শেখ হাসিনার এখনও আতঙ্ক কাটেনি: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখনও আতঙ্ক কাটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ দলের অন্যান্য নেতাদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা তার গদি নিয়ে আতঙ্কে আছেন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা জানে জনগণ তাকে ভোট দেয়নি, ৯৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। তিনি আমি আর ডামি, আমরা আর মামুদের নির্বাচন করেছেন। তিনি ভালো করেই জানেন তার গদি চোরাবালির উপর দাঁড়ানো। যেকোনো সময় বালুর মধ্যে ঢুকে যাবে। তিনি সে আতঙ্কেই হাবিবুর রশিদ হাবিব, রফিকুল আলম মজনুসহ বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করে রেখেছে।

রিজভী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনের আলোয় থাকার চেয়ে বেশি লাল দেয়ালের মধ্যেই থাকেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এতটাই আতঙ্কিত যে, নেতাকর্মীদের ধরপাকড় ও গ্রেফতার কর্মসূচি যেন শেষই হচ্ছে না। তবে এর কারণও আছে। শেখ হাসিনা জানে তার সরকারের কোনও জনসমর্থন নেই।

বিএনপির নেতাকর্মীদের বন্দীদশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি বললেন যে, তাদের (বিএনপি নেতাদের) কোন রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার করা হয়নি, তারা বিভিন্ন অপরাধে অপরাধী। তাই তারা জেলে। কিন্তু আপনি যে ১/১১ এর সময় চাঁদা নিয়েছিলেন যার সাক্ষী আপনারই ফুফাতো ভাই এবং ওবায়দুল কাদের। তারা গোয়েন্দাদের কাছে অনেক কথা বলেছেন। আপনার তো কিছু হল না, আপনি তাহলে কে, আপনার মামলার কি হল?

তিনি বলেন, যারা স্বৈরাচারী, যারা একনায়ক, তারা জনগণের পক্ষের মানুষকে কারাগারে ভরে রাখে। হাবিবুর রশিদ হাবিব কি কারো ঘরবাড়ি দখল করেছে, নাকি নারায়ণগঞ্জের মাফিয়া এমপিদের মতো নিষ্পাপ শিশু ত্বকি হত্যার অভিযোগ রয়েছে? তাহলে তাদের গ্রেফতার না করে কেন বিএনপি নেতা হাবিবুর রশিদ হাবিবকে গ্রেফতার করা হল?

রিজভী আরও বলেন, আজ জনগণের টাকা লুট হচ্ছে। মানুষের টাকা এমপিদের পকেটে ঢুকছে, বিদেশে পাচার হচ্ছে। সেদিকে আপনি দেখছেন না, আপনি বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করছেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিন। মনে রাখবেন, ভালোর জয় হবেই।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব মজনু, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদসহ দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতাকর্মীরা।

   

আ.লীগের সবাই প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, রণাঙ্গনের নয়: গয়েশ্বর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আমাদের দেশের স্বাধীনতা শুধু কথার মধ্যে দিয়ে আসেনি। এসেছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে। পাকিস্তানের কর্নেল জানজুয়া জিয়াউর রহমানের হাতে নিহত হয়েছেন। শেখ হাসিনাকে বলব, আপনার আশেপাশে আছে, এমন কাউকে বের করেন তো, যে যুদ্ধে গুলি ছুঁড়েছে। আপনার দলে মুক্তিযোদ্ধা নেই, এ অপবাদ আমি দেব না। আছে, কিন্তু সবাই প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা নয়।’

বুধবার (২৯ মে) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরীস্থ ভিআইপি ব্যাঙ্কুয়েট হলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে "শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে শহীদ জিয়ার ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায়" প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুপুর ১২টায় একই স্থানে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে বই মেলা ও বই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দীন মজুমদার, ভিপি হারুনুর রশীদ, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।

গয়েশ্বর রায় বলেন, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যারা ছিলেন সবাই রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। আপনারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল কেন? স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। আজ এ যে গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব আছে কিনা বলতে সন্দেহ লাগে। শুধু একটি পতাকা উড়লেই দেশকে স্বাধীন বলা যায় না। জাতীয় সংগীত শুনলেই বোঝার কোনো উপায় নেই যে দেশে স্বাধীনতা আছে। সে কারণে আজ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি মানেই তারা, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে।

