তিন হাজার কর্মহীন তাঁত শ্রমিকদের পাশে তামাই ক্লাব



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে যাওয়া অসহায় তাঁত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে তামাই ক্লাব লিমিটেড। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শাহাজাদপুরসহ আশাপাশের তাঁত পল্লীতে কর্মহীন হাজারো মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে তামাই ক্লাব। করোনা সংকটের শুরু থেকে তারা খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা দিয়ে আসছে। এরই মধ্যে ৫২০টি পরিবারের নিকট খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩ হাজার পরিবারের খাবারে ব্যবস্থা করছে ক্লাবটি।

তামাই ক্লাবের কয়েকজন তরুণ নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে দিনমজুর তাঁত শ্রমিকদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। তারা পৌঁছে দিচ্ছেন চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। যা দিয়ে অন্তত চার-পাঁচ দিন চলতে পারবে অনাহারী পরিবার।

tat
তাঁত শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি প্যাকেট করছেন সেচ্চাসেবীরা

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শাহাজাদপুরসহ পাশ্ববর্তী তাঁত পল্লীতে সরকারী নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে সকল ধরনের কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে  কারখানায় কাজ করা ড্রামমাস্টার, পারিদার, শানাবাউ, রংমিস্ত্রিসহ  দিনমজুরীতে কাজ করা শ্রমিকেরা। কাজ না থাকায় হাতেও কোন টাকা নেই এসব শ্রমিক পরিবারগুলোতে। সরকারি ও কারখানার মালিকদের ত্রাণ সহায়তা এখনও পৌঁছায়নি তাদের ঘরে।

টানাপোড়নের সংসারে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে এসব শ্রমিক পরিবারে। অনেকে লোকলজ্জায় কারও কাছে সাহায্য চাইতেও পারছেন না। তাঁত শ্রমিকদের এই কঠিন সময়টাতে পাশে দাঁড়িয়েছেন তামাই ক্লাব লিমিটেডের এক ঝাঁক তরুণ।

ইতোমধ্যে, পাঁচশ বিশটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। সব মিলিয়ে তিন হাজার পরিবারের তালিকা করা হয়েছে, এসব পরিবারের প্রত্যেকের ঘরেই খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেবে ক্লাবের তরুণরা। খাদ্য সামগ্রী দিলেও তাঁত শ্রমিকদের কারো নাম ও ছবি প্রকাশ করছে না তামাই ক্লাবের সদস্যরা। করোনাভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে, তামাই ক্লাবের  উদ্যোক্তারা জানালেন, প্রতিবেশীরা যেন না খেয়ে থাকে সেই চেষ্টা করে যাবেন তারা।

তামাই ক্লাবের সদস্য রিশাদ মোর্শেদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আমরা ঘরে ঘরে খাবার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের সীমিত অর্থ দিয়ে যতটুক পারছি করছি। যদি করোনা পরিস্থিতি আরো দীর্ঘ হয় তাহলে এসকল পরিবারের কাছে আরো সহায়তা পৌঁছান দরকার। এজন্য আমি সমাজের সম্পদশালী বিত্তবান লোকদের অনুরোধ করবো যে যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসুন।

   

অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার ওই শিশুর জ্ঞান ফিরেনি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নেত্রকোনার পূর্বধলায় কাঁচা সড়ক থেকে ৩০ বছর বয়সী অজ্ঞাত নারীর মরদেহ পাশে পড়ে থাকা দুই বছরের শিশুর জ্ঞান এখনো ফেরেনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুটি গুরুতর কোন আঘাত পায়নি বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। তবে, এখন পর্যন্ত নিহত ওই নারীর পরিচয় মিলেনি।

