ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আজহার বন্ধকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

শনিবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টায় কুয়াকাটা ট্যুরিজম পার্কে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই ছুটিতে কুয়াকাটায় অতিরিক্ত পর্যটকদের আগমন ও মাসিক মিটিংয়ের অংশ হিসাবে "কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট" কমিটির এ সভায় একথা জানান জেলা প্রশাসক ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির আহ্বায়ক মো. নুর কুতুবুল আলম।

কুয়াকাটাকে অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি উল্লেখ করে তিনি বলেন,প্রতিবছরের ন্যায় ঈদুল আযহার লম্বা ছুটিতে কুয়াকাটায় ব্যাপক পর্যটকের সমাগম হবে। এজন্য আমরা সার্বিকভাবে একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, মহিপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বাড়তি নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও এখানে উপজেলা প্রশাসন এবং একজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বা দূর্ঘটনা না ঘটতে পারে। প্রতিবছরই আমরা এই ধরনের প্রোগ্রাম করে আসছি তাই আমরা প্রতি বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ বছর একটু বাড়তি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো: আনসার উদ্দিন, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার, হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল এম.এ মোতালেব শরীফ,সাংবাদিক আবুল হোসেন রাজুও আসাদুজ্জামান মিরাজ সহ কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন, প্রমুখ।

কোটা আন্দোলনের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্র : শাজাহান খান



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা ২৪.কম মাদারীপুর
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেছেন, কোটা আন্দোলনকারীরা ভুল পথে আছেন। এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত রয়েছে। কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে অনেকেই বৈতরণী পাড় হতে চেষ্টা করছেন।

রবিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান কালু খানের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, ‘কুজো মানুষ যেমন কোনো কিছু ওপর ভর করে চলতে চান, তেমনি যারা রাজনীতিতে বুড়ো হয়ে গেছেন, তারা এই কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে পথ চলতে চান। এটার কোনো রাজনৈতিক ফল হবে না। ছাত্রদের ভুল বোঝাচ্ছেন তারা। সবাই এই আন্দোলন থেকে বিরত থাকবেন। উচ্চ আদালতের রায় সরকার মেনে নেবে।’

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান আরো বলেন, ‘যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছেন, তাদের স্মরণ থাকতে হবে, এই কোটা দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত রাখার জন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আছে, যেখানে যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের চাকরি হয় না। আমাদের দেশের এই কোটা বাতিলের বিষয়, আইনের মাধ্যমে হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে সরকার কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাজাহান খানের সহধর্মীনি সৈদয়া রোকেয়া বেগম, শাজাহান খানের জামাতা টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন সেলিমসহ অনেকেই।

প্রসঙ্গত, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান আসিব খান নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওবায়দুর রহমান কালু খান, শাজাহান খানের ছোটভাই। আর আসিবুর রহমান আসিব খান শাজাহান খানের বড় ছেলে।

;

শেবাচিমে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার রোগী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম বরিশাল
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছেন এক রোগী।

রবিবার ( ১৪ জুলাই ) দুপুরে হেনস্থার শিকার হওয়া রোগী মিজানুর রহমানকে এ সময় চিকিৎসা না নিয়েই ফিরতে হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চর্ম ও যৌন রোগ বহিঃবিভাগের চিকিৎসকের সহকারি রাব্বি নামের একজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর।

রোগী মিজানুর রহমান জানান, তিনি রবিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য শেবাচিমের বহিঃবিভাগ থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন (যার সিরিয়াল নং ২৯২৮৩)। এর পর লাইনে দাঁড়ালে তাকে রাব্বি নামের এক ব্যক্তি এসে জানায়, এখন আর রোগী দেখা হবেনা।

টিকিট দেওয়ার পরেও কেন তাকে চিকিৎসা দেয়া হবেনা, এমন প্রশ্ন করলে তার উপর ক্ষেপে যায় রাব্বি নামের চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মচারী।

এ সময় তার কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ডিআইজির ভাতিজা পরিচয় দেন এবং রোগী মিজানুর রহমানকে জোর করে বের করে দেন। রাব্বি এর পর লাইনে থাকা সব রোগীদের আজ নয় কাল চিকিৎসা দেওয়া হবে এমনটা বলে বের করে দেয় বলে জানান মিজানুর রহমান।

এরপর তিনি হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি বিষয়টি সহকারী পরিচালককে অবহিত করার পরামর্শ দেন। সহকারী পরিচালকের সঙ্গে আলাপের পর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মিজানুর রহমান। ৩ দিন পরে অভিযোগকারীকে ডেকে ব্যবস্থ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে শেবাচিম কৃর্তপক্ষ।

হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মচারি রাব্বি এর আগেও একাধিকবার রোগীদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করেছে। তার খারাপ আচরনের জন্য এর আগে শিশু বিভাগ থেকে তাকে বদলি করা হয় চর্ম ও যৌন রোগ বহিঃবিভাগে। কিন্তু, এখানে এসেও প্রায়শই রোগীদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করে রাব্বি।

;

চবিতে হঠাৎ ‘রাজাকার রাজাকার’ শ্লোগান, ছাত্রলীগের হামলা



চবি করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪. কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বিষয়ক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মাঝরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে(চবি) 'তুমি কে? আমি কে? রাজাকার- রাজাকার' শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল চলা অবস্থায় সেই মিছিলে হামলা করে চবি শাখা ছাত্রলীগ।

