‘মাদক মামলার আসামিদের সাজা বহালে ব্যবস্থা নিতে হবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলন ও জেলা প্রশাসকগণের মাসিক সমন্বয় সভা

চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলন ও জেলা প্রশাসকগণের মাসিক সমন্বয় সভা

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম বলেছেন, মাদক মামলার রায়ে যে সকল আসামির ৫ থেকে ৭ বছর সাজা হয়, আপিলের পরও তাদের সাজা যাতে বহাল থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোমবার (২৪ জুন) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত চোরাচালান নিরোধ আঞ্চলিক টাস্কফোর্স সভা, বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা, বিভাগীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন সহায়তা কমিটির সভা, বিভাগীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্স সভা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণের সাথে সমন্বয় সভা, বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলন ও জেলা প্রশাসকগণের মাসিক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় পৃথক পৃথক সভার আয়োজন করেন। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগের জেলা প্রশাসকগণের মধ্যে ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ২০২৪-২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। বিগত সভার কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম অনীক চৌধুরী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মাদক একটি বড় সমস্যা। মাদকের ছোবল থেকে আমাদের শিশু-কিশোর ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। হেরোইন, ইয়ারা ও ফেন্সিডিলসহ যারা মাদক নিয়ে আটক হয় তাদের মধ্যে কেউ মামলা থেকে খালাস পায়, আবার কারও কারও নির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা হয়। মাদক মামলার রায়ে যে সকল আসামির ৫ থেকে ৭ বছর সাজা হয়, আপিলের পরও তাদের সাজা যাতে বহাল থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মামলার সাজা ও খালাসের রায়ের কপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বাদীকে দিতে হবে। কাস্টমস অ্যাক্ট আইন ও ফৌজদারি আইনের মামলাগুলোর কার্যক্রম বাস্তবায়ন কতটুকু তা প্রতিমাসে প্রতিবেদন আকারে জানাতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। ১৮ বছরের নিচে যে সকল শিশু-কিশোর ড্যান্ডি (মিথাইল মেথাক্রাইলেট) ও মাদক সেবন করে তাদের বিচারের জন্য আলাদা শিশু আদালত রয়েছে। তাদেরকে সংশোধনের জন্য সমাজসেবার সহযোগিতায় গাজীপুরে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সকল ধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ইভটিজিং, খুন ও ধর্ষণের ঘটনা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। ইতোপূর্বে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে আসা মাদক, অস্ত্রের চোরাচালান, তেল পাচার রোধ ও চোরাচালান রোধে সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথে টহল আরও জোরদার করতে পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও নৌ-পুলিশসহসংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটতে পারবে না। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তদারকি বাড়াতে হবে। একইসাথে রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর প্রতিও নজর রাখতে হবে।

সভায় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরেআলম মিনা বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের কারণে বিভাগের প্রত্যেক জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে মাদক সেবন ও উদ্ধারের পর পুলিশ বাদী হয়ে যে সকল মামলা দায়ের করা হয় সেগুলোর রায়ের সাজা ও আপিলের বিষয়টি তদারকি করার জন্য পুলিশের আলাদা একটি ইউনিট রয়েছে। এ বিভাগে ৮০ শতাংশ আসামির সাজা হয় মাদকের মামলায় আর অন্যান্য বাদীর মামলায় সাজা হয় ২০ শতাংশ আসামির। চামড়ার দাম আরও বৃদ্ধি করতে ব্যবসায়ীদেও দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি ভারত থেকে আসা নিন্মমানের চিনি ও বিপিসি’র নিম্নমানের গ্যাস সিলিন্ডার বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন ডিআইজি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোয়ায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক সভাগুলোতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরেআলম মিনা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবদুল মান্নান মিয়া, বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়নের পরিচালক (লজিস্টিক) লে. কর্নেল মো. শরীফ উল্লাহ, বিডার পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান (চট্টগ্রাম), শাহীন ইমরান, (কক্সবাজার), মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন (রাঙামাটি), মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সুরাইয়া জাহান (লক্ষ্মীপুর), খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান (কুমিল্লা), মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার (ফেনী), মো. কামরুল হাসান (চাঁদপুর), মো. সহিদুজ্জামান (খাগড়াছড়ি), শাহ মোজাহিদ উদ্দিন (বান্দরবান), শারমিন আক্তার (নোয়াখালী), রেলওয়ে পুলিশ সুপার মো. হাছান চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লা, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের পিপি হরিপদ চক্রবর্তী, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাটের উপ-কমিশনার (কুমিল্লা) মো. কেফায়েত উল্লাহ মজুমদার, যুগ্ম কমিশনার (চট্টগ্রাম) মো. মারুফুর রহমান, সহকারী পরিচালক আবদুল মতিন তালুকদার, পণ্য পরিবহন মালিক গ্রুপের সদস্য গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

পৃথক সভাগুলোতে বিভাগের বিভিন্ন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, র‌্যাব-পুলিশ-কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশালে উচ্চ শব্দে হর্ণ বাজিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোররা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
বরিশালে উচ্চ শব্দে হর্ণ বাজিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোররা

বরিশালে উচ্চ শব্দে হর্ণ বাজিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোররা

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মোটরবাইক চালকদের মাঝে বেড়েছে উচ্চ শব্দের হলার (সাইলেন্সার/হর্ণ) ব্যবহারের প্রবণতা। বরিশাল নগরীর প্রতিটি স্থান থেকে উচ্চ গতিতে হলার থেকে নির্গত কান ফাটানো শব্দ করে দিনে-রাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। এর সাথে রয়েছে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারের প্রবণতা। এসব মোটরসাইকেল চালকদের প্রায় সবাই বরিশালের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর শিক্ষার্থী।

পূর্বে বরিশালে এমন মোডিফাইড বাইকের সংখ্যা হাতেগোনা থাকলেও এখন সেই সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা দামের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাইকগুলোকে মোডিফাই করে পরিণত করা হচ্ছে এমন অস্বস্তিকর যানবাহনে। ফলল বেপরোয়া চলাচলে সৃষ্ট উচ্চ শব্দে এক রকম অতিষ্ঠ নগরীর পথচারীসহ অন্যান্য যান চালকরা।

শুধুমাত্র নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা আর শুধুমাত্র শখের বশে দামি মোটরবাইকটির ক্ষতি করে এমন উচ্চ শব্দের বাইকে রুপান্তর করার কথা স্বীকার করেছে একাধিক কিশোর। এজন্য তারা মোটা অংকের টাকাও খরচ করছে। অন্যদিকে স্বাভাবিকভাবে শব্দ দূষণের ভয়ঙ্কর মাত্রায় থাকা বরিশালে এই বাইকগুলো এখন চরম বিরক্তির যানবাহন, যা বাড়াচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। 


ট্রাফিক আইন অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই এদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি সচেতন মহলের।

বরিশালের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে এমন বাইকগুলো। শুক্রবার (১২ জুলাই) বরিশাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকা থেকে ইয়ামাহা এমটি ব্র্যান্ডের একটি মোটরবাইকে হলার লাগিয়ে যেতে দেখা যায় এক কিশোরকে। সে নিজেকে বরিশাল নগরীর একটি কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানায়।

সিয়াম নামের ওই কিশোর বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করায় তাকে পরিবার থেকে বাইকটি দেওয়া হয়েছে। নিজের বাইকটিকে স্বতন্ত্র বানাতে মূলত হলারটি লাগিয়েছে ৮ হাজার টাকা খরচ করে। ঢাকায় তার বন্ধুদের দেখে এটি মডিফাই করেছে। এমন হলারের মূল্য ৫০ হাজার টাকার ওপরেও রয়েছে। বর্তমানে এটি স্টাইল ও ট্রেন্ড বলে জানায় সিয়াম। 

নগরীর প্রায় সব মোটরমেকানিক এই মোডিফাই করতে পারে। সে হলার লাগিয়েছে তবে অনেকেই উচ্চ শব্দের মোডিফিকেশনের জন্য নিজেদের বাইকের সাইলেন্সার পাইপটি কেটেও ফেলে। 

সিয়াম জানায়, সে যখন বাইক নিয়ে যায় অনেক সময় পথচারীরা গালাগাল করে। তবে তাতে কিছু যায় আসে না। শুধু ট্রাফিক পুলিশের চোখ এড়িয়ে চলতে হয়।

ভাটারখাল এলাকার মোটর সাইকেল মেকানিক জসিম জানান, আগে খুঁজেও এমন মোটরসাইকেল দেখা যেত না। এখন হলার লাগানোসহ নানা উপায়ে বাইকের শব্দ বাড়ানোর স্টাইল শুরু হয়েছে। গত ২ বছরে বরিশালে এমন বাইকের সংখ্যা লক্ষণীয় পর্যায়ে বেড়েছে। কেউ টাকা খরচ করে এটি করে, কেউ আবার বিনা পয়সায় কেটে ফেলে নিজের দামি বাইকের সাইলেন্সরটি। এতে বাইক চালালে স্বাভাবিক শব্দই বের হয় বিকট আকারে। টাকার হোক বা বিনে পয়সা, দুই ক্ষেত্রেই এমন মডিফিকেশনে বাইকের ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি। এতে তেল খরচ বাড়ে, দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় চলা বাইকের ইঞ্জিনে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এখন যার বাইক সে যদি ক্ষতির পরেও এমন মডিফাই করে তবে সে ক্ষেত্রে বলার কিছুই নেই।

বিকট শব্দে বিরক্ত আফরোজা আক্তার নামের এক নারী পথচারী বলেন, দিনে-রাতে যে কোনো সময় এমন বিকট শব্দের বাইকগুলো চলাচল করে। বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোডে একটি ভবনের ৪ তলায় বসবাস করেন তিনি। রয়েছে ২ বছরের এক সন্তান। প্রায়ই সড়ক দিয়ে বিকট শব্দে যায় এই বাইকগুলো। ৪ তলা বাসায় থেকেও হলারের শব্দে আতকে উঠতে হয়। প্রতিদিন একাধিকবার ভয় পায় তার সন্তান।

