তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপরে, কুড়িগ্রামে বন্যার শঙ্কা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করছে। অন্যান্য নদ-নদীরও পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার দিকে ছুটছে। এমন পরিস্থিতিতে নদ-নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এদিকে পানি বৃদ্ধির সাথে জেলার রাজারহাট উপজেলার তিস্তা অববাহিকার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। পাউবো কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোর অনেকে নিরুপায় হয়ে বসতি সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙনের হুমকিতে আছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় বাজার সহ অন্তত শতাধিক পরিবার।

পাউবো, কুড়িগ্রামের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। মঙ্গলবার (১ জুন) সকাল ৬ টা থেকে বুধবার (১৯ জুন) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম (ধরলা ব্রিজ) পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমশ বিপৎসীমার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে এর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নদ তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ও বামনডাঙা ইউনিয়নের বেশকিছু চরাঞ্চলের বাড়িঘরের চারপাশে পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে ওইসব এলাকার সবজি ক্ষেত।

রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ফান্দেরচর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল বলেন, ‘দুধকুমারের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বাড়িঘরে পানি প্রবেশ না করলেও চারপাশে পানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি বাড়তে থাকলে বাড়িঘরে প্রবেশ করবে।’

ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যার চোখ রাঙ্গানির সাথে তিস্তা তীরে শুরু হয়েছে ভাঙন। রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় তিস্তার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাড় ভেঙ্গে একের পর এক বসতভিটা আর আবাদি জমি নিজের গর্ভে নিয়ে নিচ্ছে আগ্রাসী এই নদী। ভাঙনের কিনারে নিরুপায় দিনযাপন করছেন অনেক দিনমজুর পরিবার। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সেফারুল ইসলাম জানান, ভাঙনের কবলে পড়ে বসতি সরিয়ে নিয়েছেন বেশ কয়েকটি পরিবার। ভাঙন হুমকিতে আছে কালিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সোনার জুম্মা এলাকা থেকে মৌলভী পাড়া পর্যন্ত তীরবর্তী শতাধিক পরিবার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

ইউপি সদস্য সেফারুল বলেন, ‘ ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরিবারগুলো অনিশ্চয়তায় মধ্যে আছে।’

বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে পাউবো, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘নদনদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দুধকুমার, তিস্তা এবং ধরলা নদীর পানি সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা প্রস্তুত রয়েছে। দুযোর্গ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি।’

ঝড়-বৃষ্টি থাকবে, বাড়তে পারে তাপমাত্রা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবাওহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার কথাও বলেছে সংস্থাটি।

রোববার (১৪ জলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

বৃষ্টি ঝড়লেও সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে।

;

বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ৮ জুলাই বেইজিং সফর শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১১ জুলাই দেশে ফিরে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু সফরসূচিতে পরিবর্তন এনে একদিন আগে দেশে ফেরেন (১০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী।

বেইজিংয়ে অবস্থানকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

সফরের শেষ দিন ১০ জুলাই বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের পর দুই দেশ ২১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে এবং সাতটি প্রকল্পের ঘোষণা দেয়।

;

খিলগাঁওয়ে রেস্টুরেন্টে আগুন, দগ্ধ ২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ‘খানাস’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আগুন নেভাতে গিয়ে দুইজন কিছুটা দগ্ধ হয়েছেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু তার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

;

বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বান্দরবান
বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

  • Font increase
  • Font Decrease

বান্দরবানের কালাঘাটার আর্য ভ্রান্ত বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. এফ দীপংকর মহাথের (ধুতাঙ্গ ভান্তের) মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার শিষ্যরা। তাদের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) রাত ৯ টায় বন্দরবান শহরে প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়।

সেখানে বক্তব্য দেন রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোজ বড়ুয়া, অসীম বড়ুয়া, লায়ন নিপু কান্তি বড়ুয়া, ইউপি সদস্য বিরলার তঞ্চঙ্গ্যা, প্রকৌশলী শুভ বিকাশ বড়ুয়া ও বিশ্বজিৎ বড়ুয়া।

বক্তারা বলেন, দীপঙ্কর মহাথের অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি ছিলেন। তার মত ব্যক্তি আত্মহত্যা করতে পারেন না। এটা পরিকল্পিত একটা হত্যাকাণ্ড। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন বলেন, এফ দীপঙ্কর মহাথের বিহারের কুটিরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।

পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন আরও বলেন, তার হাতের লেখা দুটি চিরকুট পাওয়া গেছে। ভিক্ষু দীপঙ্কর মহাথেরর রেখে যাওয়া চিরকুট ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

জানা যায়, জেলা শহরের গোধারপাড়া থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আর্যগুহা ধুতাঙ্গ বিমুক্তি বিহারে সকালে উপাসক-উপাসিকারা গেলে ধুতাঙ্গ ভান্তকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। ধুতাঙ্গ ভান্তে একটি গুহায় ধ্যান করেন। ধ্যানের ওই গুহাকে ঘিরে কয়েক বছর আগে আর্যগুহা ধুতাঙ্গ বিমুক্তি বিহার গড়ে উঠেছে। ওই বিহারে তিনি শিষ্যসহ থাকতেন। বিহারটি জেলা শহরতলিতে হলেও রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নে পড়েছে। বান্দরবান ছাড়াও রাঙামাটির বিলাইছড়ি ও চট্টগ্রামে আরও কয়েকটি স্থানে তাঁর বিহার রয়েছে।

এফ দীপঙ্কর মহাথের ২০১৬ সাল থেকে ওই বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৫২ বছর বয়সী এ ভান্তের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায়। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালি বিষয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক পান। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে ‘অশোক শিলালিপি’র উপর তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

;