রবিবার (১৪ জুন) রাত ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মিছিলটি নিয়ে শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্ট থেকে কাটা পাহাড় রোড ধরে এগিয়ে গেলে শাখা ছাত্রলীগের কনকর্ড ও সিক্সটি নাইন উপগ্রুপের অনুসারীরা পেছন থেকে মিছিলে হামলা করে।

এ ঘটনায় ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো সুমনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয় বলে জানা গেছে।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা 'চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার', 'তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার', শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চবির সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে যে কথাটা বলেছেন সেখানে যেটা মিন করা হয়েছে, তাতে বুঝা যায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়া সবাই রাজাকার। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা রাত সাড়ে ১১টার দিকে জিরো পয়েন্টে যাই এবং মিছিলের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুই তিন জন আহত হয়। তারপরে আমরা সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই।’

শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও কনকর্ড উপগ্রুপের নেতা ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবরার শাহরিয়ার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন করে আসছে এতে ছাত্রলীগ কোনো বাধা দেয়নি। কিন্তু, আমাদের নেত্রীকে নিয়ে আজ বাজে স্লোগান দেওয়ায় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের প্রতিহত করেছে। শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আপসহীন।
নেত্রী সম্পর্কে কোনো উসকানিমূলক স্লোগানকে ছাত্রলীগ প্রশ্রয় দিবে না।’

উল্লেখ্য, রবিবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনর চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তাদের এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে না তো কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে? এটি দেশবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন।’

;

উত্তাল জাবি, মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে 'তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার' স্লোগান দেওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ৪ শিক্ষার্থীকে ডাইনিংয়ে নিয়ে জেরা ও মোবাইল ফোন চেক করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে৷

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে আবাসিক হলটির প্রবেশপথ ঘেরাও করে বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া শহীদ তাজউদ্দীন হলেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে৷ রবিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার সর্বশেষ তথ্যমতে, মুখোমুখি অবস্থানে আছে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা৷

রবিবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১ টায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে-এমন তথ্য পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় জমায়েত করে একটি প্রতিবাদী বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে রবীন্দ্রনাথ হলের সামনে আসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর হল প্রভোস্ট ও প্রক্টর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসলে শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়৷

পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে শহীদ তাজউদ্দীন হল অভিমুখে রওনা হয়ে সেখানে কিছুক্ষন অবস্থান নিয়ে ভিসির বাসভবন হয়ে ছাত্রী হল হয়ে পুনরায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সম্মুখে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় হল থেকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে আন্দোলনকারীদের পথ রোধ করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকে৷

এ সময় তারা ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘এই বাংলার মাটি-রাজাকারের ঘাটি’, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্র কারো বাপের না', 'শেরেবাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাটি', 'চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার'-ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের হলেও এমন স্লোগান দেওয়ার পরিকল্পনা করে আবাসিক হলটির ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷

এমন সময় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মো. সাঈফ খান ৪৯ ব্যাচের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে একটি ম্যাসেজ দিলে হলের নিচ তলার ১২৪ নং কক্ষ থেকে স্লোগান পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে৷

শিক্ষার্থীরা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করলে পলিটিকাল ব্লক থেকে ৪৮ ব্যাচের সিনিয়ররা এসে তাদের সবাইকে ডেকে ডাইনিংয়ে আসতে বলে। ১২৪ নং কক্ষ থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের কাউসার আলম আরমান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আশিক ও ইংরেজি বিভাগের জাহিদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ সময় ডাইনিং হলে উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে জানা যায়, ডাইনিং হলে ডেকে আনার পর শিক্ষার্থীদের 'রাজাকার' স্লোগান দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়।

এ সময় 'শিবির' সন্দেহে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে ম্যাসেঞ্জারের ম্যাসেজ চেক করা হয়৷ এসময় দীর্ঘসময় পর্যন্ত ডাইনিং হল থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পান হলের শিক্ষার্থীরা৷

পরে সন্দেহজনক কিছু না পেয়ে ছাত্রলীগের নেতারা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদারকে সেখানে নিয়ে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষমা প্রার্থনার জন্য চাপ দেওয়া হয়৷ এ সময় হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে ক্ষমা চান। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে তাদের কোন প্রকার মারধর করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তারা৷

এদিকে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কোটা পাবে না তো রাজাকারের নাতিপুতিরা কোটা পাবে? দেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা মর্মাহত হয়ে হলে হলে স্লোগান দিয়েছে। যেখানে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন করে যাচ্ছি সেখানে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা আমাদের জন্যে লজ্জার। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা হলে হলে স্লোগান দিয়েছে এ জন্য ছাত্রলীগ কোন শক্তিতে তাদের জেরা করে!’

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘রাত ১১টায় আমরা খবর পাই আমাদের কয়েকজন আন্দোলনকারী সহযোদ্ধাকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা খবর পেয়ে সহকর্মীদের উদ্ধার করতে এসেছি। কোটা আন্দোলন সারাদেশের শিক্ষার্থীদের একটি যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। এ আন্দোলনে অংশ নিয়ে কেউ যদি নির্যাতনের শিকার হয় তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে৷’

এ সময় সামগ্রিক ব্যাপারে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘হলের সামনে শিক্ষার্থীদের মিছিলের কথা শুনে আমি কিছুক্ষণ আগে হলে এসেছি৷ তবে ঘটনা বিস্তারিত বুঝতে পারিনি। সম্ভবত কোনো স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে৷ আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি।’

;