নেত্রকোনায় বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ১



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নেত্রকোনার পূর্বধলায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. শাকিল (১৭) নামে এক অটোরিকশার যাত্রী মারা গেছেন।

বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত শাকিল পূর্বধলার শালদিঘা গ্রামের মো. হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

এর আগে বুধবার সকালে উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশির আঞ্চলিক সড়কে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ছয়জন আহত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি আঞ্চলিক সড়কের মহিষবের এলাকায় পূর্বধলাগামী বাসের সাথে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালকসহ ছয়জন আহত হয়।

আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে মো. শাকিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসটিতে আগুন লেগে যায়। এতে বাসটি পুড়ে যায়।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

  • Font increase
  • Font Decrease

জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় শোক প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, শাফিন আহমেদ কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ফিরোজা বেগমের পুত্র। 

উল্লেখ্য, শাফিন আহমেদের মা নজরুলসংগীতের মহাতারকা ফিরোজা বেগম এবং বাবা সুরকার কমল দাশগুপ্ত। এই পরিবারে জন্ম নেওয়ার সুবাদে শাফিন ছোটবেলা থেকেই গানের মধ্যে বড় হয়েছেন। বাবার কাছে যেমন উচ্চাঙ্গ সংগীত মাঝে মাঝে শিখেছেন তেমনি মার কাছে শিখেছেন নজরুলসংগীত। এরপর বিদেশে পড়াশোনার কারণে পাশ্চাত্যর সংস্পর্শে এসে তার ব্যান্ড সংগীতের শুরু।

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মাইলস’ গঠিত হওয়ার কিছুদিন পর এতে যুক্ত হন শাফিন ও হামিন। এরপর বাংলাদেশের অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গান উপহার দিয়েছেন তারা। ব্যান্ডের বাইরেও শাফিনের জনপ্রিয় অসংখ্য গান রয়েছে।

;

স্বস্তির মেট্রোরেল যেন ধ্বংসস্তুপ



গুলশান জাহান সারিকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সকাল হলেই যেখানে হাজার হাজার মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকতো স্থানটি, সেটিই এখন নিস্তবদ্ধতায় পরিপূর্ণ। অফিস আওয়ারে লম্বা লাইন অতিক্রম করে কর্মব্যস্ত মানুষের এখন আর মেট্রোতে চেপে বসার কোনো তাড়া নেই। সব প্লাটফর্মগুলো ফাঁকা দাঁড়িয়ে। পরিবেশটা দেখলে মনে হবে যেন রাজ্যের সব নীরবতা ভর করেছে স্টেশনগুলোতে। অথচ গত কয়েকদিন আগেও স্থানটি ছিল মানুষের পদচারণায় মুখরিত। এক নিমিষেই আজ সব থমকে গেছে। রাজধানীবাসীর কাছে এক টুকরো আবেগের স্থানটি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। যার হিসেব হয়তো বহুদিন বয়ে বেড়াতে হবে এই নগরীর বাসিন্দাদের।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে অবস্থিত মেট্রোস্টেশনের ক্ষত-বিক্ষত চেহারাই জানান দিচ্ছে কতটা আঘাত সইতে হয়েছে স্টেশনটিকে।

সিড়ি দিয়ে উঠতে গিয়েই দেখা যায় এদিক-সেদিক ভাঙা কাচের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। প্রায় প্রতিটি জানালার কাঁচ ভাঙা। হঠাৎ দেখলে মনে হবে যেন কোন বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে অথবা ক্রেন বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়েছে স্থাপনা। যে স্বয়ংক্রিয় টিকিট কাউন্টারগুলোচতে প্রতিদিন লম্বা লাইন ধরে মানুষ টিকিট নিতো সেই টিকিট বুথগুলোর স্ক্রিন ভেঙে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। টিকিট ভেন্ডিং মেশিন, পেসেঞ্জার পাস গেটগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফায়ারবক্স থেকে শুরু করে টিকিট মাস্টারের ঘরের কম্পিউটার, ভিতরের এসি, ফ্যান, লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা, টিকিট বুথ, চেয়ার, টেবিল, ফ্যান, স্টেশন ক্লক ভাঙচুরের চিত্র নির্মম আঘাতের সাক্ষ্য দিচ্ছে।


