হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, হবিগঞ্জ
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে রিচি ইউনিয়নের জালালাবাদ গ্রামের দিকে নদীর বাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। ফলে প্রবল বেগে নদীর পানি জালালাবাদসহ আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, দুপুর ১টার দিকে খোয়াই নদীর বাল্লা পয়েন্টে পানি কমতে শুরু করেছে। খুব দ্রুতই পানি নিচে নেমে যাবে।

তিনি বলেন, আসলে শহরের গরুর বাজারের পরের অংশটিকে আমরা বলি ফসলরক্ষা বাঁধ। যদি বর্ষা মৌসুমে এসব বাঁধ না ভাঙে, তাহলে শহররক্ষা বাঁধের দুর্বল অংশ ভেঙে পানি শহরে প্রবেশ করতে পারে। তাই শহরকে রক্ষার স্বার্থেই আসলে এসব অংশের ভাঙন দিয়ে পানি ছাড়তে হয়। আর তাছাড়া এখন হাওরে পানি প্রয়োজনও। নদীর পানি ভাটিতে হাওরে প্রবেশ করবে এটিই স্বাভাবিক। এসব ভাঙন আবার ফসল রক্ষার জন্য বর্ষার পর সংস্কার করা হবে। এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে জানা গেছে, দু’দিনের টানা বর্ষণ এবং উজানে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বুধবার সকাল থেকে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে চলে যায়। সকাল ১০টায় নদীর চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্তে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩১ সেন্টিমিটার এবং শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

কুশিয়ারা নদীর পানি বানিয়াচং উপজেলার মার্কুলী পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার এবং কালনী নদীর পানি আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১টার পর থেকে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে কমতে শুরু করেছে।

নাশকতার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
নাশকতার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নাশকতার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, নাশকতার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‌আমরা বাংলাদেশের মানুষ বিস্মিত হয়েছি, হতবাক হয়েছি। আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম যে, বাঙালি এই কাজ (ধ্বংসযজ্ঞ) কীভাবে করতে পারে! পরবর্তীতে মনে হয়েছে যে, এই বাঙালিইতো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিকে হত্যা করেছে। এই বাঙালিরাই আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। এই ঘটনাটাই আমাদের সবকিছু মনে করিয়ে দেয়। তবে নাশকতাকারী যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত নাশকতাকারীরা চিহ্নিত হবে না, ততক্ষণ আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমরা বীরের জাতি। একাত্তরে অস্ত্র ছাড়াই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণ ও দূরদর্শী চিন্তাভাবনা সম্পন্ন একজন মানুষ। রংপুরে যে নাশকতা হয়েছে, এর পেছনে কারা জড়িত এবং কারা অর্থের জোগানদাতা সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ নেবেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, পকেটে হাত রেখে ঘুমিয়ে থাকলে চলবে না। ওরা সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে মেরে ফেলবে। আমাদের যা করার কথা ছিল তা করতে পারিনি।

সভার শুরুতে সহিংসতায় রংপুরে ক্ষয়ক্ষতি ও সার্বিক পরিস্থিতি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মোবাশ্বের হাসান। এতে রংপুরে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পৌনে ১১ কোটি টাকা দেখানো হয়। এছাড়া নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ১৮২ জন গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানানো হয়।

এর আগে, রংপুরে নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা পরিদর্শন করতে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এসময় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য টিপু মুনশিসহ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

;

সংঘাত নেই, তবে আতঙ্কে হকারশূন্য রামপুরা সড়ক



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪
ছবি: বার্তা২৪, রামপুৃরা সড়ক হকারশূন্য

ছবি: বার্তা২৪, রামপুৃরা সড়ক হকারশূন্য

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যে সংঘর্ষ হয়েছে, তার অন্যতম হটস্পট ছিল রামপুরা ও বাড্ডা সড়ক।

বুধবার (১৭ জুলাই) থেকে শনিবার (২১ জুলাই) পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এই সড়ক।

দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় সড়কের পাশে থাকা ফুটপাতে হকারদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী। সংঘর্ষ ও সহিংসতা শেষে জনজীবন স্বাভাবিক হলেও আগের সড়কের পাশে ফুটপাথে হকার শূন্য রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার প্রধান সড়ক।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রামপুরা বাজার থেকে বাড্ডা এলাকার সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংঘাত শেষ হয়ে জনজীবন স্বাভাবিক হলেও অনেক হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে বসছেন না। এতে ফুটপাতে চলাচলকারী পথচারীরা যেমন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন তেমনি দোকানিদের স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়।

রামপুরা মোল্লা টাওয়ায়ের সামনের মোবাইল ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, আন্দোলনের সময় গত বৃহস্পতিবার অনেক ফুটপাতের ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ শুরু হলে অনেকে নিরাপদ জায়গায় চলে গেলে তাদের মাচা ও চকিতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। অনেকে ভয়ে নিজ নিজ জেলা চলে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

