সর্বস্ব খুইয়ে স্বদেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন



রুহুল আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সর্বস্ব খুইয়ে স্বদেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন

সর্বস্ব খুইয়ে স্বদেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন

  • Font increase
  • Font Decrease

সেদিন ছিল কালবৈশাখীর তাণ্ডব। সকাল থেকেই প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি, আছে সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা। তবে সব কিছু উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বিকাল সাড়ে চারটায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে অবতরণ করে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ৭০৭ বোয়িং বিমানটি।

মুষলধারার বৃষ্টি-বাদলা উপেক্ষা করে গণতন্ত্রকামী লাখ লাখ মানুষের মিছিল এসে থামে বিমানবন্দরের সামনে। মানুষের স্রোতে ভেঙে পড়ে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রানওয়ের দুই পাশে লাখ লাখ মানুষ, তার মাঝে পদ্ম হয়ে নেমে আসলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

বঙ্গবন্ধুকন্যা যখন নেমে আসেন বিমান থেকে, তার চোখে পানি, সে পানি মুছে দিচ্ছে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসা আকাশের কান্না। সেই সাথে 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ। কালো ডোরাকাটা তাঁতের মোটা শাড়ি পরা শেখ হাসিনা দীর্ঘ নির্বাসন জীবন কাটিয়ে আবারও পা রাখেন দেশের মাটিতে। নেমে এসে মিশে গেলেন মানুষের স্রোতে।

সর্বস্ব হারিয়ে মেয়ে পুতুলকে নিয়ে সেদিন দেশে ফিরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তবে বাবা-মা, ভাইদের হারালেও তিনি যে একা নন বরং পুরো দেশই তার পরিবার, সে কথা মনে করিয়ে দিতে ভুল করেনি উপস্থিত জনতা। সেদিনের সে জনতা ‘পিতৃহত্যার বদলা নিতে/লক্ষ ভাই বেঁচে আছে, শেখ হাসিনার ভয় নাই/রাজপথ ছাড়ি নাই' এমনই নানা স্লোগানে শেখ হাসিনাকে বরণ করে নেন একজন বোন হিসেবে, একজন পরিবারের পরম আপনজন হিসেবে।

একদিকে কালবৈশাখীর চোখরাঙানি অন্যদিকে লক্ষ জনতার একবার বঙ্গবন্ধুরকন্যাকে দেখার তৃষ্ণা। এর মধ্য দিয়ে সেদিনের ঢাকা শহর হয়ে উঠে এক স্তব্ধ নগরী। যে কারণে বিমানবন্দর থেকে বনানী হয়ে শেরে বাংলা নগরে আসতে সময় লেগে যায় সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি। কিছু দুষ্কৃতিকারীর হাতে পরিবারের সবাইকে হারালেও প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠেননি তিনি। বরং হাঁটলেন পিতার দেখানো পথে। তাই তো সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশ্যে কন্যা তার বাপের মত করেই বললেন, 'পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই।’

আপ্লুত শেখ হাসিনা সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। জীবনের ঝুঁকি নিতেই হয়, মৃত্যুকে ভয় করলে জীবন মহত্ব থেকে বঞ্চিত হয়।’

সেই যে প্রতিজ্ঞা, পিতার দেখানো স্বপ্ন পূরণের প্রতিজ্ঞা, সে প্রতিজ্ঞা পূরণে দেশে ফিরেই হাল ধরেন আওয়ামী লীগের। নানা লড়াই, সংগ্রাম ও প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে শক্তিশালী করেন দলকে। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আস্থা ফিরিয়ে আনেন নেতাকর্মীদের মাঝে। সে আস্থার সুফল পান ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

ক্ষমতায় এসেই মনোযোগী হন দেশ গঠনে, বাবার স্বপ্ন পূরণে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মাত্র পাঁচ বছরে খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করেন। করেন গঙ্গা চুক্তি। কোন তৃতীয় পক্ষ ছাড়ায় অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে করেন শান্তি চুক্তি। এছাড়াও বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব জায়গায়, জনগণের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে গ্রহণ করেন নানা কার্যক্রম।

তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় আসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। এরপর আবারও ঘটে ১৯৭৫ সালের মত আরেকটি নিকৃষ্ট ঘটনা। তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে হয় গ্রেনেড হামলা। তবে তার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান নেতাকর্মীরা। প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তবে নিহত হন দলটির ২৪ জন নেতাকর্মী।