স্টেশনের দ্বিতীয় তলায়ও একই অবস্থা। টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম থেকে শুরু করে সব প্রকার নেটওয়ার্ক ডিভাইস, সিকিউরিটি এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম, ইলেকট্রনিকাল, ম্যাকানিকাল সিস্টেম, এন্ট্রি-এক্সিট দরজা কিছুই বাদ যায়নি এই নারকীয় তাণ্ডব থেকে।

স্বস্তির মেট্রোর এমন অবস্থা দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কর্মজীবী মানুষের।

আক্ষেপের সুরে স্টেশনের নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমার অফিস কাওরানবাজার। আমার মেয়ে হলিক্রসে পড়ার কারণে আমরা মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর থেকে এতে নিয়মিত যাতায়াত করি। কিন্তু এখন এমন পরিস্থিতিতে যাতায়াতে কষ্ট হয়ে গেছে। ১০ মিনিটের রাস্তা এখন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লাগবে।


মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রী লাবন্য বলেন, মেয়েদের জন্য পুরো সেইফ একটা জার্নি ছিল মেট্রোরেল। কোন ঝামেলা ছিল না। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যেত। কিন্তু এখন সেই আবার আগের মত পাব্লিক বাসে যেতে হবে। এখন আশা করছি যতদ্রুত সম্ভব এটা ঠিক হোক।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে মেট্রোর লাইনের নিচে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে ফুটওভার ব্রিজে পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। সেই আগুনের মধ্য দিয়েই একটি ট্রেন ছুটে যায়। পরে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরদিন সন্ধ্যায় মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। টিকেট ভেন্ডিং মেশিন, মূল স্টেশনে যাত্রী প্রবেশের পাঞ্চ মেশিনসহ সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।


একই দিনে পল্লবী ও ১১ নম্বর স্টেশনেও হামলা হয়। সেখানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষতি হয়েছে।

এর প্রেক্ষিতে ২০ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও ২২ জুলাই একটি কেইস ফাইল করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। 

;

গ্রেফতার আতঙ্কে হাসপাতাল ছেড়ে পালাচ্ছে রোগীরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলা আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় আহত দুই শতাধিক রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকেই কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নীরবে হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে হাসপাতালের খাতায় নাম থাকলেও বেডে রোগী নেই।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

রোগীর স্বজনরা বলছেন, সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

এদিকে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রোগীর স্বজন ছাড়া কাউকে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে রোগীর স্বজন ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

রোগীর স্বজন ছদ্মবেশে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ১৫ জন রোগী গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যার মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু ও কিশোর রয়েছে। ওয়ার্ডের ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন রামপুরা আইডিয়াল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও রামপুরের উলোন এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে রামপুরা এলাকায় ডান পায়ে গুলি লাগে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

রাজধানীর রায়েরবাগ ও নরসিংদীতে সহিংসতার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় আজ ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- রায়েরবাগ এলাকার বাসিন্দা নির্মাণ শ্রমিক জাকির হোসেন (২৯)। তিনি পটুয়াখালীর দশমিনা এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। গত ২১ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢামেকে ভর্তি হন। গতকাল রাত ১২টার পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বুধবার ভোর রাতে মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইল এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. জামান (১৭)। তিনি গত ২১ জুলাই নরসিংদীতে সহিংসতার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢামেকে ভর্তি হন। পেশায় গার্মেন্টস শ্রমিক জামানের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।

ঢামেকে ভর্তি ও মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঢামেকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত ২৭৮ জন ভর্তি রয়েছে। গত কয়েক দিনে মৃতুর সংখ্যা ৭৯ জন।

আহত ও নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ধরনের তথ্য এখন দেওয়া যাবে না। আমরা এখন রোগীদের সেবা দিতে কাজ করছি।

;

ট্রেন চলাচল কবে সিদ্ধান্ত হয়নি এখনো: রেলের ডিজি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ট্রেন

ট্রেন

  • Font increase
  • Font Decrease

এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকা ট্রেন কবে থেকে চলবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার সাহাদাত আলী।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রেল সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কবে থেকে ট্রেন চলবে ।

রেলের ডিজি বলেন, ট্রেন চলাচলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ট্রেন চালানো কোনো বিষয় না, বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে কবে থেকে ট্রেন চলবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, স্বল্প দূরত্বে কিছু ট্রেন আজ বৃহস্পতিবার থেকে চলাচলের কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

;