আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

১৫ বছরে প্রবৃদ্ধি ৭.২৫ শতাংশ, মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৫ গুণ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ধারাবাহিক সরকারে গত সাড়ে ১৫ বছর আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ।

তিনি বলেন, এসময়ে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, মাথাপিছু আয় ৫ গুণ, বাজেটের আকার ১২ গুণ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ১৩ গুণ, জিডিপির আকার ১২ গুণ, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩৬ গুণ, রফতানি আয় ৫ গুণ, রেমিট্যান্স ৬ গুণ, এফডিআই ৫ গুণ, কৃষি-শ্রমিকের ক্রয় ক্ষমতা ৩ গুণ, শ্রমিকদের মজুরি ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দারিদ্র্যের হার ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। অতিদারিদ্র্য কমেছে ৫ গুণ। মানুষের গড় আয়ু হয়েছে ৭২ দশমিক ৮ বছর।

শনিবার (২২ জুন) রোববার ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনের সব নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক

শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, জাতীয় চার নেতা, স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি এবং আওয়ামী লীগ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের গণমানুষের প্রাণের সর্ববৃহৎ সংগঠন।

আওয়ামী লীগের সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালি জাতির মুক্তি এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন এক সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা ও বিশ্বশান্তির পথকে প্রশস্ত করা।

কারাবন্দি অবস্থায় তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান নবগঠিত সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য ১৯৫৩ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় সম্মেলনেই তাঁকে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর প্রজ্ঞা, শ্রম, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও অবিচল আদর্শকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রশ্নে হয়ে ওঠেন একজন অবিসংবাদিত নেতা।

হাজার বছরের শাসন-শোষণের ইতিহাস মুছে ফেলে বাঙালি জাতির চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সংগঠনটিকে প্রস্তুত করতে শেখ মুজিবকে যেমন অসংখ্য চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিতে হয়েছে, তেমনি তাঁর ব্যক্তি-জীবনকেও বিসর্জন দিতে হয়েছে। কালের পরিক্রমায় তিনি হয়ে ওঠেন- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালির জাতির পিতা।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভূখণ্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাঙালির অর্জন এবং বাংলাদেশের সকল উন্নয়নের মূলেই রয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

জন্মলগ্ন থেকেই সংগঠনটি ভাষা-শিক্ষা’র অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে পিকেটিং করার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গ্রেফতার হন।

তাঁর পরামর্শে ’৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি ‘ভাষা দিবস’ সমর্থনে ধর্মঘট আহ্বান ও ১৪৪-ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত এবং কারান্তরীণ অবস্থায় অনশন ঘোষণা ভাষা আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনকে ত্বরান্বিত করে।

১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ ২১-দফা ইশতাহার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে এবং মন্ত্রিসভা গঠন করে। কিন্তু, পাকিস্তানের গভর্নর সে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়। ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ ফের মন্ত্রিসভা গঠন করে। সেসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সারাদেশ ঘুরে মহকুমা ও থানা পর্যায়ে দলীয় কর্মীবাহিনীকে নিয়োজিত করে পূর্ব-বাংলায় বিরাজমান তীব্র খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করেন।

মাত্র দু’বছরের কম সময়েই জনকল্যাণকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করে, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয় এবং পূর্ব-বাংলার স্বায়ত্তশাসনসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।

১৯৫৮ সালের অক্টোবরে সামরিক শাসন জারির ফলে বাংলার মুক্তিকামী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাধাগ্রস্ত হয়। দৃঢ়-প্রত্যয়ী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তৃণমূল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে মনোনিবেশ করেন।

জনগণই আওয়ামী লীগের মূলশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল। জনগণই আওয়ামী লীগের মূলশক্তি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ’৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ’৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ, ’৬৬-এর ছয়-দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি মুক্তির সনদ রচনা এবং ’৬৯-এর গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসন অবসানের প্রতিশ্রুতি অর্জন দলটিকে মুক্তিকামী মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত করে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বের জন্যই আওয়ামী লীগকে ’৭০-এর নির্বাচনে পূর্ব-বাংলার মানুষ তাদের মুক্তির ম্যান্ডেট দিয়েছিল। জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জনগণের এ রায়কে উপেক্ষা করে, শুরু করে প্রহসন। ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্য ৬-দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ গ্রহণ করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর পরপরই পশ্চিম পাকিস্তানি জান্তা সরকার জাতির পিতাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে প্রেরণ করে। তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণশক্তি। তাঁর অবিচল নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মরণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যায়।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গণপরিষদ গঠন করে বাংলাদেশের প্রথম সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে।

১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং সেদিন এ স্থানটির নাম ‘মুজিবনগর’ রাখা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবদান
১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয়মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবদানের কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত সফল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল- স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।

১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধানে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর করেন। জাতির পিতার আহ্বানে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। মাত্র সাড়ে তিন বছরে তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় এবং স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে৷

৭৫-এ সপরিবারের বঙ্গবন্ধু হত্যা
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী চক্র আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এই হত্যার মধ্য দিয়ে তারা বাঙালি জাতির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা।

এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। তারা ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে জাতির পিতার হত্যার বিচারের পথকে বন্ধ করে দেয়। বিদেশে থাকায় আমি এবং আমার বোন শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যাই।

জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে; সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে; বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দেয়।

স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়; রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। ব্যবসা করার সুযোগ দিয়ে তাদের বিপুল অর্থের মালিক করে দিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশে থাকা অবস্থায় ’৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে আমাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। নানা বাধা উপেক্ষা করে ’৮১ সালের ১৭ মে আমি দেশে ফিরে এসে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু করি।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও অবৈধ সেনাশাসকদের নির্যাতন আর নিপীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় জনগণের সংগঠন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী, সমর্থকেরা জীবন দিয়ে সব প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দলকে টিকিয়ে রেখেছে, শক্তিশালী করেছে।

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার অর্জনে আওয়ামী লীগের অর্জন

গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমরা শুরু করি, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন ও দেশ গড়ার নবতর সংগ্রাম। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেই। আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করি।
আমরা ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বাতিল আইন, ১৯৯৬’ সংসদে পাশ করে জাতির পিতার হত্যার বিচার শুরু করি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় আওয়ামী লীগের অবদান
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মহান ‘২১ ফেব্রুয়ারি’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পায়।

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কারো মধ্যস্থতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি।

আওয়ামী লীগ সরকারের এই পাঁচ বছরে দেশে আর্থসামাজিক উন্নয়নের এক নবদিগন্তের সূচনা হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুঃশাসন, অত্যাচার নির্যাতন ও দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০০৭ থেকে ২০০৮ অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ‘দিন বদলের সনদ’ ঘোষণা দিয়ে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে পুনরায় নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এবং ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে।

১৫ বছরের ধারাবাহিক সরকারের সাফল্য এবং আওয়ামী লীগ
২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছরের সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ধারাবাহিক সরকারে গত সাড়ে ১৫ বছর আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছি।

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শেষ বছর এবং আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের শেষ বছর-২০২৩ সালের তুলনা করলে সাফল্যের তথ্যচিত্র আমাদের সামনে ভেসে উঠবে।

তিনি বলেন, এসময়ে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, মাথাপিছু আয় ৫ গুণ, বাজেটের আকার ১২ গুণ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ১৩ গুণ, জিডিপির আকার ১২ গুণ, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩৬ গুণ, রপ্তানি আয় ৫ গুণ, রেমিটেন্স ৬ গুণ, এফডিআই ৫ গুণ, কৃষি-শ্রমিকের ক্রয় ক্ষমতা ৩ গুণ, শ্রমিকদের মজুরি ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্যহার ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। অতিদারিদ্র্য কমেছে ৫ গুণ। মানুষের গড় আয়ু হয়েছে ৭২ দশমিক ৮ বছর।

এসময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৮ গুণ এবং বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগের হার ২৮ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাক্ষরতার হার বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০০৯ সালে জিডিপির পরিমাণ ছিল মাত্র ১০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩ সালে জিডিপির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

বর্তমান অর্জন

দক্ষিণ বঙ্গের দ্বার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে পদ্মাসেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে আরো সহজ, ছবি- সংগৃহীত


আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে আমাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১সহ দেশব্যাপী অগণন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন করেছি।

আশ্রয়ণ প্রকল্প
আমরা দেশের সব ভূমিহীন-গৃহহীনকে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছি। আশ্রয়ণ প্রকল্প ও অন্যান্য কার্যক্রম দিয়ে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯শ ৪টি পরিবারের ৪৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছি। সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আমাদের সরকার জাতির পিতার হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধীদের বিচার
‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে এবং রায়ও কার্যকর করা হচ্ছে। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে, ফলে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ হয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন
২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ এবং ২১০০ সালের মধ্যে ‘ডেল্টা পরিকল্পনা’ বিনির্মাণে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

জাতির পিতার আদর্শ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লড়াই-সংগ্রাম ও মানুষের আস্থা অর্জন করে আওয়ামী লীগকে জনমানুষের সংগঠনে পরিণত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের নেতাকর্মীদের মেধা, পরিশ্রম, ত্যাগ ও দক্ষতায় আওয়ামী লীগ আরো গতিশীল ও শক্তিশালী হবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্র বিরোধী দেশি-বিদেশি অপশক্তি এখনও নানাভাবে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এই অপশক্তির যেকোনো অপতৎপরতা-ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে আমি দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র ছাত্রলীগের হামলা ক্ষমার অযোগ্য: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র ছাত্রলীগসহ সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হামলা ক্ষমার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিনা উসকানিতে আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীসমূহ কর্তৃক চরম নির্মমতা প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গতকালকে ৬ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং অসমর্থিত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী আজকে ১৫ জন অর্থাৎ মোট ২১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হল রাষ্ট্রকর্তৃক নিযুক্ত আইনের রক্ষকরা সশস্ত্র সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এক সাথে মিলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একটি অসম যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র। প্রত্যেকটি নাগরিকের মতামত প্রকাশের, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর ও সরকারের প্রতি তাদের দাবি জানানোর অধিকার আছে। সরকারের কর্তব্য এ প্রতিবাদের ভাষা বোঝা এবং সরকারের দায়িত্ব সেটা নিরসনের ববস্থা নেয়া। রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা নিজেদের সন্ত্রাসী বাহিনী অথবা একসঙ্গে উভয়কে ব্যবহার করে প্রতিবাদ স্তব্দ করা নয়। কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে মেনে নেওয়া উচিত।