তবে এসব কিছুতেও দমে যাননি জাতির পিতার কন্যা। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পিছপা হননি এক পাও। তাই তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে 'মাইনাস-টু ফর্মুলা'ও টলাতে পারেনি তাকে। সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আবারও বিপুল ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তারপর থেকে টানা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতির পিতার কন্যার নেতৃত্বে দেশ চালানোর দায়িত্বে আছে আওয়ামী লীগ।

এই সময়ের মধ্যে তার নেতৃত্বের কারণেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের। বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাসেবা, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি, অবকাঠামো, কৃষিসহ সব ক্ষেত্রেই উন্নতি লাভ করেছে। হয়েছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে সব বাধা অতিক্রম করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যথার্থ বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলছেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মতো মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। মহাকাশে উড়িয়েছেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- যা ছিল এক সময় কল্পনারও অতীত। স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার।

   

ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালালে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না: দুদু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আমাদেরকে লড়াই করতে হবে। গত ১৫-১৬ বছর ধরে লড়াই করছি। আমার বিশ্বাস ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে পারলে এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী জনতা দলের উদ্যোগে স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ আসে পৃথিবীকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য, সমৃদ্ধ করার জন্য তেমনি জিয়াউর রহমান এসেছিলেন। তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই করেননি। রণাঙ্গনের যুদ্ধ করেছেন। উনাকে মহানায়ক, মহাপুরুষ বললে কম হবে। শহীদ জিয়াউর রহমান নিরহংকার মানুষ ছিলেন। তিনি কখনো কারো বিরুদ্ধে কটূক্তি করেননি। আজ যারা শাসক আছে তারা যেভাবে সমালোচনা করে, যে ভাষায় সমালোচনা করে এটা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান যেখানে গণতন্ত্র রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেখানে শহীদ জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রকে বিকশিত করেছিলেন। আওয়ামী লীগ যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করেছিলেন তিনি সব রাজনৈতিক দলগুলোকে ফিরিয়ে এনেছেন। শহীদ জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষকে এ দেশ থেকে নির্বাসিত করেছেন। এই দেশটাকে তিনি সম্মানিত করেছেন সারা বিশ্বের কাছে।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, দেশ নায়ক তারেক রহমান যখনই এদেশের মাটিতে পা দিবেন তখনই এ দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ শুধু দূরই হবে না নিশ্চিহ্ন হবে। তিনি ফ্যাসিবাদকে কবরস্থ করার জন্য আসবেন। তিনি তৈরি হয়ে আছেন। যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারেন।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।তিনি শিক্ষার অগ্রদূত, তিনি কথা দিয়েছিলেন ক্ষমতায় আসলে পাঁচ হাজার টাকা কৃষকদের সুদ, ঋণ মওকুফ করবেন তিনি করেছিলেন। তিনি সারের দাম কমিয়ে ছিলেন। দেশকে রক্ষা করেছিলেন। আর বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তারা দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে পারছেন না। ভাবা যায় বার্মা আমাদের ওপর আক্রমণ করে।

কৃষকদলের সাবেক এ আহবায়ক বলেন, এ সরকার আর বেশিদিন ক্ষমতায় নাই। সরকার নিজেই তার কার্যক্রমে প্রমাণ করেছে। তিনি (শেখ হাসিনা) ভারতে গিয়েছিলেন। তিস্তার পানি আনতে পারতেন সীমান্তে হত্যার কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি বলেন নাই। তিনি ভুলে গেছেন। তিনি আসলে ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন।

জনতা দলের সভাপতি রায়হানুল ইসলাম রাজুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

;

সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কারাগারে



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, লক্ষ্মীপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগে রাশেদ নিজাম (৪০) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার হাজিরপাড়া এলাকা থেকে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এরআগে মো. মামুন নামে একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক তার বিরুদ্ধে আদালতে এজাহার দায়ের করেন।

এতে রাশেদ নিজামকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সদরের পশ্চিম মান্দারী গ্রামের মো. রিপন (২৮), পশ্চিম দিঘলী গ্রামের ফারুক (৩২) ও চন্দ্রগঞ্জের লতিফপুর গ্রামের নুরুল আলম (৪০)।

রাশেদ নিজাম সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের রতনেরখিল গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে। তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।

