আল জাজিরার সাংবাদিককে হত্যার ঘটনায় বিএনপির নিন্দা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অধিকৃত পশ্চিম তীরে আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে সংবাদ সংগ্রহকালে নৃশংসভাবে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা শুধু অমানবিকই নয়, এটি কাপুরোষোচিত। এটি ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক নির্দয় বর্বরতার আরেকটি নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। শিরিন আবু আকলেহ দায়িত্ব পালন অবস্থায় তাকে মাথায় গুলি করে পৈশাচিকভাবে হত্যা বিশ্ব ইতিহাসে ইসরাইলি বাহিনীর একটি কালো অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হবে। এহেন সহিংস মরণঘাতী কর্মকাণ্ড চরম মানবতাবিরোধী কাজ। ইসরাইলি বাহিনীর দ্বারা আল জাজিরা’র সাংবাদিককে হত্যায় আমি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, কেবলমাত্র মানবতার শত্রুদের দ্বারাই এধরণের রক্ত ঝরানো সম্ভব। স্বাধীনচেতা, নিরস্ত্র, সত্যানুসন্ধানী সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালনকালে যদি একের পর এক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় তাহলে বিশ্ব সভ্যতা আদিম অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। অযৌক্তিক, দখলদার পেশী শক্তির জয়জয়কারে ভরে উঠবে বিশ্ব সমাজ। আধিপত্যবাদী শক্তি স্বাধীনতা, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষদের নতি স্বীকারে করাতে বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আল জাজিরা’র সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে গুলি করে হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হতে হবে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে চূড়ান্তভাবে রুখে দিতে না পারলে মানবতা ও মানবজাতি যে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

আল জাজিরা’র সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

আ.লীগের মাঠে নামলে কর্পূরের মতো উড়ে যাবে, বিএনপিকে কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আ.লীগের মাঠে নামলে কর্পূরের মতো উড়ে যাবে, বিএনপিকে কাদের

আ.লীগের মাঠে নামলে কর্পূরের মতো উড়ে যাবে, বিএনপিকে কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগ রাজপথ ছাড়েনি জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখন মাঠে নামবে, বিএনপি কর্পূরের মতো উড়ে যাবে।

এ সময় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পালানোর ইতিহাস আপনাদের, আমাদের নেই। প্রয়োজনে দেশের মাটিতে জেলে যাবো। আওয়ামী লীগ পালাবার দল নয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক জরুরী সভায় সাংবিাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব ময়ুর সিংহাসন দেখছেন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা সোনার হরিণ। দিন যায়, রাত যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায়, বছর যায়, কিন্তু সোনার হরিণ ময়ূর সিংহাসনের দেখা আজো দেখলাম না। তাদের এই স্বপ্ন রঙিন খোয়াবের মতো কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। আওয়ামী লীগ যখন মাঠে নামবে। খালি মাঠে গোল হবে না। ফাঁকা মাঠে গোল হবে না।

আওয়ামী লীগ রাজপথ থেকে ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি ও সমমনা দলগুলো) যেভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, রাজপথ মনে আমরা ভুলে গেছি। আমরাও আছি। অচিরেই রাজপথে দেখতে পাবেন। শোকের মাসে হয়তো আমরা কিছু কিছু প্রোগ্রাম করছি না।’

তিনি বলেন, অপপ্রচার, মিথ্যাচার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমাদেরও প্রতিবাদ করতে হবে। জনগণকে সচেতন করতে হবে। সেই জন্য আমরা আগামী ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবসে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটা বিক্ষোভ সমাবেশ আমরা করতে চাই। এই কর্মসূচি জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়নে পালন করা হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সবাই প্রস্তুত আছেন? আছেন মাঠে? খেলা হবে, মোকাবিলা হবে, যার যা কিছু ফ্রি-স্টাইল বাংলাদেশে হতে দেব না আমরা।’

শান্তিপূর্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সরকার কোনো বাধা দেবে না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা যদি এই আন্দোলনের সঙ্গে সহিংসতার উপাদান যুক্ত করে। আগুন সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নামলে আমরা নীরব হয়ে ববে থাকবো? ঘরে বসে থাকবো? আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি আঙুল চুষবে? প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। রাজপথে মোকাবিলা হবে।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা প্রতিনিদই সরকারের পতন দেখতে পাচ্ছেন। প্রতিদিই বলে সরকার পালিয়ে যাবে। কোথায় পালাবো? আমাদের দেশ বাংলাদেশ। পালানোর ইতিহাস আমাদের নেই। প্রয়োজনে দেশের মাটিতে জেলে যাবো। আওয়ামী লীগ পলাবার দল নয়। পালাবার দল আপনারা (বিএনপি)। আপনাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোথায়? তিনি টেমস নদীর তীরে কীভাবে দেখেন? জরুরি সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে এখান থেকে পালিয়ে গেছেন।

