‘সবার জন্য নির্বাচনের পথ খোলা ছিল, তারা আসেনি- অগ্নিসন্ত্রাস করছে’



রুহুল আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের বাকি আর এক মাস। নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি সহ সমমনা দলগুলো। মহাজোটের সঙ্গে আসন নিয়ে চলছে লুকোচুরি, মান-অভিমানের খেলা। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে রয়েছে দেশি-বিদেশি চাপ। সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চোখ রাঙানি।

আর এইসব নিয়ে বার্তা২৪.কম এর সাথে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বার্তা২৪.কম এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রুহুল আমিন।

বার্তা২৪.কম: ভূ-রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এখন খুবই সংবেদনশীল অবস্থানে। ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, চীনসহ অনেক দেশের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনে। তাছাড়াও নির্বাচনের পরে আমেরিকা থেকে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে এমন গুঞ্জন রয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ কি ভাবছে?

বাহাউদ্দীন নাছিম: এখন কেউ ইচ্ছে করলেই আমাদেরকে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলতে পারবে না। ওই জায়গায় নেই। কারণ এটা শুধু আমাদের একার ইচ্ছের ওপর নয় তাদেরও ব্যাপার আছে, তাদেরও প্রয়োজন আছে। তাদের প্রয়োজন, আমাদের প্রয়োজন সব মিলিয়েই তো বিশ্ব। তবে হ্যাঁ, কেউ একটু বেশি শক্তিশালী, কেউ একটু কম শক্তিশালী। কিন্তু তারপরও সম্পর্কটা পারস্পরিক ও বহুপাক্ষিক। আমাদের অর্থনীতি যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে কেউ চাইলেই ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারবে না। তাহলে তো স্যাংশন দিয়ে তারা আগেই আমাদেরকে শেষ করে দিত।

নেগেটিভ চিন্তায় সমৃদ্ধ একটি অংশ সব সময় খারাপ কিছুই দেখে। ভালো কিছুর স্বপ্ন যারা দেখতে পারে না তারা এ ধরনের কথা বলে ও ছড়িয়ে বেড়ায়। এটাও কিন্তু এক ধরনের তথ্য সন্ত্রাস। এরা ভালো করেই জানে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন পর্যায়ে আছে; আমরা একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছি। আমরা কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এরকম অপপ্রচারও হয়েছিলো, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা বাহিনীকে আর নেয়া হবে না। চাইলেই কি সম্ভব? আমাদের সৈনিকরা পেশাগত দক্ষতা ও সাহসিকতা দিয়ে এক নম্বরে পৌঁছেছে।

বার্তা২৪.কম: সম্প্রতি উগান্ডা ও জিম্বাবুয়ের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে স্যাংশান ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বাংলাদেশেও কি এরকম কিছু হবার সম্ভাবনা আছে?

বাহাউদ্দীন নাছিম: সেখানে কোন দিয়েছে, কি কারণে দিয়েছে? সেটার ব্যাখ্যা কিন্তু দিতে হবে। সেখানে তারা বিজয়ী হতে পারে বা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে- এমন দলগুলোকে নির্বাচন করতে না দিতে আইন করেছে। তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে তো এটা করা হয়নি। বাংলাদেশে তাদের নির্বাচন করার সমস্ত ধরনের সুযোগ দেওয়া আছে। এই অধিকার তাদের দেওয়া হয়েছে। তারা আসে নাই। উল্টো হামলা ও অগ্নিসন্ত্রাস করছে। তাহলে বাংলাদেশ আর কম্বোডিয়ার ঘটনা কি এক ঘটনা? এই সত্য জিনিসটা বাংলাদেশের মানুষদের সামনে তুলে ধরতে হবে।

বার্তা২৪.কম: বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলোকে নির্বাচনে নিয়ে আসার জন্য আওয়ামী লীগের কি কোন উদ্যোগ ছিলো?

বাহাউদ্দীন নাছিম: আমরা নির্বাচনে যাব, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব, জনগণের কাছে এই ঘোষণা দিয়েই তো সবাইকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়েছি। বাংলাদেশে যে সমস্ত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে তাদের সবার সপ্রণোদিত হয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে, জনগণের ম্যান্ডেড পাওয়ার জন্য। তারা জনগণের ম্যান্ডেড পাওয়ার চেষ্টা না করে সরকারকে উৎখাত করে নির্বাচনে আসতে চায়। এটা কি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত? সাংবিধানিক নিয়মের বাইরে যা ইচ্ছা তাই বললে সেটা কেন দেশের মানুষ মেনে নেবে?

