চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস, অবৈধ সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন'র সিদ্ধান্ত



স্টাফ কসেরপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের পাহাড় ধসের শঙ্কা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরাতে পাহাড়ে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যেসব অবৈধ সংযোগ রয়েছে সবগুলো বিচ্ছিন্ন করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেল তিনটার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ২৮তম সভার সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভার সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে বিভাগী কমিশনার তোফায়েল ইসলাম বলেন, যেসব দপ্তর-সংস্থার মালিকানাধীন পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে মানুষ বসবাস করছে তাদেরকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা দপ্তরগুলোর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহর যে লাইনগুলো রয়েছে সেগুলো বিচ্ছিন্ন করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটি বরাবর এটির প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তাছাড়া পাহাড়ের পাদ দেশে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে। তাই সেখান থেকে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

এসময় ‌সারা বছর না উচ্ছেদ করে শুধু বর্ষা আসলেই কেন এই উচ্ছেদ কার্যক্রম করা হয়- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তোফায়েল ইসলাম বলেন, আমরা তো বলেছি কার্যক্রম সারা বছর ধরে চলমান আছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণের প্রশ্নটা আসে বৃষ্টি হলে।

এর আগে বিকেল তিনটা থেকে শুরু হওয়া এই সভায়টি প্রায় একঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে। সভায় পাহাড় ব্যবস্থা কমিটির সদস্যরাসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৫ হাজার ৩০০টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এসব সংযোগ দিয়ে পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

সভায় পাহাড়ে অবৈধ কোনো পানির সংযোগ নেই বলে দাবি করেন চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী সজীব বড়ুয়া। তিনি বলেন, আমরা পাহাড়ে কোনো পানির সংযোগ দেয়নি। যদি কোনো কারণে কোন সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে আমরা সেটি বিচ্ছিন্ন করবো। পাহাড় ব্যবস্থা কমিটির পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ওয়াসা একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাহাড়ের কোথাও ডিপ টিউবওয়েল আছে কিনা সেটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে কমিটি আমাদেরকে প্রতিবেদন জমা দিবে। তারপর আমরা আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান করব।

সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলমান আছি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান সবসময় চলমান আছে। শহরে খুলশী আর বায়েজিদ এই দুই এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনাটা বেশি। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আমাদের ২০২৩ সালে মামলা হয়েছে ১৭টি। চলতি বছরেও এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা হয়েছে এবং ২২ লাখ টাকা পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে।

শুধু মামলা হচ্ছে শাস্তির হচ্ছে না কেন- বিভাগীয় কমিশনারের এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, শাস্তি আছে স্যার, এ কাজের মধ্যে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তাদেরও সহযোগিতা আছে।

সভায় পাহাড়কে রক্ষার জন্য গোড়ায় হাত দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে পরামর্শ দেন চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলের সভাপতি সভাপতি সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ। তিনি বলেন, আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে জানতে চাই, অনেকগুলা মামলা হয়েছে তবে এর মধ্যে কয়েক জনের শাস্তি হয়েছে। এ পর্যন্ত আমার রিপোর্টে ৭৪টি পাহাড় আপনার এলাকায় কাটা হয়েছে। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরে মামলা হয় এই পর্যন্ত কয়জন আসামির বিরুদ্ধে শাস্তি হয়েছে। আমি আপনার মাধ্যমে উনার কাছ থেকে জানতে চাই। আর যে সমস্ত মামলা হয় সেগুলোর মধ্যে মালিককে মামলার আসামি করা হয় না, করা হয় শ্রমিক বা অন্যান্যদেরকে।

এসময় তিনি পাহাড় যারা কাটে তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা হয় এমন আইন করার দাবি জানান। পাহাড় রক্ষা কমিটির এই সদস্য বলেন, যে পাহাড় কাটে তার বিরুদ্ধে দুই থেকে তিনটা মামলা হলে বিগত মামলাগুলোর কোন রেফারেন্স দেওয়া হয় না চার্জশিটের মধ্যে। আদালত একটা মামলা দিয়ে তাকে জামিন দিয়ে দিচ্ছে অথবা তার শাস্তি হচ্ছে না। এখানে সবাই আছে, আমি আপনার মাধ্যমে যারা পাহাড় কাটে তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। এটি আপনি মাননীয় মন্ত্রীর মাধ্যমে জানান আমার দাবিটা। এটি আজকে প্রস্তাব করে আমাদের মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় পাঠানো হোক।

