যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে যৌতুকের টাকা না পেয়ে হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

রোববার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ শরমিন জাহানের আদালতে এ মামলাটি করেন ভুক্তভোগীর মা লাকী আক্তার।

মামলার আসামি হলেন- রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই থানার রাঙ্গুনিয়া বাজার হোসেনের বাড়ির মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মো. সোহেল (৩৫)। বর্তমানে ভিকটিমকে নিয়ে তিনি হাটহাজারী থানার ৫ নম্বর বুড়িশ্চর ওয়ার্ডের আহমদ আলী টেন্ডলের বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মো. সোহেলের সাথে বিয়ে হয় ভিকটিমের। আকদ অনুষ্ঠান শেষে সোহেলকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ৭০ হাজার টাকার ফার্নিচার দেওয়া হয়। এছাড়াও দেওয়া হয় ৩টি স্বর্ণের আংটি। বের একমাস পর সোহেল তাদের ভাড়া বাসার কাছেই রাজমিস্ত্রীর দোকান দিতে চায়। এসময় ভিকটিমের বাবার কাছ থেকে সে বিভিন্ন সময়ে যৌতুক দাবি করে। আর তা না দেওয়ায় মারধর শুরু করে।

এদিকে, বিয়ের সময় সোহেলের পরিবারকে ৭০ হাজার টাকা ফার্নিচার বাবদ দেওয়া হলেও সেই টাকা দিয়ে ফার্নিচার না কিনে আরও এক লাখ টাকা দিতে চাপ দেয় সোহেল। এরপর বাধ্য হয়েই ভিকটিমের বাবা ৫০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু এরপরেও নিয়মিত স্ত্রীকে যৌতুকের জন্যে নির্যাতন করতো সোহেল। গত বছরের ২০ জুলাই ভিকটিমকে আইইইউডি (কপার-টি) করানো হয়। এরপর থেকেই ভিকটিমের শরীরে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। কিন্তু স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয় সোহেল।

চলতি বছরের ১ মে ভিকটিম সোহেলকে চিকিৎসার কথা জানালে দোকান করতে এক লাখ টাকা বাবার কাছ থেকে এনে না দিলে তালাক দিয়ে অন্য নারীকে বিয়ে হুমকি দেয় সে। কিন্তু সোহেলের স্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে পারবে না জানালে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। পরদিন ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে সকাল ৬টার দিকে ঘরের মাটির চুলায় তার বাঁ পা ঢুকিয়ে দেয়। এসময় ভিকটিমের পায়ের চামড়া ও মাংস ঝলসে যায়।

এদিকে, ভিকটিমের পরিবারকে রান্না করতে পা পুড়েছে বলে জানায় সোহেল। সাথে সাথে ভিকটিমের মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান।

মামলার বিষয়টি করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি বলেন, হাটহাজারীতে হাত-পা বেঁধে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভিকটিমের মা। আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে হাটহাজারী থানার ওসিকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

হিজলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ১



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, বরিশাল
বরিশালের হিজলা থানা

বরিশালের হিজলা থানা

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালের হিজলায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুফিয়ান সরদারকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

নিহত সুফিয়ান সরদার উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জামাল সরদারের ছেলে। তিনি মেমানিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাতে ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় অপর পক্ষের ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বিষয়ে নিশ্চিত করে বরিশাল হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবাইর আহম্মেদ জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও কোপাকুপির ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন ৫ জন। আহতদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ৪ জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবা এ ঘটনায় মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সুফিয়ানের মামা ও মেমানিয়া ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নোমান সরদার জানান, মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় মাছঘাট দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য মাইনুল, ওহাব আলী গোলদারের বিরোধ রয়েছে। ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি সুফিয়ানের কারণে প্রতিপক্ষরা এলাকায় সন্ত্রাসী করতে পারে না। এ কারণে তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।

ইউপি সদস্য নোমানের দাবি, বুধবার রাত ১০টার দিকে সুফিয়ান তার দুই বন্ধুকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও বিএনপি নেতা মাইনুলের বাড়ির সামনে পৌঁছলে প্রতিপক্ষ হামলা করে। এতে তার দুই বন্ধু পালিয়ে গেলে সুফিয়ানকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। খবর পেয়ে তারা গিয়ে সুফিয়ানকে উদ্ধার করে প্রথমে হিজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে মারা যান সুফিয়ান।

