২৮ বছরেও হয়নি পত্রদূত সম্পাদক আলাউদ্দীন হত্যার বিচার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
২৮ বছরেও হয়নি পত্রদূত সম্পাদক আলাউদ্দীন হত্যার বিচার

২৮ বছরেও হয়নি পত্রদূত সম্পাদক আলাউদ্দীন হত্যার বিচার

  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরার দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক, আওয়ামী লীগ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম আলাউদ্দীনের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৯ জুন)। ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন রাতে দৈনিক পত্রদূত অফিসে কর্মরত অবস্থায় ঘাতকদের গুলিতে নিহত হন স. ম আলাউদ্দীন।

যে কারণে হত্যার শিকার স. ম আলাউদ্দীন

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী আশির দশকের মাঝামাঝি সময় হতে নবগঠিত সাতক্ষীরা জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং সেসব সংগঠনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, চোরাকারবারি গডফাদার, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্রে স.ম আলাউদ্দীনকে হত্যা করা হয়। হত্যা মামলার তদন্তেও সে সময় সদ্য প্রতিষ্ঠিত ভোমরা স্থল বন্দর, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, স.ম আলাউদ্দীন সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও পরবর্তীতে সভাপতি, ভোমরা স্থলবন্দরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাতক্ষীরা ট্রাক মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ইটভাটা, শিল্প কলকারখানাসহ ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি মেসার্স আলাউদ্দীন ফুডস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি নামে পদ্মার এপারে একটি মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।

স. ম আলাউদ্দীনের রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় বীর সেনানী স. ম আলাউদ্দীন ছিলেন তৎকালীন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিলের আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬৫-৬৮ পর্যন্ত খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় আন্দোলন সংগ্রামের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও একাধিক কলেজ থেকে ফোর্স-টিসি দেওয়ায় তার শিক্ষা জীবন বিঘ্নিত হয়। ১৯৬৮-৬৯ সালে খুলনা ল’ কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় তার নেতৃত্বে তালা থানা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয় এবং তিনি কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৬৭ সালে বিএ পাস করে তালার জালালপুর হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করলেও রাজনীতির প্রতিটি কর্মকাণ্ডে দক্ষ সংগঠক হিসেবে জানান দেন স. ম আলাউদ্দীন। ৬৯-৭০’র উত্তাল গণআন্দোলনে স. ম আলাউদ্দীন ছিলেন সাতক্ষীরার তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রাণপুরুষ। উত্তপ্ত রাজপথের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুর্জয় তরুণ আলাউদ্দীন ওই সময়ই সাতক্ষীরার গণমানুষের নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় বীর সেনানী স. ম আলাউদ্দীন

মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অস্ত্র হাতে অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে তিনি অন্যতম। একাত্তরের ২৯ মার্চ তিনি ভারতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জিওসি মেজর জেনারেল আরুন মুখার্জীর সাথে বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্ত দিয়ে যশোর ও খুলন অঞ্চলে যুদ্ধরতদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের চুক্তি করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ৮ ও ৯ নম্বার সেক্টরের অন্যতম সংগঠকেরও ভূমিকা পালন করেন। এসময় নির্বাচিত এমপি হয়েও তিনি কমিশন্ড অফিসার হিসাবে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং কিছুদিন ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনের পর সাতক্ষীরা মহকুমা মুক্তিবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পান।

পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধে ৮ নম্বর সেক্টরে ক্যাপ্টেন সাইফুল্লাহ নাম গ্রহণ করে দেশে প্রবেশ করে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি খুলনা জেলা মুজিব বাহিনীরও সংগঠক ছিলেন এবং এসময় তার নির্বাচনী এলাকা তালায় মুজিব বাহিনীর খুলনা অঞ্চলের প্রধান দপ্তর ছিল। স. ম আলাউদ্দীনের ব্যক্তিগত সদ্ভাব ও সমন্বয়ের কারণে খুলনা জেলার কোথাও এই দুই বাহিনীর মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানের কারণে তিনি কমপক্ষে চারবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেলেও পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, সংসদ সদস্যপদ বাতিল, সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয় এবং তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৪০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে এলাকায় মাইকিং করে।

সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে অবলম্বন করে কলকাতার উমাপ্রসাদ মৈত্র পরিচালিত ‘জয়বাংলা’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ও করেন স. ম আলাউদ্দীন।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৭৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন সামরিক সরকারের নিবর্তনমূলক আইনে স. ম আলাউদ্দীন গ্রেপ্তার হন। ছয় মাস কারাভোগ শেষে মুক্তির তিন মাস পর তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হন। ১৯৮৩ সালে স. ম আলাউদ্দীন সাতক্ষীরা শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাতক্ষীরায় যুবলীগের কার্যক্রম শুরু করেন। নব্বই এর দশকের শুরুতে দেশব্যাপী মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন স. ম আলাউদ্দীন। এসময় তিনি কর্মমুখী শিক্ষার নিজস্ব ভাবনা থেকে সাতক্ষীরাতে প্রথম বঙ্গবন্ধুর নামে ‘বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল ও কলেজ’ গড়ে তোলেন। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন।