একই কথা বলছেন, রামপুরা বাজারে অবস্থিত বাটা শোরুমের কর্মচারী মোজাম্মেল হোসেন।

মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমাদের এই শোরুমের সামনে সাতটা ছোট ছোট মাচার দোকানি ছিল। শোরুম খোলার পর থেকে কাউকে দেখছি না, ছবি- বার্তা২৪.কম


মোজাম্মেল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের এই শোরুমের সামনে সাতটা ছোট ছোট মাচার দোকানি ছিল। সংঘর্ষের পর থেকে কারফিউ চলায় আমাদের শোরুম বন্ধ ছিল। বুধবার (২৪ জুলাই) থেকে শোরুম খোলার পর থেকে কাউকে দেখছি না। সড়কের ফুটপাত যেখানে আগে থাকতো হকারদের দখলে, সেই হকারদের না থাকায় নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন সাধারণ পথচারীরা।

মেরুল বাড্ডা এলাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন আল-আমিন। বার্তা২৪.কমকে আল-আমিন বলেন, বুধবার কারফিউ শিথিল হওয়ায় পর থেকে এই সড়কের দুই পাশে ফুটপাতে কোনো হকার নেই। গতকাল কেউ না বসলেও আজকে গুটি কয়েকজন বসেছেন। ফুটপাতে হকার না থাকায় নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে।

এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই সড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয় গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার। এই সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহতের খবর পাওয়া যায়।

একপর্যায়ে পরেরদিন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে ফের সংঘর্ষ বাঁধে।

;

‘তিনদিন ধইরা মাইয়াডার জ্বর, ওষুধের টাকা পাঠাইতে পারি নাই’



রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া, নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
ভ্যান চালক বাবলু মিয়া/ছবি: বার্তা২৪.কম

ভ্যান চালক বাবলু মিয়া/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘গেল তিনদিন ধইরা আমার মাইয়াডার অসুখ, তার মা কইলো অনেক জ্বর উঠছে, ওষুধ কেনার টাকা পাঠাইতাম। কিন্তু কারফু (কারফিউ) চলে দেইখা সব মার্কেট বন্ধ। গাড়ি নিয়া সেই সকালে বের হইয়া এহনো বইয়া রইছি। ২-৩দিন কোনো আয় রোজগারও নাই। আমার লগের সবারই এক অবস্থা। কারো কাছে ধারও পাই না। আইজ পরে একজনের কাছে থেকে ৫০০ টাকা নিসি, মাইয়াডার জন্য ওষুধ কিনতে পাঠামু। নিজে তিনবেলার জায়গায় দুই বেলা খাই। এভাবে কি চলা যায় কন?

ভাড়া না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন ভ্যানচালক বাবুল ও বাবলু মিয়া

আক্ষেপের সূরে কথাগুলো বলেছিলেন ভ্যান চালক বাবলু মিয়া। রাজধানীর বাংলামোটর, কাওরান বাজার, মগবাজার এলাকায় টাইলসসহ বিভিন্ন মালামাল ভাড়ায় আনা-নেওয়া করেন তিনি। কারফিউ থাকার দোকানপাট বন্ধ, তাই গাড়ি নিয়ে বের হলেও সারাদিন বসেই কাটিয়ে দিতে হচ্ছে তাকে।

শুধু বাবলু মিয়াই নন। আয় রোজগার বন্ধ হওয়ায় এমন অবস্থায় পড়েছেন অন্যান্য ভ্যান-রিকশাচালক, হকার ও অস্থায়ী চা-পান, সিগারেট, বাদাম বিক্রেতাসহ অন্যান্য দোকানীদের। ভাড়া না পাওয়া, বিক্রি না হওয়া ও দোকান খুলতে না পারায় অনেকে বাড়ি চলে গেছেন। তবে যাদের বাড়ি বেশি দূরে, তারা পড়েছেন বিপাকে। তাদের একজন রিকশাচালক নূর উদ্দিন মিয়া। থাকেন মগবাজার এলাকায়।

যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন রিকশাচালকরা/ছবি:বার্তা২৪.কম

তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'গত ৪-৫ দিন ধইরা আয় কম। রিকশা নিয়ে বের হলেই মালিককে টাকা দিতে হয়, তাই গত দুইদিন বের হইনি। আজ বের হলাম। আগে হাজার বারশো টাকা আয় হলেও এখন তিন-চারশো আয় করতে কষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে রিকশা ভাড়া দেওয়া লাগে। মালিককে দেওয়ার পর নিজের কাছে আর থাকে না। তিনবেলা কোনোভাবে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। মাস শেষ হলে আবার বাড়িতে টাকা পাঠান লাগে। এভাবে চললে না খাইয়া থাকা লাগবে।'

বাংলামোটর মোড়ে রিকশাচালকদের যাত্রীর জন্য অপেক্ষা

শুধু রিকশা আর ভ্যান চালকই নন, এমন অবস্থা হকার ও ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসা মানুষেরও।