বুধবার (২৯ মে) বিকাল সাড়ে সাড়ে ৫ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের তিনতলা ৩৩ নাম্বার ওয়ার্ডে গিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ওই শিশুর বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। শিশুর মাথার সিটিস্ক্যান করানো হয়েছে। সিটিস্ক্যান রিপোর্টে শিশুর মস্তিস্কে রক্ষক্ষরণের ঘটনা ঘটেনি। আপাত দুষ্টিতে তার কোন অস্ত্রপ্রচারের প্রয়োজন নেই। শিশুর জ্ঞান কেন ফিরছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শামীউল আলম সিদ্দিকী শামীমের তত্বাবধানে শিশুর চিকিৎসা চলছে। তিনি আরও বিস্তারিত বলতে পারবেন।

এর আগে ওই দিন নেত্রকোনা জেলার পুর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের কাছিয়াকান্দা গ্রামে আনুমানিক ২ বছরের জীবিত শিশুসহ অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ভোরে ওই উপজেলার কাছিয়াকান্দা গ্রামের এক ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়ে মাদরাসার পাশে তার মায়ের কবর জিয়ারত করতে যান। এসময় এক শিশু ও অজ্ঞাত নারীকে কাঁচারাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শিশুটিকে জীবিত পেয়ে তাৎক্ষণিক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পূর্বধলা থানার ইনচার্জ  (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে গ্রামবাসী এক নারী ও শিশুকে কাঁচা রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জীবিত শিশু ও অজ্ঞাত পরিচয়হীন নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে শিশুটিকে তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, শিশুটি বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের তিনতলার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। হাসপাতালে শিশুটি কাছিয়াকান্দা গ্রামের ইউপি সদস্য রোস্তম আলী ও সুজাত মিয়া দেখাশোনা করছেন। এই ঘটনায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিশুর সাথে থাকা সুজাত মিয়া বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে নারীর মরদেহ ও শিশু পাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে পুলিশ আসে। পুলিশ মরদেহ নড়াচড়া করলে নারীর মাথার পিছনে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, এমন চিন্হ দেখা যায়। আঘাতের ফলে মস্তিস্ক মাথা থেকে ছিটকে বেরিয়ে যায়। তাছাড়া, শিশুর শরীরে যে রক্ত লেগে আছে, তা তার মায়ের শরীরের রক্ত।

হাসপাতালের নিউরোসার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শামীউল আলম সিদ্দিকী শামীম বলেন, আঘাতে অনেক সময় মস্তিস্ক নড়ে যায়। যে কারণে অনেক সময় জ্ঞান ফিরতে সময় লেগে যায়। তবে, শিশুর জ্ঞান ফিরতে কত সময় লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

;

কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতাদের তালিকা প্রস্তুত সম্পন্ন, অভিযান শুরু হবে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়াতে সমাজের প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই দায়ী এবং এসব গ্যাংকে তারাই আশ্রয় দেন বলে বহু অভিযোগ রয়েছে। কবে এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে কিশোর গ্যাংয়ে ছিনতাই, চাঁদাবাজি এমনকি খুনের ঘটনার পর তৎপর হয়েছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে আশ্রয়দাতাদের সন্ধান।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতাদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। শিগগিরই এসব গ্যাং নির্মূলে অভিযান শুরু হবে।

বুধবার (২৯ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কমিটির আগের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আজকের বৈঠকে ওই কার্যবিবরণী অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকে র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে, কিশোর গ্যাং সমাজের জন্য অ্যালার্মিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিশোর গ্যাং নির্মূলের জন্য অভিযান পরিচালনা করে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ছাড়া পেয়ে পুনরায় অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।’

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘কোথায় কোন কিশোর গ্যাং আছে, তাদের কারা আশ্রয় দিচ্ছে, তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অতি শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

এদিকে আজকের বৈঠকে আলোচিত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার ‘হত্যা’ ও পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সামছুল হক দুদু, ময়েজ উদ্দিন শরীফ, চয়ন ইসলাম, মো. সাদ্দাম হোসেন (পাভেল) এবং হাছিনা বারী চৌধুরী।

;