জরুরি সভায় দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

;

‘বিএনপিসহ কিছু দল জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপিসহ কিছু দল ও প্রতিষ্ঠান জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট)  সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতর কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র ও এলইডি প্রদর্শনী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মকবুল হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে ও প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহেনুর মিয়া সূচনা বক্তব্য রাখেন।

ড. হাছান বলেন, ‘দেশে একটি মহল সবসময় বিভ্রান্তি ছড়ায়। পদ্মা সেতু থেকে যখন বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নিলো তখন টিআইবি, সিপিডি এরা লাফিয়ে লাফিয়ে অনেক বক্তব্য দিয়েছে। বিএনপিও লাফিয়ে লাফিয়ে বক্তব্য রাখছিলো। আর বিএনপির সাথে সিপিডি, টিআইবি এরাও লাফাচ্ছিলো। আজকে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আমাদের দেশে ডিজেলের মূল্য ১১৪ টাকা, কোলকাতায় সেটি ১১৬ টাকা অর্থাৎ কোলকাতার চেয়ে এখনো এখানে কম আছে। এই মূল্য বৃদ্ধির পরও বিপিসিকে প্রতি লিটার ডিজেলে ৮ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।’

‘কিছু কিছু ব্যক্তি যারা নিজেকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচয় দেয় আমিও তাদেরকে বুদ্ধিজীবী হিসেবেই গণ্য করি কিন্তু সময়ে সময়ে তাদের বুদ্ধি লোপ পায়, সময়ে সময়ে বিশেষ উদ্দেশ্যে তাদের বুদ্ধি ব্যবহৃত হয়’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারা গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে কথাবার্তা বলছেন এটি জনগণকে বিভ্রান্তি করার শামিল। আমি আশা করবো তারা জনগণকে বিভ্রান্তি করার এই অচেষ্টা থেকে বেরিয়ে আসবেন। যখন বিশ্ব বাজারে স্থিতিশীলভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য কমবে তখন সরকার আবার মূল্য সমন্বয় করবে।

বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ড ইতিহাসে অন্যতম জঘন্যতম একটি হত্যাকান্ড। বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুণর্গঠন করে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিলো। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় তখন বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিলো ৯.৫৪ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেই সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে আমরা ৮ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলাম কিন্তু ৯ শতাংশ আমরা এখনো ছুঁতে পারিনি।

সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিলো, কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন করার, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের এবং  রেডিও, টেলিভিশনসহ সব ক্ষেত্রে পাকিস্তানি ভাবধারা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা হয়েছিলো। তখন থেকে জাতি এক জায়গায় ঘুরপাক খেয়েছিলো দীর্ঘ ২০ বছর। সেই অচলাবস্থা ভেঙ্গেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে আবার সরকার গঠন করার মধ্য দিয়ে। এবং ২০০৮ সালে সরকার গঠন করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সাড়ে ১৩ বছরে যেভাবে এগিয়ে গেছে আজকে বাংলাদেশ পৃথিবীর সামনে একটি গর্বিত রাষ্ট্র।

বিএনপি তাদের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি মনে করি বিএনপি আসলে বাস্তব পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছে। কারণ ঈদের পরে, শীতের পরে, পরীক্ষার পরে, বর্ষার পরে আন্দোলনের কথা বলে বলে নিজেদেরকে হাস্যকর বানিয়েছে। তাদের আন্দোলনে তাদের কর্মীরাও সাড়া দেয় না। এটি বুঝতে পেরেই তারা নতুন ঘোষণা দিয়েছে বলে আমি মনে করি।’

;

গণবিরোধী সরকার মানুষের কষ্ট বোঝে না: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেছেন, দেশ পরিচালনায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ, তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। যে সরকার মানুষের কষ্ট বোঝেনা সেই সরকার জনগণের সরকার না।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) জাপার বনানী কার্যালয়ে এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