নিউ স্কাটন রোড়ে অস্থায়ীভাবে চায়ের দোকান করেন রফিক মিয়া। তিনি বলেন, কারফিউ চলায় রাস্তায় মানুষ নাই। দোকানও গত ৩দিন বন্ধ রাখছি। আজ শুনলাম দিনে কারফিউ থাকবে না। ঘরে শুয়ে বসে থাকলে পেট চলবে না। তাই দোকান খুলে বলসি। কিন্তু তেমন বিক্রি নাই।
মগবাজার, বাংলামোটর এলাকায় বুট, বাদাম বিক্রি করেন হৃদয়। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আগে যেখানে দিনে ৮-৯শ টাকা বিক্রি হতো, এখন সেখানে ২-৩শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ৭০-৮০ টাকা লাভ হচ্ছে। এই টাকা দিয়ে তো একবেলা খাওনও পাওয়া যায় না। আগের কিছু জমানো টাকা ছিল, সেগুলা ভেঙে খরচ করতেছি।'

রাস্তায় হেঁটে হেঁটে পান, সিগারেট বিক্রি করছেন শাকিল। পরিবার নিয়ে কাঁঠালবাগান থাকেন তিনি।

শাকুল বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আগে ৫-৬শ টাকা আয় করতাম, এখন ২-৩শ আয় হয়। তিনজন মানুষ (তিন সদস্যের পরিবার) নিয়ে এই আয় দিয়ে কীভাবে চলবো বলেন। এখন ধারকর্জা কইরা চলতেছি, পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গেলে আবার ইনকাম করে ধার ফেরত দিমু।কিন্তু এভাবে থাকলে আমাদের মতো মানুষের না খেয়ে মরতে হবে। দেশে কোনো সমস্যা হইলে সব ভোগান্তি আইয়ে আমগো ওপরে।'

এদিকে বাংলামোটর, কারওয়ার বাজার এলাকায় ভ্যানে করে আনারস, পেয়ারা বিক্রি করছেন মামুন মিয়া। তিনি বকশি বাজার এলাকায় পরিবার নিয়ে বাস করেন। কারফিউতে তার আয় রোজগার কমে গেছে। এতে সংসার চালাত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, করফিউ চলায় নাকি ঢাকায় গাড়ি আসতে পারে না। তাই জিনিসপত্রের দাম বেশি। বেশি দামে কিনে এনেও আগের দামেই বিক্রি করছি। তাও কাস্টমার নাই। আগে আট থেকে দশ হাজার টাকা বিক্রি করতাম। এখন দুই থেকে তিন হাজারও বিক্রি করতে পারি না। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বলেন। মাস শেষ হলেও বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক খরচ ১০-১২ হাজার টাকা লাগে। এই মাসে তা মিলাইতে পারমু বলে মনে হয় না।

বাংলামোটর মোড়ে জুতা সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করেন আব্দুর রহমান। থাকেন সেগুনবাগিচায়। তিনি বলেন, 'রাস্তায় মানুষ না থাকায় ইনকামও নাই। পেট তো কারফিউ বুঝে না। তাই এসে দোকান খুলে বসি। তবে গত ৩-৪ দিনের তুলনায় আজ কিছু মানুষ বের হয়েছে। এভাবে চললেও তো আমরা বাঁচি। আমাদের তো দেখার কেউ নাই। আয় না হলে কেউ এসে জিজ্ঞাসাও করে না। কখনো কোনো সহযোগিতাও পাই না।'

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমাজের বিত্তবানদের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাত থেকে সারাদেশে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষজন। চলমান কারফিউ কয়েক ঘণ্টার জন্য শিথিল হলেও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। ফলে আয় রোজগারে ভাটা পড়েছে এসব নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের।

;

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জাহাঙ্গীরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম

ছবি: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। দুর্বৃত্তদের হামলায় তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন।

জানা গেছে, গাজীপুর থেকে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য বেশ কিছু নেতাকর্মী নিয়ে রওনা দিলে পথিমধ্যে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পার হওয়ার সময় তার গাড়ি বহরে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্বৃত্তদের হামলায় জুয়েল মোল্লা নামে জাহাঙ্গীর আলমের এক ব্যক্তিগত সহকারী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের ৩২নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠজন মোখলেছুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মোখলেছুর রহমান জানান, গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) জাহাঙ্গীর আলমের গাড়ি বহর উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পার হওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা তার গাড়ি বহরের গতিরোধ করে। এ সময় জাহাঙ্গীর আলমের গাড়ি বহরে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে দুর্বৃত্তরা। ইটের আঘাতে জাহাঙ্গীর আলমের মাথা ফেটে যায়। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরাও আহত হন। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ তৈরি করলে জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তিগত সহকারী জুয়েল মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পরে জাহাঙ্গীর আলম পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিছু সময় পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পাশের একটি হাসপাতালে পাঠান। এ সময় তার মাথায় ১৭টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। পরে জাহাঙ্গীর আলমকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর একদিন পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। জাহাঙ্গীর আলমের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে জানান এই আওয়ামী লীগ নেতা।

;