আসছে বাজেটে জ্বালানির বরাদ্দ বাড়তে পারে ৩ গুণ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩৮ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ চেয়েছে ৩৪ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা, আর জ্বালানি বিভাগ মাত্র ৪ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা।

উন্নয়ন বরাদ্দে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৬ হাজার ৭২৩ বোটি ৮৫ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নিজস্ব অর্থায়ন বাদ দিলে বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকৃত বরাদ্দ দাঁড়াবে ৩২ হাজার ৭৫ কোটি টাকার মতো।

প্রত্যাশিত মাত্রায় না হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের তুলনায় জ্বালানি খনিজ সম্পদ বিভাগ বেশি গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রণালয় সুত্র জানিয়েছে, আসছে বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের প্রবৃদ্ধির চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি হতে পারে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে চলতি অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বরাদ্দ কমানো হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমিয়ে ৯১১ কোটি টাকা করা হয়। সে দিক বিবেচনায় এবারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বাজেটের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হতে যাচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এবার  জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে (নিজস্ব অর্থায়ন ছাড়া) ২ হাজার ৮৯৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রায় ৩ গুণ বাড়তে যাচ্ছে বাজেটের আকার।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৩৬টি প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। জিওবি ও প্রকল্প সাহায্য ৯টি, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ১৯টি এবং গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে ৮টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের চিত্রে দেখা গেছে, এপ্রিল পর্যন্ত জিওবি ও প্রকল্প সাহায্য ৭৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং নিজস্ব অর্থায়ন ৯২ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং জিডিএফ ফান্ডের ৮৩ দশমিক ১৪ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন, জ্বালানি বিভাগকে গুরুত্ব কম দেওয়ার কারণে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। প্রাথমিক জ্বালানির সংকটের কারণে বসে থাকছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে করে একদিকে জনগণ লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, অন্যদিকে বসিয়ে রেখেও কোটি কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচেছ।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানিতে পা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু চড়া দামে এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে চরম মাশুল দিতে হচ্ছে। চড়া দামের কারণে ২০২৩ সালে ঘোষণা দিয়ে আমদানি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। তখন দেশে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয়।  

বাংলাদেশ প্রতি ৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের একটি করে কূপ খননের লক্ষ্যে কাজ করছে, আমেরিকা প্রতি ১৪ বর্গকিলোমিটারের ১টি এবং ভারত ১৮ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটারের ১টি কূপ খনন মানদণ্ড বিবেচনায় কাজ করছে। শুধুমাত্র অনুসন্ধান কার্যক্রমের ঢিলেমির কারণে দেশকে চরম মাশুল দিতে হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত স্থবিরতা দেশকে চরম সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বাংলাদেশে প্রচুর গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে, প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো।

তবে আশা কথা হচ্ছে কয়েক দশকের স্থবিরতার আড়মোড়া ভেঙে বুলেট গতিতে ছুটতে শুরু করেছে পেট্রোবাংলা। ইতোমধ্যেই তার সুফলও পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এতোদিন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে ছিল বাংলাদেশ। আরও ছোট করে বলতে গেলে সুরমা বেসিন তথা, সিলেট থেকে শুরু করে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী এবং ভোলার মধ্যে আটকে ছিল বাংলাদেশ। অন্যান্য এলাকায় কিছু অনুসন্ধান কার্যক্রম হলেও তার পরিমাণ নগণ্য বলাই যায়। সেখানেও আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে পেট্রোবাংলা।

চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, ৪৬ কূপ প্রকল্পের সঙ্গে আরও দু’টি যুক্ত করা হয়েছে। দ্রুত গতিতেই এগিয়ে চলছে ৪৮ কূপ খনন প্রকল্প, ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবে। ৪৮ কূপ খনন প্রকল্পের পাশাপাশি ২০২৬-২৮ সালের মধ্যে আরও ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এ জন্য তিন শতাধিক সম্ভাবনাময় এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।

;