তিনি বলেন, তেলের দাম না বাড়ালেও পারতো সরকার। ভ্যাট-ট্যাক্স না নিলে এবং জ্বালানি তেলের অর্জিত মুনাফা সমন্বয় করলেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হতো না। গণবিরোধী সরকার মানুষের কষ্ট বোঝে না। সরকার বিভিন্নভাবে মুনাফা করে, উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লুণ্ঠন করছে। সরকার মুনাফার টাকা ব্যাংকে রাখছে, নামে-বেনামে সেই টাকা ঋণ করে বিদেশে পাচার করছে একটি শ্রেণি। প্রজাতন্ত্রের নামে দেশে এক ব্যক্তির শাসন তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্রের নামে দেশে স্বৈরাশসন চলছে। উন্নয়নের নামে দেশে ঘুষ ও দুর্নীতির জোয়ার চলছে।

তিনি বলেন, গেলো বছর শুধু সুইস ব্যাংকেই বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। আমেরিকা, কানাডা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে আরো অনেক টাকা পাচার হয়েছে। তথ্য চাইলেই সুইস ব্যাংক তথ্য দিচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশ সরকার পাচারকারীদের তথ্য চাচ্ছে না। কারণ, যারা টাকা পাচার করেছে তারা সরকারের এবং সরকারী দলের লোক। তারা যেন পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত না হয় সেজন্যই পাচারকারীদের তালিকা প্রকাশ করছে না সরকার। সরকার বলছে ৪০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আছে কিন্তু সেই তথ্যে গলদ রয়েছে। ডলারের দাম ১২৩ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ২’শ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সংসদে আমরা কথা বললে কাজ হয় না। আমাদের পরামর্শ, কথার কথা হয়ে গেছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঋণ নির্ভর হয়ে পড়েছে। আবার পরিচালন ব্যয় ট্যাক্সের ওপর নির্ভরশীল। ট্যাক্স আদায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হলে, বেতন ভাতা পরিশোধে ঝামেলা হতে পারে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আরো বলেন, লোডশেডিং কেন? উৎসব করা হলো আমরা নাকি বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ? কেন এই অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হলো? বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই কুইক রেন্টাল, রেন্টাল এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে রাজনীতি চিরতরে ধ্বংসের পায়তারা চলছে। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতার বিপরীতে প্রতিহিংসা শুরু হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যারা পরাজিত হবে তারা যেন নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে, আওয়ামী লীগের নিশ্চিহ্ন হবার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এমন রাজনীতি চাইনা, আমরা চাই সহনশীল পরিবেশে রাজনীতি। আমরা রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন চাই।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, দেশে চিকিৎসা নেই বললেই চলে। হাসপাতালের মেঝেতে, বারান্দায়, সিঁড়িতে ও বাথরুমেও রুগীরা শুয়ে থাকে। কিন্তু সু-চিকিৎসা পায় না। তিনি বলেন, আমরা পানির নিচ দিয়ে ট্যানেল, ফ্লাইওভার ও মেগা প্রকল্প আর চায় নাই। আমরা চাই, প্রতিটি উপজেলায় বিষেশায়িত হাসপাতাল। যেখানে স্বপ্লমূল্যে সাধারণ মানুষ সু-চিকিৎসা পায়। সরকার যেকোন মূল্যে আবারও ক্ষমতায় থাকতে চায়। এজন্য তারা ইভিএম নিয়ে জালিয়াতির ষড়যন্ত্র করছে।

সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানীর সঙ্গে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ আলী, সামছুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, আব্দুল হান্নান তালুকদার, মতিউর রহমান তালুকদার, ইউপি সদস্য আব্দুল হাদি, আব্দুল হাকিম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা লিয়াকত আলী খান, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন তোতা, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য এম এ রাজ্জাক খান, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন।

;

ধর্ষণের অভিযোগে সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদককে বহিষ্কার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ধর্ষণের অভিযোগে সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদককে বহিষ্কার

ধর্ষণের অভিযোগে সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদককে বহিষ্কার

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার সোনাতলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার ঘোষকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের নীতি আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকায় সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার ঘোষকে বহিষ্কার করা হলো। সেই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

এর আগে, সোনাতলায় দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে তিন বছর ধরে ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগ নেতা সুজন ঘোষ।

সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই আবারও সুজন ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। গৃহবধূ বিষয়টি তার স্বামীকে জানানোর পর মঙ্গলবার সোনাতলা থানায় উপস্থিত হয়ে ওই গৃহবধূ সুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করলো। অভিযুক্ত সুজন কুমার ঘোষ উপজেলার নামাজখালী গ্রামের সুভাষ ঘোষের ছেলে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাতলা থানার কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

;