;

সন্ত্রাসীরা যেন ঢাকা ছাড়তে না পারে, সে পরিকল্পনা করছে ডিএমপি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত, ঢাকা  মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

ছবি: সংগৃহীত, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, সরকারি চাকরিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় যারা সহিংসতা করেছে, তারা যেন ঢাকা শহর না ছাড়তে পারে, সেই লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পরিকল্পনা করছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি সদর দফতরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিপ্লব কুমার বলেন, আমরা অত্যন্ত ক্ষোভ ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, দেশে উন্নয়নের যে জোয়ার প্রধানমন্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, এই সন্ত্রাসী চক্র কিন্তু বেছে বেছে সেগুলোতে হামলা করেছে। ‘সেতু ভবন’-এ হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা।

মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল সেন্টার সেতু ভবন ও পদ্মাসেতুরও মূল সেন্টারও সেতু ভবন। প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়ন করেছেন দেশে, সেই উন্নয়নের যাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য, যেখানে থেকে উন্নয়নের কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে, সেগুলোকে বেছে বেছে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। সমস্ত নথিপত্র তারা পুড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ জন্য জামাত ও বিএনপি চক্রকে ধরার জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সেটাই করবে। সন্ত্রাসীদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার জন্য ডিএমপি কাজ করছে।

এই কাজ আরো বেগবান করা হবে। আমরা আরো পরিকল্পনা করছি যেন এই ধরনের সন্ত্রাসীরা ঢাকা না ছাড়তে পারে। ঢাকার ভেতরে যারাই থাকুক না কেন, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে ডিএমপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

আরো কতসংখ্যক লোকজন ঢাকায় আছে বলে সন্দেহ করছে ডিএমপি, নিরাপত্তার কোনো হুমকি আছে কি না জানতে চাইলে ডিএমপির এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, গত দুই, তিনদিন যাবত সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিয়ে আছে। আমাদের কিন্তু ‘ব্লকড রেইড’ চলমান রয়েছে।

‘ব্লকড রেইড’ ছাড়াও ঢাকায় দিন-রাত পুলিশের অপারেশন চলমান। সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিয়ে যেখানেই থাকুক, পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে কক্সবাজার কিংবা পঞ্চগড়ে পালিয়ে যাক, বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে পালিয়ে যাক না কেন, আমরা তাদের গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করবো। পুলিশের পোশাকের ওপর আঘাত করা মানে আইজিপি স্যারের ওপর আঘাত করা! কমিশনার স্যারের ওপর আঘাত করা! যারা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করেছে, তাদের এই ‘কালো হাত’ আইনগতভাবে ভেঙে দেওয়া হবে।

;

শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

  • Font increase
  • Font Decrease

জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় শোক প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, শাফিন আহমেদের মা নজরুল সংগীতের মহাতারকা ফিরোজা বেগম এবং বাবা সুরকার কমল দাশগুপ্ত। এই পরিবারে জন্ম নেওয়ার সুবাদে শাফিন ছোটবেলা থেকেই গানের মধ্যে বড় হয়েছেন। বাবার কাছে যেমন উচ্চাঙ্গ সংগীত মাঝে মাঝে শিখেছেন তেমনি মার কাছে শিখেছেন নজরুল সংগীত। এরপর বিদেশে পড়াশোনার কারণে পাশ্চাত্যর সংস্পর্শে এসে তার ব্যান্ড সংগীতের শুরু।

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মাইলস’ গঠিত হওয়ার কিছুদিন পর এতে যুক্ত হন শাফিন ও হামিন। এরপর বাংলাদেশের অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গান উপহার দিয়েছেন তারা। ব্যান্ডের বাইরেও শাফিনের জনপ্রিয় অসংখ্য গান রয়েছে।

;