পাহাড় কাটার কারণে আজকে পাহাড় ধস হচ্ছে। পাহাড় কাটলে বা বৃষ্টি হলে আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় সহ অন্যান্যদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। এসব কেন হচ্ছে, আমাদের সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। আমার মনে হয় আমাদের গোড়ায় গলদ। গোড়ায় আমাদের ঠিক করতে হবে। পাহাড়ের দুর্যোগের সময় রাতেও আমরা গিয়ে দেখেছি বিদ্যুৎ রয়েছে, ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সেখানে পানির লাইন নেই. কিন্তু আমরা সুন্দর পানির লাইন দেখেছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে যে পাহাড়গুলোতে দেখি সুন্দর রাস্তাও করে দেওয়া হয়েছে।

এসময় বিভাগীয় কমিশনার কারা করছে জানতে চাইলে চৌধুরী ফরিদ বলেন, এটাই তো, আপনি গোড়ায় আসেন। আমরা যাতায়াতের জন্য সুন্দর সুন্দর রাস্তা ব্যবস্থা করে দেব, পানির ব্যবস্থা করে দেব, বিদ্যুৎ লাইন দেব! এদেরকে চিহ্নিত করা দরকার এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অবৈধ পাহাড়ে কেন বৈধ রাস্তা হবে আমরা এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানাবো।

বিভাগী কমিশনার তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিসট্রিভিউশন লিমিটেড, রেলওয়ে, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, সওজ, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিধিও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান।

তিনি বলেন, গত এক বছরে চট্টগ্রাম নগরের মোট ২৬টি পাহাড় রয়েছে, আমরা সেই পাহাড়গুলোতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি, যেন কোনভাবে কেউ পাহাড় না কাটে। এবং সেখানে আমাদের সহকারি কমিশনারদের (ভূমি) মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। যাতে করে স্থানীয়রা আমাদের জানাতে পারে। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন সময় দেখা যায় পাহাড় কাটা হচ্ছে। আমরা ধারণা করছি আগামী তিনদিন যদি ভারি বর্ষণ হয় তাহলে ভূমিধসের একটি আশঙ্কা রয়েছে। সে আশঙ্কা থেকেই আজকের এই সভাটি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে এই পাহাড়গুলোতে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন তারা যেন ছেড়ে চলে যান। এই পাহাড়গুলোর মধ্যে কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন আর কিছু বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার রয়েছে। আমরা সেই সকল দপ্তর-সংস্থাকে অনুরোধ করেছি তাদের পাহাড়ের যে সকল অবৈধ বসবাসকারীরা রয়েছে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। প্রয়োজনে আমাদেরকে তালিকা দিয়ে উচ্ছেদ করার কথা বলা হলে আমরা নির্বাহীদের দিয়ে সেটি উচ্ছেদ করব।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গত এক বছরে খাস খতিয়ানভুক্ত ১০ একর জায়গা উদ্ধার করেছে। সেই ১০ একর জমি উদ্ধারের পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরও উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত এক বছরে ৫টি উচ্ছেদ অভিযান আমরা করেছি। ১১টির বেশি পরবিারকে উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু দপ্তর সংস্থার পাহাড় রয়েছে যেগুলোতে আমরা অভিযান চালাতে পারি না। এসব পাহাড়ে রাস্তা করা হচ্ছে, পাহাড় কেটে বাড়ি বানানো হচ্ছে, ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এখানে অনেকেই সম্পৃক্ত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে দু-একজন বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করেছে। এর বাইরে দু-একজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যখন আমরা অভিযোগ পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা তাদেরকে শোকজ করেছি। তাদেরকে
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা উপরে বলেছি, তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে তারা মহামান্য হাইকোর্ট থেকে একটি আদেশ এনে পুনরায় দায়িত্ব পালন করতেছেন।

ডিসি বলেন, আজকে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। আমরা আশা করি, যারা পাহাড়ে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন তারা সেখান থেকে যাতে নিরাপদ আশ্রয়ে আসেন। আমরা আমাদের অভিযান চালাচ্ছি এবং আমরা অন্যান্য দপ্তর-সংস্থাকে বলব তারা যেন তাদের পাহাড়গুলোকে সংরক্ষণ করেন।

উচ্ছেদে বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন বাধা বলতে এখানে অনেকগুলো মানুষ বসবাস করে, প্রায় ২০ হাজার। এখান থেকে বিপুল জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে পাহাড়গুলোর মালিকানা বিভিন্ন দপ্তর সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কাছে দিয়েছে তারা যদি উচ্ছেদ করার পর এগুলোকে সংরক্ষণ করে রাখেন বা সীমানা প্রাচীর দিয়ে রাখেন, তাহলে নতুন করে সেখানে আর কেউ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। এসব না করার কারণে দেখা যায়, আমরা নামিয়ে নিয়ে আসছি আবার কিন্তু তারা উঠে যাচ্ছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না, আমরাও চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না পাহাড়ে যারা মালিক তারা সচেতন হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো না।

দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ, বিটিভিতে আগুন, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে!



বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সবশেষ পরিস্থিতির খবর জানা এবং জানানো এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ঢাকাসহ সাড়া দেশে ইন্টারনেট সংযোগ হয় সীমিত নয়তো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও বাংলাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক কল করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনটা জানা যাচ্ছে বাংলাদেশ সীমার বাইরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে।

সবশেষ খবরগুলো বলছে এ পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হয়েছে কোটা বিষয়ক আন্দোলনের জেরে। এদের মধ্যে ৬ জন নিহত হয়েছে বৃহস্পতিবার। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আসছে। তাতে কেউ কেউ মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫ হয়েছে বলে জানাচ্ছেন। যদিও এই তথ্য কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা এমন খবর দিচ্ছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও।

বৃহস্পতিবার সন্ধার পর থেকেই ঢাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের খবর আসতে থাকে। তবে যতক্ষণ ইন্টারনেট চালু ছিলো কিংবা ফেসবুকে আপডেট পাওয়া যাচ্ছিলো তাতে বলা হয়েছে, বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। যারা ছবি সামাজিক মাধ্যমে দেখা গেছে। এছাড়াও মেট্রো রেলের একটি ট্রেন পুড়িয়ে দেওয়ার তথ্য ও ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসতে থাকে।

বিটিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এই আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার পোস্ট ছিলো। তাতে বলা হচ্ছিলো বেশ কিছু মানুষ ওই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে তথ্য ছিলো সেখানে ফায়ার ব্রিগেডের অগ্নিনির্বাপক দলকে যেতে দেওয়া হচ্ছিলো না। পরে অবশ্য আপডেট আসে যে, দমকলবাহিনী সেখানে পৌঁছেছে। তবে আগেই বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে নানা তথ্য আসছে। এএফপির খবরে বলা হয়েছে সব মিলিয়ে ৩২ জন নিহত হয়েছে। যাদের অধিকাংশই প্রাণ হারিয়েছেন বৃহস্পতিবার।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ২ জন সাংবাদিক রয়েছেন। এদের একজন ঢাকা টাইমসের। যিনি রাজধানীতে প্রাণ হারিয়েছেন। অপরজন গাজীপুরে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গাজীপুরের ঘটনাটি নিশ্চিত করা যায়নি।

বিটিভিতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার আগে আন্দোলনকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনেও আগুন জ্বালিয়ে দেয় এমন তথ্যও দিচ্ছে একটি সংবাদমাধ্যম। তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, বিটিভির ভেতরে কয়েকজন আটকা পড়েন। এবং তারা নিরাপদে ছিলেন না।

;

ছাত্রছাত্রীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে দুর্বৃত্তরা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গভীর পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকার কর্তৃক কোটা সংস্কারের বিষয়ে দাবি মেনে নেওয়া সত্ত্বেও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুর্বৃত্তরা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও সাধারণ জনগণের উপর হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, 'দুর্বৃত্তরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ভবন, বিভিন্ন পুলিশ স্থাপনা ও মেয়র হানিফ টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে নিরীহ জনগণ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ ও সাংবাদিকগণ হতাহত হচ্ছে। এ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চরম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, যদি দুর্বৃত্তরা তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ অব্যাহত রাখে তাহলে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে বাধ্য হবে। সকলকে এহেন কার্যকলাপ হতে বিরত থাকতে অনুরোধ করা যাচ্ছে।'

রাজধানীসহ সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতায় অনেক আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটে।

এ পরিস্থিতিতে দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সরকার নীতিগতভাবে একমত। সরকার কোটা সংস্কারের পক্ষে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের সাথে আজই বসতে রাজি আমরা।’

এরপরপরই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা আতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য আগামী রোববার শুনানির দিন ধার্য করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ চেম্বার আদালত এ দিন ধার্য করে।

সহিংসতা ঠেকাতে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীতে বুধবার রাতেই মোতায়েন করা হয়েছে ১৬ প্লাটুন আনসার সদস্য।

;

কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত-১০



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়া শহরে পুলিশের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল থেকে কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দামবাজার, সার্কিট হাউজের সামনে ও ডিসি কোর্ট চত্বরের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুরো কুষ্টিয়া শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেলে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা।

সেখান থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে মজমপুরের দিকে আসছিলো তারা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের বাধা দিলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

আন্দোলনকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর। এতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মহাসড়কে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জ করে এবং ব্যাপক গুলি ও টিয়াশেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের দুজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো: সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক দখল করে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল।

পুলিশ তাদের সড়ক ছেড়ে দিতে বললে তারা পুলিশের ওপর হমলা চালায়। জবাবে পুলিশও জানমালের নিরাপত্তার জন্যে গুলি ও টিয়াশেল নিক্ষেপ করে।

