দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ: এস এম কামাল



রুহুল আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

২৩ জুন রোববার আওয়ামী লীগ তার ৭৫ বছর পূর্তি প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন করবে। এই ৭৫ বছরে দলটি তার মূল লক্ষ্যে কতটা অটুট আছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত কতটা পরিবর্তন হয়েছে, দলটির ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জই-বা কী, এমন নানান বিষয় নিয়ে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বার্তা২৪.কমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রুহুল আমিন।

সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ও অভিন্ন। তাই, আওয়ামী লীগের যে স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠা, সে স্বপ্ন পূরণে এখনো কাজ করে যাচ্ছে দলটি। সেখান থেকে এক বিন্দুও সরেনি। এখন সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থায় বাংলাদেশ পড়লেও তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে।

বার্তা২৪.কম: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য হিসেবে দলটির ৭৫ বছরে এসে আপনার অনুভূতি কী?

এস এম কামাল হোসেন: বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে ৭৫ বছর বয়সে এসে আমি একজন সংসদ সদস্য হয়েছি, এটা আমার বড় প্রাপ্তি। বাংলাদেশের যা অর্জন, তা হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। সে দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছি, সে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করতে পারছি, এটা একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে বিশাল পাওনা।

আমি এই কারণে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক করেছেন এবং মহান সংসদে একজন সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

পাকিস্তান হওয়ারি আগেই বঙ্গবন্ধু ভেবেছিলেন পাকিস্তান এই বাঙালির কোনো স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না। পরবর্তীতে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। পাকিস্তানের দুঃশাসন, নির্যাতন, তাদের উপনিবেশ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। মানুষ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

বার্তা২৪.কম: যে আদর্শ নিয়ে দলটির পথ চলা ৭৫ বছর বয়সে এসে সেই আদর্শ কতটা দলটির মধ্যে আছে?

এস এম কামাল হোসেন: আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।
একটি স্বাধীনতার জন্য মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের মাধ্যমে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশের আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, বঙ্গবন্ধু উপন্যাস শেখ হাসিনা সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে সে লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

বার্তা২৪.কম: আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর বয়সে সবচেয়ে বড় অর্জন কী?

এস এম কামাল হোসেন: আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন বাংলাদেশ একটি ‘উন্নয়নশীল দেশ’, ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্টবাংলাদেশ’ নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এগুলো আওয়ামী লীগের অর্জন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আজকে পদ্মাসেতু হয়েছে। পদ্মানদীর উপর দিয়ে আজকের ট্রেন চলছে, যা মানুষ কখনো আগে ভাবেননি। কর্ণফুলী টানেল হয়েছে। সমুদ্র বিজয় হয়েছে। সীমান্ত চুক্তি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারা ২৮ বছর ক্ষমতায় ছিল তারা কেউ সীমান্ত চুক্তি করেনি। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আজকের সীমান্ত চুক্তি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করেছেন। আজকে দেশ স্যাটেলাইটের যুগে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন, তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের অর্জন, শেখ হাসিনার অর্জন, বঙ্গবন্ধুর অর্জন অভিন্ন!

বার্তা২৪.কম: বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য দেখেন কি না!

এস এম কামাল হোসেন: আমি বিন্দুমাত্র কোনো পার্থক্য দেখি না। আওয়ামী লীগের যে নীতি-আদর্শ, তা থেকে এক চুল পরিমাণও বঙ্গবন্ধু কন্যা সরে আসেননি। দলের নেতাকর্মীদের কারণেই বিতর্কিত হতে পারে কিন্তু আওয়ামী লীগের যে লক্ষ্য অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, মানুষের অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, লেখাপড়া, চিকিৎসা সে লক্ষ্য থেকে আওয়ামী লীগ এক চুলও সরে আসেনি।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যে লক্ষ্য, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সাম্যের বাংলাদেশ সেখান থেকে এক বিন্দুও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরে যাননি।

বার্তা২৪.কম: ৭৫ বছরের আওয়ামী লীগের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

এস এম কামাল হোসেন: বিশ্বে যে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, সে সংকটের বাইরে কিন্তু বাংলাদেশও নয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা হচ্ছে, আমাদের চ্যালেঞ্জ! আমাদের জন্য উচিত, বঙ্গবন্ধু কন্যার চোখের ভাষা বুঝে তিনি যা চান, সেভাবে নিজেদের তৈরি করা। সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত, জঙ্গিবাদমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার দেখছেন তিনি। আমাদের জন্য উচিত হচ্ছে, তা বাস্তবায়নে নিজেদের প্রস্তুত করা।