জিয়াউর রহমানের ছবি পাহারা দিতে পুলিশ লাগে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের মঙ্গল যারা চাইনি, তারাই জিয়াউর রহমানকে সেদিন চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে নির্মমভাবে খুন করেছে। জিয়ার জীবনের শুরুই এ চট্টগ্রামে, শেষও এ চট্টগ্রামে। তিনি বলতেন স্লোগানে মুক্তি আসবে না। আমাদের উৎপাদনমূখী হতে হবে। কর্মমুখী হতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষের হাতে কাজ পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে জিয়ার নাম লেখা আছে। এ নাম লেখা যায়, মুছা যায় না। জিয়ার ছবি পাহারা দেওয়ার জন্য পুলিশ লাগে না। আর মাঝে মাঝে কিছু মামলা হয় অমুকের ছবি ছিঁড়েছে। নাম বললাম না। জিয়ার ছবি ছেঁড়ার জন্য কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে হয়নি। কারণ জিয়ার ছবিতে হাত দিতে কেউ সাহস করে না।

গয়েশ্বর রায় বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দী করে শেখ হাসিনা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পারেননি। দেশনায়ক তারেক রহমান সেখানে উপস্থিত হয়ে গেছেন। তারেক রহমানের আওয়াজ শুনলেই শেখ হাসিনার ঘুম হারাম হয়ে যায়। তারেক রহমান যখন দেশে ফিরবেন তখন শেখ হাসিনা লন্ডনে থাকবে কিনা অন্য দেশে থাকবেন আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, ২৫ শে মার্চ কালো অন্ধকারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা যখন বাংলাদেশের মানুষের উপর বর্বর হামলা করে তখন জিয়াউর রহমান তাদের বর্বরতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ মেজর। তার অধিনায়ক ছিলেন আবদুর রশিদ জানজুয়া। সে অধিনায়কসহ পাকিস্তানের কিছু জওয়ানকে জিম্মি করে বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি ষোলশহরে সেদিনই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি শুধু যুদ্ধের আহ্বান করেননি, পাকিস্তানি বাহিনীদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করার জন্য যুদ্ধে স্বাধীন হওয়ার ডাকও দিয়েছিলেন।

উপজেলা নির্বাচনে টাকা দিয়েও আওয়ামী লীগ ভোটকেন্দ্রে মানুষ নিয়ে যেতে পারছে না দাবি করে তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে ৭ শতাংশ মানুষও ভোট দিতে যায়নি। মানুষের ভোট চুরি করে ৪২ শতাংশ ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। আজ উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। টাকা দিয়েও সেখানে মানুষ নিয়ে যেতে পারছে না। ভোটকেন্দ্রগুলোও শূন্য। বিএনপির ইশারায় যদি মানুষ ভোট দিতে না যায়, তাহলে শেখ হাসিনা ভেবে দেখেন আমাদের আরেক ইশারায় আপনার কি হবে? ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কখনও ক্ষমতায় ঠিকে থাকা যাবে না।