স্বস্তির মেট্রোরেল যেন ধ্বংসস্তুপ



গুলশান জাহান সারিকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সকাল হলেই যেখানে হাজার হাজার মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকতো স্থানটি, সেটিই এখন নিস্তবদ্ধতায় পরিপূর্ণ। অফিস আওয়ারে লম্বা লাইন অতিক্রম করে কর্মব্যস্ত মানুষের এখন আর মেট্রোতে চেপে বসার কোনো তাড়া নেই। সব প্লাটফর্মগুলো ফাঁকা দাঁড়িয়ে। পরিবেশটা দেখলে মনে হবে যেন রাজ্যের সব নীরবতা ভর করেছে স্টেশনগুলোতে। অথচ গত কয়েকদিন আগেও স্থানটি ছিল মানুষের পদচারণায় মুখরিত। এক নিমিষেই আজ সব থমকে গেছে। রাজধানীবাসীর কাছে এক টুকরো আবেগের স্থানটি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। যার হিসেব হয়তো বহুদিন বয়ে বেড়াতে হবে এই নগরীর বাসিন্দাদের।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে অবস্থিত মেট্রোস্টেশনের ক্ষত-বিক্ষত চেহারাই জানান দিচ্ছে কতটা আঘাত সইতে হয়েছে স্টেশনটিকে।

সিড়ি দিয়ে উঠতে গিয়েই দেখা যায় এদিক-সেদিক ভাঙা কাচের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। প্রায় প্রতিটি জানালার কাঁচ ভাঙা। হঠাৎ দেখলে মনে হবে যেন কোন বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে অথবা ক্রেন বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়েছে স্থাপনা। যে স্বয়ংক্রিয় টিকিট কাউন্টারগুলোচতে প্রতিদিন লম্বা লাইন ধরে মানুষ টিকিট নিতো সেই টিকিট বুথগুলোর স্ক্রিন ভেঙে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। টিকিট ভেন্ডিং মেশিন, পেসেঞ্জার পাস গেটগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফায়ারবক্স থেকে শুরু করে টিকিট মাস্টারের ঘরের কম্পিউটার, ভিতরের এসি, ফ্যান, লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা, টিকিট বুথ, চেয়ার, টেবিল, ফ্যান, স্টেশন ক্লক ভাঙচুরের চিত্র নির্মম আঘাতের সাক্ষ্য দিচ্ছে।


স্টেশনের দ্বিতীয় তলায়ও একই অবস্থা। টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম থেকে শুরু করে সব প্রকার নেটওয়ার্ক ডিভাইস, সিকিউরিটি এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম, ইলেকট্রনিকাল, ম্যাকানিকাল সিস্টেম, এন্ট্রি-এক্সিট দরজা কিছুই বাদ যায়নি এই নারকীয় তাণ্ডব থেকে।

স্বস্তির মেট্রোর এমন অবস্থা দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কর্মজীবী মানুষের।

আক্ষেপের সুরে স্টেশনের নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমার অফিস কাওরানবাজার। আমার মেয়ে হলিক্রসে পড়ার কারণে আমরা মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর থেকে এতে নিয়মিত যাতায়াত করি। কিন্তু এখন এমন পরিস্থিতিতে যাতায়াতে কষ্ট হয়ে গেছে। ১০ মিনিটের রাস্তা এখন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লাগবে।


মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রী লাবন্য বলেন, মেয়েদের জন্য পুরো সেইফ একটা জার্নি ছিল মেট্রোরেল। কোন ঝামেলা ছিল না। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যেত। কিন্তু এখন সেই আবার আগের মত পাব্লিক বাসে যেতে হবে। এখন আশা করছি যতদ্রুত সম্ভব এটা ঠিক হোক।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে মেট্রোর লাইনের নিচে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে ফুটওভার ব্রিজে পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। সেই আগুনের মধ্য দিয়েই একটি ট্রেন ছুটে যায়। পরে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরদিন সন্ধ্যায় মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। টিকেট ভেন্ডিং মেশিন, মূল স্টেশনে যাত্রী প্রবেশের পাঞ্চ মেশিনসহ সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।


একই দিনে পল্লবী ও ১১ নম্বর স্টেশনেও হামলা হয়। সেখানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষতি হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে ২০ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও ২২ জুলাই একটি কেইস ফাইল করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। 

;