‘টেলিকম খাতের কর ব্যবস্থা ও ইকোসিস্টেম ব্যবসাবান্ধব করুন’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

টেলিকম খাতের কর ব্যবস্থা ও ইকোসিস্টেম ব্যবসা-বান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছে এই খাতের নীতি-নির্ধারক ও প্রতিনিধিরা। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ খাত সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ দেন তারা।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে এমটব (অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের) ও বিআইজিএফ (বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভরনেন্স ফোরাম) আয়োজিত টেলিকম ট্যাক্স পলিসি ও ইকোসিস্টেম নিয়ে এক পলিসি ডায়লগে বক্তারা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন বিআইজিএফের চেয়ারপারসন ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হাসানুল হক ইনু, এমপি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমাদের তরুণরা এখন ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা করছে। ডিজিটাল কানেক্টিভিটির অনেক সুবিধা রয়েছে। এ বিষয়ে আমি একমত যে উচ্চ কর দীর্ঘদিন ধরে একটি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, আমরা এনবিআরের কাছে টেলিযোগাযোগ খাতে উচ্চ করের প্রভাবের বিষয়টি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারিনি। আমাদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চিন্তা করতে হবে, যেখানে যৌক্তিক হারে কর নির্ধারণের দিকে নজর দেওয়া দরকার।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশে টেলিকম খাতে কর খুব বেশি। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কোষাগারে অনেক অর্থ দিচ্ছে, তাহলে তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে কেন? ট্যাক্স কমানো হলে সরকারের কোন ক্ষতি নেই, কারণ এতে পরোক্ষভাবে সরকারের আয় বাড়ে। মোবাইল খাতে করপোরেট ও ন্যূনতম টার্নওভার কর কমিয়ে অন্যান্য শিল্প খাতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা উচিত।

হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, তামাক খাতের মতো ক্ষতিকর খাতে টার্নওভার ট্যাক্স যেখানে ১% সেখানে মোবাইল শিল্পে এই ট্যাক্স ২%, যা অবিবেচনাপ্রসূত। এটা ১% এর নিচে নামিয়ে আনা দরকার।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ওপর যে ভ্যাট রয়েছে তা তুলে দেওয়া দরকার। সরকার এ থেকে কতই বা আয় করে? আধুনিক জীবনে তথ্য সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি এবং মোবাইল খাত হলো এই তথ্য আদান প্রদানসহ সকল ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধানতম বাহন। গ্রাহকদের সেবা প্রদানের কথা বিবেচনায় রেখে এই খাতকে আরও কীভাবে জনবান্ধব করা যায় তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

পলিসি ডায়ালগে টেলিকম করনীতি ও টেলিকম ইকোসিস্টেম নিয়ে দুইটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম এবং এরিকসনের মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলংকার হেড অব নেটওয়ার্ক সল্যুশন এবং এরিকসন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুস সালাম।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. খলিলুর রহমান বলেন, টেলিকম খাতকে সামনে এগিয়ে নিতে আমাদের বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। আমি মনে করি, কিছু কর যৌক্তিক করা দরকার। ট্যাক্স সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে প্রান্তিক গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমি এনবিআরের সাথে আলোচনা করব।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, দেশ বিদেশের সকল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যেন সঠিকভাবে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা অনুসরণ করেই তাদের ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। টেলিকম খাত শুধু সেবা প্রদানই নয়, দেশের প্রবৃদ্ধিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তাই তাদের প্রতি আমাদের ইতিবাচক মনোভাব সবসময়ই বজায় থাকবে। তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই আমরা বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি।

রবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিএফও এম. রিয়াজ রাশিদ বলেন, মার্কেটে যত বেশি প্লেয়ার থাকবে অপারেটরদের কাজের দক্ষতা তত বেশি কমবে। আর শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব গিয়ে পড়বে গ্রাহকদের উপর, কারণ এতে সেবা প্রদানের ব্যয় বেড়ে যায়। তিনি বিষয়টির উপর নজর দেওয়ার জন্য নীতি নির্ধারকদের মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