নৌপথে লাশের মিছিল, অধরা অপরাধী



আল-আমিন রাজু, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নৌপথে লাশের মিছিল, অধরা অপরাধী

নৌপথে লাশের মিছিল, অধরা অপরাধী

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকার সাদেকখান রোডের বাসিন্দা ছিলেন ভোলার দুলারহাট উপজেলার কামালের ছেলে মো. শাকিব। রাজধানীতে পিকআপ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০২২ সালের জুন মাসে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন একই এলাকার মো. স্বপনের মেয়ে স্বপ্নীল আক্তারকে। শাকিবকে পিকআপ কিনে দিয়েছিলেন শ্বশুর। উদ্দেশ্য ভালো আয় রোজগারে সংসারে সচ্ছলতা। কিন্তু সেই পিকআপই কাল হলো শাকিবের।

পিকআপটি ছিনিয়ে নিতে শাকিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে ঘাতকরা। বাসার মালামাল পরিবহনের নাম করে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় কেরানীগঞ্জের আরসী নগর এলাকায়। এরপর হাত-পা ও মুখে স্কচটেপ বেঁধে জীবিত অবস্থায় শাকিবকে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়া হয়। পানিতে ডুবেই নির্মম মৃত্যু হয় শাকিবের। হত্যার দুদিন পর হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় আটিবাজার এলাকা থেকে অজ্ঞাত মরদেহ হিসেবে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরবর্তীতে নিহতের স্বজনরা শাকিবের লাশ শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী নাইমুল হোসেন সিয়াম, মিজানুর রহমান ও মো. সিয়ামকে গ্রেফতার করে।

তবে শাকিবের মতো সবার ভাগ্যে নির্মম মৃত্যুর পরেও পরিচয়টাও পাওয়া হয় না। তারা পুলিশ আর হাসপাতালের খাতায় অজ্ঞাত লাশ হিসেবে রয়ে যায়। একটি মানুষের পরিচয় হয়ে যায় কেবল মাত্র সংখ্যা।

যার প্রমাণ পাওয়া যায় জনকল্যাণ সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের বেওয়ারিশ লাশ দাফনের খতিয়ান দেখলেই। মানবতার সেবায় কাজ করা সংগঠনটি গত পাঁচ বছরে প্রায় তিন হাজার বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের বেওয়ারিশ লাশ দাফনের হিসাব অনুযায়ী গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞাত লাশ দাফন হয়েছে ২০১৯ সালে ৭৯৫টি, ২০২০ সালে করোনার বছর দাফন হয়েছে ৬৩৩টি, ২০২১ সালে ৪৬৫টি, ২০২২ সালে ৪৪৩টি ও ২০২৩ সালে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৯০টি।

হত্যার দেড় বছর পর কথা হয় নিহত শাকিবের শ্বশুর মো. স্বপনের সঙ্গে। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, মেয়ের সুখের জন্য জামাইকে গাড়ি কিনে দিয়েছিলাম। সেই গাড়ির কারণেই তার জীবনটা শেষ করে দিলো। এখন বিচারের অপেক্ষায় আছি।

তিনি আরও বলেন, শাকিবকে মেরে গাড়িটি ছিনতাই করতে চেয়েছিল ছিনতাইকারীরা। কিন্তু সেটি তারা পারেনি। যার জন্য গাড়ি কিনেছিলাম সে-ই তো চলে গেছে। এখন গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছি। মামলার চার্জশিট এখনো হয়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে দেশের বর্তমান নৌপথের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার কিলোমিটার। শুষ্ক মৌসুমে এর পরিমাণ আরও কমে যায়। রাজধানীর ঢাকার চারদিকেই রয়েছে নদী। ফলে দেশের বাণিজ্যখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথও লাশ ফেলার সহজ ঠিকানা। অপরাধীরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যার পরে কখনো কখনো হাত পা বেঁধে আবার কখনো বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়ায় হত্যার আলামত নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি কখনো কখনো মরদেহ উদ্ধার হলেও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় বেওয়ারিশ বা অজ্ঞাত হিসেবে দাফন হয়ে যায়। ফলে অধরা থেকে যায় হত্যাকারীরা।

