যাত্রীর চাপ কমতে শুরু করেছে সায়েদাবাদে 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সায়েদাবাদ থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় ছুটছেন মানুষ। ছুটির শুরুতে যানজট আর টিকিটের সংকট থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। কাউন্টারে বাস থাকলেও যাত্রীদের তেমন চাপ নেই।

রোববার (১৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ডের কাউন্টারগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি কাউন্টারের বাসের টিকিট রয়েছে। যাত্রীদের ডাকাডাকিতে ব্যস্ত কাউন্টারের কর্মীরা। ব্যাগ হাতে দেখলে গন্তব্য জানতে যাচ্ছে। চাহিদা মতো টিকিট পাচ্ছেন যাত্রীরা।

কথা হয় বনানী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের সুপার ভাইজার সুলতান মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি পটুয়াখালী যাবো। ছুটি পাবো কি না সেটা নিশ্চিত ছিলাম না, তাই অগ্রিম টিকিট কাটিনি। টিকিট পাবো কি না সেই শঙ্কা নিয়ে কাউন্টারে আসলাম। কিন্তু এসে দেখি প্রতিটি কাউন্টারে টিকিট আছে। তাই শ্যামলী পরিবহনের একটি টিকিট কাটলাম।


ঈদের আগের দিন সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ কম বলে জানিয়েছেন, শ্যামলী বাস কাউন্টারের ম্যানেজার মো. কাওসার। তিনি বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ কম। আমাদের পর্যাপ্ত টিকিট আছে।

শনিবার (১৫ জুন) লেট হলেও আজ দ্রুতই বাস পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। শনিবার বিকেল থেকে সারারাত যানজট ছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে গাড়ির চাপ কম থাকায় যানজট নেই।

ইউনিক পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সোহরাব হোসেন বলেন, দেশের সব রুটে আমাদের বাস চলে। আমাদের কোনো টিকিট নেই। সব আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। শিডিউল অনুযায়ী বাস যাচ্ছে। আমরা যানজট এড়াতে যাত্রাবাড়ীর হুজুরবাড়ি এলাকা থেকে যাত্রীদের বাসে তুলে দিচ্ছি। এতে কোনো লেট শিডিউল নেই।

ঈদের ছুটিতে সময় মতো বাস না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন মহাসড়কের পাশে গরুর হাট বসানোর কারণে কয়েকদিন ধরে লেট শিডিউল টানতে হয়েছে। সময় মতো বাস না আসায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এখন কোনো যাত্রীকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না।

ঈদ যাত্রায় যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি ট্রাফিক ওয়ারি বিভাগের যাত্রাবাড়ী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) তানজিল আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, যাত্রাবাড়ী সায়েদাবাদ থেকে ঢাকা বরিশাল, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটের গাড়ি যাতায়াত করছে। তবে শরীয়তপুরসহ বেশ কয়েকটি স্বল্প দূরত্বের বাস রয়েছে যেগুলো বারবার আসা যাওয়ার কারণে যাত্রাবাড়ীতে যানজট লেগেছে। স্বল্প দূরত্বের বাসের বারবার রোটেশনের কারণে গাড়ির চাপ আছে। তবে আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করছি।

তিনি আরও বলেন, যাত্রাবাড়ী মোড়ে  কিছু বাসের কাউন্টার রয়েছে। এ কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণ কঠিন। বরিশাল, চট্টগ্রামসহ সব রুটের বাস বের হয়ে যাচ্ছে। তবে ঢাকায় প্রবেশপথে ধোলাইপাড়ে দেড় কিলোমিটারের একটা যানজটে পড়তে হচ্ছে। তবে আমরা সর্বাধিক চেষ্টা করছি।

‘তিনদিন ধইরা মাইয়াডার জ্বর, ওষুধের টাকা পাঠাইতে পারি নাই’



রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া, নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
ভ্যান চালক বাবলু মিয়া/ছবি: বার্তা২৪.কম

ভ্যান চালক বাবলু মিয়া/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘গেল তিনদিন ধইরা আমার মাইয়াডার অসুখ, তার মা কইলো অনেক জ্বর উঠছে, ওষুধ কেনার টাকা পাঠাইতাম। কিন্তু কারফু (কারফিউ) চলে দেইখা সব মার্কেট বন্ধ। গাড়ি নিয়া সেই সকালে বের হইয়া এহনো বইয়া রইছি। ২-৩দিন কোনো আয় রোজগারও নাই। আমার লগের সবারই এক অবস্থা। কারো কাছে ধারও পাই না। আইজ পরে একজনের কাছে থেকে ৫০০ টাকা নিসি, মাইয়াডার জন্য ওষুধ কিনতে পাঠামু। নিজে তিনবেলার জায়গায় দুই বেলা খাই। এভাবে কি চলা যায় কন?

