ভোগান্তি যাদের আজন্ম সাথী

অবহেলিত জনপদের নাম হিজলা-মুলাদী-মেহেন্দীগঞ্জ!



এস এল টি তুহিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালের সবচেয়ে অবহেলিত জনপদ হিসেবে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার নাম এখন সর্বজন স্বীকৃত। শুধু বংশ পরম্পরায় বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের খুনখারাবি বা মারামারির জন্যই নয়, নদীভাঙনের শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষের হাহাকারের জন্যও এ অঞ্চল সমানভাবে পরিচিত এখন।

রাত নামলেই গৃহবন্দি জীবন
মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, স্কুল ছাড়াও অসংখ্য বসতভিটা, ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে এ অঞ্চলের মেঘনা নদীর ভাঙনে। তার ওপর রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে সুচিকিৎসার জন্য তাকে নিতে হবে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম)। কিন্তু এ জন্য সহজে যাতায়াতের কোনো উপায় নেই। অসংখ্য পোয়াতি মা এই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই হয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, নয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেল তিন উপজেলার প্রায় মানুষেরই মুখে।

এর মধ্যে সবচেয়ে করুণ ও মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় মেহেন্দীগঞ্জ এলাকার মানুষদের। চারদিকে শুধু অথৈ জলের হাবুডুবু। রাত নামলেই গৃহবন্দি জীবন।

ফেরি বা ট্রলারে করে নদী পার হলে তবেই ওপারে হিজলা ও মুলাদী উপজেলা। এ দুটি উপজেলা পাশাপাশি এবং একই সড়কে, একই সমস্যায় জর্জরিত। এখানে আড়িয়াল খাঁ এবং মেঘনা নদী শহরের সঙ্গে এই দুই উপজেলাকেও বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

অন্যদিকে, হিজলা এবং মেহেন্দীগঞ্জ নিয়ে বরিশাল-৪ আসনটি গঠিত। ফলে, হিজলার সঙ্গে মেহেন্দীগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নদীভাঙন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে কারণে হিজলার তিনপাশে এবং মুলাদীর একপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই বলে মনে করেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা বরিশাল-৩ সংসদীয় আসন। এখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন। বাবুগঞ্জের সন্তান রাশেদ খান ইতোপূর্বেও এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তবে নিজ এলাকার উন্নয়নে কখনোই কোনো ভূমিকা নেননি বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেক্ষেত্রে মুলাদীর মানুষের জন্য তিনি কিছু করবেন বলে বিশ্বাস করতে চান না মুলাদীবাসী।

যাতায়াত সংকটের কারণে মুলাদীর বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মারা গেছেন

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিঠু জানালেন, এই যাতায়াত সংকটের কারণে মুলাদীর বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মারা গেছেন। এখানে মীরগঞ্জ সেতু তৈরির পরও ওপারে বাবুগঞ্জ লাকুটিয়া সড়কটি মেরামত করা না হলে ভোগান্তি কমবে না।

কৃষি এবং নদীতে মাছ শিকার এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা। বলা যায়, জেলে অধ্যুষিত অঞ্চল এই মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা। তিন উপজেলার লোকসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ হবে বলে অনুমান করেন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এ.কে.এম. মাহফুজ-উল-আলম।

তিনি বলেন, শুধু মেহেন্দীগঞ্জের জনসংখ্যাই বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ। ঝড়-ঝঞ্ঝা মাথায় নিয়ে আমরা যে এখনো বেঁচে আছি, এটাই তো আশ্চর্যের বিষয়! মেহেন্দীগঞ্জের যোগাযোগ সবটাই নদীপথে আর হিজলা উপজেলার মানুষের জন্য সড়ক পথ রয়েছে। তবে তা মুলাদীর খেয়াঘাট পর্যন্তই।

নদীপথে বরিশাল থেকে সরাসরি স্পিডবোটে তিন উপজেলাতেই আসাযাওয়া সম্ভব হলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে জানালেন হাতেম আলী কলেজে অধ্যায়নরত হিজলার বাজার টেক এলাকার বাসিন্দা রেদোয়ান।

