ্যোগ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এর অন্যতম গন্তব্য মালদ্বীপে একটি স্মারক উদ্ভোধনী ইভেন্টের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছে।

টেক ট্রিপের লক্ষ্য বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধিশীল ভ্রমণ বাণিজ্যের চাহিদা মেটানো, যা বছরে প্রায় ১০% হারে প্রসারিত হচ্ছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সহযোগিতায়, প্রতিষ্ঠানটি তার বিটুবি এজেন্টদের ভ্রমণ শিল্পের সময়োপযোগী শীর্ষস্থানীয় কমিশন কাঠামো, গ্রুপ টিকিটিং সুবিধা, হলিডে প্যাকেজ সহায়তা এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্স থেকে বিশেষ ভাড়ার আকারে অতুলনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

বাংলাদেশ ও নেপালের ট্রাভেলপোর্ট জিডিএস-এর সাবেক আঞ্চলিক প্রধান দারাজ মাহমুদের নেতৃত্বে, টেক ট্রিপ টিমে ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যেমন মাহদী কবির, বাংলাদেশে ইন্ডিগোর সাবেক হেড অফ সেলস, নুরুদ্দিন শরীফ যিনি পূর্বে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সহ ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন। .

উদ্বোধনী ইভেন্ট উপলক্ষে টেক ট্রিপের ভবিষ্যত ভাবনা নিয়ে জনাব দারাজ মাহমুদ মন্তব্য করেন, “এখন পর্যন্ত ভ্রমণ শিল্পের একটি ছোট অংশ অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি দ্বারা ট্যাপ করা হয়েছে, যা সম্প্রসারণের জন্য কাজ করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে নতুন নতুন উদ্যোক্তা এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় টেক ট্রিপ গঠন করা হয়েছে। যা দিয়ে ভ্রমণ শিল্পের ভবিষ্যতকে আরো বেশী পর্যটক ও জনবান্ধব করে তুলতে পারবে। ফলে এই শিল্পের প্রবৃদ্ধি বহুগুন বৃদ্ধি পাবে তারই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। টেক ট্রিপ লিমিটেড এই শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে পর্যটন ও কর্মসংস্থানের বাজারকে সুরক্ষিত করবে টেক ট্রিপ।

কান্ট্রি ম্যানেজার, সেলস ম্যানেজার এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি শিল্প বিশেষজ্ঞরা যোগ দিয়ে, টেক ট্রিপ সম্প্রতি মালদ্বীপের "দ্যা স্ট্যান্ডার্ড, হুরুহভালি" রিসোর্টে অনুষ্ঠিত একটি ইভেন্টের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।

;

পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে চর বিজয়



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম,পটুয়াখালী
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে নীল জলরাশি, হাজারও অতিথি পাখির আগমন ও লাল কাকড়ার ছোটাছুটির জন্য বিখ্যাত চর বিজয়।  

গভীর সাগরে নীল জলরাশির মাঝে জেগে উঠা মনোমুগ্ধকর এই দ্বীপটি, সূর্যোদয় সূর্যাস্তের লীলাভূমি সাগরকন্যাখ্যাত কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে নতুন পালক যোগ করেছে। প্রতি বছর শীতের আগমনের সাথে সাথে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয় এই চরে।

তবে বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল ও অবরোধ এর প্রভাবে পর্যটকদের আগমনে কিছুটা ভাটা পরলেও ইতিমধ্যে চরে আসা যাওয়া শুরু করেছে পর্যটকরা।


২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এই চরের সন্ধ্যান পাওয়ায় চর/ দ্বীপটির নামকরণ করা হয় চর বিজয়। স্থানীয়দের কাছে যা হাইরের চর নামেও পরিচিত। চরটি  কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের গঙ্গামতী থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। দ্বীপটির আয়তন আনুমানিক ৫ হাজার একর। লাল কাঁকড়া আর হাজারও অতিথি পাখির বিচরণে আকাশ আর চর মিলে একাকার হয়ে থাকে এই দ্বীপ। কুয়াকাটার ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে অন্যতম একটি আকর্ষণীয় জায়গায় রূপ নিয়েছে।

বছরের ৬ মাস জেগে থাকে এই চর। মূলত এ চরে জেলেরা অস্থায়ী বসবাস করেন। তিন মাসের জন্য চরে আসা জেলেরা এখানে মাছ শিকার করেন এবং মাছের শুঁটকি প্রস্তুত করেন।

চরের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের সেবায় কাজ করছে টুরিস্ট বোট ও স্পিড বোটসহ বেশ কয়েকটি টুরিস্ট গাইড এজেন্সি। মৌসুমের শুরুতে এসব ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত থাকলেও কাঙ্খিত পর্যটক না থাকায় হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা।

স্পিড বোট চালক রুহুল আমীন জানান, “যে রকম টুরিস্ট এর আসা করেছিলাম সে রকম ট্যুরিস্ট এখন ও আসা শুরু করেনি। ট্রিপ ও কম আমাদের। তাই আমাদের ইনকামও কম।  আর ইনকাম কম থাকায় সংসার সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।“ 


কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাচ্চু খলিফা বার্তা ২৪ ডট কমকে বলেন, “চর বিজয় এ অতিথি পাখির আগমন কয়েকদিন  আগে থেকে শুরু হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমরা আশানরূপ ট্যুরিস্ট পাচ্ছি না।  আশা করছি রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অসংখ্য পর্যটকদের আগমন ঘটবে চর বিজয়ে। আবার চরের সৌন্দর্য উপভোগ করাতে আমরাও টুরিস্টদের চরে নিয়ে যেতে পারবো”।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, “চর বিজয় একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এখানে প্রতি বছর প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে। সেখানে যারা যায় তাদের তাদের সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নাম আমাদের রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করি এবং সংরক্ষণ করি। এছাড়া কুয়াকাটা ঘুরতে আসা পর্যটকদের সার্বক্ষণিক সুবিধা, অসুবিধা ও নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে ”।

;