আক্ষেপের সূরে কথাগুলো বলেছিলেন ভ্যান চালক বাবলু মিয়া। রাজধানীর বাংলামোটর, কাওরান বাজার, মগবাজার এলাকায় টাইলসসহ বিভিন্ন মালামাল ভাড়ায় আনা-নেওয়া করেন তিনি। কারফিউ থাকার দোকানপাট বন্ধ, তাই গাড়ি নিয়ে বের হলেও সারাদিন বসেই কাটিয়ে দিতে হচ্ছে তাকে।

শুধু বাবলু মিয়াই নন। আয় রোজগার বন্ধ হওয়ায় এমন অবস্থায় পড়েছেন অন্যান্য ভ্যান-রিকশাচালক, হকার ও অস্থায়ী চা-পান, সিগারেট, বাদাম বিক্রেতাসহ অন্যান্য দোকানীদের। ভাড়া না পাওয়া, বিক্রি না হওয়া ও দোকান খুলতে না পারায় অনেকে বাড়ি চলে গেছেন। তবে যাদের বাড়ি বেশি দূরে, তারা পড়েছেন বিপাকে। তাদের একজন রিকশাচালক নূর উদ্দিন মিয়া। থাকেন মগবাজার এলাকায়।

তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'গত ৪-৫ দিন ধইরা আয় কম। রিকশা নিয়ে বের হলেই মালিককে টাকা দিতে হয়, তাই গত দুইদিন বের হইনি। আজ বের হলাম। আগে হাজার বারশো টাকা আয় হলেও এখন তিন-চারশো আয় করতে কষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে রিকশা ভাড়া দেওয়া লাগে। মালিককে দেওয়ার পর নিজের কাছে আর থাকে না। তিনবেলা কোনোভাবে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। মাস শেষ হলে আবার বাড়িতে টাকা পাঠান লাগে। এভাবে চললে না খাইয়া থাকা লাগবে।'

শুধু রিকশা আর ভ্যান চালকই নন, এমন অবস্থা হকার ও ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসা মানুষেরও।

নিউ স্কাটন রোড়ে অস্থায়ীভাবে চায়ের দোকান করেন রফিক মিয়া। তিনি বলেন, কারফিউ চলায় রাস্তায় মানুষ নাই। দোকানও গত ৩দিন বন্ধ রাখছি। আজ শুনলাম দিনে কারফিউ থাকবে না। ঘরে শুয়ে বসে থাকলে পেট চলবে না। তাই দোকান খুলে বলসি। কিন্তু তেমন বিক্রি নাই।
মগবাজার, বাংলামোটর এলাকায় বুট, বাদাম বিক্রি করেন হৃদয়। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আগে যেখানে দিনে ৮-৯শ টাকা বিক্রি হতো, এখন সেখানে ২-৩শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ৭০-৮০ টাকা লাভ হচ্ছে। এই টাকা দিয়ে তো একবেলা খাওনও পাওয়া যায় না। আগের কিছু জমানো টাকা ছিল, সেগুলা ভেঙে খরচ করতেছি।'

রাস্তায় হেঁটে হেঁটে পান, সিগারেট বিক্রি করছেন শাকিল। পরিবার নিয়ে কাঁঠালবাগান থাকেন তিনি।

শাকুল বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আগে ৫-৬শ টাকা আয় করতাম, এখন ২-৩শ আয় হয়। তিনজন মানুষ (তিন সদস্যের পরিবার) নিয়ে এই আয় দিয়ে কীভাবে চলবো বলেন। এখন ধারকর্জা কইরা চলতেছি, পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গেলে আবার ইনকাম করে ধার ফেরত দিমু।কিন্তু এভাবে থাকলে আমাদের মতো মানুষের না খেয়ে মরতে হবে। দেশে কোনো সমস্যা হইলে সব ভোগান্তি আইয়ে আমগো ওপরে।'