মূল প্রবন্ধে শাহেদ আলম বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মোবাইল খাতের কর তুলনামূলকভাবে বেশি।তিনি আরও বলেন, অপারেটরদের বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন সন্তোষজনক নয়। একদিকে অপারেটরদের গ্রাহকপ্রতি গড় আয় কম অন্যদিকে মোবাইল ভয়েস ও মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে কম। আমরা আরও নতুন ধরনের সাশ্রয়ী সেবা প্রদান করতে চাই। কিন্তু সেবাদাতাদের যদি করের ভারে জর্জরিত করা হয় তাহলে তাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যায়। আমরা এই খাতে যৌক্তিক হারে করারোপের দাবি জানাই। আমাদের মনে রাখা দরকার যে দেশের ৪৫ শতাংশ লোক নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও এখনও মোবাইল ব্যবহার করতে পারে না।

প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় আবদুস সালাম বলেন, দেশের নেটওয়ার্ক ক্রমশই বিকশিত হচ্ছে, পাশাপাশি নানা রকম সেবাও আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। অটোমেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা মেশিন লার্নিং ইত্যাদি আমাদের এন্ড-টু-এন্ড সেবা প্রদানকে সহজ করে তুলছে। বাংলাদেশের টেলিকম ইকোসিস্টেমে অনেক বেশি সংখ্যক প্লেয়ার বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন নিয়ন্ত্রক, এমএনও, এনটিটিএন, টাওয়ারকো, গেটওয়ে প্রদানকারী, অ্যাকাডেমিয়া, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি ও আরও অনেকে। এদের যে কোন একটিকেও বাদ দিলে এই খাতের বিকাশ সম্ভব হবে না। ভবিষ্যৎ নেটওয়ার্ক ও সেবার জন্য সরকার এই শিল্পের সবার সঙ্গে বিশদভাবে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা বাংলাদেশে এই ইকোসিস্টেমের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, সরকারের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' রূপকল্প বাস্তবায়নে টেলিকম অপারেটররা প্রধানতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। করের ভার এবং অন্যান্য অনেক চ্যালেঞ্জে থাকা সত্ত্বেও আমরা কোটি কোটি গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছি। আমরা সরকারের ভ্যাকসিন এবং বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। এখনও অনেক পথ যেতে হবে, কিন্তু আমরা জেনে খুশি যে সরকার লং ডিসট্যান্স টেলিকম নীতি নিয়ে কাজ করছে। আমাদের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এটি আমাদের আরও উৎকৃষ্ট সেবা দিতে সাহায্য করবে।

এ নিয়ে গ্রামীণফোনের অ্যাক্টিং সিসিএও হোসেন সাদাত বলেন, আমরা উচ্চ কর সমস্যা সমাধানের জন্য নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের প্রতি বছর বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনের জন্য, আমাদের খুব শিগগিরই টেলিকম খাতের ট্যাক্স ব্যবস্থার বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের অযৌক্তিক করের বৈষম্য দূর করতে হবে। ভালো ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে করের পরিমাণ কম হওয়া উচিৎ।তৃণমূল স্তরে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির জন্য, আমাদের কর যৌক্তিকীকরণ করতে হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বিটিআরসি’র স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল, রবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিএফও এম. রিয়াজ রাশিদ, ফাইবার এট হোমের চিফ টেকনোলজি অফিসার সুমন আহমেদ সাবির প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে শেষ করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.)।

   

জিপি বনাম রবি, বাংলালিংক বিরোধের সুরাহা হয়নি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রামীণফোনের ৮৫০ ব্যান্ডে স্পেকট্রাম চাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌছায়নি বলে জানিয়েছে।

গ্রামীণফোন বিটিআরসির কাছে ৮৫০ ব্যান্ডে স্পেকট্রাম চাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক বলছে, গ্রামীণফোন যদি ৮৫০ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হয় তাহলে তাদের নেটওয়ার্কে সমস্যা তৈরি করবে।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমের সাথে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় একথা জানানো হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ প্রথম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিটিআরসির মহাপরিচালক (স্পেকট্রাম বিভাগ) ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান বলেন, মার্চের শুরুতেই সব মোবাইল অপারেটর এমটবের ব্যানারে একসাথে বসবে। এরপর অপারেটরেরা আমাদেরকে একটা প্রস্তাবনা দেবে। ওই প্রস্তাবনা নিয়ে ভেন্ডরদের সঙ্গে বসবো। এ বিষয়ে দেশের ও গ্রাহকদের জন্য যা ভালো হয় সেটিই আমরা করবো।