ষাটোর্ধ্ব রিকশাচালক আব্দুস সোবাহান বলেন, সারাদিন চারপাশ দিয়ে বেপরোয়াভাবে এমন অনেক মোটরসাইকেল যায়। অনেক সময় এত জোরে শব্দ হয় যে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করে। এদের বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, হাসপাতাল সরকার ঘোষিত নীরব এলাকা হলেও সড়কে উচ্চ শব্দে গাড়ি চলাচল করে সব সময়ই। গাড়ির হর্ণ অতিষ্ঠ করে তোলে। এরমধ্যে আবার এই মোটবাইকগুলো করে বাড়তি সমস্যা। কেউই নির্দেশনা মেনে চলে না। যে কারণে আমাদের দায়িত্ব পালনেও সমস্যা হয়।

তিনি বলেন, দূষিত শব্দের মধ্যে বেশিক্ষণ থাকলে মানুষের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া অপ্রস্তুত অবস্থায় খুব কাছাকাছি এমন শব্দে কানের তালা ফাটতে পারে। এছাড়া দুর্বল হৃদয়ের মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

পরিবেশ অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র ক্যামিস্ট গোলাম কিবরিয়া বলেন, এমনিতেই বরিশাল নগরীর সবগুলো স্থানে অতিরিক্ত মাত্রায় শব্দ। গাড়িগুলোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহৃত হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দ খুবই খারাপ আমাদের মস্তিষ্কের জন্য। শব্দ দূষণ মানবদেহে ধীরে ধীরে শ্রবণ, মস্তিষ্ক, দৃষ্টিশক্তিসহ আরও অনেক ক্ষতি করছে। দূষণ রোধে প্রতিমাসে পরিবেশ অধিদফতর মোবাইল কোর্ট চালায়। কিন্তু তাতেও নিয়ন্ত্রণ হয় না।

বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এসএম তানভীর আরাফাত জানান, সড়কে সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক বিভাগ সর্বদা সচেতন রয়েছে। এই ধরনের বাইকের হলার, উচ্চ শব্দের হর্ণ লাগানো বেশ গুরুতর একটি অপরাধ। ধরা পড়লেই এদের জরিমানা করা হয়। এমন বাইকারদের নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কঠোর হবে ট্রাফিক বিভাগ। এ সংক্রান্ত নির্ধারিত আইনের ধারা-৮৮ মোতাবেক নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার কোনরূপ শব্দ সৃষ্টি বা হর্ণ বাজানো বা কোনো যন্ত্র, যন্ত্রাংশ বা হর্ণ মোটরযানের স্থাপন সংক্রান্ত ৪৫ এর বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনধিক ১ বছর দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

;

কৃষকের দুই বিঘার মরিচ গাছ কাটলো দুর্বৃত্তরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
দুর্বৃত্তদের কাটা মরিচ গাছ হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন কৃষক উজ্জ্বল খান

দুর্বৃত্তদের কাটা মরিচ গাছ হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন কৃষক উজ্জ্বল খান

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রাতের আঁধারে দুই বিঘা জমির মরিচ গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) গভীর রাতে মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ধলসা-আটিগ্রাম মাঠে ধলসা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে উজ্জ্বল খানের দুই বিঘা জমির মরিচ খেত কেটে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

মরিচ চাষি উজ্জ্বল খানের পিতা মোহাম্মদ আলী জানান, আমরা কৃষক, কৃষিকাজ করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। আমার ছেলে উজ্জ্বল খান ধলসা-আটিগ্রাম মাঠে আমাদের ২ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করে। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমার ছেলে উক্ত মরিচের জমিতে গিয়ে মরিচ দেখভাল করে বাড়িতে চলে আসে। পরবর্তীতে শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার সময় আমার ছেলে তার উক্ত মরিচের জমি দেখভাল করার জন্য সেখানে গেলে দেখতে পায়, ২ বিঘা জমির প্রায় সকল মরিচের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে আমার ছেলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। পরবর্তীতে আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমার ছেলের পক্ষে আমি নিজে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছি।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা হাবিবুল্লাহ বলেন, মরিচ গাছ কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

;

রাজধানীসহ যেসব অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আজ মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

আজ মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীতে আজ সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। ঝুম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এমন অবস্থায় দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আগামীকাল (১৩ জুলাই) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে অতি ভারি বর্ষণও। এর মধ্যে ঢাকাসহ ১৩ জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের প্রবণতা সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

তবে বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

;

নওগাঁয় নদীতে ভাসছিল অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা

ছবি: নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পোরশা থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকালের দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ভাসমান লাশটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিয়ার রহমান বলেন, স্থানীয়রা খবর দিলে বিকেল ৪টার দিকে আমরা সেখানে দ্রুত চলে যাই এবং লাশটি উদ্ধার করি তবে অজ্ঞাত ওই লাশটি পঁচা অবস্থায় ছিলে এজন্য সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশটির পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এরপরে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।

;