রেদোয়ান বার্তা২৪.কমকে বলেন, গরিব বা মধ্যবিত্ত কিংবা ধনী, আমাদের সবাইকে বাজার-সদাই করতে, চাকরি, পড়াশোনা করতে বরিশাল শহরে যেতেই হয়। শহরে যেতে হলে হিজলা থেকে ‘মাহেন্দ্র’ (হিউম্যান হলার) বা অটোরিকশা নিয়ে মুলাদীর কাজীচর খেয়াঘাট যেতে হবে। সেখান থেকে খেয়া পার হয়ে ওপারে মীরগঞ্জ। মীরগঞ্জ থেকে অটোরিকশা বা ইজিবাইক নিয়ে বাবুগঞ্জের রহমতপুর যেতে হবে। আগে তাও লাকুটিয়া দিয়ে যাতায়াত করা যেতো। কিন্তু ওই সড়ক এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। আমাদের তাই আরো ঘুরে রহমতপুর থেকে বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছাতে কম করে হলেও দুই, আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে এখন।

বরিশাল থেকে হিজলা উপজেলা পরিষদে এসে পৌঁছাতে মোটরসাইকেল নিয়ে এই প্রতিবেদকেরও দেড় ঘণ্টার মতো সময় লেগেছে মাত্র ৪০ কিলোমিটার পথের দূরত্ব পার হতে।
তিন পাশে নদী। একপাশে সড়ক চলে গেছে, মুলাদীর কাজীরচর খেয়াঘাট পর্যন্ত। চারদিকে শুধু ভাঙনের চিত্র এখানে।

বেড়িবাঁধ এলাকায় বাঁধের ওপর অসংখ্য ঘরবাড়ি চোখে পড়ে। টেকের বাজার বা বাজার টেক পার হয়ে দক্ষিণে বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাউসিয়া গ্রাম। মেঘনা নদীর পাড়ে এখানে ২শ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। নদী তীরবর্তী বাউসিয়া গ্রামের মানুষ তাতেই অনেক খুশি!

স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ ও শাম্মী আহম্মেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারা বলেছেন, এই ব্যাগ যদি ফেলা না হতো, তাহলে এবছরের মধ্যে হিজলা উপজেলা পরিষদ এলাকাও নদীতে বিলুপ্ত হয়ে যেতো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ঝন্টু হাওলাদারসহ গ্রামবাসীর কয়েকজন বলেন, এই জিও ব্যাগ হয়ত সাময়িকভাবে ভাঙন রোধে সাহায্য করবে তবে নদীর দুই পাড়ে বরিশালের চরকাউয়া ও চরবাড়িয়া বেড়িবাঁধের মতোই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

একইসঙ্গে মীরগঞ্জ সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবিও জানান হিজলা উপজেলার বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে কথা হয়, স্থানীয় সাংবাদিক ও হিজলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে

এখানে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কথা হয়, স্থানীয় সাংবাদিক ও হিজলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে। দেলোয়ার হোসেন জানালেন, ইতোমধ্যে ৫টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে, আরো অর্ধশতাধিক গ্রাম। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদিও এখানে ৬শ ২৮ কোটি টাকার কাজের বরাদ্দ দিয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টাও শুরু হয়েছে। তবে ১০টি প্যাকেজে এই কাজ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি প্যাকেজের কাজই দৃশ্যমান।

এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, নদীভাঙন রোধে গৃহীত পদক্ষেপ আমার আসার আগেই হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কাজের মান নিয়েও কিছু বলতে পারবো না। তবে মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।

মীরগঞ্জ সেতু তৈরি হয়ে গেলে এ অঞ্চলের মানুষের ৮০ ভাগ ভোগান্তি দূর হয়ে যাবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

কোটা আন্দোলনের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্র : শাজাহান খান



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা ২৪.কম মাদারীপুর
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেছেন, কোটা আন্দোলনকারীরা ভুল পথে আছেন। এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত রয়েছে। কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে অনেকেই বৈতরণী পাড় হতে চেষ্টা করছেন।

রবিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান কালু খানের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, ‘কুজো মানুষ যেমন কোনো কিছু ওপর ভর করে চলতে চান, তেমনি যারা রাজনীতিতে বুড়ো হয়ে গেছেন, তারা এই কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে পথ চলতে চান। এটার কোনো রাজনৈতিক ফল হবে না। ছাত্রদের ভুল বোঝাচ্ছেন তারা। সবাই এই আন্দোলন থেকে বিরত থাকবেন। উচ্চ আদালতের রায় সরকার মেনে নেবে।’