তারা নির্বাচনে আসবে বলে না গো ধরেছে। এখন তাদের তো হাতে পায়ে ধরে নির্বাচনে আনা যাবে না। অথবা লাঠিপেটা করে, পুলিশ পাঠিয়ে ধরে এনে জোর করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানো যাবে না। এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। এখানে কি বলা হয়েছে নির্বাচনী দাঁড়ালে তাদের মনোনয়ন বাতিল করে দেওয়া হবে? অথবা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গেলে তাদেরকে গ্রেফতার করে বন্দিশালয় পাঠানো হবে? এ ধরনের কোনো কর্ম হয়েছে?

বার্তা২৪.কম: এখনো কি বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ আছে?

বাহাউদ্দীন নাছিম: কিভাবে? ট্রেন তো এখন কক্সবাজারের আধুনিক স্টেশনে পৌঁছে যাবার পথে।

বার্তা২৪.কম: প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র বা ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তৃণমূলে বিভক্তি সৃষ্টি করছে বলে বলছেন কেউ কেউ। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে, মারামারিও হচ্ছে কোথাও কোথাও। দীর্ঘ বিভক্তি যেন সৃষ্টি না হয় এ নিয়ে আওয়ামী লীগ কি পদক্ষেপ নেবে?

বাহাউদ্দীন নাছিম: আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করতে চাই। আমরা নির্বাচনে উৎসবের আমেজ তৈরি হোক- এটা চাই। ইতিমধ্যেই কিন্তু নির্বাচনের উৎসবমুখর আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাঁড়াবার সুযোগ সাংবিধানিক ভাবেই আছে। কোন জায়গায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছে। এমন অতীতেও দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই জনগণের ভোটে, জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচিত হউক। তাতে করে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কাউকে মনোনয়ন থেকে বা নির্বাচন থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া কোন উদ্যোগ আমরা নিচ্ছি না। জনপ্রিয়তা যাদের বেশি তারা নির্বাচিত হবে, এখানে দোষের কিছু নেই।

বার্তা২৪.কম: নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নৌকা ও স্বতন্ত্রের পক্ষে ভাগ হয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা। সে ক্ষেত্রে কর্মীরা কার সাথে থাকবে? নৌকা নাকি স্বতন্ত্রের পক্ষে?

বাহাউদ্দীন নাছিম: তারা তাদের পছন্দের দিকে মুভ করবে। এটা নিয়ে যেহেতু দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এটার মানে কি? তার অর্থটা কি? এটা কিন্তু আমাদের নেতা কর্মীরা বুঝবে, বুঝে গিয়েছে। আপনাদেরকেও কিন্তু বুঝতে হবে।

বার্তা২৪.কম: সিনিয়র নেতাদের অনেকেই বলছেন, নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হবে যারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আপনি বলছেন আমরা কোন ব্যবস্থা নেব না এই যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, এ নিয়ে কি বলবেন?

বাহাউদ্দীন নাছিম: আমাদের মাঝে কোন বিভ্রান্তি নেই। কেউ যদি বলে থাকেন তাহলে- এটা তাকেই জিজ্ঞেস করবেন। আমাদের মূল স্পিরিট হলো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক। নির্বাচনের প্রায় তিন হাজারের মতো প্রার্থী প্রতিযোগিতায় আছে, তারা যদি নির্বাচন অংশগ্রহণ করে এটা ভালো না খারাপ? বেশি প্রার্থী যদি নির্বাচন অংশগ্রহণ করে যারা জনপ্রিয় তারা বিজয়ী হবে। অনেকে বেশি ভোট পাবে, অনেক কম পাবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক কিন্তু দলের স্পিরিট সম্পের্কে লেছেন। সেটা পরিষ্কার। তা হলো ১৪ দলের যারা দাঁড়িয়েছে তাদেরকেও কিন্তু এই বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারা যেন কেউ উইথড্র না করে।

বার্তা২৪.কম: ১৪ দলের শরিকদের আসন বণ্টনের দায়িত্ব আপনাদের দেয়া হয়েছে, বিষয়টা নিয়ে কতটুকু অগ্রসর হলেন?

বাহাউদ্দীন নাছিম: আমাদের আলোচনা চলছে। তাড়াতাড়ি শেষ হবে। আগে বলেছিলাম ১৬-১৭ তারিখের মধ্যে শেষ হবে। আমার মনে হয় তার আগেই শেষ হবে।

বার্তা২৪.কম:  শরিক দলগুলো আরও বেশি আসন চায়, সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কি শরিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন বণ্টন করবে?

বাহাউদ্দীন নাছিম: ব্যাপারটা এভাবে বলা ঠিক হবে না। এটা শুধুমাত্র প্রাপ্তি ও চাওয়া-পাওয়ার বিষয়। নির্বাচনে উইনেবল প্রার্থীকে গুরুত্ব দেয়া হয়। আমরা ১৪ দলকে বলেছি, উইনেবল প্রার্থীকে অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া হবে।

বার্তা২৪.কম: গত তিন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন আপনাদের শরিক দল ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এবার আপনাকে আসনটি থেকে প্রথমবারের মত নৌকা দেয়া হয়েছে। শরিকরা কতটুকু সহযোগিতা করছে নির্বাচনী মাঠে?