এদিকে বাংলামোটর, কারওয়ার বাজার এলাকায় ভ্যানে করে আনারস, পেয়ারা বিক্রি করছেন মামুন মিয়া। তিনি বকশি বাজার এলাকায় পরিবার নিয়ে বাস করেন। কারফিউতে তার আয় রোজগার কমে গেছে। এতে সংসার চালাত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, করফিউ চলায় নাকি ঢাকায় গাড়ি আসতে পারে না। তাই জিনিসপত্রের দাম বেশি। বেশি দামে কিনে এনেও আগের দামেই বিক্রি করছি। তাও কাস্টমার নাই। আগে আট থেকে দশ হাজার টাকা বিক্রি করতাম। এখন দুই থেকে তিন হাজারও বিক্রি করতে পারি না। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বলেন। মাস শেষ হলেও বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক খরচ ১০-১২ হাজার টাকা লাগে। এই মাসে তা মিলাইতে পারমু বলে মনে হয় না।

বাংলামোটর মোড়ে জুতা সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করেন আব্দুর রহমান। থাকেন সেগুনবাগিচায়। তিনি বলেন, 'রাস্তায় মানুষ না থাকায় ইনকামও নাই। পেট তো কারফিউ বুঝে না। তাই এসে দোকান খুলে বসি। তবে গত ৩-৪ দিনের তুলনায় আজ কিছু মানুষ বের হয়েছে। এভাবে চললেও তো আমরা বাঁচি। আমাদের তো দেখার কেউ নাই। আয় না হলে কেউ এসে জিজ্ঞাসাও করে না। কখনো কোনো সহযোগিতাও পাই না।'

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমাজের বিত্তবানদের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাত থেকে সারাদেশে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষজন। চলমান কারফিউ কয়েক ঘণ্টার জন্য শিথিল হলেও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। ফলে আয় রোজগারে ভাটা পড়েছে এসব নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের।

;

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জাহাঙ্গীরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম

ছবি: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। দুর্বৃত্তদের হামলায় তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন।

জানা গেছে, গাজীপুর থেকে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য বেশ কিছু নেতাকর্মী নিয়ে রওনা দিলে পথিমধ্যে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পার হওয়ার সময় তার গাড়ি বহরে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্বৃত্তদের হামলায় জুয়েল মোল্লা নামে জাহাঙ্গীর আলমের এক ব্যক্তিগত সহকারী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের ৩২নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠজন মোখলেছুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মোখলেছুর রহমান জানান, গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) জাহাঙ্গীর আলমের গাড়ি বহর উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পার হওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা তার গাড়ি বহরের গতিরোধ করে। এ সময় জাহাঙ্গীর আলমের গাড়ি বহরে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে দুর্বৃত্তরা। ইটের আঘাতে জাহাঙ্গীর আলমের মাথা ফেটে যায়। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরাও আহত হন। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ তৈরি করলে জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তিগত সহকারী জুয়েল মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পরে জাহাঙ্গীর আলম পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিছু সময় পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পাশের একটি হাসপাতালে পাঠান। এ সময় তার মাথায় ১৭টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। পরে জাহাঙ্গীর আলমকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর একদিন পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। জাহাঙ্গীর আলমের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে জানান এই আওয়ামী লীগ নেতা।

;

মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদে চাকরি

হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্সের ডিজিএমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন

ছবি: বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এম এম জামিল আহম্মদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ দেখিয়ে কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি এম এম জামিল আহম্মদ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। তা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহ করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশনে ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে চাকরি নিয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

ওই সময়ে বেতন ভাতা বাবদ মোট এক কোটি ৩১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩৪ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। যা দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) এর ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জামিল আহম্মদ বর্তমানে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন।

;

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম

রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। এতে রেলের ২২ কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে বিক্রি করা টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। যার পরিমাণ ১৬ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভিয়েতনাম ও জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

রেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে সহিংসতা রেল যোগাযোগে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার সাহাদাত আলী বলেন, রেল সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কবে থেকে ট্রেন চলবে।

তিনি বলেন, ট্রেন চলাচলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ট্রেন চালানো কোনো বিষয় না, বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে কবে থেকে ট্রেন চলবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, স্বল্প দূরত্বে কিছু ট্রেন আজ বৃহস্পতিবার থেকে চলাচলের কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

;