দেশে আরেকটা ১৯৭৪ সালের মতো দুর্ভিক্ষ হতে যাচ্ছে দাবি করে গয়েশ্বর রায় বলেন, করুণ অবস্থায় আজ দেশের অর্থনীতি। কোন যুবক আজ দেশে থাকতে চায় না। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের চেয়েও বড় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। হয়তো অনেকে বুঝতে পারছে না। রিজার্ভ আছে এখন মাত্র সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলার। অথচ আমাদের প্রয়োজন ৩৫ বিলিয়ন ডলার। ব্যাংকিং খাতের কি অবস্থা সেটা তো দেশের মানুষ দেখছেই। দুইদিন পর ব্যাংকের লকারেও কোনো টাকা থাকবে না। যদি দেশের এ অবস্থা চলে তাহলে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষকেও হার মানাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, চট্টগ্রাম ও জিয়াউর রহমান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তিনি চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, আবার চট্টগ্রামের মাটিতে শাহাদাত বরণ করেছেন। আজকে ইতিহাস থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এটা কোনোদিন সম্ভব হবে না। কারণ শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া আর সবাই জিরো। জিয়া পরিবারের নেতৃত্বেই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাবো।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে জাতি যখন নেতৃত্বশূন্য দিশেহারা তখনই জিয়াউর রহমান উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন। এমনি এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে তিনি পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে "উই রিভোল্ট" বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলেন। তার মেধা ও সামর্থ্যের কারণে তিনি দুইটা সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেছেন। বীর উত্তম জিয়াউর রহমান ছিলেন জেড ফোর্সের অধিনায়ক। তাই শহীদ জিয়াকে বাদ দিয়ে এদেশে কোন ইতিহাস রচিত হতে পারে না। জিয়া আছেন কোটি কোটি মানুষের অন্তরে।

এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, উত্তর জেলা বিএনপির সি. যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এড. আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, উত্তর জেলার নুরুল আমিন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এরশাদ উল্লাহ, জয়নাল আবেদীন জিয়া, হারুন জামান, মাহবুব আলম, নিয়াজ মো. খান, এস এম আবুল ফয়েজ, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আবুল হাশেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান প্রমুখ।

;

ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় অসংখ্য বেনজীর-আজিজ সৃষ্টি হয়েছে: ফখরুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় অসংখ্য বেনজীর আজিজ সৃষ্টি হয়েছে। এর দায় সরকার কোনোভাবে এড়াতে পারে না।

বুধবার (২৯ মে) বিকেলে ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) কোন অবস্থায় বাংলাদেশকে নিয়ে এসেছে, যে সাবেক পুলিশ প্রধানের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির চিত্র পত্রপত্রিকায় বেড়িয়ে আসছে। তাকে আপনি (শেখ হাসিনা) লালন করেছেন। একইভাবে সাবেক সেনাপ্রধানকে স্যাংশন দেওয়া হয়েছে একটা মাত্র কারণে। সে লুট করেছে, চুরি করেছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর দায় কি শুধু তাদের না এই সরকারেরও।

ক্ষমতাসীনদের প্রতি প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, বেনজীর আর আজিজ কেনো ভুক্তভোগী হবে? আপনারা ভুক্তভোগী হবেন না? একজন বেনজীর নয়, একজন আজিজ নয় অসংখ্য বেনজীর-আজিজ আপনারা তৈরি করেছেন। তারা সব লুট করে খাচ্ছে। তাদের একটাই কাজ লুট করা।

এমপি আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, তথাকথিত বিনা ভোটে ডামি নির্বাচনে ইলেক্টেড এমপি আমি তার নাম বলতে চাই না। আমার যে বাজারে মাংস কিনতে যাই। যেভাবে টুকরা টুকরা করে মাংস দেয়। সেভাবে তাকে টুকরা টুকরা করে কমোডে ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হয়েছে। কি অবস্থা চিন্তা করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সিডরের চাইতেও বড় আক্রমণ আমাদের ওপর আসছে। এই দেশটা রাহুর গ্রাসে গিলে খাচ্ছে। দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। আজকে এই অগণতান্ত্রিক সরকারের কোন কারসাজিই আর কোনো কাজে আসছে না।

আলোচনা সভায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও আলোচনা সভায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

;

'অপকর্মের অভিযোগে' প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার অব্যাহতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আগে 'অপকর্মের' খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (২৯ মে) সন্ধায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

যাদেরকে বেনজীর আহমেদের মতো সুশীল মনে করি ভালো মনে করি তাদের ব্যাপারে সরকার নিজ উদ্যোগে কোন খোঁজ খবর নেবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, "আজকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চুক্তি বাতিল হয়েছে। সে বিষয়ে আপনারা সাংবাদিকরা কি রিপোর্ট করেছেন? সেটা এখন পাচ্ছেন।"

তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ আছে কি না আমি জানিনা। নিশ্চয় তাদের কর্তব্যে কোন প্রকার বিচ্যুতি ঘটেছে। সেটা কি রকম আমি তো জানিনা।"