বার্তা২৪.কম: অনেকেই বলে থাকেন, আওয়ামী লীগে নেতা আছেন, কর্মী নেই। এই বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

এস এম কামাল হোসেন: এটা বলার জন্য বলা। আওয়ামী লীগ কর্মীনির্ভরশীল দল। আওয়ামী লীগ তৃণমূল কর্মীদের দল। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা ছাড়া ক্ষমতায় থাকা যায় না। সে কারণে জনগণের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করেন। সেটা বিশ্বাস করেন বলেই আজকে শেখ হাসিনা বয়স্ক ভাতা দিচ্ছেন। বিধবা ভাতা দিচ্ছেন। যাদের ঘর নেই, তাদের ঘর দিচ্ছেন, জমি দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা যা স্বপ্ন দেখেন, আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে স্বপ্ন দেখেন।

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ইস্তেহার দিয়েছে। ২০১৮ সালের ইস্তেহার দিয়েছে। ২০২৪ সালেও ইস্তেহার দিয়েছেন। ২১০০ সাল বদ্বীপ পরিকল্পনা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা হবে তাই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য। আমাদের ঘোষণাপত্রে যা যা আছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য আজকে কাজ করছেন।

বার্তা২৪.কম: দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে জনগণের মাঝে জনপ্রিয়তা কমে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। তাহলে এখন জনপ্রিয়তা বেড়েছে না কি কমেছে?

এস এম কামাল হোসেন: আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমেনি। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা কমেনি। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা এক ও অভিন্ন। শেখ হাসিনার জনপ্রিয় বৃদ্ধি পাওয়া মানে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়া। কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত কারণে আওয়ামী লীগ বিতর্কিত হতে পারে। ক্ষোভ-বিক্ষোভ হতে পারে ওই ব্যক্তির প্রতি কিন্তু তৃণমূল নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আছে। সাধারণ মানুষেরও আস্থা ও বিশ্বাস আছে।

বার্তা২৪.কম: তৃণমূলে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক শক্তি পারিবারিক হয়ে গেছে। এটা ৭৫ বছরের আওয়ামী লীগের জন্য কতটা যুক্তিসঙ্গত?

এস এম কামাল হোসেন: ব্যক্তির আচরণ, ব্যক্তির বিনয়ের ওপর ভিত্তি করে তৃণমূলের কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতি করেন। সেখানে দেখতে হবে, ব্যক্তির আচরণটা কী! ব্যক্তির কারণে কি দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নাকি ব্যক্তির কারণে নেতাকর্মীরা শান্তি পাচ্ছেন। ব্যক্তির কারণে দলে কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে।

এখানে দুটোই আছে। কারো কারো কারণে দল শক্তিশালী হচ্ছে আবার কারো কারো কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা হচ্ছে, এটা আমি অস্বীকার করি না।

দলের ৭৫ বছর বয়সে আমার অনুরোধ হচ্ছে, এখানে আমরা কেউ অপরিহার্য না। এখানে একজনই অপরিহার্য। দেশের জন্য শেখ হাসিনা, দলের জন্যও শেখ হাসিনা! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ২৪ ঘণ্টা মানুষের জন্য পরিশ্রম করছেন, আমাদের কাজ হচ্ছে, সেটা মানুষের কাছে বলা। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে যে কাজ করছেন তিনি, সেখানে আমাদের সহযোগিতা করা উচিত।

শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র ছাত্রলীগের হামলা ক্ষমার অযোগ্য: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র ছাত্রলীগসহ সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হামলা ক্ষমার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিনা উসকানিতে আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীসমূহ কর্তৃক চরম নির্মমতা প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গতকালকে ৬ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং অসমর্থিত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী আজকে ১৫ জন অর্থাৎ মোট ২১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হল রাষ্ট্রকর্তৃক নিযুক্ত আইনের রক্ষকরা সশস্ত্র সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এক সাথে মিলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একটি অসম যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র। প্রত্যেকটি নাগরিকের মতামত প্রকাশের, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর ও সরকারের প্রতি তাদের দাবি জানানোর অধিকার আছে। সরকারের কর্তব্য এ প্রতিবাদের ভাষা বোঝা এবং সরকারের দায়িত্ব সেটা নিরসনের ববস্থা নেয়া। রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা নিজেদের সন্ত্রাসী বাহিনী অথবা একসঙ্গে উভয়কে ব্যবহার করে প্রতিবাদ স্তব্দ করা নয়। কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে মেনে নেওয়া উচিত।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জিএম কাদের বলেন, ১৬ জুলাই বিনা উসকানিতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে কাছ থেকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। হত্যাকারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানি না। আবার পুলিশের সাথে রাস্তায় নেমে ছাত্রলীগের যে সব সন্ত্রাসী পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছুড়েছে সাধারণ ছাত্রদের ওপর- ছাত্রলীগের সেই সব সন্ত্রাসীদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি।

