জাতীয় পার্টির কদর কি কমেছে!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের কাছে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ নির্বাচনের সঙ্গী জাতীয় পার্টির কদর কি কমে গেছে। বিশ্বস্ত সঙ্গী রওশন এরশাদও নাকি আর তেমন সাড়া পাচ্ছেন না সরকারের পক্ষ থেকে।

টানা কয়েকদিনের ঘটনা প্রবাহে নিয়ে এমন আলোচনাই কানাঘুষা হচ্ছে জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে। তারা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় চেয়ে আসলেও সিডিউল পাচ্ছেন না রওশন এরশাদ। সাক্ষাৎ ইস্যুর পাশাপাশি আসন সমঝোতা নিয়েও নাকি সরকারের দিক থেকে খুব একটা আগ্রহ দৃশ্যমান নয়। এ কারণে নির্বাচন প্রশ্নে আগের অবস্থান থেকে অনেকেই সরতে শুরু করেছেন। তারা ধারণা করছেন, বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে আসাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে।

সিনিয়র নেতারা অনেকেই আসন নিশ্চিত না হয়ে নির্বাচনে যাওয়ার কোন অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না। নির্বাচন থেকে সরে যেতে চাপ বাড়ছে জিএম কাদেরের ওপর। ২০১৪ সালের মতো হঠাৎ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে অনেকেই মনে করছেন।

টানা দুই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে থাকা রওশন এরশাদ সরকারের সব ইস্যুতেই সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে গেছেন। এমনকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির সিদ্ধান্তের বাইরে হেঁটেছেন রওশন। পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের বিপক্ষে ছিলেন তখনও রওশন ছিলেন বিপরীত দিকে। সে কারণে তার প্রত্যাশার পারদও অনেকটা চড়া।

রওশন শিবিরের ধারণা ছিল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো রওশনের হাতেই থাকবেমূল চাবিকাঠি। ওই দুই নির্বাচনে রওশন এরশাদের আর্শীবাদপুষ্টরা এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমপি হতে গেলে এবারও রওশনের আর্শীবাদ জরুরি। যে কারণে জিএম কাদেরের সঙ্গে থাকা অনেক সিনিয়র নেতাও গোপনে রওশনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

রওশন অনুসারীদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, পার্টির নেতৃত্ব প্রশ্নে চেয়ারম্যান জিএম কাদের কঠোর কোন পদক্ষেপ নিতে গেলেও সুবিধা করতে পারবে না। যার উদারহণ দেখা গেছে বিরোধীদলীয় নেতার ইস্যু প্রসঙ্গে। যে কারণে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে নির্ভার থেকেছেন রওশনের অনুসারীরা। কিন্তু রওশন এরশাদের অনুসারীদের মনোনয়ন থেকে দূরে রাখায় হতাশা ভর করতে শুরু করেছে।

তারা কয়েকদিন ধরেই দৌড় ঝাঁপ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের চেষ্টার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে কথা চালিয়ে যাচ্ছেন, কোথাও থেকে খুব একটা সাড়া মিলছে না। তাদের ভাবনা ছিল, জিএম কাদের হার্ডলাইনে গেলে তারা পৃথক পার্টি ঘোষণা দেবেন। তাদের পৃথক পার্টি গঠনের মনোবাসনাও এখন মাঠে মারা যেতে শুরু করেছে। তবে এখনও হাল ছাড়তে নারাজ। আশায় আছেন মিরাকল কিছু ঘটবে, জাতীয় পার্টি রওশনের নেতৃত্বে নির্বাচনে যাবে। আর রওশন মনোনীত প্রার্থীরা সরকারের গ্রিন সিগন্যালে এমপি নির্বাচিত হবেন। যদিও তাদের কাউকেই মনোনয়ন দেয়নি জাতীয় পার্টি।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙা এমপি মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বলেছেন, জাতীয় পার্টিতে মিরাকল কিছু ঘটতে পারে। অন্যদিকে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ্ বলেছেন, ম্যাডাম (রওশন এরশাদ) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তার সঙ্গে কথা বলে তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজন হলে নির্বাচনের বাইরে থাকার কথা ভাবছেন রওশন এরশাদ।

শুধু রওশন শিবির নয় জিএম কাদের শিবিরেও হতাশা বাড়ছে বলে জানা গেছে। তফসিল ঘোষণার আগে নানাভাবে নির্বাচনে যেতে চাপ ছিল তাদের ওপর। কথিত রয়েছে জিএম কাদেরের পক্ষ থেকে ৬০টি আসন চাওয়া হয়, আর আওয়ামী লীগ ৪০টি আসন দিতে সম্মত হয়। হঠাৎ করেই সেই আলোচনাতেও ভাটার টান দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ২৯৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন। সিনিয়র নেতারা অনেকেই ভেবেছিলেন, ২০১৪ কিংবা ২০১৮ সালের মতো আওয়ামী লীগ তাদের আসন ছেড়ে দেবে। আর বিএনপিহীন ফাঁকা মাঠে সহজেই বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবেন। এখন তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সঙ্গে লড়তে ভয় পাচ্ছেন।

সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কো-চেয়ারম্যান, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপিসহ অনেকেই নেতাই এখন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সূর ধরেছেন। তারা কেউ কেউ চেয়ারম্যানকে বলছেন পাতানো নির্বাচন হবে এখানে যাওয়ার কোন মানে হয় না। আমাদের প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে টিকতে পারবে না।

সূত্র জানিয়েছে, আসন সমঝোতা প্রশ্নে জিএম কাদেরের ৬০টি আসনের প্রস্তাবের পাশাপাশি রওশনও পৃথক প্রস্তাবনা দিয়ে রেখেছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সম্ভাব্য ৩৫ সংসদ সদস্যের তালিকা জমা দেন রওশন এরশাদ। তবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নাকি সম্মিলিত তালিকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আসন সমঝোতার গুঞ্জন প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু গত সপ্তাহে বলেছিলেন, বিষয়টি পুরোপুরি সত্য না, আবার মিথ্যাও না।

রওশন এরশাদ এমপির ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনসহ ১১ আসন শূন্য রেখে ২৭ নভেম্ববর জাতীয় পার্টির প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ছেলে সাদ এরশাদ এমপির রংপুর-৩ আসনে জিএম কাদের মনোনয়ন নেওয়ায় বেজায় চটেছেন রওশন এরশাদ।

দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি সরকারের ওপর জাতীয় পার্টির নেতাদের প্রবল আস্থার সংকট রয়েছে। জাতীয় পার্টি মনে করে ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কোন প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করেনি আওয়ামী লীগ। নানাভাবে তাদের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। উপনির্বাচন, উপজেলা পরিষদ থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত কোথাও ছাড় দেওয়া হয়নি। অনেক সময় জোর করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে জাপার প্রার্থীদের। সে কারণে এবারের প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করবে সে সম্পর্কে তাদের মনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যে কারণে জাতীয় পার্টি আগে ভাগেই নিশ্চিত হয়ে তারপর সিদ্ধান্ত দিতে চায়। তারা এমন কোন মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চান যাতে, আওয়ামী লীগ আর প্রতিশ্রুতি ভাঙতে না পারে। অন্যদিকে জিএম কাদেরকেও সরকার পুরোপুরি আস্থায় নিতে পারছে না বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

   

জাপার প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথসভা ৬ মার্চ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথসভার তারিখ পরিবর্তন করে ৬ মার্চ করা হয়েছে। অনিবার্য কারণবশত ২ মার্চের পরিবর্তে ৬ মার্চ সকাল ১০ টায় বনানী চেয়ারম্যান কার্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে পার্টির দপ্তর সুত্র জানিয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের এমপি।

পরিবর্তিত তারিখে সভায় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান, কো-চেয়ারম্যান, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পার্টির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি।

;

আ.লীগ বিদেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতি করে: মঈন খান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপি কোনো বিদেশি শক্তি নিয়ে রাজনীতি করে না। আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করি, বিদেশকে নিয়ে রাজনীতি করি না। এটা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার করে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৎস্যজীবী দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা ও ফাতিহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমান ঐক্যের রাজনীতি করেছেন, বিভাজনের রাজনীতি করেননি। যেটা আজকে আওয়ামী লীগ করছে। আওয়ামী লীগ দেশের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষের বলে বিভেদ তৈরি করে আজীবন ক্ষমতায় থেকে শাসন করতে চায়। তারা ক্ষমতার লোভে বিভাজনের মাধ্যমে এই জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে লুটেরা-চোর সৃষ্টি করেছে। যারা দেশের সম্পদ কুক্ষিগত করে টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এ অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জেড রিয়াজ উদ্দিন নসু, মৎসজীবী দলের সদস্য সচিব মো. আবদুর রহিম, কেন্দ্রীয় নেতা ওমর ফারুক পাটোয়ারী, অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া প্রমুখ।

;