বেনজির ও আজিজ আহমেদের দরকার শেষ সরকারের। তাই তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে, বিএনপি্র এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আপনার প্রশ্নটা সঠিক হয়নি, তারা বলছে বেনজির, আজিজ আহমেদরা আওয়ামী লীগের সৃষ্টি। আমি জানতে চাই, আশরাফুল হুদা, রকিবুল হুদা, কহিনুর এরা কাদের সৃষ্টি। আমি জানতে চাই, দুর্নীতি লুটপাটের বহর হাওয়া ভবন এটা কার সৃষ্টি? এই প্রশ্নের জবাব চাই।

"প্রশ্ন করেছে, আমিও পালটা প্রশ্ন করছি, রকিবুল হুদা সাবেক আইজিপি ছিলো, চট্টগ্রামে ২৪ জানুয়ারি আমাদের নেত্রীর সভায় তাকে টার্গেট করে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিলো, হামলা করা হয়েছিলো। আশরাফুল হুদার দুর্নীতি সবাই জানেন। আশরাফুল হুদা তারা সৃষ্টি করেছেন, তারা কি বিচার করেছেন? বেনজীর আওয়ামী লীগ আমলে আমাদের আইজিপি ছিলেন।"

তিনি বলেন, "এখন তার ব্যাপারটা...এখন এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমরা তো একটা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করতে পারি না। ব্যাপারটা যখন প্রকাশ্যে এসেছে তখন দুদক তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে নিশ্চয়ই মামলা করবে। যে যতটা অপরাধ, অপকর্ম করেছে ততটা শাস্তি পেতে হবে।

"বিএনপির আমলে তাদের কোন নেতা, সরকারি কোন কর্মকর্তা, পুলিশের সাবেক কোন কর্মকর্তা তাদের কেউ কি.... ইম্পিউনিটি কালচার গড়ে তুলেছিলো তাদের কি কারো বিচার হয়েছিলো? শেখ হাসিনার সৎ সাহস আছে, সে কারণে তিনি আজকে দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। যখনই যেটা প্রকাশ পাচ্ছে... সেই করোনার সময় ফেইক হসপিটাল করে যারা অপকর্ম করেছে তাদের কিন্তু আমাদের নেত্রী ক্ষমা করেননি। আজকেও অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি পেতেই হবে এখানে কোন ছাড় নেই।" 

আওয়ামী লীগের কোন দায় আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি বেনজিরের কথা বলি, বেনজিরের যে ক্যারিয়ার, তার যে পারসোনালিটি, তাকে তো বাইরে থেকে আপনারা কেউ ভাবেননি এখন যা শোনা যাচ্ছে। এটা তো আপনারা ভাবেননি, কেউই ভাবেনি। আজিজ আহমদ অত্যন্ত বিচক্ষণ অফিসার। খুব পড়াশোনা জানা অফিসার। তার কিছু ডিগ্রি আছে যেটা অন্য সেনা প্রধানদেরও নাকি নেই। এখন আসলে যোগ্যতার জন্যই সেনাপ্রধান করা হয়েছে। এখন সে যদি দুর্নীতি করে, সেটাও তদন্ত হবে। দুর্নীতির তথ্য পেলে তারও তদন্ত হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, আমি এটুকু বলতে পারি।"

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

;

ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

উপজেলা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (২৯ মে) বিকেলে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচন অবাধ করতে নির্বাচন কমিশন তৎপর ছিলো। নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন সবাইকে আমি মোটামুটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, তৃতীয় ধাপে ১০৯টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ঝড়ের কারণে ২২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ৮৭টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ৩৫ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পড়েছে। গতবার প্রাথমিকভাবে ৩০ শতাংশ ভোটের কথা জানালেও পরে ৩৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। 

উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রাণহানির কোন খবর নেই, এই ধরনের সংবাদ এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। কক্সবাজারে একটি ভোট কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে, হবিগঞ্জে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে একজন গ্রেফতার করা হয়েছে। জাল ভোট প্রদানে সহায়তা করায় নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এজেন্টকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

;