বাহাউদ্দীন নাছিম: এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান নেতা মেনন (ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন) ভাইয়ের সাথে আমার আজকেও আলাপ হয়েছে। আমাদের সাথে শরিকদের ব্যক্তিগতভাবে ও দলগতভাবেও ভালো সম্পর্ক আছে। সবকিছুই সুন্দরভাবে সমাপ্ত হবে। এটা নিয়ে নতুন কোন ভাবনা, আশঙ্কা নাই।

বার্তা২৪.কম: ঢাকা-৮ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। জয়ী হলে এলাকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কি পদক্ষেপ নেবেন?

বাহাউদ্দীন নাছিম: আমি দলীয় কাজ করার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সাথেও বসতেছি। তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে, মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস আছে। আওয়ামী লীগের যারা মাঠের কর্মী, তৃণমূলের কর্মী তারা খুবই আনন্দিত ও খুশি। আমি নিজেকে যোগ্য লোক আমি মনে করি না। তবে বুঝতে পারছি এখানে বিজয়ী হতে খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। আরও একটা বিষয় আমার মনে হচ্ছে, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসবে। দল মত নির্বিশেষে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আমাকে ভোট দেবে।

   

গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, সাকি আহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংক লোপাট ও অর্থ পাচারের প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিলে দুই দফা লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা জোনায়েদ সাকিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা-কর্মীরা সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে জিরো পয়েন্ট মোড়ে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় মঞ্চের নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভাঙতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এসময় নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চের নেতাকর্মীদেরকে পুলিশ বাধা দিতে চাইলে তার পলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় পুলিশ প্রথম দফা লাঠি চার্জ করে। এতে মঞ্চের অন্যতম নেতা জোনায়েদ সাকিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। এসময় মঞ্চের নেতাকর্মীরাও পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরে মঞ্চের নেতাকর্মীরা তাদের সেখান থেকে উঠয়ে নিয়ে যেতে চাইলে তাদের ওপর আবার লাঠিচার্জ করে পুলিশ সদস্যরা।

ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি শাহ্ আলম মোহাম্মদ আক্তারুল ইসলাম বলেন, ওনারা অনুমতি ছাড়াই এখানে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসেছেন। আমরা তাদেরকে বারবার বলেছি যে তাদের এখানে অনুমতি নেই। কিন্তু ওনারা আমাদের কথা শুনেননি। ওনারা আমাদেরকে কথা দিয়েছিলেন যে সচিবালয়ের সামনে এসে শান্তিপূর্ণ মিছিল করে চলে যাবেন। কিন্তু আমাদের দেওয়া ব্যারিকেড অতিক্রম করে সচিবালায় ঢোকার চেষ্টা করেছেন। আমরা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও ওনারা ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে ঢুকতে চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, যারা ব্যারিকেডে ধাক্কাধাক্কি করছিলো তাদের দেখেই মনে হচ্ছিল এরা ব্যারিকেড ভাঙার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আমাদের মনে হয়েছে ওনারা এই ব্যারিকেড ভাঙার জন্য লোক ভাড়া করে নিয়ে এসেছে।

কতজন আটক হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা লাঠি হাতে নিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে আমরা তাদের মধ্য থেকে দু-একজনকে আটক করেছি। তবে কতজন এখন পর্যন্ত আটক হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এসময় পুলিশের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম কিন্তু পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে। আমাদের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদেরকে হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে অনেক মেরেছে পুলিশ।

মিছিলের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, একটা মহল এই সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে আছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাটের জন্য। এই লুটের টাকা সবাই ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে।

জনগণকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে সাকি বলেন, মাঠে না নামলে এই সরকারকে হঠানো যাবে না। বিদেশিদের ওপর ভরসা করবেন না, তারা শুধু সুবিধা নেয়। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই সরকারকে বিদায় করে আমাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার যতই হাবভাব দেখাক না কেন, রোজায় দাম কমাতে পারবে না। বাংলাদেশ এখন যেভাবে চলে এর থেকে খারাপভাবে একটা দেশ চলতে পারে না।

;

এরিক এরশাদ ও বিদিশার ওপর হামলার অভিযোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ ও তার মা বিদিশার ওপর হামলা-শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর 'পল্লী নিবাস' বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ছেলে এরিক এরশাদ।

রংপুরে ট্রাস্টভুক্ত প্রতিষ্ঠান পল্লীবন্ধু কোল্ড স্টোরেজে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন এরিক এরশাদ বলেন, আমার বাবা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুর আগে আমার ভরণ-পোষণের জন্য বেশকিছু সম্পদ ট্রাস্টের নামে করে যান। সেই সম্পদগুলো ভোগ করবো আমি। এর মধ্যে রংপুরের মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জের পল্লীবন্ধু কোল্ড স্টোরেজও রয়েছে। তবে এই হিমাগারের ৩০ ভাগ শেয়ার দেওয়া হয় বাবার চাচাতো ভাই সামছুজ্জামান মুকুলের নামে।