সাতক্ষীরার তালার উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি গ্রামে ১৯৪৫ সালের ২৯ আগস্ট (বাংলা ১৩৫২ সালের ১৫ ভাদ্র) জন্মগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা স.ম আলাউদ্দীন।

স. ম আলাউদ্দীন হত্যা মামলার সর্বশেষ অবস্থা

১৯৯৬ সালের ১৯ জুন সাতক্ষীরা সদর থানার প্রাচীর সংলগ্ন দৈনিক পত্রদূত-এর তৎকালীন অফিসে কর্মরত অবস্থায় ঘাতকদের গুলিতে প্রাণ হারান স. ম আলাউদ্দীন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই স. ম নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৬ মে সিআইডির খুলনা জোনের এএসপি খন্দকার ইকবাল হোসেন এ হত্যা মামলায় সাতক্ষীরার চিহ্নিত সন্ত্রাসী গডফাদারসহ ১০ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুরের গোলাম খায়বার সরদারের ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফে কিসলু (বর্তমানে মৃত), তার দুই ভাই মো. খলিলুল্লাহ ওরফে ঝড়ু (বর্তমানে মৃত) ও মোমিনউল্লা মোহন, আলিপুরের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে আব্দুস সবুর সরদার, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নাটয়াররড গ্রামের গোপাল রহমানের ছেলে আতিয়ার রহমান, শহরের সুলতানপুরের মৃত কাজী আব্দুল ওহাবের ছেলে কাজী সাইফুল ইসলাম, তালার নগরঘাটার মৃত শামসুদ্দিন সরদারের ছেলে মো. আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ সায়র এলাকার মৃত তোফাজদ্দিন সরদারের ছেলে শফিউর রহমান, শহরের সুলতানপুরের মৃত শেখ নুরুল ইসলামের ছেলে এস্কেন্দার মির্জা ও শহরের কামালনগরের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে আবুল কালাম।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রভাবশালী আসামি আব্দুস সবুর ও খলিলুল্লাহ ঝড়ুসহ কয়েকজন ১৯৯৯ সালের ২৬ জুলাই সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিদের আজ্ঞাবহ সন্ত্রাসীরা সাতক্ষীরা আদালত ঘেরাও করে এবং সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সব বিচারককে ৬ ঘণ্টা জিম্মি করে রাখে।

পরবর্তীকালে আসামি আব্দুস সবুর ও খলিলুল্লাহ ঝড়ুসহ ওই আসামিরা হাইকোর্টে কোয়াশমেন্ট করে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আ্যাপিলেট ডিভিশন ওই আদেশ খারিজ করেন। পরে আসামি আব্দুস সবুর, খলিলুল্লাহ ঝড়ুসহ কয়েকজন আসামি সাতক্ষীরার কোনো আদালতে এই মামলার ন্যায় বিচার পাবে না উল্লেখ করে অন্য কোনো জেলায় মামলাটি স্থানান্তরের আবেদন জানালে বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়। হাইকোর্ট ও পরে অ্যাপিলেট ডিভিশনে ওই আবেদন নামঞ্জুর হলে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২০১১ সালে সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

একপর্যায়ে ২০১৮ সালের শেষের দিকে মামলার তৎকালীন সংশ্লিষ্ট বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম পুনরায় ৬ মাসের জন্য স্থগিত হয়। সে স্থগিতাদেশের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হলেও বিচার কার্যক্রম আর শুরু হয়নি।

উল্লেখ্য, স. ম আলাউদ্দীন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ১০ আসামির মধ্যে অন্য একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও অসংখ্য মামলার আসামি সাইফুল্লা কিসলু মৃত্যুবরণ করেছেন। তার ম্যানেজার আতিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এখনো পলাতক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাটা রাইফেলসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাইফুল ইসলাম যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় জামিনে মুক্ত রয়েছেন। অপর আসামি আব্দুর রউফও একটি হত্যা মামলায় সাজা খেটে কয়েক বছর আগে জেল থেকে বের হয়েছেন। আসামি এস্কেন্দার মির্জা পালিয়ে বিদেশে চলে গেলেও কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে এই হত্যা মামলায় কয়েকদিন জেল খেটে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অপর একটি হত্যা মামলায় সাজা খেটে বর্তমানে এই হত্যা মামলায় জামিনে রয়েছেন আসামি শফিউল ইসলাম। আবুল কালাম, মোমিন উল্লাহ মোহন, আব্দুস সবুর ও খলিলউল্লাহ ঝড়ু জামিনে রয়েছেন। এর মধ্যে ঝড়ু কিছুদিন আগে মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিচারের দাবি

