ইসির ওপর কখনো প্রভাব বিস্তার করা হয়নি, হবেও না: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার কাজে সরকারের পক্ষ থেকে কখনও নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হয়নি, হবেও না। বরং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বদাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে।

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনমনে ধোয়াশা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত নির্বাচন কমিশন ও সার্চ কমিটি নিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য প্রদান করে চলেছে। অথচ আমরা সকলেই জানি, নির্বাচন অনুষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের কাজ। নির্বাচন কমিশন দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের মধ্য থেকেই নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে এবং নির্বাচনের সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। কোন দল বা সরকার নির্বাচন পরিচালনা করে না। নির্বাচনকালিন সরকার শুধুমাত্র তাদের রুটিন ওর্য়াক করে থাকে।

তিনি বলেন, দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে, বিএনপির শাসনামলে ক্ষমতা পাকা-পোক্ত করার জন্য কীভাবে প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন কমিশনকে যথেচ্ছাভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে মাগুরা ও মিরপুর উপ-নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভূতপূর্ব ঘটনার জন্ম দেয় তারা। গণবিরোধী অবস্থান নিয়ে অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে বিএনপি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন যে নির্বাচন করেছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সমুজ্জল স্মৃতির পাতায় তা একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত আছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই গণতন্ত্রের বিপরীত মেরুতে বিএনপির অবস্থান।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নসাৎ করে অসাংবিধানিক ও অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা খুনি-সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান। সেই সামরিকতন্ত্র নীতির অনুসারী বিএনপির আজ নির্বাচন কমিশন ও গণতান্ত্রিক পন্থায় গঠিত সার্চ কমিটি নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। মূল কথা হলো- স্বৈরতন্ত্রের নীতিতে পুষ্ট বিএনপির গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি এক ধরনের অশ্রদ্ধা ও অবজ্ঞা রয়েছে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল ও ক্ষমতাসীন হয়ে জোর জবরদস্তির মাধ্যমে টিকে থাকা যাদের রাজনৈতিক কৌশল তারা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়ে সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান সেনাছাউনিতে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিল। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই বিরোধী রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছে। সেই দুঃসহ সময় কাটিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক সময়ের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত বাংলাদেশ আজ শান্তিপূর্ণ জনপদে রূপান্তরিত হয়েছে। সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরতন্ত্রের নাগপাশ থেকে মুক্ত বাংলাদেশে আজ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত।

আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দল সর্বোপরি সকল স্তরের জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি দেশবিরোধী চিহ্নিত রাজনৈতিক শক্তি যখন লাগাতারভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকে তখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখা কষ্ঠসাধ্য হয়ে পড়ে। তবে যে কোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশবিরোধী এই মহল ও তার প্রতিভূ বিএনপিকে আমরা পরাস্ত করবো। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল দেশপ্রেমিক জনগণকে পাকিস্তানি ভাবধারার এই প্রেতাত্মা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাবো।

‘বিএনপি অপরাজনীতির মাধ্যমে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ওবায়দুল কাদের/ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের/ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি পরিকল্পিত ভাবে অপরাজনীতির মাধ্যমে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা মাঠে নামলে রাজপথ নয়, বিএনপি অলিগলিও খুঁজে পাবে না।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) তাঁর বাসভবনে ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি নেতারা তাদের কর্মীদের রাজপথ দখলের নির্দেশ দেওয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজপথ কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়, রাজপথ জনগণের সম্পদ, কাজেই অতীতের মত আবারও যদি রাজপথ দখলের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগকে অচীরেই রাজপথে দেখা যাবে এমনটা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপির হাঁকডাক লোক দেখানো, কর্মীদের চাঙ্গা রাখার অকৌশল মাত্র, তাদের এসব ব্যর্থতা ঢাকার কৌশলী অপপ্রয়াস ছাড়া আর কিছু নয়।

বিএনপি চায় সরকারে গিয়ে আবার লুটপাটের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করতে,আবার হাওয়া ভবন তৈরি করে দেশের অমিত সম্ভাবনার পথ রুদ্ধ করে অন্ধকার পথে হাঁটতে এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ তাদের সে সুযোগ আর কখনো দেবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি নিজেরাই চাচ্ছে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে,দেশকে সংকটে ফেলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে।

জনগণের প্রতি আস্থাহীন এক রাজনৈতিক দল বিএনপি,দাবি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের রাজনৈতিক মেরুদণ্ড অত্যন্ত ভঙ্গুর।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায় কিন্তু নির্বাচনে যেতে ভয় পায়।

বিএনপি মহাসচিব নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাবেন না, আবার অন্যদের সংসদে পাঠাবেন, - ওবায়দুল কাদের বিএনপির এমন লাজ-লজ্জাও তাদের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতার মত তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে বলে মনে করেন।

তত্বাবধায়ক সরকার মীমাসিংত ইস্যু সেটা ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতাদের বলেন এদেশে আর তত্বাবধায়ক সরকার আসার সুযোগ নেই।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়াই বিএনপির মঙ্গল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া এসব দিবাস্বপ্ন দেখে কোন লাভ নেই।