;

নাশকতার নির্দেশ তারেকের: পররাষ্ট্রমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে চেপে বসেছে বিএনপি-জামায়াত। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আন্দোলনটা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে তারা। তারেক রহমান লন্ডন থেকে ছাত্রদল-যুবদল ও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ে নাশকতা করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছে। এবং যে যত বেশি নাশকতা করবে, তাকে ততবেশি পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা দিচ্ছে। আমাদের কাছে সেই তথ্য প্রমাণ আছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর হাত বুলিয়ে যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল, তারা এখন বিএনপি-জামায়াতের পকেটে ঢুকে গেছে। বুধবার রাতে তাদের প্রেসক্রিপশনেই বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অতীতেও আমরা দেখেছি কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথা বলে অনেকে হাজির হয়েছিল, পরে তাদের মোবাইল চেক করে পাওয়া গেছে, লাখ-কোটি টাকা তাদেরকে বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাঠানো হয়েছে। এখন তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তারা নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। এবারও কোটা আন্দোলনের নেতাদের কাউকে কাউকে বিএনপি-জামায়াত পকেটে পুরে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে কোটাকে ইস্যু করে দেশব্যাপী বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্যে সমস্ত ঘটনার বিচার হবে, যারাই দোষী হবেন তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে, কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তারা একটি সুফল পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, আন্দোলনকারীরা আদালতে ন্যায় বিচার পাবে সেই ঈঙ্গিত দিয়েছেন। ইতোমধ্যে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছিল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের পক্ষেই লড়ছে, তাদের পক্ষেই কথা বলছে। সরকার যে কোটা প্রথা বাতিল করেছিল, সেটি হাইকোর্ট পুনর্বহাল করে, রাষ্ট্রপক্ষ আবার আপিল বিভাগে গিয়ে সেটির ওপর স্থগিতাদেশ আনে। অর্থাৎ সরকার যে কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল সেটি এখনো বলবৎ আছে। যেহেতু আপিল বিভাগে শুনানি হবে, সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী এই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আজ বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এটি কোটার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তাদের কর্মসূচি নয়, এটি বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচি। এবং তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘাড়ের ওপর চেপে বসে তাদের বিভ্রান্ত করছে। কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তাদের মাঝে এই কর্মসূচি নিয়ে কোন ঐক্যমত ছিল না। দুয়েকজনকে ভাগিয়ে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত তাদের মাধ্যমে এই কর্মসূচি দিয়েছে।

কোটার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তাদের হাতে আন্দোলনের চাবিকাঠি নাই উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বিএনপি-জামায়াত তাদের নিয়ে খেলছে। রাস্তায় রাস্তায় ৩০-৩৫ বছরের বয়স্ক বাচ্চার বাবারা লাঠিসোটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তারা তো ছাত্র নয়, তারা বিএনপি জামায়াতের কর্মী। কারো কারো দাঁড়িতে একটু পাকও ধরেছে। ঢাকা শহরে আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসীদের এনে জড়ো করা হয়েছে। ২০১৩ এবং ১৪-১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত যেভাবে নৈরাজ্য করেছিল ঠিক একই কায়দায় বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন চট্টগ্রামে কিভাবে ছাদের ওপর থেকে ছাত্রলীগের ছেলেদের ফেলে দেওয়া হয়েছে, কয়েকজন মৃত্যুর সাথে ছটফট করছে, একজন মৃত্যুবরণ করেছে। সারাদেশে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেছে। তারা ভেবেছে এইভাবে পার পেয়ে যাবে। প্রত্যেকটা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সময়মত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকার যতোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি নেতাদের ফোনালাপ পাশ হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, আমরা রাজপথ পাহারা দিয়েছি ভোটের আগে, ভোটের পর তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীদের সকলে মিলে আমাদেরকে রাজপথ পাহারা দিতে হবে, দেশ পাহারা দিতে হবে, দেশ পাহারা দিয়ে এই সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা বুকের রক্ত ঢেলে এইদেশ স্বাধীন করেছেন, দেশ যখন স্বাধীন হয় তখন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারে বাঙালি সচিব ছিল একজন। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছি বিদায় আমরা সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখি, সরকারি চাকরি পায়। তাই মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা কখনো কাম্য নয়। সেটির দেশের মানুষ মেনে নিতে পারে না।

চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সরওয়ার মনি’র সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহের হোসেন চৌধুরী এমপি, শামীমা হারুন লুবনা এমপি, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধার সন্তান আশিকুন্নবী চৌধুরী শাওন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন চৌধুরী, লায়ন হায়দার আলী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ প্রমুখ।

;