ক্ষোভ প্রকাশ করে জিএম কাদের বলেন, ১৬ জুলাই বিনা উসকানিতে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে কাছ থেকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। হত্যাকারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানি না। আবার পুলিশের সাথে রাস্তায় নেমে ছাত্রলীগের যে সব সন্ত্রাসী পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছুড়েছে সাধারণ ছাত্রদের ওপর- ছাত্রলীগের সেই সব সন্ত্রাসীদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি।

তিনি বলেন, গেলো কয়েক দিন ধরে নিরীহ ছাত্রদের ওপর ছাত্রলীগ যেভাবে সশস্ত্র হামলা করেছে তা সভ্য সমাজে বেমানান। সরকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করেছে। তারা নিরীহ ছাত্রদের ওপর পৈশাচিক হামলা চালাচ্ছে। অনুগত সন্ত্রাসীদের আইনের ওপরে রেখেছে। নিরীহ ছাত্রদের রক্ত ঝড়াবে আর বিচার হবে না। এটা একটি স্বাধীন দেশে হতে পারে না। যে সরকার কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিলো এখন তারাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য এবং কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে শুধু আন্দোলন ঠেকাতেই সরকার ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। সাধারণ মানুষের ধারণা জনগণের এ দাবির প্রতি সরকারের সমর্থন ছিল না। যে কোন ভাবে পরবর্তীতে, সময় সুযোগ বুঝে আবার কোটা পদ্ধতি চালু করা হবে, এ সিদ্ধান্ত আগেই ছিল। ফলে জনগণের ধারনা কোটা পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের মামলা ও এতে বর্তমান ফলাফলের বিষয়ে সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরবর্তীতে কোন একটি সময় কোটা বহালের দাবিতে সাধারণ জনগণের অজান্তে একটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছিলো। ২০২৪ সালে হঠাৎ করে সেই মামলার রায় হয়। সেই রায়ে আদালত কোটা পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন। সম্পূর্ণ বিষয়টি রহস্যজনক। চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সমাজে বৈষম্য সৃষ্টিতে সহায়ক। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার জন্য ন্যায়বিচার ভিত্তিক জনগণের নিজেদের একটি দেশ গঠনই ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য। সে কারণে, কোটা পদ্ধতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্যের মূলে আঘাত।

;

বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী তাণ্ডব চালাচ্ছে: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাদের উসকানির জন্য সারা দেশে কয়েকজনকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকার ধৈর্য এবং সহনশীলতার সঙ্গে আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। তবে একটা রাজনৈতিক অপশক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের উসকানির জন্য সারা দেশে কয়েকজনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডার বাহিনী ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু আজ থেকে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে এখন বিএনপি-জামায়াত তাদের পুরনো আগুন সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নেমেছে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য স্থানে ছাত্রলীগের ওপর নির্যাতন করেছে। ৩শর মত আহত হয়েছে, যেখানে অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায়। ছাত্রলীগের নারী শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। মেয়েদের বেধড়ক পিটিয়েছে। পুলিশ, সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে।

বিএনপির দণ্ডিত নেতা তারেক রহমান বিদেশে বসে ছাত্রদলকে নির্দেশ দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে বলে জানান তিনি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

;

গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের’ প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। এদিন বিকাল ৩টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ ঘোষণা দেন। মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনের আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলে আঘাত প্রতিহত করা এবং হত্যা, নাশকতা, অরাজকতা, অগ্নিসংযোগ প্রতিহত করার লক্ষ্যে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পক্ষের সব শ্রেণি-পেশার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের প্রতিহত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে বায়তুল মোকারম মসজিদের দক্ষিণ গেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, শ্রমিক, কর্মচারী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী জনগণের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে অংশ নেবেন। সমাবেশে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

;

শিক্ষার্থীদের শাটডাউনে বিএনপির সমর্থন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে সর্বাত্মক শাটডাউনে সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাত ১২টা ১৫ মিনিটে বিএনপির মিডিয়া উইং এর সদস্য দিদার হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান। 

দিদার হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও সশস্ত্র ছাত্রলীগের হিংস্র আক্রমণে ৭ জন শহীদ হয়েছেন। এছাড়া আজও আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও সোয়াতের ব্যাপক হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক রক্তাক্ত ঘটনায় আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি চাকুরীতে কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা আগামীকাল ১৮ জুলাই সারাদেশে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সমর্থন জানানো হয়েছে। 

;