তিনি অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যুর পর ট্রাস্টের আওতাধীন হিমাগারটি পরিচালিত হলেও আমি এর লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। ট্রাস্টের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও জবরদখলের মাধ্যমে পল্লীবন্ধু হিমাগারটি কুক্ষিগত করে রেখেছেন বাবার চাচাতো ভাই মুকুল ও স্থানীয় প্রভাবশালী বারী মুন্সি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে আমি ও মা বিদিশা ঢাকা থেকে রংপুর নগরীর পল্লীনিবাসে আসি। বাবার কবর জিয়ারত শেষে পল্লীবন্ধু কোল্ড স্টোরেজে যাই। সেখানে বারী মুন্সি, মুকুল ও তার ছেলেসহ অপরিচিত লোকজন আমাকে এবং মাকে (বিদিশা এরশাদ) ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ করে হিমাগার থেকে বের করে দেয়। এক পর্যায়ে তারা মারমুখী হলে পুলিশে খবর দেই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করলে আমরা পল্লী নিবাসে ফিরে আসি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে আমি ন্যায্য বিচার চাই।

সংবাদ সম্মেলনে বিদিশা এরশাদ বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের যে কমিটি ছিল, তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও তারা এরিকের সম্পত্তি হ্যান্ডওভার করছে না। এরিক একজন প্রেসিডেন্টের সন্তান। তার বাবা বেঁচে থাকাকালীন সে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছে। বর্তমানে ট্রাস্টের সম্পত্তির টাকা না পাওয়ায় সে আর্থিক সংকটে ভুগছে। তার স্বাভাবিক জীবনযাপন নেই। আজ হিমাগারে গেলে ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ করাসহ আমার শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর ন্যায্য বিচার চাই।

তিনি বলেন, এরিকের চাচা (জিএম কাদের) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, বিরোধীদলীয় নেতা হলেও কেউ এরিকের খোঁজ-খবর রাখেনি। আমাদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার হচ্ছে, দলের কোনো নেতা একবার ফোন করেও খবর নেয়নি। তাই, এরিক বিষয়টি জাপা চেয়ারম্যানকে জানায়নি।

এদিকে, মিঠাপুকুর থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এরিক এরশাদ থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। হিমাগার যারা পরিচালনা করছেন, তাদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেন মোস্তাফিজুর ও জিন্নাহ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এমপি ও শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপিকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাপার চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জি এম কাদের তাদের মনোনীত করেন।

জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের এমপি পার্টির গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই আদেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে এই মনোনয়ন কার্যকর করা হয়েছে।

একেএম মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে এবং শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

;

বাজার সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক সরকারের মন্ত্রীরা: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

'বাজার সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে ডামি সরকারের ডামি মন্ত্রীরা' বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিএনপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। আওয়ামী লুটেরা চক্রের কারণে ডামি সরকার সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ডামি প্রধানমন্ত্রী নির্লজ্জভাবে বিএনপির ওপর দায়ভার চাপিয়ে দেওয়ার পর নেত্রীর অনুসরণে ওবায়দুল কাদের এবং হাছান মাহমুদ একই সুরে গান গাইছেন। সরকারের কাজ অভিযোগ তোলা নয়, বাজার সিন্ডিকেট করে যারা জনজীবন দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস সমাগত। সিয়াম সাধনার এই মাসে দেশের জনগণ একটু স্বস্তি চায় কিন্তু প্রতিদিন রকেট গতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর রমজানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কতিপয় চিহ্নিত অসাধু আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নানা ছুতায় ভোক্তার পকেট কেটে ফতুর করে দিচ্ছে। মানুষ এখন সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, 'সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তার বাসভবনে এক মতবিনিময় সভায় বলেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বিএনপি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তারাই ষড়যন্ত্র করে বিডিআর বিদ্রোহ ঘটিয়েছিল'। কিন্তু সেদিন পিলখানায় কী ঘটেছিল, কারা ঘটিয়েছিল, কেন ঘটেছিল, ঘটনার নেপথ্যের নায়ক কারা, কারা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, সবকিছু হাছান মাহমুদ স্বীকার না করলেও দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমে সত্য ঘটনা সোমবারও প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, সোমবারও পিলখানার সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা নিয়ে বিডিআররের সাবেক ডিজি লে. জে. (অব.) মইনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তা দেখে কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে! সাবেক ডিজি পরিষ্কার বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা বিদ্রোহীদের সঙ্গে জড়িত ছিল ও বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার সময় বাইরে তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে।

;