মামলার বাদী মামুন একই উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরভূতা গ্রামের মো. মনির হোসেনের ছেলে। গত ১১ জুন তিনি সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী অঞ্চল চন্দ্রগঞ্জ আদালতে এজাহার দায়ের করেন। আদালত এজাহারটি এফআইআর হিসেবে নিতে চন্দ্রগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেন৷ (মামলা নং-১০)।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি লক্ষ্মীপুর-চন্দ্রগঞ্জ সড়কের সিএনজি অটোরিকশা চালক। গত তিন মাস ধরে ওই রুটে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে টোকেনের মাধ্যমে মাসিক ছয়শ টাকা করে চাঁদা আদায় করে রাশেদ নিজাম ও তার সহযোগীরা। তাকেও বিভিন্ন সময়ে মাসিক চাঁদা দিতে চাপ প্রয়োগ করে। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় মান্দারী বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ডে তাকে হত্যার হুমকি দেয় আসামিরা।

অভিযোগ রয়েছে, রাশেদ নিজাম স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে সিএনজি স্ট্যান্ডে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছেন। এতে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা অতিষ্ঠ ছিল। মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন তিনি।

প্রতিকার পেতে রাশেদ ও তার ওই তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের কাঁঠালী গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. সিফাত হোসেন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক জানান, আদালতের নির্দেশে এজাহারটি এফআইআরভূক্ত করা হয়েছে। প্রধান আসামী রাশেদ নিজামকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

;

সরকার পতনের আন্দোলন শিগগির বেগবান হবে: ফখরুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের প্রধান শত্রু হচ্ছে এই দখলদার সরকার। এই সরকার দেশের সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে। আমাদের সুর একটাই, এই সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আন্দোলন চলছে, আন্দোলন চলবে, শিগগির আমাদের আন্দোলন আরও বেগমান হবে।

বুধবার (১২ জুন) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকট-উত্তরণের পথ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সব দল একত্রে হতে পেরেছি। কীভাবে এই সরকারকে সরাতে পারি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারি সেই লক্ষ্যেই আমরা সংগ্রাম করছি।

সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে জেগে উঠেছে। আমরা হয়ত তাদের জেগে ওঠাকে কাজে লাগিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারি নাই। তবে, নতুন সূর্যোদয় হবেই সেখানে অবশ্যই আমাদের পৌঁছাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে তরুণ যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এই সংগ্রাম শুধু বিএনপির একা নয়, দেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রকে রক্ষা করার সংগ্রাম। আমাদের লক্ষ্য একটাই এই সরকারকে সরিয়ে দেওয়া।

সরকারের অপকীর্তির কথা বলে শেষ করা যাবে না বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এরা রাজনৈতিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক কাঠামো দুইকেই ধ্বংস করেছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির মহাসচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অনেকেই।

;

দেশে এখন এক ব্যক্তির শাসন চলছে: এ্যানি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বাগেরহাট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আগে ছিল একদলের শাসন, এখন দেশে চলছে এক ব্যক্তির ফ্যাসিবাদি ও কর্তৃত্ববাদী শাসন।

ব্যাংকে টাকা নেই, সব টাকা লুট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে লুটেরা ও মাফিয়া বাহিনী দখল করে রেখেছে। এ কারণে বিচার বিভাগ, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটের অধিকার নেই।

বুধবার (১২ জুন) দুপুরে বাগেরহাটের মোংলার দিগরাজ এলাকায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সহায়তা প্রদানের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আজ বাংলাদেশে যদি স্বাভাবিক রাজনীতি থাকতো তাহলে তারেক রহমান দেশে থাকতেন, এখানে (মোংলায়) আসতেন। খালেদা জিয়াও ঘরবন্দী না হলে তিনিও আসতেন।

মোংলাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা আইলা, সিডর মোকাবিলা করছেন, সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। সরকারিদল এখানে আসবে না। কারণ জনগণের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক, দাদা বাবুরা যদি বহাল তবিয়তে রাখেন, তারা থাকবেন। সারা বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন শুরু হয়েছে, এটা সামাজিক আন্দোলন। এটা জনগণের সেন্টিমেন্ট, এই সেন্টিমেন্টকে তারা নিজেরা ধারণ করে না।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক আকরাম হোসেন তালিম ও যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

;