;

পর্নো ও বেটিং সাইটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পর্নোগ্রাফি ও বেটি সাইটগুলোর বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছে, এ ধরনের সাইটের সন্ধান পেলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমের সঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় একথা জানানো হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ প্রথম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খলিল-উর-রহমান বলেন, নিরাপদ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে বিটিআরসি। আইন প্রয়োগকারী বা সরকারি সংস্থার অনুরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইস্যুগুলো সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করে থাকি আমরা। ফেসবুক আমাদের সব অনুরোধ রাখে না। তাদের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করে থাকে। তবে উসকানিমূলক, রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো কনটেন্ট এবং বিশেষ করে পর্নো ও বেটি সাইটগুলোর বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয় না। যখনই এ ধরনের সাইটের সন্ধান পাওয়া যায়, আমরা তাৎক্ষণিক ওই সব সাইট বন্ধ করে দেই।

;

বাজারে এলো ইনফিনিক্সের গেমিং স্মার্টফোন হট ৪০ প্রো



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্মার্টফোন গেমারদের জন্য বাংলাদেশের বাজারে নতুন গেমিং ফোন ‘হট ৪০ প্রো’ নিয়ে এলো তরুণদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স। তরুণ গেমারদের সেরা গেমিং অভিজ্ঞতা দিতে, শক্তিশালী ও উন্নত ফিচারে আনা হয়েছে ফোনটি। ডিভাইসটিতে উন্নত পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে জোর দেওয়া হয়েছে খুঁটিনাটি প্রতিটি বিষয়ের ওপর।

হট ৪০ প্রো ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬ ন্যানোমিটারের মিডিয়াটেক হেলিও জি৯৯ আল্ট্রা-স্পিড প্রসেসের। ফলে কম শক্তি খরচেই পাওয়া যাবে কার্যকর পারফরম্যান্স। এই প্রসেসরকে আরও শক্তিশালী করেছে ইনফিনিক্সের তৈরি এক্স-বুস্ট গেমিং ইঞ্জিন। এই সমন্বয়টি তরুণদের গেমিং চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নিশ্চিত করবে স্বচ্ছন্দ অভিজ্ঞতা।

দিনব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে সাশ্রয়ী মূল্যের গেমিং ফোনটিতে আছে ৫০০০ এমএএইচের ব্যাটারি এবং ৩৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার। এই চার্জার দিয়ে মাত্র ৩৫ মিনিটেই ফোনটির চার্জের পরিমাণ ২০% থেকে ৭৫% করা যায়। এছাড়া চার্জিং-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফোনটিতে আছে রিয়েল-টাইম টেম্পারেচার মনিটরিং ফিচার।

উন্নত গেমিং পারফরম্যান্সের জন্য হট ৪০ প্রো ফোনটিতে আছে ৮ জিবি র‍্যাম, যা ১৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যায়। ১২৮ জিবি ধারণক্ষমতার স্মার্টফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৩ ভিত্তিক এক্সওএস ১৩.৫ অপারেটিং সিস্টেমে চলে। ফোনটির সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা আরও বাড়াবে।

গেমারদের ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা উন্নত করতে ডিভাইসটিতে আছে ম্যাজিক রিং ফিচারসহ ৬.৭৮ ইঞ্চির ফুল এইচডি+ আইপিএস ডিসপ্লে। স্বচ্ছন্দ টাচ ও স্ক্রলিংয়ের জন্য ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট দেওয়া হয়েছে ডিভাইসটিতে। গেমিংয়ের সময় সর্বোত্তম স্বচ্ছতা ও দেখার স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ৯০.৭% স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও এবং ৫০০ নিটস ব্রাইটনেস থাকছে এতে। এর মাল্টিফাংশনাল এনএফসি’র মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ডেটা শেয়ার অথবা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবেন সহজেই।