তিনি বলেন, গেলো কয়েক দিন ধরে নিরীহ ছাত্রদের ওপর ছাত্রলীগ যেভাবে সশস্ত্র হামলা করেছে তা সভ্য সমাজে বেমানান। সরকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করেছে। তারা নিরীহ ছাত্রদের ওপর পৈশাচিক হামলা চালাচ্ছে। অনুগত সন্ত্রাসীদের আইনের ওপরে রেখেছে। নিরীহ ছাত্রদের রক্ত ঝড়াবে আর বিচার হবে না। এটা একটি স্বাধীন দেশে হতে পারে না। যে সরকার কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিলো এখন তারাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য এবং কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে শুধু আন্দোলন ঠেকাতেই সরকার ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। সাধারণ মানুষের ধারণা জনগণের এ দাবির প্রতি সরকারের সমর্থন ছিল না। যে কোন ভাবে পরবর্তীতে, সময় সুযোগ বুঝে আবার কোটা পদ্ধতি চালু করা হবে, এ সিদ্ধান্ত আগেই ছিল। ফলে জনগণের ধারনা কোটা পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের মামলা ও এতে বর্তমান ফলাফলের বিষয়ে সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরবর্তীতে কোন একটি সময় কোটা বহালের দাবিতে সাধারণ জনগণের অজান্তে একটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছিলো। ২০২৪ সালে হঠাৎ করে সেই মামলার রায় হয়। সেই রায়ে আদালত কোটা পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন। সম্পূর্ণ বিষয়টি রহস্যজনক। চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সমাজে বৈষম্য সৃষ্টিতে সহায়ক। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার জন্য ন্যায়বিচার ভিত্তিক জনগণের নিজেদের একটি দেশ গঠনই ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য। সে কারণে, কোটা পদ্ধতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্যের মূলে আঘাত।

;

বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী তাণ্ডব চালাচ্ছে: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাদের উসকানির জন্য সারা দেশে কয়েকজনকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকার ধৈর্য এবং সহনশীলতার সঙ্গে আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে একটা রাজনৈতিক অপশক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের উসকানির জন্য সারা দেশে কয়েকজনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু আজ থেকে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে এখন বিএনপি-জামায়াত তাদের পুরনো আগুন সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নেমেছে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য স্থানে ছাত্রলীগের ওপর নির্যাতন করেছে। ৩শর মত আহত হয়েছে, যেখানে অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায়। ছাত্রলীগের নারী শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। মেয়েদের বেধড়ক পিটিয়েছে। পুলিশ, সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে।

বিএনপির দণ্ডিত নেতা তারেক রহমান বিদেশে বসে ছাত্রদলকে নির্দেশ দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে বলে জানান তিনি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

;

গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের’ প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। এদিন বিকাল ৩টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ ঘোষণা দেন। মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনের আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলে আঘাত প্রতিহত করা এবং হত্যা, নাশকতা, অরাজকতা, অগ্নিসংযোগ প্রতিহত করার লক্ষ্যে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পক্ষের সব শ্রেণি-পেশার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের প্রতিহত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে বায়তুল মোকারম মসজিদের দক্ষিণ গেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, শ্রমিক, কর্মচারী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী জনগণের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে অংশ নেবেন। সমাবেশে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

;

শিক্ষার্থীদের শাটডাউনে বিএনপির সমর্থন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে সর্বাত্মক শাটডাউনে সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাত ১২টা ১৫ মিনিটে বিএনপির মিডিয়া উইং এর সদস্য দিদার হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান। 

দিদার হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও সশস্ত্র ছাত্রলীগের হিংস্র আক্রমণে ৭ জন শহীদ হয়েছেন। এছাড়া আজও আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও সোয়াতের ব্যাপক হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক রক্তাক্ত ঘটনায় আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি চাকুরীতে কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা আগামীকাল ১৮ জুলাই সারাদেশে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সমর্থন জানানো হয়েছে। 

;