চাঞ্চল্যকর স. ম আলাউদ্দীন হত্যা মামলার বিচারের দাবি জানিয়ে তার সেজ কন্যা, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আমরা বিচারের আশায় বুক বেধে আছি। আশা করি বিচার বিভাগ ন্যায় বিচারের মাধ্যমে আমাদের বিচার অধিকার রক্ষা করবে।

স. ম আলাউদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি
সাতক্ষীরার দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক, আওয়ামী লীগ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম আলাউদ্দীনের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মরহুমের কবর জিয়ারত, কোরানখানি, দোয়া অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা।

গ্রিল কেটে নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, মেয়ে আহত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যশোরের ঝিকরগাছায় মধ্যেরাতে গ্রিল কেটে ঘরের মধ্যে ঢুকে ফেরদৌসী খাতুন (৫০) নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। রোববার (১৪ জুলাই) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার নওয়ালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় নিহতের মেয়ে জান্নাতি খাতুনকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করেছে ওই দুর্বৃত্তরা।

নিহত ফেরদৌসী খাতুন নওয়ালী গ্রামের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, অজ্ঞাতনামা চোর রান্নাঘরের গ্রিল কেটে চুরির উদ্দেশ্য ঘরে ঢুকতে পারে। চুরি করার বিষয়টি ফেরদৌসী খাতুন টের পেয়ে যাওয়ায় তার বাম কানের পাশে, ডান হাতের আঙ্গুলে ও বাম বুকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মধ্যে মারা যান। এ সময় তার মেয়ে জান্নাতি খাতুনকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আহত জান্নাতি খাতুন পাশের বাসায় থাকা তার চাচা মিজানুর রহমান মিন্টু ও চাচী নিলুফা খাতুনকে জানালে স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে ঘরে ঢুকে দেখেন ফেরদৌসী খাতুন ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন ভুঁইয়া বলেন, 'চুরি করতে গিয়ে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে কিনা এটা আমরা নিশ্চিত না, তবে গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে ওই নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। একই সাথে তার মেয়েকেও ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'এটা হত্যাকাণ্ড তবে কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটলো সেটি আমরা তদন্ত করছি।'

;

কাঁচা মরিচের ঝাঁজে নিত্যপণ্যের বাজারে দিশেহারা ক্রেতারা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কাঁচা মরিচের ঝাঁজে নিত্যপণ্যের বাজারে দিশেহারা ক্রেতারা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

কাঁচা মরিচের ঝাঁজে নিত্যপণ্যের বাজারে দিশেহারা ক্রেতারা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার প্রকোপ ছাপিয়ে আবারও জমে উঠেছে কারওয়ান বাজার। সবুজ শাক সবজির আমদানিও হয়েছে ভালোই। বৃষ্টি জলাবদ্ধতায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে না পারা ক্রেতারাও এসেছেন বাজারে।

বাজারে আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বেড়েছে সবজির দাম। প্রতিটি কাচা পণ্যের দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সাধ্যের বাইরে কাঁচা মরিচের দাম। ৩ কেজির চালের মূল্যেও মিলছে ১ কেজি মরিচ। দেশি পেঁয়াজও মিলছে না ১০০ টাকার নিচে।

সরেজমিনে রোববার (১৪ জুলাই) সকালে কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, যা গতকালও ছিল ৪০ টাকা। আগের তুলনায় দাম বেড়েছে করলা, ঢেঁড়স, বেগুনের। ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে লম্বা করলা। যদিও ছোট করলা মিলছে ৮০ টাকায়। ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে, টমেটো ৮০ টাকা। আলুর দাম ১০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

এদিকে পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচের আমদানি কমায় বেড়েছে দাম। ২০০ টাকা পাইকারি মিললেও খুচরা বাজারে ২৪০ টাকা কেজি। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা।

ব্যাংকার শামিম হোসেন বলেন, সকালে এসে বাজারে টাটকা শাক সবজি পেয়েছি। কিন্তু গতকালকের থেকে আজ ১০-২০ টাকা দাম বেশি। এভাবে তো কেনা যায় না। দেখেন আমাদের বেতনের সাথে তাল মেলাতে গেলে কীভাবে হবে। এসবের কারণেই মানুষ অসৎ পথে উপার্জন করছে।