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান আরো বলেন, ‘যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছেন, তাদের স্মরণ থাকতে হবে, এই কোটা দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত রাখার জন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আছে, যেখানে যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের চাকরি হয় না। আমাদের দেশের এই কোটা বাতিলের বিষয়, আইনের মাধ্যমে হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে সরকার কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাজাহান খানের সহধর্মীনি সৈদয়া রোকেয়া বেগম, শাজাহান খানের জামাতা টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন সেলিমসহ অনেকেই।

প্রসঙ্গত, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান আসিব খান নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওবায়দুর রহমান কালু খান, শাজাহান খানের ছোটভাই। আর আসিবুর রহমান আসিব খান শাজাহান খানের বড় ছেলে।

;

শেবাচিমে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার রোগী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম বরিশাল
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছেন এক রোগী।

রবিবার ( ১৪ জুলাই ) দুপুরে হেনস্থার শিকার হওয়া রোগী মিজানুর রহমানকে এ সময় চিকিৎসা না নিয়েই ফিরতে হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চর্ম ও যৌন রোগ বহিঃবিভাগের চিকিৎসকের সহকারি রাব্বি নামের একজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর।

রোগী মিজানুর রহমান জানান, তিনি রবিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য শেবাচিমের বহিঃবিভাগ থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন (যার সিরিয়াল নং ২৯২৮৩)। এর পর লাইনে দাঁড়ালে তাকে রাব্বি নামের এক ব্যক্তি এসে জানায়, এখন আর রোগী দেখা হবেনা।

টিকিট দেওয়ার পরেও কেন তাকে চিকিৎসা দেয়া হবেনা, এমন প্রশ্ন করলে তার উপর ক্ষেপে যায় রাব্বি নামের চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মচারী।

এ সময় তার কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ডিআইজির ভাতিজা পরিচয় দেন এবং রোগী মিজানুর রহমানকে জোর করে বের করে দেন। রাব্বি এর পর লাইনে থাকা সব রোগীদের আজ নয় কাল চিকিৎসা দেওয়া হবে এমনটা বলে বের করে দেয় বলে জানান মিজানুর রহমান।

এরপর তিনি হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি বিষয়টি সহকারী পরিচালককে অবহিত করার পরামর্শ দেন। সহকারী পরিচালকের সঙ্গে আলাপের পর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মিজানুর রহমান। ৩ দিন পরে অভিযোগকারীকে ডেকে ব্যবস্থ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে শেবাচিম কৃর্তপক্ষ।

হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মচারি রাব্বি এর আগেও একাধিকবার রোগীদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করেছে। তার খারাপ আচরনের জন্য এর আগে শিশু বিভাগ থেকে তাকে বদলি করা হয় চর্ম ও যৌন রোগ বহিঃবিভাগে। কিন্তু, এখানে এসেও প্রায়শই রোগীদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করে রাব্বি।

;

চবিতে হঠাৎ ‘রাজাকার রাজাকার’ শ্লোগান, ছাত্রলীগের হামলা



চবি করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪. কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বিষয়ক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মাঝরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে(চবি) 'তুমি কে? আমি কে? রাজাকার- রাজাকার' শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল চলা অবস্থায় সেই মিছিলে হামলা করে চবি শাখা ছাত্রলীগ।

রবিবার (১৪ জুন) রাত ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মিছিলটি নিয়ে শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্ট থেকে কাটা পাহাড় রোড ধরে এগিয়ে গেলে শাখা ছাত্রলীগের কনকর্ড ও সিক্সটি নাইন উপগ্রুপের অনুসারীরা পেছন থেকে মিছিলে হামলা করে।

এ ঘটনায় ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো সুমনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয় বলে জানা গেছে।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা 'চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার', 'তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার', শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চবির সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে যে কথাটা বলেছেন সেখানে যেটা মিন করা হয়েছে, তাতে বুঝা যায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়া সবাই রাজাকার। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা রাত সাড়ে ১১টার দিকে জিরো পয়েন্টে যাই এবং মিছিলের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুই তিন জন আহত হয়। তারপরে আমরা সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই।’

শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও কনকর্ড উপগ্রুপের নেতা ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবরার শাহরিয়ার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন করে আসছে এতে ছাত্রলীগ কোনো বাধা দেয়নি। কিন্তু, আমাদের নেত্রীকে নিয়ে আজ বাজে স্লোগান দেওয়ায় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের প্রতিহত করেছে। শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আপসহীন।
নেত্রী সম্পর্কে কোনো উসকানিমূলক স্লোগানকে ছাত্রলীগ প্রশ্রয় দিবে না।’