;

রাজপথ দখলে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হতে বললেন ফখরুল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার ডাক দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে, এই লড়াই আমাদের প্রাণের লড়াই, আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই, এই লড়াই বাংলাদেশকে রক্ষা করবার লড়াই। এটা বিএনপির নয়, তারেক রহমানের নয়, আমাদের নয়, এই লড়াই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে বাঁচার লড়াই।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই লড়াইয়ে অবশ্যই আমাদের শরিক হতে হবে, আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, রাজপথ আমাদেরকে দখল করতে হবে। রাজপথের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা অবশ্যই এই ফ্যাসিস্ট দানবীয় হাসিনা সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই আমরা একটা জনগণের সরকার, জনগণের রাষ্ট্র, জনগণের একটা সমাজ তৈরি করব।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, আর কাল বিলম্ব না করে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। কারণ আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। আপনারা মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না। সুতরাং আপনাদেরকে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন দিয়ে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নতুন পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে, সরকার গঠন করতে হবে।

দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে চাল, ডাল, তেল সব কিছুরই দাম বেড়ে যাচ্ছে। আরেকদিকে বিদ্যুতের যে সমস্যা, সেটা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সরকার আমদানি করার জন্য, দুর্নীতি ও চুরি করার জন্য আমার দেশে যে গ্যাস আছে, সেই গ্যাস উত্তোলনের জন্য তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। তাদের নিজস্ব লোকদের দিয়ে গ্যাস আমদানির ফলে আজকে বিদ্যুতের দামও অনেক বাড়ানো হয়েছে।

;

নির্বাচন পর্যন্ত আ. লীগ রাজপথ দখলে রাখবে: হাছান মাহমুদ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আসছে সেপ্টেম্বর মাস থেকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথ দখলে রাখবে।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের শুরুতে তিনি বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা জানান।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আজকে বিকেলে নয়াপল্টনে মিটিং করে বলেছেন, রাজপথ দখল করতে হবে। আমরা বলছি, এটি শোকের মাস। সেজন্য আমরা নানা কর্মসূচি পালন করছি। সেপ্টেম্বরে আমরা মাঠে নামবো। রাজপথ আমাদের দখলে থাকবে।

তিনি বলেন, কোনও দুস্কৃতিকারীরাকে আমরা রাজপথ ইজারা দেইনি। বিএনপির ব্যানারে তারা আবার রাজপথ দখল করে মানুষের ওপরে পেট্রোল বোমা মারবে, সেটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হতে দেবে না। আমরা রাজপথ দখলে রাখব আগামী মাস থেকে। দুষ্কৃতিকারীরা যেন মানুষের ওপর হামলা করতে না পারে। নির্বাচন পর্যন্ত আমরা রাজপথ দখলে রাখবো।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে মাঠ গরম করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে এখন সংকট চলছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যখন পৃথিবীতে স্থিতিশীলভাবে দাম কমবে, তখন বাংলাদেশেও কমবে। তেলের এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে কারও মাঠ গরম করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, তেলের দাম ভারতে অনেক আগে বেড়েছে। ভারতের অর্থনীতি আমাদের চেয়ে অনেক বড়। এরপরও তারা বেশ আগে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। আমাদের সরকার তা করেনি। গত তিন মাসে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বিপিসি লোকসান করেছে। অব্যাহতভাবে তো চলতে পারে না। সে কারণে বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হয়েছে। আমরা দাম বৃদ্ধি করে ভারতের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রিজার্ভ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। রিজার্ভ তো কমবে-বাড়বে। সব সময় কি বাড়বে? কোনো দেশে যদি তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর রিজার্ভ থাকে তাহলে সেটি নিরাপদ। আমাদের কিন্তু প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ আছে। রিজার্ভের ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে আমাদের অবস্থান ৪৫, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরে আমাদের অবস্থান। অথচ আমাদের বিশেষ কারণে অজ্ঞ বিশেষজ্ঞ বা সব বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা তারা কী বলেন! মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা নানা কথা বলেন।

দেশে এখন তিন ধরনের ‘বিশেষজ্ঞ’ আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা অনেক কথা বলেন। বাংলাদেশে তিন ধরনের বুদ্ধিজীবী আছেন। এক সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী, বিশেষ কারণে বুদ্ধিজীবী আর সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বুদ্ধিজীবী। পড়েছেন আইন, উনি আবার পরিবেশ বিশেষজ্ঞ! পড়েছেন রাজনীতি বিজ্ঞান, উনি আবার অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ! পড়ান পদার্থ, উনি আবার তেল-গ্যাস বিশেষজ্ঞ! সব বিষয়ে বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে আছে। রাত ১২টার পর যখন টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসবেন, তখন দেখবেন।’

তিনি বলেন, এই সমস্ত প্রাইভেট টেলিভিশন জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এসেছে। এখন প্রায় ৪০টার কাছাকাছি বেসরকারি টেলিভিশন। এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। গত ১৩ বছরে ৩০টি টেলিভিশন সম্প্রচারে এসেছে। এই টেলিভিশনের পর্দায় যদি রাত ১২টার পরে বসেন এবং কিছু কিছু মানুষের বক্তব্য যদি শোনেন, মনে হবে বাংলাদেশ গত ১৩ বছরে ১৩ ফুট নেমে গেছে। তাদের বক্তব্যে মনে হয়। আসলেই কি তাই?’

আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের দেশে যখন করোনা মহামারি দেখা দিল, তখন গবেষণার নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু কিছু রিপোর্ট সামনে আনা হলো। কোন গবেষণালব্ধ রিপোর্ট না। বিশেষ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলল, এই করোনায় দুই কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হবে। কয়দিন আগে আইএমএফ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে এক শতাংশ দরিদ্র কমেছে এবং অতিদরিদ্র মানুষের হার বাংলাদেশে ১১ শতাংশ। প্রকৃতপক্ষে এটা ১০ শতাংশ। অর্থাৎ এই করোনা মহামারির মধ্যেও যেখানে তথাকথিত বিশেষজ্ঞরা ফতোয়া দিয়েছেন, বিভ্রান্ত করার জন্য বক্তব্য দিয়েছেন যে দারিদ্রতা বাড়বে, সেখানে কিন্তু দারিদ্রতা কমছে।

তিনি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে আমরা মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছি। এখন তিন হাজার ডলারের কাছাকাছি আমাদের মাথাপিছু আয়। এটাও আইএমএফের রিপোর্ট। অনেকেই বলেছিল, করোনার পর এই দেশে হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। সবার ওপরে আমরা।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজারের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেনী, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইসতিয়াক আহমেদ প্রমুখ।

;

আ.লীগের মাঠে নামলে কর্পূরের মতো উড়ে যাবে, বিএনপিকে কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আ.লীগের মাঠে নামলে কর্পূরের মতো উড়ে যাবে, বিএনপিকে কাদের

আ.লীগের মাঠে নামলে কর্পূরের মতো উড়ে যাবে, বিএনপিকে কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগ রাজপথ ছাড়েনি জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখন মাঠে নামবে, বিএনপি কর্পূরের মতো উড়ে যাবে।

এ সময় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পালানোর ইতিহাস আপনাদের, আমাদের নেই। প্রয়োজনে দেশের মাটিতে জেলে যাবো। আওয়ামী লীগ পালাবার দল নয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক জরুরী সভায় সাংবিাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব ময়ুর সিংহাসন দেখছেন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা সোনার হরিণ। দিন যায়, রাত যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায়, বছর যায়, কিন্তু সোনার হরিণ ময়ূর সিংহাসনের দেখা আজো দেখলাম না। তাদের এই স্বপ্ন রঙিন খোয়াবের মতো কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। আওয়ামী লীগ যখন মাঠে নামবে। খালি মাঠে গোল হবে না। ফাঁকা মাঠে গোল হবে না।

আওয়ামী লীগ রাজপথ থেকে ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি ও সমমনা দলগুলো) যেভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, রাজপথ মনে আমরা ভুলে গেছি। আমরাও আছি। অচিরেই রাজপথে দেখতে পাবেন। শোকের মাসে হয়তো আমরা কিছু কিছু প্রোগ্রাম করছি না।’

তিনি বলেন, অপপ্রচার, মিথ্যাচার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমাদেরও প্রতিবাদ করতে হবে। জনগণকে সচেতন করতে হবে। সেই জন্য আমরা আগামী ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবসে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটা বিক্ষোভ সমাবেশ আমরা করতে চাই। এই কর্মসূচি জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়নে পালন করা হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সবাই প্রস্তুত আছেন? আছেন মাঠে? খেলা হবে, মোকাবিলা হবে, যার যা কিছু ফ্রি-স্টাইল বাংলাদেশে হতে দেব না আমরা।’

শান্তিপূর্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সরকার কোনো বাধা দেবে না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা যদি এই আন্দোলনের সঙ্গে সহিংসতার উপাদান যুক্ত করে। আগুন সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নামলে আমরা নীরব হয়ে ববে থাকবো? ঘরে বসে থাকবো? আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি আঙুল চুষবে? প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। রাজপথে মোকাবিলা হবে।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা প্রতিনিদই সরকারের পতন দেখতে পাচ্ছেন। প্রতিদিই বলে সরকার পালিয়ে যাবে। কোথায় পালাবো? আমাদের দেশ বাংলাদেশ। পালানোর ইতিহাস আমাদের নেই। প্রয়োজনে দেশের মাটিতে জেলে যাবো। আওয়ামী লীগ পলাবার দল নয়। পালাবার দল আপনারা (বিএনপি)। আপনাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোথায়? তিনি টেমস নদীর তীরে কীভাবে দেখেন? জরুরি সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে এখান থেকে পালিয়ে গেছেন।

জরুরি সভায় দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

;