জান্নাতুল মাওয়া নামের এক নারী বলেন, খুব কষ্ট হচ্ছে সংসার চালাতে। আগে ৫০০ টাকায় দুই-তিনটা আইটেম কেনা যেত এখন একটা কিনলে আরেকটা কেনা যায় না। আসলে এভাবে কোনো বাজার ব্যবস্থা চলতে পারে না। নিম্ন আয়ের মানুষ খুব অসুবিধায় আছে।

এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও আন্দোলনের কারণে বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। শহরের জলাবদ্ধতায় পচে গেছে অনেক সবজি। একি সাথে বৃষ্টির কারণে আমদানি কম হয়েছে গত কয়েকদিনে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে ক্রেতার উপড়ে।

কাঁচা মরিচ ব্যবসায়ী মুজাম্মেল হক বলেন, গতকাল আমদানি কম ছিল। ৪০০ টাকা কেজি ছিল মরিচের। আজ তা পাইকারি ২০০ টাকা। বৃষ্টির কারনে অনেক মরিচ পচে গেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। 

আশরাফুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, দেখেন গত কয়েকদিন কি লসটা ব্যবসায়ীরা খেয়েছে। এটার প্রভাব বাজারে পড়া স্বাভাবিক। আমাদেরও কিছু করার নাই। প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা। আমরাও বুঝি। তবে ব্যবসা তো করতে হবে। আমদানি চেইন ঠিক করা গেলে দাম কমবে। একটা সবজি কিনতে ১০ টাকা প্রয়োজন হলেও বাজারে আসতে তা হয়ে যায় ৫০ টাকা। রাস্তার খরচ কমাতে না পারলে বাজারে দাম কমবে না।

;

মেহেরপুরের গাংনীতে সড়কে ডাকাতি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মেহেরপুর
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পূর্বমালসাদহ-বারাদি সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মাছ ব্যবসায়ীদের আটকে রেখে নগদ টাকা ও পাখিভ্যান ছিনিয়ে নিয়েছে একদল ডাকাত।

জানা গেছে, হাড়িয়াদহ গ্রামের জিয়ারুল ইসলাম গাংনী হাট থেকে পাখিভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই সড়কের সরোয়ার হোসেনের ইটভাটার কাছে পৌঁছালে অস্ত্রধারী কয়েকজন ডাকাত পথরোধ করে। তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাতদল সড়কে চলাচলকারীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় জিয়ারুলের ব্যাটারি চালিত পাখিভ্যানটি নিয়ে যায়। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ভুক্তভোগী জিয়ারুল ইসলাম জানান, রসি দিয়ে তাকে গাছের সাথে বাঁধা হয়। এসময় ডাকাতরা লাঠি দিয়ে তার শরীরের বেশ কয়েকটি আঘাত করে। তারা চার জন ছিল। তাদের কৌশলে কথা বলছিল ফলে ভাষা ও কণ্ঠ শনাক্ত করা যায়নি। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বেঁধে রাখার সময় আরও কয়েকজনকে তারা সড়কে আটক করে। তবে তাদের পরিচয় পাননি জিয়ারুল ইসলাম।

এ বিষয়ে গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

;

গাইবান্ধায় নৈশ প্রহরীকে হত্যা করে অটোরিকশা চুরি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে একটি গ্যারেজের নৈশ প্রহরীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে গ্যারেজ থেকে পাঁচটি অটোরিকশা নিয়ে গেছে চোর চক্র। ঘটনার সাথে পূর্ব শত্রুতার জেরও থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) দিনগত গভীর রাতে পলাশবাড়ি পৌর শহরের সুঁইগ্রামের একটি গ্যারেজে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গেল কয়েকদিন আগেও ওই গ্যারেজে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

৬০ বছর বয়সী নিহত ওই নৈশ প্রহরীর নাম দুদু মিয়া। নিহত দুদু একই গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে। তিনি কয়েক বছর থেকে নুরে আলম জিল্লু মিয়া নামে এক ব্যাক্তির গ্যারেজে নাইটগার্ড (নৈশ প্রহরী) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি মোবাইল ফোনে বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার সহকারি পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) উদয় কুমার সাহা। এ সময় তিনি বলেন, 'গতকাল রাতে সুঁই গ্রামের একটি গ্যারেজের নৈশ প্রহরীকে হত্যা করে পাঁচটি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের মুখে কাপড় গোজানো ছিলো, ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, এর আগে ২০১৬ সালেও একটি অটোরিকশা চুরি হয়। এরপর একাধিকবার একই গ্যারেজ থেকে অটোর চার্জার, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশও চুরি হয়েছে। ঘটনাটি পূর্ব শত্রুতার জেরেও হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সকালে একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনসহ অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

;