সরকার একের পর এক ড্রাকোনিয়ান আইন তৈরি করছে: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারের দুঃশাসন, লুটপাট ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ যাতে কোনো কথা বলতে না পারে সেজন্যই একের পর এক ‘ড্রাকোনিয়ান আইন’ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, নাগরিকদের ওপর নজরদারি আরও তীব্র হবে, এটি সমগ্র জাতিকে পর্যবেক্ষণে রাখার এক নতুন কালো আইন প্রণয়নের আলামত।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ডামি সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে বলেছেন ‘মিথ্যা তথ্য ও মিথ্যা খবর দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বন্ধে সংসদে আইন আনা হবে’। অলরেডি একটি আইন আছে, যেটা হচ্ছে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট। আরও কিছু আইন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সংসদে আসবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ছিটেফোঁটাও নেই। সরকারি সংস্থাগুলোকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য নানাভাবে কাজে লাগিয়ে তাদের মিথ্যা জয়গান প্রচার করেও শান্তি পাচ্ছে না তারা। তারপরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশি ও বিদেশি কিছু মিডিয়ায় তাদের অনেক অপকর্ম প্রকাশিত হয়। সেটিও যাতে প্রকাশ হতে না পারে সেজন্য কিছুদিন আগে সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

আগামী ১ মার্চ থেকে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি সর্বনিম্ন ৩৪ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা বৃদ্ধি কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই হিসেবে বিদ্যুতের দাম গড়ে ইউনিট প্রতি ৫২ পয়সা করে বাড়বে। শতকরা হিসাবে তা ছয় শতাংশের মতো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম আড়াই শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. মো. আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদসহ অন্যান্যরা।

;

বরিশাল আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে ঝুলছে তালা, থমকে গেছে কার্যক্রম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা নেই। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে চুপসে গেছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

সন্ধ্যার পর দলীয় কার্যালয়ে থাকে সুনসান নীরবতা। অফিস কেয়ারটেকার দুই বেলা অফিস খুললেও বড় কোনা কর্মসূচি ছাড়া সিনিয়র নেতাদের দেখা মেলে না আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। দলের একাংশের যাবতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ব্যক্তির বাসায়। অন্যদিকে দলের অপর এক পক্ষের যে কোনো রাজনৈতিক আয়োজন হয় সিটি এবং সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত সার্কিট হাউস চত্বরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে।

গত বছরের ১২ জুনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেও জমজমাট ছিল বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়। প্রতিদিন দুই বেলা দলীয় নেতা-কর্মীদের পদভারে মুখরিত থাকত কার্যালয়টি। কিন্তু সিটি নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহকে মনোনয়ন না দিয়ে তার চাচা আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর পাল্টে যায় চিরচেনা সেই চিত্র।

সাদিক আবদুল্লাহ মনোনয়ন না পাওয়ায় তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা চুপসে যায়। দলীয় কার্যালয়ে তেমন একটা আনাগোনা নেই তাদের। অফিস কেয়ারটেকার প্রতিদিন দুই বেলা অফিস খুললেও বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়া দলীয় সিনিয়র নেতাদের দেখা মেলে না কার্যালয়ে। বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং দলীয় সভা আয়োজন হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর কালীবাড়ি রোডের বাসায়।

বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়

অন্যদিকে বরিশাল আওয়ামী লীগে সাদিক আবদুল্লাহর পরিবার বিরোধী হিসেবে পরিচিতরা ভিড় করেন সিটি এবং সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত সার্কিট হাউসের সামনের অফিসে। বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক আয়োজন এবং দলীয় কর্মসূচি প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়েই পালন করে- সিটি মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত এবং সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুকের অনুসারীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আফজালুল করিম বলেন, সংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি তারা। এ কারণে আমরা সংগঠনের ব্যানারে কোনো দলীয় কর্মসূচি করতে পারি না। মেয়র এবং সদর আসনের এমপির অনুসারীরা যাদের বিভিন্ন সময় সংগঠন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে তারাও দলীয় কর্মসূচি করতে চায়। আমরা তাদের নিয়ে প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করি। কর্মসূচি কোথায় হলো সেটা বিষয় নয়, আমরা কর্মসূচি পালন করি সেটাই মুখ্য বিষয়। আমরা চাই মহানগর আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি যারা সিটি এবং সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করেছে সেই কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করা হোক। বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করা হলে দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের চাঞ্চল্য ফিরবে বলে তিনি আশা করেন।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী নাইমুল হোসেন লিটু বলেন, আমরা যে কোনো দিবস ভিত্তিক কর্মসূচি দলীয় কার্যালয়ের সামনেই করে থাকি। স্থান সংকটের কারণে অনেক সময় বিভিন্ন প্রস্তুতি সভা ও দলের বর্ধিত সভা দলীয় কার্যালয়ে আয়োজন না করে নেতার বাসায় আয়োজন করা হয় আধুনিক প্রযুক্তি এবং সুযোগ-সুবিধা থাকার কারণে। তবে কর্মসূচি থাকলে অবশ্যই নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে যায়।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, নেতারা নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া আসা করেন। যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি জেলা ও মহানগর একত্রে কার্যালয়ে করে থাকে। এ ছাড়া অনেক সভা আয়োজন করা হয়ে থাকে আমাদের রাজনৈতিক গুরু শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের কালীবাড়ি রোডের বাসায়।

;