নৌ পুলিশের হিসেবে দেখা গেছে, রাজধানীর চারপাশের নদীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয় বুড়িগঙ্গা থেকে। এছাড়া তুরাগ, বালু নদী ও শীতলক্ষ্যা থেকেও নিয়মিত লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।

নৌ পুলিশের হিসাব বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিন বছরে দেশের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে চার হাজার ৭৪৪ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে উদ্ধার হয়েছে ১১৯টি। যার মধ্যে ২৭ মরদেহ অজ্ঞাত। ঢাকার পার্শ্ববর্তী নদীগুলো ছাড়াও পদ্মা, মেঘনা, গোমতী, সুরমা ও কুশিয়ারা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এই সকল নদী থেকে অন্তত মাসে ৩৫ থেকে ৪০টি বেওয়ারিশ মরদেহ উদ্ধার করে নদী পথের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীটি।

নৌ পুলিশের সদর দফতর থেকে পাওয়া হিসেব বলছে, ২০২২ সালে সারাদেশের নৌপথ থেকে ৩৬০টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। যার মধ্যে ২৪০টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি ১২০টি মরদেহের। ২০৩৩ সালে ৪০৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৬৮টি মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেলেও বেওয়ারিশ থেকে গেছে ১৩৭ মরদেহ।

নৌপথে মরদেহ ফেলার বিষয়ে নৌ পুলিশের প্রধান মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ বলেন, নদীতে কোনো মরদেহ ফেলার পরেই কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে পচন শুরু হয়। এই তাড়াতাড়ি পচনের শুরু হওয়ায় মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। তবে অধিকাংশ মরদেহের পরিচয় ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন নদীতে লাশ ফেলার পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ ফুলে যায়। মরদেহের চেহারা বিকৃত হয়ে যায়। পানির কারণে দ্রুত পচতে থাকায় মরদেহ থেকে হত্যার আলামত নষ্ট হতে শুরু করে।

নৌপথে লাশ ফেলা বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়ে পিএইচডি অধ্যয়নরত খন্দকার ফারজানা রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, কোনো অপরাধ ঘটলে সারাবিশ্বেই প্রধান টার্গেট থাকে প্রমাণ নষ্ট করা। আর এটি করতেই বিভিন্ন সময়ে অপরাধীরা আমাদের দেশের অরক্ষিত নদীতে ফেলে দেয়। ফলে পানি ও রোদে মরদেহটি থাকার কারণে মৃতদেহে বিভিন্ন ধরনের বিক্রিয়া শুরু হয়। এতে হত্যাকারীর ডিএনএ নষ্ট হয় এবং হত্যার সময় ও ধরন নষ্ট হয়ে যায়।

নদীপথে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে অপরাধ বিজ্ঞানের এই শিক্ষিকা আরও বলেন, আমাদের দেশে নিখোঁজের ঘটনায় হওয়া সাধারণ ডায়েরি বা মামলাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা উচিত। একটি সফটওয়্যার বা অ্যাপস তৈরি করা যার মাধ্যমে তথ্যগুলো সহজে জানা যাবে। অনেক সময় দেখা যায় কোনো একটি থানায় অজ্ঞাত হিসেবে একটি লাশ উদ্ধার করেছে। কিন্তু ওই ব্যক্তির নামে আগেই অন্য কোনো স্থানে নিখোঁজের ডায়েরি হয়েছে। কিন্তু সঠিক তথ্য না পাওয়ার কারণে একজন ব্যক্তি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি ঢাকার নদী ও জলাশয়গুলোর আশেপাশে লাইটিং এবং ওয়াকওয়ে করে দিলে মানুষ হাঁটাচলা করার পাশাপাশি অপরাধীরা সহজে অপরাধ করতে পারবে না।

;