হট ৪০ প্রো-তে নতুন মেটাম্যাটেরিয়াল অ্যান্টেনা নিয়ে এসেছে ইনফিনিক্স। অ্যান্টেনাটি চলে মেটাম্যাটেরিয়াল গেমিং নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির মাধ্যমে। এই প্রযুক্তি তিনগুন বেশি অ্যান্টেনা এরিয়া কাভার করতে পারে। ফলে গেমিংয়ের সময় নেটওয়ার্ক সিগন্যাল নিয়ে বাড়তি দুঃশ্চিন্তা করতে হয় না।

ফটোগ্রাফির জন্য ডিভাইসটিতে আছে ১০৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা। এই হাই-রেজোলিউশন লেন্সের সঙ্গে আছে দুই মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো লেন্স। পাশাপাশি এতে আছে একটি এইচএমএস সেন্সর, যা সুন্দর ও স্পষ্ট ছবি তুলতে ব্যবহারকারীদের সাহায্য করবে। ডিভাইসটির সামনে থাকা ৩২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে সুন্দর সেলফি তুলতে পারবে তরুণরা।

উদ্ভাবনী ফিচারযুক্ত ইনফিনিক্স হট ৪০ প্রো পাওয়া যাচ্ছে একটি চমৎকার এমএলবিবি-কাস্টমাইজড বক্সে। পাম ব্লু, হরাইজন গোল্ড এবং স্টারলিট ব্ল্যাক— এই তিনটি রঙে বাজারে এসেছে ফোনটি। ১৯,৯৯৯ টাকা মূল্যের ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে ইনফিনিক্সের অনুমোদিত শপ এবং দেশের বৃহত্তম অনলাইন শপিংপ্লেস দারাজে।

;

অপতথ্য প্রচার রোধে টেকজায়ান্ট, সোস্যাল মিডিয়ার সমঝোতা



টেক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ভুল তথ্য বিভ্রান্ত করতে পারে

ভুল তথ্য বিভ্রান্ত করতে পারে

  • Font increase
  • Font Decrease

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি আমাদের বাস্তবের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এই প্রযুক্তি। মাত্র কয়েক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার শুরু হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে তা আরো উন্নত হবে। একসময় হয়ত বাস্তব-অবাস্তব পার্থক্য করা কষ্টকর হয়ে যাবে। তবে ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি এত বেশি আধুনিক হয়ে গেছে যে, চোখে ধুলো দেওয়া অসম্ভব নয়। সামনে প্রায় ৪০টি দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্ব নেতাদের নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ, পরোক্ষভাবে মানুষজাতির ভবিষ্যৎ প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। 

এই সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। মাইক্রোসফট, মেটা, ওপেন এআই, গুগল, আমাজন, আইবিএম, এডোবি, আর্ম- একটি চুক্তি সই করেছে। ২০টি বড় প্রতিষ্ঠান একজোট হয়েছে। এর সাথে স্ন্যাপ-চ্যাট, টিকটক, এক্স-এর মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও যুক্ত হয়েছে।

টেক প্ল্যাটফর্মে বিশ্বজুড়ে একটি বিশাল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৪০টিরও বেশি দেশের ৪ বিলিয়ন লোক এর দ্বারা প্রভাবিত হবে৷ মেশিন লার্নিং ফার্ম ক্ল্যারিটির তথ্য অনুসারে, এআই-উৎপাদিত বিভিন্ন মাধ্যম উত্থানের ফলে বিভ্রান্ত করা সহজ। এর সাহায্যে নির্বাচন-সম্পর্কিত ভুল তথ্য প্রচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, বছর প্রতি ডিপফেকের সংখ্যা শতকরা ৯০০ ভাগ অবধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১৬ সালোর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণার সময় একটি বড় সমস্যা দেখা গিয়েছিল। রাশিয়ান অভিনেতাদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচন সম্পকির্ত ভুল তথ্য প্রচার হচ্ছিল। এখন মানুষকে ধোঁকা দেওয়া আরো সহজ। নকল ভিডিও বানানো অনেক সহজ হয়ে গেছে। তাছাড়া, এদের পার্থক্য অবধি করা যায় না। তাই, আইন প্রণেতারা এআই-এর দ্রুত উন্নতি নিয়ে আরো বেশি উদ্বিগ্ন।

তাই তারা সবাই সমঝোতায় এসেছেন। যার যার অবস্থান থেকে ভুল তথ্য প্রচার করা রোধ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা। তারা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে চান।  

;