উল্লেখ্য, রবিবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনর চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তাদের এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে না তো কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে? এটি দেশবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন।’

;

উত্তাল জাবি, মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে 'তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার' স্লোগান দেওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ৪ শিক্ষার্থীকে ডাইনিংয়ে নিয়ে জেরা ও মোবাইল ফোন চেক করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে৷

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে আবাসিক হলটির প্রবেশপথ ঘেরাও করে বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া শহীদ তাজউদ্দীন হলেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে৷ রবিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার সর্বশেষ তথ্যমতে, মুখোমুখি অবস্থানে আছে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা৷

রবিবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১ টায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে-এমন তথ্য পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় জমায়েত করে একটি প্রতিবাদী বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে রবীন্দ্রনাথ হলের সামনে আসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর হল প্রভোস্ট ও প্রক্টর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসলে শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়৷

পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে শহীদ তাজউদ্দীন হল অভিমুখে রওনা হয়ে সেখানে কিছুক্ষন অবস্থান নিয়ে ভিসির বাসভবন হয়ে ছাত্রী হল হয়ে পুনরায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সম্মুখে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় হল থেকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে আন্দোলনকারীদের পথ রোধ করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকে৷

এ সময় তারা ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘এই বাংলার মাটি-রাজাকারের ঘাটি’, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্র কারো বাপের না', 'শেরেবাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাটি', 'চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার'-ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের হলেও এমন স্লোগান দেওয়ার পরিকল্পনা করে আবাসিক হলটির ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷

এমন সময় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মো. সাঈফ খান ৪৯ ব্যাচের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে একটি ম্যাসেজ দিলে হলের নিচ তলার ১২৪ নং কক্ষ থেকে স্লোগান পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে৷

শিক্ষার্থীরা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করলে পলিটিকাল ব্লক থেকে ৪৮ ব্যাচের সিনিয়ররা এসে তাদের সবাইকে ডেকে ডাইনিংয়ে আসতে বলে। ১২৪ নং কক্ষ থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের কাউসার আলম আরমান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আশিক ও ইংরেজি বিভাগের জাহিদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ সময় ডাইনিং হলে উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে জানা যায়, ডাইনিং হলে ডেকে আনার পর শিক্ষার্থীদের 'রাজাকার' স্লোগান দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়।

এ সময় 'শিবির' সন্দেহে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে ম্যাসেঞ্জারের ম্যাসেজ চেক করা হয়৷ এসময় দীর্ঘসময় পর্যন্ত ডাইনিং হল থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পান হলের শিক্ষার্থীরা৷

পরে সন্দেহজনক কিছু না পেয়ে ছাত্রলীগের নেতারা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদারকে সেখানে নিয়ে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষমা প্রার্থনার জন্য চাপ দেওয়া হয়৷ এ সময় হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে ক্ষমা চান। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে তাদের কোন প্রকার মারধর করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তারা৷

এদিকে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কোটা পাবে না তো রাজাকারের নাতিপুতিরা কোটা পাবে? দেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা মর্মাহত হয়ে হলে হলে স্লোগান দিয়েছে। যেখানে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন করে যাচ্ছি সেখানে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা আমাদের জন্যে লজ্জার। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা হলে হলে স্লোগান দিয়েছে এ জন্য ছাত্রলীগ কোন শক্তিতে তাদের জেরা করে!’

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘রাত ১১টায় আমরা খবর পাই আমাদের কয়েকজন আন্দোলনকারী সহযোদ্ধাকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা খবর পেয়ে সহকর্মীদের উদ্ধার করতে এসেছি। কোটা আন্দোলন সারাদেশের শিক্ষার্থীদের একটি যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। এ আন্দোলনে অংশ নিয়ে কেউ যদি নির্যাতনের শিকার হয় তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে৷’

এ সময় সামগ্রিক ব্যাপারে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘হলের সামনে শিক্ষার্থীদের মিছিলের কথা শুনে আমি কিছুক্ষণ আগে হলে এসেছি৷ তবে ঘটনা বিস্তারিত বুঝতে পারিনি। সম্ভবত কোনো স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে৷ আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি।’

;